শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান

সেন্ট ব্রিউক এবং মালান (জে জি)

সেদিন সন্ধ্যায় ডিনারে বসে জ্যাক করমারি তার পুরনো বন্ধুর খাওয়া দেখছিল: ভেড়ার পায়ের মাংসের দ্বিতীয় খণ্ড সে বিরক্তিকর রকমের রাক্ষুসে কামড় দিচ্ছে। সমুদ্র তটের দিকে চলে যাওয়া রাস্তার ধারের ওই এলাকার ওই বাড়িটাতে যে বাতাস ঢুকছে সে বাতাসও যেন নিচু ছাদঅলা বাড়ির ভেতর মৃদু গর্জন তুলছে। বাড়িতে ঢোকার সময় জ্যাক খেয়াল করেছে, ফুটপাতের পাশে পয়োনালিতে বেশ কয়েক টুকরো শুকনো শেওলা পড়ে আছে। শেওলার টুকরোগুলোর লবণাক্ত গন্ধ থেকে বুঝতে পেরেছে, ধারে কাছেই সমুদ্র আছে।

ভিক্টর মালান তার কর্মজীবনের পুরোটাই শুল্ক প্রশাসনের কাজে ব্যয় করে অবসরে গেছে এই ছোট শহরে। অবসরের জন্য সে নিজে এই জায়গা বেছে নেয়নি; তবে এর পক্ষে তার সাফাই হলো, তার নিঃসঙ্গ ধ্যানমগ্নতা থেকে কোনো কিছুই তার মনোযোগ নষ্ট করতে পারবে না: না বাড়তি সৌন্দর্য, না বাড়তি কদর্যতা, না খোদ নির্জনতার আতিশয্য। বিভিন্ন বিষয়ের প্রশাসন এবং মানুষজনকে বিভিন্নভাবে ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার অভিজ্ঞতা থেকে তার অনেক কিছুই শেখা হয়েছে। তবে প্রথমত এবং বাহ্যত আমাদের জানার পরিধি খুবই সীমিত পরিসরের। তারপরও অভিজ্ঞতা থেকে মালানের শিক্ষাদীক্ষা অনেক হয়েছে। জ্যাক করমারি তার প্রশংসা করে থাকে খোলা মনেই। বিশেষ করে যখন উল্লেখযোগ্য মানুষদের মামুলিত্ব খুব বেশি চোখে পড়ার মতো তখন মালান তার নিজস্ব চিন্তা চেতনার জন্য নিজেকে এক আলাদা ব্যক্তিত্বে পরিণত করতে পেরেছে। যে করেই হোক, তার আপাত বিভ্রান্তিকর আনুকূল্য প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বাইরের অবস্থার ভেতরে আসলে সে নিজস্ব মতামতের ব্যাপারে আপোষহীনভাবেই অবিমিশ্র।

মালান বলে, বৎস, তুমি যেহেতু তোমার মাকে দেখতে যাচ্ছ তোমার বাবার ব্যাপারেও খোঁজ-খবর করে দেখার চেষ্টা করো। তারপর ফিরে এসে তাড়াতাড়িই আমাকে জানাও পরবর্তীতে কী ঘটেছে। সব কিছু হেসে উড়িয়ে দেওয়ার মতো বলে মনে হয় না আমার।

জ্যাক বলে, হ্যাঁ, ব্যাপারটা তো সেরকমই। তবে এখন আমার আগ্রহ যেহেতু জেগে উঠেছে আমি আরো কিছু তথ্য যোগার করার চেষ্টা করতে পারি। আমি যে এতদিন এ ব্যাপারে উদাসীন ছিলাম সেটাই আসলে রোগ নির্ণয়ের মতো বিষয়।

না, সেরকম নয় মোটেই। এখানে বরং প্রজ্ঞার কথা বলতে পারো। তুমি তো মার্থাকে চিনতে। ওর সঙ্গে আমার বিবাহিত জীবন ত্রিশ বছরের। চমৎকার মানুষ একজন। এখনও ওর কথা খুব মনে পড়ে। আমি আগে সব সময়ই মনে করতাম, মার্থা নিজের বাড়ি খুব পছন্দ করে।

অন্য দিকে তাকিয়ে মালান আরো বলে, সন্দেহ নেই, তোমার কথা ঠিকই। জ্যাক মনে মনে অপেক্ষা করতে থাকে; তার অনুমোদনের বিপক্ষে আপত্তি আসবেই।

