শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান

সবাই ওখানে জমায়েত হলে আশপাশের বাড়িগুলোর সামনের বাগানের মরচেধরা বেড়ার ওপরে ব্যাট বাড়ি দিতে দিতে সবাই ছুটে চলত। তাদের চলার শব্দ লোকজনকে জাগিয়ে তুলত আর লতা গাছপালার নিচে শুয়ে থাকা বিড়ালগুলো ঘুম থেকে জেগে উঠে লাফিয়ে পড়ত। রাস্তা পার হয়ে ছুটতেই থাকত তারা। একজন আরেকজনকে ধরার চেষ্টা করত; ততক্ষণে তাদের সবার শরীর ঘেমে উঠত। কয়েক রাস্তা পরে তাদের স্কুল; সেখান থেকে খুব কাছেই একটা সবুজ মাঠ ছিল; সেই মাঠের দিকে ছিল তাদের যাত্রা। কিছুদূর এগিয়ে সামনে একটা অকেজো পানির ফোয়ারা ছিল; সেখানে গিয়ে সবাই থেমে পড়ত।

বড় গোলাকার জায়গাটাতে ফোয়ারার বেসিন বৃষ্টির পানিতে ভরে থাকত। সেই পানির ভেতর পড়ে থাকত পুরনো শ্যাওলা, তরমুজের খোসা, কমলালেবুর খোসা এবং সব ধরনের আবর্জনা। সূর্যের আলো সেই পানি শুষে না নেওওয়া পর্যন্ত কিংবা সেচে ফেলে দেওয়ার জন্য কর্পোরেশনের লোকদের টনক না নড়া পর্যন্ত পানি জমাটবদ্ধ হয়ে থাকত। বেসিনের তলায় অনেক দিন ধরে জমে থাকত নর্দমার ময়লার মতো পদার্থ। সেই পদার্থও ওভাবেই পড়ে থাকত যতদিন না সূর্যের আলো সেটাকে শুকিয়ে ফেলার গরজ না দেখানো পর্যন্ত কিংবা ঝাড়ু–দারের শলাকা শুকিয়ে যাওয়া ময়লাকে ধূলি আকারে চার পাশের ডুমুর গাছের চকচকে পাতায় পৌঁছে না দেওয়া পর্যন্ত। গরমের দিনে যেভাবেই হোক বেসিনটা শুকনো থাকত। চকচকে কালো পাথরের কিনার হাজার হাজার হাত আর ট্রাউজারের ঘষা খাওয়ার ফলে পিছলে হয়ে যেত। জ্যাক, পিয়েরে এবং তাদের বন্ধুরা নাইটদের মতো যুদ্ধ যুদ্ধ খেলত আর কিনারার ওপর দিয়ে ঘুরতে থাকত। ঘুরতে ঘুরতে এক সময় অবশ্যই বেসিনটার অগভীর তলায় পড়ে যেত। তখন নাকে আসত সূর্যালোকের গন্ধ আর মুতের ঝাঁঝ।

খেলার এরকম অবস্থায় তাদের পায়ে এবং স্যান্ডেলে ধূলির এক প্রস্থ সাদা আস্তরণ পড়ে যেত। কড়া তাপের মধ্যে তারা দৌড়তে থাকতো সবুজ মাঠের দিকে। ব্যারেল তৈরির কারখানার পেছনে ওই মাঠটা ছিল একটা ফাঁকা জায়গা। সেখানে মরচেধরা আংটা আর ব্যারেলের পচনধরা তলদেশের ভেতর দিয়ে ফ্যাকাশে ঘাস গজাত। কোথাও কোথাও সাদা রঙের গুচ্ছ গুচ্ছ ঘাসের চাপড়াও দেখা যেত। হৈচৈ করতে করতে ঘাসের গুচ্ছগুলোর মধ্যে তারা গোল দাগ তৈরি করত। তাদের একজন ব্যাট হাতে ওই গোল দাগের মধ্যে দাঁড়াত। বাকিরা সিগার আকারের কাঠের টুকরোটাকে বৃত্তের মধ্যে ছুড়ে মারত। কাঠের টুকরোটাকে কেউ দাগের বৃত্তের মধ্যে ফেলে দিতে পারলে ব্যাট হাতে সে দাঁড়াত মাঝখানে। তখন তার পালা হতো বৃত্তটা আগলানো। খেলোয়ারদের মধ্যে যার দক্ষতা বেশি সে কাঠের টুকরোটাকে বলিষ্ঠ হাতে দূরে পাঠিয়ে দিত।

সে ক্ষেত্রে টুকরোটা যেখানে পড়েছে অন্যরা সেখানে গিয়ে ওটা ব্যাট দিয়ে শূন্যে পাঠিয়ে দিত। কেউ হয়তো ব্যাট মারতে ব্যর্থ হতো কিংবা অন্য কেউ শূন্যের ওপর থেকেই টুকরোটা ধরে ফেলত। তখন বৃত্ত রক্ষক তাড়াতাড়ি ফিরে এসে তার বৃত্তে দাঁড়াত যাতে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা বৃত্তের মধ্যে টুকরোটা ছুড়ে মারতে না পারে। এটা ছিল আসলে গরিবের টেনিস খেলা; তবে টেনিস খেলার চেয়ে তাদের নিয়ম কানুন ছিল আরও জটিল। এই খেলায় তাদের পুরো বিকেলটাই শেষ হয়ে যেত। সবচেয়ে ভালো খেলত পিয়েরে। জ্যাকের চেয়ে হালকা পাতলা এবং আকৃতিতে ছোট পিয়েরে ছিল খুবই পলকা, মাথায় সোনালি আর তামাটে চুলের সমান মিশ্রণ, চোখের ভ্রু পর্যন্ত নেমে আসত চুল। সেই চুলের নিচে তার চোখের চাহনি ছিল সোজাসাপটা এবং নাজুক, কিছুটা যেন বেদনার্ত আর বিস্মিত; চালচলনে আনাড়ি মনে হলেও কাজের ক্ষেত্রে ছিল নিশ্চিত এবং নির্ভুল। অন্যদিকে জ্যাক অসম্ভব রকমের প্রতিরোধ তৈরি করতে পারলেও ব্যাকহ্যান্ড খেলায় লক্ষ্য ঠিক রাখতে পারত না। প্রতিরোধের দক্ষতা থাকার কারণে তার বন্ধুরা তার খেলার প্রশংসা করত এবং জ্যাক মনে করত, সে-ই সবার চেয়ে ভালো খেলে। এতে তার মধ্যে অহংকারের একটা ভাবও চলে আসত। আসলে পিয়েরের কাছে সে সব সময়ই হেরে যেত। তবে পিয়েরে এ বিষয়ে কিছুই বলত না। অবশ্য খেলার পরে সে অহংকারের ভাব ছেড়ে সোজা হয়ে বন্ধুদের প্রশংসায় মনে মনে হাসত।

যখন আবহাওয়া কিংবা তাদের নিজেদের মনের অবস্থা রাস্তাঘাট আর ময়লা আবর্জনাময় জায়গায় দৌড়াদৌড়ির ব্যাপারে সায় দিত না তখন প্রথমত সবাই জমায়েত হতো জ্যাকদের বাড়ির হল রুমে। সেখান থেকে পেছনের দরজা দিয়ে একটা উঠোনের মতো জায়গায় নেমে যেত। জায়গাটা বাড়ি ঘরের দ্বারা তিন দিক থেকে বন্ধ। খোলা পাশটাতে ছিল একটা বিরাট কমলালেবু গাছ। গাছটার প্রশস্ত ডাল পালা ছড়িয়ে ছিল পাশের একটা বাগানের দেয়ালের ওপর পর্যন্ত। গাছটাতে যখন ফুল ফুটত হতদরিদ্র বাড়িগুলো সুবাসে ভেসে যেত। সুগন্ধটা ভাসতে ভাসতে তাদের হল রুম পর্যন্ত এবং ঊঠোনের পাথুরে সিঁড়ি পর্যন্ত চলে আসত। উঠোনের এক দিকে পুরোটা এবং অন্য দিকের অর্ধেকটা পাশ জুড়ে ছিল একটা ইংরেজি এল আকৃতির ভবন। সেখানে থাকত এক স্প্যানিস নাপিতের পরিবার। লোকটার দোকান ছিল রাস্তার পাশে। ওই ভবনের আরেক অংশে থাকত এক আরব পরিবার। সে পরিবারের গৃহিনী কোনো কোনো সন্ধ্যায় উঠোনে কফি তৈরি করত। তৃতীয় দিকের বাসিন্দারা কাঠ আর তারের বেড়া দিয়ে তৈরি উঁচু ভাঙাচোরা খাঁচায় মুরগি পুষত।

চতুর্থ দিকের ভবনের ভূগর্ভস্থ ঘরের কালো গর্ত সিঁড়ির দুপাশে হা করে থাকত। ওই গুহার মধ্য থেকে বের হওয়ার কোনো পথ ছিল না; আলোর কোনো ব্যবস্থাও ছিল না; মাটি কেটে কোনো রকম বেড়া না দিয়েই তৈরি। সব সময় আর্দ্রতার ঘাম বের হতো সেখান থেকে। সবুজ ছাতলা ঢাকা গর্তের কাছে পৌঁছতে চার কদম ফেললেই হতো; সেখানকার বাসিন্দারা যখন তখন অতিরিক্ত জিনিসপত্র স্তুপ করে রাখত; তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়; পুরনো বস্তা পচত ওখানে, সিন্দুকের ভাঙা টুকরো, ফুটো ওয়াশবেসিন, আর যেসব জিনিস ভাগাড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় এমনকি যেগুলো হতদরিদ্র মানুষদেরও কোনো কাজে আসে না তেমন জিনিসপত্র। জ্যাক এবং তার খেলার সঙ্গীরা ওখানেই জড়ো হতো। স্পেনীয় নাপিতের দুই ছেলে জাঁ এবং যোসেফ ওখানে খেলতে অভ্যস্ত ছিল। জায়গাটা তাদের জীর্ণ বাড়ির দোর গোড়ায় ছিল বলে এটা ছিল তাদের নিজস্ব এলাকা। নধর চেহারার যোসেফ ছিল হাসিখুশি স্বভাবের এবং তার যা কিছু ছিল সব অন্যদের বিলিয়ে দিতে কোনো কার্পণ্য ছিল না তার।

অন্যদিকে খাটো এবং পলকা জাঁ বাইরে ছোটখাটো পেরেক কিংবা স্ক্রু থেকে শুরু করে যা কিছু পেত কুড়িয়ে সংগ্রহ করত। খুবানির বিচি এবং মার্বেলের ব্যাপারে জাঁ ছিল অতিশয় কৃপণ। ছোটদের অন্যতম প্রিয় খেলায় এগুলোর দরকার হতো। এই ভ্রাতৃজুটির চেয়ে বিপরীত স্বভাবের আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। পিয়েরে, জ্যাক এবং ম্যাক্সের মতো সঙ্গীদের নিয়ে তারা ওই আর্দ্র এবং দুর্গন্ধময় গর্ত-ঘরের মধ্যে ঢুকত। সাদা তেলাপোকাকে তারা বলত গিনিপিগ। পচনধরা ছেঁড়া বস্তা থেকে সাদা তেলাপোকা তাড়িয়ে মরচে ধরা খাড়া লোহার খণ্ডের ওপর বিছিয়ে দিয়ে তারা নিজেদের একটা জায়গা তৈরি করত। অবশ্য তখন কারোই এমন কোনো ঘর কিংবা বিছানা ছিল না যেটাকে তারা নিজের বলতে পারত। কুৎসিত ওই তাঁবুর নিচে গিয়ে তারা আগুন জ্বালাত। কিন্তু ওখানকার স্যাঁতসেতে বাতাসে আগুন নিভে যেত এবং প্রচণ্ড ধোঁয়া তৈরি হতো। ফলে তাদের বাধ্য হয়ে ওই গুহা থেকে বের হয়ে আসতে হতো। উঠোন থেকে মাটি খুঁড়ে নিয়ে গর্তের মুখ বন্ধ করে দিত। শেষে তারা ছোট জাঁর কাছ থেকে যুক্তিতর্কের অনেক কসরতের পর পুদিনার স্বাদ জড়ানো মিঠাই, শুকনো লবণাক্ত বাদাম, মটরদানা, লবণ জড়ানো এক ধরনের গোখাদ্যের ফল ইত্যাদি চেয়ে নিত। আরও ছিল গাঢ় রঙে পরিণত হয়ে যাওয়া জবের চিনি। এটা বিক্রি করত আরব দোকানদাররা।

নিকটবর্তী সিনেমা হলের সামনে চাকাঅলা গাড়িতে কাঠের তৈরি বাক্সে করে মাছি ভনভন একটা স্ট্যান্ডের ওপরে খোলা অবস্থায়ও বিক্রি হতো জবের চিনি। খুব বেশি বৃষ্টি হলে উঠোনের পানি গড়িয়ে পড়ত ওই গর্তসদৃস ঘরে। খোলা আকাশ আর সমুদ্রের হাওয়া থেকে বহু দূরে নিজেদের দারিদ্রের রাজ্যে জ্যাক এবং তার বন্ধুরা পুরনো বাক্সপেটরার ওপরে দাঁড়িয়ে রবিনসন ক্রুসো সাজত।
তবে তাদের খেলার সবচেয়ে ভালো সময় ছিল গরমের মৌসুমে। কোনো না কোনো অজুহাতে, মিথ্যে বলে তারা দুপুরের ঘুম ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে পড়ত। তখন তাদের কাছে ট্রলি-বাসে ওঠার মতো টাকা থাকত না বলে তাদের অভিজ্ঞতার পর্যবেক্ষণ চালানোর জায়গা বলে পরিচিত যে বাগানটা ছিল সেখানে যেতে গোটা পথ তাদের হাঁটতে হতো: কাছাকাছি এলাকার হলুদ আর ধূসর রাস্তা পেরিয়ে, ঘোড়ার আস্তাবলপূর্ণ এলাকা পিছে ফেলে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন ঘোড়ার গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রেতাদের দোকান পার হয়ে যেত তারা। ঠেলা দিয়ে খোলার মতো সব দরজার পেছনে মাটিতে ঘোড়ার পদশব্দ শোনা যেত, নাক থেকে হঠাৎ ফোঁস ফোঁস নিঃশ্বাস পতনের ফলে ঘোড়াগুলোর ঠোটের ওপরে জোরে শব্দ শোনা যেত।

ঘোড়ার গলার লোহার শিকল জাবনাপাত্রের কাঠের সঙ্গে বাড়ি লেগে শব্দ হতো। ওইসব জায়গা পার হয়ে যেতে যেতে বিষ্ঠার জৈব সার, খড়, ছোটদের জন্য নিষিদ্ধ ওই এলাকা থেকে উত্থিত ঘামের গন্ধ তারা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করতে থাকত। এমনকি ঘুমের মধ্যেও জ্যাকের নাকে আসত ওইসব গন্ধ। আস্তাবলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের গতি মন্থর হয়ে যেত; সেখানে ঘোড়াদের দেখাশোনা করা হতো; বড় বড় খুরঅলা ঘোড়াগুলো ফ্রান্স থেকে আনা; রোদের তাপ আর মাছিদের কাছে ঘোড়াগুলো কাবু হয়ে থাকত। ঘোড়াগুলোর চোখের দিকে তাকালে বোঝা যেত নির্বাসনে এসেছে। তারপর গাড়োয়ানরা তাদের তাড়িয়ে দিলে তারা বিরাট একটা বাগানের দিকে দৌড়ে চলে যেত; ওই বাগানে বিরল প্রজাতির গাছপালা জন্মানো হতো। বিরাট জলাধার আর ফুলের ভেতর দিয়ে সমুদ্রের দৃশ্য দেখা যেত একটা বড় পায়েচলা পথ দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে। সেখানেও বাগানের প্রহরীরা তাদেরকে সন্দেহের চোখে দেখত।

যারা আস্তে ধীরে হেঁটে বেড়াতে আসত তাদেরও হাঁটার ধরন বদলে যেত ছোটদের উপস্থিতির কারণে। তবে আড়াআড়ি পথের প্রথমটাতে এসে তারা বাগানের পূর্ব পাশের দিকে পথ ধরত। ওদিকটায় যেতে হতো বিরাট বিরাট ঘন ম্যানগ্রোভ গাছের ভেতর দিয়ে; গাছগুলোর ছায়ায় দিনের বেলাতেই রাত নেমেছে মনে হতো। এরপর তারা বড় বড় রাবার গাছ পেরিয়ে যেত; হরেক রকমের শিকড়ের গাছগুলোর প্রথম ডাল থেকে আরও সব ডালাপালা বের হয়ে মাটি ছুঁয়ে আছে দেখা যেত। সেখান থেকে আরও এগিয়ে যাওয়া লাগত তাদের অভিযানের আসল গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য: তালগাছের মতো লম্বা গাছের মাথায় বড় বড় গোলাকার কমলা রঙের ফলগুলো খুব ঘন হয়ে ঝুলে থাকত। ফলগুলোকে তারা বলত কোকোসেস।

ওখানে পৌঁছে প্রথমে দেখতে হতো আশপাশে কোনো প্রহরী আছে কি না। তারপর শুরু হতো অস্ত্র খোঁজা, মানে ঢিল। পকেট ভর্তি ঢিল যোগাড় করে সবাই ফিরে এলে গাছে গাছে উঁচুতে ঝুলে থাকা থোকাগুলোতে ঢিল ছুড়ত তারা। একেকটা ঢিলে বেশ কয়েকটা করে ফল পড়ত। যার ঢিলে যে ফলগুলো পড়ত সেগুলোর মালিক হতো সেই। তার ফলগুলো কুড়ানো পর্যন্ত অন্যরা অপেক্ষা করত; এরপর আসত তাদের পালা। জ্যাকের হাতের লক্ষ্য খুব পাকা ছিল বলে এই খেলায় সে পিয়েরের সমকক্ষ ছিল। তবে যাদের হাতের লক্ষ্য অতোটা পাকা ছিল না তাদের সঙ্গে জ্যাক এবং পিয়েরে নিজেদের ফলগুলো ভাগাভাগি করে নিত। এই খেলায় সবচেয়ে খারাপ হাত ছিল ম্যাক্সের; তার চোখের দৃষ্টি ছিল দুর্বল এবং চোখে চশমা পড়ত সে। গাট্টাগোট্টা চেহারার ম্যাক্সকে তারা যেদিন প্রথম মারামারির দৃশ্যে দেখেছিল সেদিন থেকে সবাই তাকে সমীহ করে চলত। অন্যরা, বিশেষ করে জ্যাক, মারমুখি মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাস্তায় মারামারির সময়ে প্রচণ্ড বেগে হাত পা ছুড়ে সর্বশক্তি দিয়ে তাকে আঘাত করার চেষ্টাতেও ঝুঁকির মধ্যে থাকত। কারণ মারের প্রতিবাদে ম্যাক্সও কষে মার লাগাতে ওস্তাদ ছিল। ম্যাক্সের নামের উচ্চারণে জার্মান ভাষার ছোঁয়া ছিল বলে কষাইয়ের ছেলে যাকে অন্যরা গিগট বলে ডাকত সে একদিন ম্যাক্সকে ‘শালার হান’ বলে গালি দিয়েছিল। সেদিন উত্তেজনা প্রকাশ না করেই ম্যাক্স চশমা খুলে যোসেফের কাছে রেখে মুষ্টিযোদ্ধাদের স্টাইলে দাঁড়িয়ে গেল; খবরের কাগজে সে মুষ্টিযোদ্ধাদের ওরকম করে দাঁড়ানোর ছবি দেখেছিল আগেই। তারপর গিগটকে তার গালি পুনরায় আওড়াতে আহ্বান করল।

সামান্যতম ঘাম না ঝড়িয়েই গিগটের প্রত্যেকটা আঘাত এড়িয়ে তাকে আচ্ছা মতো কয়েক বার করে ধোলাই দিয়ে দিল। ওদিকে গিগট তাকে আঙুল দিয়ে ছোঁয়ার সুযোগও পেল না। শেষে ঘুষি মেরে গিগটের চোখের কোণে কালো দাগ ফেলে দিয়ে ম্যাক্স সর্বোচ্চ বিজয়লাভ করেছিল সেদিন। সেদিন থেকেই তাদের ক্ষুদে দলে ম্যাক্সের জনপ্রিয়তা সুনিশ্চিত হয়ে গেল। ফলের রসে পকেট আর হাত বোঝাই হয়ে গেলে তারা বাগান ছেড়ে সমুদের দিকে এগোতে থাকত। বাগানের সীমানা পার হয়ে গিয়ে তাদের ময়লাজীর্ণ রুমালে বিছিয়ে ফলগুলো খেতে থাকত। দাঁতের নিচে ফলগুলো যেন বিজয়ের মতোই কড়া মিষ্টি আর রসালো লাগত। তারপর তারা সমুদ্র সৈকতের দিকে ছুটে যেত।

(চলবে)

এসএ/

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলা ও বাড়ি লুটপাটের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিলউথরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম আতাউর রহমান (৬০)। তিনি বিলউথরাইল গ্রামের মৃত ফজের আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সমর্থক। বিবাদমান একটি জমি নিয়ে বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে ভুক্তভোগী আতাউর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে তাঁদেরকে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে মান্দা থানা পুলিশ।

সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ও উপজেলা বিএনপি'র নেতৃবৃন্দরা।

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুহিন আলী (৪০), বুলবুল আহমেদ সুমন (৩২), মাইনুল ইসলাম (৪০), মারুফ হোসেন (১৯), পিয়াস আহমেদ (১৯), ফিরোজ হোসেন (২৬), আবু সাইদ মন্ডল (৪৫), বিদ্যুৎ হোসেন গাইন (৩৬) ও এমাজ উদ্দিন মন্ডল (৫৫)।

ভুক্তভোগী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার কবলাকৃত সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রেখেছেন বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোকজন। আদালতের রায়ের পরও ওই সম্পত্তিতে যেতে পারছি না। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থকের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতবাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আমাদের সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের দেওয়া আগুনে পুরো বাড়ির টিনের ছাউনি, দুটি মোটরসাইকেল, জমির দলিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তা আমরা কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যাই।’

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আতাউর রহমানের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনায় আতাউর রহমান বাদি হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদেরকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়, যা উভয় নেতা মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলনের এক নৈশভোজে দুই নেতার কুশলাদি বিনিময় হয়। নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

এই নৈশভোজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোর অধিকাংশই পেছন থেকে তোলা হয়েছে।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে ওই নৈশভোজের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে উল্লেখ করেন, “ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে।”

ড. ইউনূস বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Header Ad
Header Ad

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। শুক্রবারের ঐতিহাসিক এই রায়ের মাধ্যমে ইউনের প্রেসিডেন্সি বাতিল করা হয়, যার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে আদালতের রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তার পদক্ষেপ ছিল গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি আরও বলেন, ইউন জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং সামরিক আইন জারি করে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

এই রায়ের পক্ষে আটজন বিচারপতি একমত হয়েছেন বলে জানানো হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং "আমরা জিতেছি!" স্লোগান দিতে থাকেন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর সংকেত।

এছাড়া, ৬৪ বছর বয়সী ইউন সুক-ইওল এখনও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। জানুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তবে পরে মার্চে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে তাকে মুক্তি দেয়।

এ সংকট শুরু হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর, যখন ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করে এবং আইনটি নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে ইউন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন এবং দাবি করেন, তার কখনও জরুরি সামরিক শাসন জারি করার ইচ্ছা ছিল না।

প্রতিবাদ চলতে থাকলেও আদালতের রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর একটি প্রভাব পড়বে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি