রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব: ১৪

অঘ্রানের অন্ধকারে

টেবিলের ওপর মগে আমার প্রিয় কফি। সুন্দর গন্ধ পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। কফির গন্ধে মনে চনমনে ভাব আসে। আমার মন যথেষ্ট চনমন করছে। কম্পিউটারে ‘তুরির নোটবুক’ লেখা ফাইল ওপেন করলাম। তুরিকে নিয়ে লেখা গল্পটা আরও খানিকদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে। যতদূর লিখেছি তারপর লিখলাম, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এসে শাবিন ভড়কে গেল। এটা ঢাকার কাছাকাছি, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জাইল্লা গ্রামে। পরিচালনা করেন একজন ব্রাদার। নাম ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল। ২৫ বছর বয়সে শিক্ষকতা করার উদ্দেশ্যে আমেরিকা ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। পরে গড়ে তুলেছেন এই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র। নাম দিয়েছেন আপনগাঁও। তিন একর জায়গার ওপর ওপর প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। বিশাল খোলা প্রান্তর। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। আদিগন্ত ধানক্ষেত। মাঝখানে দুটো দালান।
শাবিন ভেবেছিল এখানে হাসপাতালের মতো সিঙ্গেল কেবিনের ব্যবস্থা থাকবে। এসে দেখে বড়ো একটা ঘরে ৭০ জনকে রাখা হয়েছে। সারি সারি বিছানা।
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে শাবিন নিজ ইচ্ছেতে এসেছে। তুরি তাকে আদর করে বলল, তুমি পুন্নিকে ভালোবাসো?
হ্যাঁ বাসি।

বিয়ে করতে চাও পুন্নিকে?
তুমি তো সব ভণ্ডুল করে দিলে।
তুরি এখন ঘরে শাবিনের সঙ্গে ফেনসিডিল খায়। ফেনসিডিল কেনার পয়সা তুরি দেয়। শাবিন কিনে নিয়ে আসে। এই ঘটনা শাবিনের মা জানেন না।
শাবিন তার বন্ধুদের সঙ্গে মেশা কমিয়ে দিয়েছে। সে প্রায় সবসময় ঘরে থাকে। সারাদিন ঘুমায়। মাঝেমধ্যে বাইরে গেলে অনেক রাতে বাড়িতে ফেলে। তুরি জানে শাবিন সেদিন পুন্নির কাছে যায়।
তুরি আর শাবিন বসে একসঙ্গে ফেনসিডিল খাচ্ছে। তুরি বলল, একজনের দুই বউ থাকতেই পারে। তুমি পুন্নিকে বিয়ে করো। আমি তুমি আর পুন্নি তিনজন একসঙ্গে থাকব।
শাবিন অবাক হয়ে হাসছে। হাসতে হাসতে বলল, অ্যাই, তোমার নেশা হয়ে গেছে। আর খেয়ো না।
আমার নেশা হয়নি। বলো, তুমি পুন্নিকে বিয়ে করবে?
মা রাজি হবে?
মাকে আমি রাজি করাব। মায়ের শরীর ভালো নেই। তোমাকে নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তা করেন।
আমাকে নিয়ে না, বাবাকে নিয়ে।
আমার ধারণা বাবা কোথায় আছেন, মা জানেন। তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে মা তোমাকে বাবার ঠিকানা দেবেন।
আমি সুস্থ হয়ে উঠব। এই মাল ছুঁয়ে বলছি আগামীকাল থেকে সব বাদ। আর নেশা করব না।
একা একা নেশা ছাড়া যায় না। কষ্ট হয়।
তুমি আছ।
চলো রিহ্যাবে যাই। ওখানে থাকলে তুমি ভালো হয়ে যাবে।
অনেক টাকা লাগবে।
তোমাকে ছয় মাস থাকতে হবে না। পঁচিশ দিন থাকবে।
তাতেও অনেক টাকা দরকার। তিরিশ হাজার টাকার মামলা। পুন্নি চেয়েছিল। ওর জন্য খোঁজ নিয়েছিলাম।
মায়ের জন্য, তোমার আর পুন্নির জন্য টাকা আমি দেব।
শাবিন সকালে তুরির সঙ্গে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চলে এলো। জায়গাটা ভালো লাগল শাবিনের। গ্রামের ভেতর। চারদিকে ধানক্ষেত। চারদিকে ঘন সবুজ। জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস ঢোকে। বাইরে তাকালে মন ভালো হয়ে যায়।
শাবিনকে রেখে তুরি চলে যাচ্ছে। শাবিন জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। তার মন খারাপ হয়ে গেল। সে বিষণœ চোখে তাকিয়ে থাকল। তুরি মাথা নিচু করে হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছে। সরু মাটির রাস্তা। শাবিন এতক্ষণ খেয়াল করেনি। এখন দেখল তুরি আজ শাড়ি পরেছে। তার পরনে সবুজ শাড়ি। তুরির হেঁটে যাওয়া দেখতে অপূর্ব লাগছে। শাবিনের চোখ ভরে পানি চলে এলো।

ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠতে হয়েছে। এখানে প্রার্থনা ঘর আছে। সেখানে সবাই গোল হয়ে বসেছে। প্রার্থনা হচ্ছে। অনেক ধরনের প্রার্থনা হয়। যেমন ক্ষমাদানের প্রার্থনা, প্রশান্তির প্রার্থনা, খাবারের প্রার্থনা, আশির্বাদের প্রার্থনা।
এখন আশির্বাদের প্রার্থনা হচ্ছে। হে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা, তুমি সকল আসক্তিদের আশির্বাদ করো। যে যেখানে থাকুক না কেন সেই সমস্ত হতভাগ্য, যাদের আজ সত্যিকারভাবে সুস্থ হওয়া প্রয়োজন, তাদের প্রতি তুমি সহানুভূতিশীল হও, দয়া করো এবং এই সুন্দর পথ দ্বারা পরিচালিত করো, যেমন তুমি আমাকে ও আরও অনেককে সাহায্য করেছ। আশির্বাদ করো, যারা আজ সুস্থ এবং এই সুস্থতার পথ দ্বারা এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রভু, তুমি বিশেষভাবে সহানুভূতিশীল হও, দয়া করো যারা আজ সত্যিকারভাবে অসহায় এবং এখনো জানে না তারা তাদের মুক্তির পথ। আমিন।


শাবিনের পো উঠে গেছে। তার অস্থির লাগছে। হাতপা আড়ষ্ট হয়ে আসছে। নিজের হাত কামড়াচ্ছে। এক হাত দিয়ে আরেক হাত মোচড়াচ্ছে। নাক দিয়ে ঝরঝর করে সর্দি ঝরছে।
শাবিনের মনে হচ্ছে ধারালো কিছু পেলে সে নিজের হাত কেটে ফেলত। ধারালো কিছু পাওয়া গেল না। শাবিন ঘরের দেয়ালের সঙ্গে হাতপা আর শরীর ঘষতে থাকল।
একজন এসে তাকে তিনটা সিগারেট দিয়েছে। সিগারেটের নাম হলিউড। সস্তা দামের সিগারেট। খেতে জঘন্য। সকালে এই সিগারেট দেওয়া হয় তিনটা, বিকালে দুটো। দিনে মোট পাঁচটা। শুধু হলিউড না। সানমুন, ডারবি, পাইলট, শেখ নামের সিগারেটও দেওয়া হয়। সবগুলোই সস্তা দামের সিগারেট আর খেতে একইরকমের বিচ্ছিরি।
সিগারেট খেতে হয় বারান্দায় গিয়ে। সময় পাওয়া যায় ছয় মিনিট। সিগারেট রেখে দেওয়া যায় না। অন্য কাউকে দেওয়াও যায় না। অনেক নিয়ম এখানে। একা টয়লেটে যেতে দেয় না। সঙ্গে কেউ যায়।
লাল রঙের জ্যাকেট পরে একজন দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আছে। শাবিন জিগ্যেস করল, ওর কী হয়েছে?
সঙ্গে যে ছিল সে বলল, শাস্তি হচ্ছে। এখানে শাস্তি হয় কঠিন। তুমি নিয়ম না মানলে তোমাকে তিন ঘণ্টা দেয়ালের দিকে মুখ করে বসিয়ে রাখবে। খাবার বন্ধ করে দেবে। কেউ তোমার সঙ্গে কথা বলবে না। তুমি কারও সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। এটা হচ্ছে কুল আপ। খারাপ কাজের তিরস্কার। আর ভালো কাছের পুরস্কার হচ্ছে পুল আপ।
শাবিনকে খাতা দেওয়া হয়েছে তাতে তার অনুভূতি লেখার জন্য। শাবিন লিখল,
এক দুই তিন
চলে গেল দিন
চার বাদে পাঁচ
ছয় আর সাত
চলে এলো রাত।

ভোর হয়। প্রার্থনা দিয়ে শুরু হয় দিন। তারপর লাইন ধরে ব্রাশে পেস্ট নিয়ে দাঁত মাজা, রুটি-ডাল দিয়ে নাস্তা করা। প্রশিক্ষক বললে নাস্তা শুরু করতে হয়। প্রশিক্ষক যতক্ষণ না বলবেন ততক্ষণ নাস্তা খাওয়া শুরু করা যাবে না।
রুটি বেশি হয়েছে। শাবিনের খেতে ইচ্ছে করছে না। সে বলল, আমি একটা রুটি কাটতে চাই।
এটাই নিয়ম এখানে। পাশেরজনের দরকার হলেও কেউ তাকে রুটি বা ভাত দিতে পারবে না। লিডারকে বলতে হবে। তখন যার প্রয়োজন তাকে লিডার সেই রুটি বা ভাত কিংবা তরকারি পৌঁছে দেবেন।


নিয়ম মেনে চলতে হয়। সবাইকে ‘ভাই’ আর ‘আপনি’ বলে কথা বলতে হয়। রাতের শিফটে গ্রুপ ভাগ করে পাহারার ব্যবস্থা থাকে। অনেকগুলো গ্রæপ আছে। কিচেন গ্রুপ, তরিতরকারি রেডি করা গ্রুপ, টয়লেট পরিষ্কার করা গ্রুপ। গ্রুপের কাজ প্রতি সপ্তাহে পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। কিচেন গ্রæপকে ভোরবেলা উঠে চুলা জ্বলিয়ে রুটি বানাতে হয়। ঘুরেফিরে সবাই সব কাজ করে।


বেলা এগারোটায় চা-মুড়ি। বারোটায় মাদক গ্রহণের কুফল নিয়ে ক্লাস। ভাত রান্নার চাল বেছে পরিষ্কার করা লাগে। সেই চালে ভাত রান্না হয়। খাওয়ার সময় প্রার্থনা করা লাগে। খাবারের প্রার্থনা। হে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা, এই সুন্দর সকালে/দুপুরে/রাতে যে খাবার তুমি আমাদের দিয়েছ তার জন্য তোমাকে জানাই ধন্যবাদ...।
ভাত খেয়ে বিশ্রাম। ঘর পরিষ্কার করা, ব্যায়াম সেরে বিকাল তিনটায় গোসল। গোসলের সময় দুই মিনিট। বিকেলে গান-বাজনা করা যায়। রাতে টিভি দেখে প্রার্থনার পর ঘুম। সপ্তাহে একদিন ফুটবল খেলতে দেয়।

চলবে..

 

পর্ব ১৩: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ১২: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ১১: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ১০: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৯: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৮ : অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৭ : অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৬: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৫: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৪: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৩: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ২: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ১: অঘ্রানের অন্ধকারে

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে: প্রেসসচিব

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন শুল্কহার নিয়ে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, মার্কিন প্রশাসনের কাছে কী বার্তা পাঠানো হবে, সেসব বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হবে।”

প্রেসসচিব আরও বলেন, “আমরা এমন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বর্তমানের তুলনায় আরও বাড়ে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, রপ্তানি কমবে না বরং বাড়বে। এই উদ্দেশ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আজকের বৈঠক থেকে খুবই ইতিবাচক কিছু সিদ্ধান্ত আসবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অত্যন্ত ভালো বন্ধু। রপ্তানিবিষয়ক এই ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেই আমরা আশা করছি।”

বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কৌশল ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এ বাজারে আরও প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।

Header Ad
Header Ad

টাঙ্গাইলে ধান ক্ষেতে মিলল ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ধান ক্ষেত থেকে ফজিলা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার আউলিয়াবাদ গ্রামের মাঝিপাড়ার ধান ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফজিলা বেগম ওই গ্রামের মৃত চান মাহমুদের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার ৪ এপ্রিল রাত ৩টার দিকে মেয়েরা ফজিলা বেগমকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ পায়নি। এ সময় বৃদ্ধার বসত ঘরটির দরজা ও জানালা বন্ধ ছিল।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে ঘরে না পেয়ে মেয়েরা ওই বৃদ্ধাকে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের বোরো ধানের জমির পাশে ফজিলা বেগমেরব মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। ফজিলা বেগমের মুখে কাঁদা মাখানো ছিল। তাদের চিৎকারে আশপপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

ফজিলা বেগমের স্বজনদের ধারণা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র ফজিলাকে হত্যা করে তার গলা, কান ও হাতে থাকা স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া জানান, ওই বৃদ্ধা নারীর মুখে কাঁদা মাখানো ছিল। তার একটি কান কাটা ও নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। ধারণা, তাকে হত্যা করে গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি লুকিয়ে রাখে দুর্বৃত্তরা। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী, সাথী ও সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক প্রীতিসভায় এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।

সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে সৎ, আদর্শবান ও ইসলামপন্থী প্রার্থীদের জয়ী করে জাতিকে সুশাসনের পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।

ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন— বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদিঘি) আসনে নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে আলহাজ দবিবুর রহমান, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে আবিদুর রহমান সোহেল এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে গোলাম রব্বানী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এবং আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব ফেডারেশন (ইফসু)’র সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। এছাড়া জামায়াতের বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা আব্দুর রহীম ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে ছাত্রশিবিরের দুই হাজারেরও বেশি সাবেক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা পরিবেশনা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে জামায়াত নির্বাচনী মাঠে নিজেদের পুনরায় সক্রিয় ও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে চাইছে। ছাত্রশিবিরের সাবেকদের অংশগ্রহণ দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির একটি ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন অনেকে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে: প্রেসসচিব
টাঙ্গাইলে ধান ক্ষেতে মিলল ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ
বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
রংপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০
গত ২৫ বছর ‘জয় বাংলা’ বলিনি, এখন থেকে বলব: কাদের সিদ্দিকী
বিরামপুরে ভয়াবহ আগুনে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই
রাতেই ঢাকাসহ ৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে
মোদির প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার ফেরত নিয়ে নেতিবাচক ছিল না: প্রেস সচিব
নওগাঁ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে অসোন্তোষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ২৫৫
‘বিদেশি কিছু গণমাধ্যম অর্থ উপার্জনের উদ্দেশে বাংলাদেশকে নিয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করছে’
সারা দেশে ৩২৯ উপজেলায় হচ্ছে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ: মহাপরিচালক
২৭৭ জনকে নিয়োগ দেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এইচএসসি পাসেও আবেদন
ভূমিকম্পে মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৫৪
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবালো নিউজিল্যান্ড
স্বর্ণভর্তি ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত গড়লেন অটোরিকশাচালক খায়রুল
ঈদের ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু
ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়েছেন ১ কোটি ৭ লাখ সিম ব্যবহারকারী
যারা ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দিয়েছে, তারা রাজনীতি করার অধিকার রাখে না
লৌহজংয়ে কার্টনে পাওয়া মরদেহের টুকরোগুলো সাভারের সবুজ মোল্যার