মালান আাবার শুরু করে, তা সত্ত্বেও আমি নিশ্চিত, জীবন যতদূর আমাকে শিখতে দিয়েছে তার চেয়ে বেশি কিছু শেখার ব্যাপারে আমি নিজেকে নিবৃত্ত করেছি। অবশ্য আমি জানি, হয়তো সেটা আমার ভুলই হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আমি একটা খারাপ উদাহরণ, তাই না? যখন সবকিছু বলা হয়ে গেছে এবং করা হয়ে গেছে তখন আমি আর কোনো চেষ্টা করিনি; মানে দোষটা আসলে আমারই। আর তুমি, তুমি তো বেশ করিৎকর্ম হে। শেষের কথাগুলো বলার সময় মালানের চোখ সামান্য দুষ্টুমিতে নেচে ওঠে।

মালানের চেহারা চীনাদের মতো:
গোলাকার মুখ, নাক খানিকটা চ্যাপটা, চোখের ওপরে ভ্রু নেই বললেই চলে, চুলের কেতা তার মাথায় অনেকটা পুডিংয়ের বাটি সদৃস চেহারা দান করেছে। আর তার গোঁফ বিরাট হলেও মোটা ইন্দ্রিয়জ ঠোঁটকে আড়াল করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার নরম গোলাকার শরীর, মাংসল হাত এবং বেঁটে খাটো আঙুলগুলো পায়ে হাঁটতে নারাজ কোনো মান্দারিন পর্যটকের কথা মনে করিয়ে দেয়। আয়েশ করে খাওয়ার সময় সে যখন চোখ বন্ধ করে তার চেহারা দেখে মনে না করার উপায় নেই, সে সিল্কের পোশাক পরে চপস্টিক হাতে খাচ্ছে না। তবে তার ভঙ্গি বদলেও যায়: তার অস্থির এবং আকস্মিক একাগ্র কালো চোখ সত্ত্বেও যখন কোনো বিশেষ বিষয় নিয়ে তার মন নিবিষ্ট থাকে তখন মনে হয় এই চোখ জোড়া মহান সংবেদনশীলতা আর সংস্কৃতির ধারক বাহক কোনো পাশ্চাত্যের মানুষের।

বৃদ্ধা এক চাকরানী একটা পনিরের ট্রে নিয়ে এল। মালান পনিরের দিকে চোখের কোণা দিয়ে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। মালান বলল, আমি একজনকে চিনতাম; তার স্ত্রীর সাথে ত্রিশ বছর কাটিয়েছে...., আমি এরকম একজনকে চিনতাম ....,, কিংবা, এক বন্ধুকে আমি চিনতাম...., একজন ইংরেজ একবার আমার সহযাত্রী হয়েছিলেন.... মালান যখনই এরকম বলা শুরু করে জ্যাক তখন আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে শোনে। যেমন .... ওই লোকটা পেস্ট্রি পছন্দ করত না। তার স্ত্রীও কোনো দিন পেস্ট্রি খেত না। বিশ বছর এক সঙ্গে কাটানোর পর লোকটা তার স্ত্রীকে একদিন পেস্ট্রির দোকানে পেয়ে গেল। তারপর স্ত্রীর ওপর নজর রেখে দেখতে পেল, সে ওখানে সপ্তাহে বেশ কয়েকবার করে যায় কফির কেক খেতে। হ্যাঁ, লোকটা মনে করেছিল, তার স্ত্রী মিষ্টি পছন্দ করে না, অথচ সে কফির কেক খেতে যায়।

জ্যাক বলল, তাহলে আমরা কাউকেই ভালো করে চিনি না।

সেটাই মনে করতে পারো। সবকিছু ইতিবাচক বলে বর্ণনা করার ব্যাপারে আর্মা নিজের দোষ থাকতে পারে। তবে আমার কাছে আরো সঠিক বলে মনে হয় বা আমি বলতে পছন্দ করি, যদি বিশ বছর এক সঙ্গে বসবাস করেও কাউকে চেনা না যায় তাহলে কারো মৃত্যুর চল্লিশ বছর পর তার ব্যাপারে অনুসন্ধান করাটা অগভীর থেকেই যেতে পারে। সীমিত তথ্য পাওয়ার একটা ঝুঁকি থেকে যায় তাতে। হ্যাঁ, এই মানুষটির সম্পর্কে পাওয়া তথ্য যে কেউই সীমিত বলতে পারে। অবশ্য অন্য অর্থে....।
তারপর মালান একটা ছুরি তুলে নিয়ে সেটাকে ছাগলের পনিরের ওপরে অদৃষ্টবাদীর মতো করে নামিয়ে বলল, ইয়ে, তুমি পনির খাবে না, না? এখনও এত মিতাহারী তুমি? তোমাকে খুশি করা খুব কঠিন।

তার আধো বোজা চোখের ওপর আবারো দুষ্টুমির আভা ছড়িয়ে পড়ল।

করমারি তার এই পুরনো বন্ধুকে বিশ বছর ধরে চেনে। তার পরিহাস সে সানন্দচিত্তেই গ্রহণ করে থাকে। সে বলল, আমাকে খুশি করার ব্যাপার নয়। বেশি খেলে আমার শরীর স্থূল হয়ে যায়। আর স্থূল হলেই তো রসাতল।

হ্যাঁ, তা তো বটেই। তা না হলে তো তুমি আমাদের বাকি সবার ওপর দিয়ে উড়তে পারো না।

করমারি নিচু ছাদঅলা সাদা রং করা ডাইনিং রুম বোঝাই সাদাসিধা অথচ সুদর্শন আসবাবপত্রের দিকে নজর রেখে বলল, বন্ধু, তুমি হয়তো সব সময়ই ভেবেছো, আমি উগ্র। অবশ্যই আমি উগ্র। তবে সব সময় নই এবং সবার সঙ্গে নই। যেমন তোমার সঙ্গে উগ্রতা দেখাতে একেবারেই অপারগ আমি।

মালান অন্য দিকে দৃষ্টি ফেরাল। তার মানে আবেগের মুহূর্তগুলোতে সে এরকমই করে থাকে। সে বলল, হ্যাঁ, সেরকমই দেখেছি। কিন্তু কারণটা কী?

করমারি শান্ত কণ্ঠে বলল, কারণ তোমার জন্য আমার ভালোবাসা আছে।

মালান ঠাণ্ডা করা ফলের বাটিটা নিজের দিকে টেনে নিল। মুখে কিছু বলল না।

করমারি বলেই চলল, যখন আমার বয়স খুব অল্প ছিল, প্রচণ্ড রকমের বোকা ছিলাম, একা ছিলাম। আলজিয়ার্সের সেই দিনগুলোর কথা তোমার মনে আছে? তখন তুমিই আমার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলে আর এই জগতে আমার যা কিছু ভালো লাগতো সেসবের দরজাগুলো আমার জন্য খুলে দিয়েছিলে।

আরে না। তোমার নিজের যোগ্যতা ছিল বলেই।

অবশ্যই ছিল। কিন্তু যোগ্যতম মানুষের জন্য আরেকজন মানুষ দরকার হয় যিনি তাকে শুরু করিয়ে দেন। চলার পথে জীবন যে মানুষটাকে উপহারের মতো এনে হাজির করে সে মানুষটাকে তো চিরদিন ভালোবাসতেই হবে, শ্রদ্ধা করতেই হবে। এমনকি সেই মানুষটার মধ্যে দায়িত্ব বোধের ঘাটতি থাকলেও। আমার ত্রুটি হয়তো সেখানেই।

মালান বিনয়ের সঙ্গে বলল, হ্যাঁ, সেটাই।

আমি জানি তোমার পক্ষে এটা বিশ্বাস করা কঠিন। তবে মনে রেখো তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা অন্ধ নয়। তোমারও ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে, বেশ বড় ত্রুটিই আছে, অন্তত আমার দৃষ্টিতে।
লান তার মোটা ঠোঁট চাটতে লাগল। তাকে আগ্রহী মনে হচ্ছে। জিজ্ঞেস করল, কী দোষত্রুটি?

যেমন তুমি মিতব্যয়ী। অবশ্যই বলতে পারি, তুমি লোভের বশবর্তী হয়ে মিতব্যয়ী হওনি। তবে ভয় থেকে মিতব্যয়ী হয়েছ। ভয় মানে কপর্দকহীন হওয়ার ভয়। এটাও একটা ত্রুটি। আমি সাধারণত এই ত্রুটিটা পছন্দ করতে পারি না। তবে সর্বোপরি তুমি অলক্ষিত প্রণোদনা সম্পর্কে অন্যদেরকে সন্দেহ না করে পারো না। অন্যদেরও যে নিরপেক্ষ মতামত থাকতে পারে সে ব্যাপারে তুমি সহজাতভাবে অবিশ্বাসী।

মালান মদ শেষ করে বলল, শোনো, আমার কফি খাওয়া উচিৎ নয়। তবু...।
করমারি তবু বলেই চলল, যেমন ধরো তুমি কিছুতেই নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারতে না। যদি আমি তোমাকে বলতাম, তুমি শুধু মুখ দিয়ে চাইলে আমার যা কিছু আছে সব আমি তোমাকে দিয়ে দিতে পারতাম, তবু পারতে না।

মালান তার বন্ধুর দিকে দ্বিধান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলল, আহা, আমি জানি তো, তুমি খুব উদার।

না, আমি উদার নই। যেসব বিষয় আমাকে ক্লান্ত-বিরক্ত করে সেসব বিষয়ে আমি সময় এবং শক্তি খরচের ব্যাপারে ব্যয়কুণ্ঠ। তবে আমি যা বলছি তা সত্যি। তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারো না এবং এটাই তোমার ত্রুটি। একজন উঁচু মাপের মানুষ হয়েও এখানেই তুমি অসহায়। কারণ এটাই তোমার ভুল। আরেকটা কথা, এখন আমার যা কিছু আছে সব তোমার। তোমার আর এর কোনো দরকার নেই এবং এটা একটা উদাহরণ মাত্র। তবে আমি এটা অযৌক্তিকভাবে বেছে নিইনি। সত্যিই আমার সবকিছুই তোমার।

চোখ আধোবোঁজা রেখেই মালান বলল, সত্যিই তোমাকে ধন্যবাদ। আমি অভিভূত।

ঠিক আছে। আমি তোমাকে বিব্রত করছি। যারা খোলামেলা কথা বলে তাদের তোমার পছন্দ নয়। আমি শুধু বলতে চাই তোমার সব দোষত্রুটিসহই আমি তোমাকে ভালোবাসি। খুব কম মানুষকেই আমি ভালোবাসি কিংবা গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। অন্যদের ব্যাপারে বলব, তাদের প্রতি আমার উদাসীনতার জন্য আমি লজ্জিত বোধ করি। কিন্তু যাদেরকে আমি ভালোবাসি তাদেরকে ভালোবেসেই যাই; অন্য কিছু কিংবা অন্য কেউ এমন কি তারা নিজেরাও আমার এ ভালোবাসা থেকে নিরত রাখতে অক্ষম। এ সত্যটা বুঝতে আমার অনেক সময় লেগেছে। এখন আমি পরিষ্কারভাবেই জানি। আমার যা বলার বলা হয়েছে। তাহলে এবার আমাদের কথায় আসা যাক: আমার বাবার সম্পর্কে খোঁজ খবর করাটা তুমি সমর্থন করো না।

না, সেরকম নয়। বলতে গেলে, আমি সমর্থনই করি। আমার আশঙ্কা ছিল, তুমি হয়তো হতাশ হতে পারো। আমার এক বন্ধু এক মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাকে বিয়ে করার জন্য অন্যদের কাছ থেকে তার সম্পর্কে জানতে গিয়ে ভুল করে ফেলে।

 

(চলবে)

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

 

 

 

Header Ad
Header Ad

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার রঞ্জুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। তার বাড়ি গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার মহুরি পাড়ায় (বিহারি পট্টি)।

অপরদিকে, মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র পরিচালকও ছিলেন।

গ্রেপ্তারি বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে অবস্থান করা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিমকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের আগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সাঈদ হোসেন জসিম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলাম। সবার দোয়া চাই।’

Header Ad
Header Ad

সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি- এবার আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে, আমরা একটি মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে জন্ম নেয়।

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী এবং দেশকে মুক্তকারী ছাত্রনেতারা আমাকে আমাদের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের আগমনের পর থেকে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিমসটেক সচিবালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।

Header Ad
Header Ad

নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু

বক্তব্য রাখছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে উদ্দেশ্য শহীদরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই ভোটের অধিকারের প্রতিষ্ঠার যে দাবি, যেটি আমি মনে করি যৌক্তিক সময়েই এই সরকার প্রদক্ষেপ নিবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগ করবে এটিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাজেই এই সরকার ব্যর্থ হলে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস এ তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, নির্বাচনের দাবি কিন্ত বাংলাদেশের আপামোড় জন সাধারণের। মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সত্বেও তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাজেই সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এ দেশের মানুষ ও জনগণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা এক প্রশ্নে জবাবে আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে পাশ্ববর্তী দেশে থেকে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন রকম উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, সেভাবে এদের ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো।

এ সময় জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের