শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

‘এই মুহূর্তে দায়িত্ব নিলে আমি ঠিক করতে পারব’

দেশের চলমান সংকটে বর্তমান সরকারের বিদায় দেখছেন ড. রেজা কিবরিয়া। তার আশা, খুব শিগগির বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে। রাষ্ট্রক্ষমতায় নতুন সরকার আসবে। দেশ আবার ঘুরে দাড়াবে। সরকারের পতন হলে কারা দায়িত্ব নেবে? কার নেতৃত্বে সরকার গঠন হবে? বিদেশি কোনো প্রভাব কাজ করছে কি-না? এসব নানা বিষয়ে ঢাকাপ্রকাশ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক, সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। যিনি স্বপ্ন দেখছেন আগামী সরকারের অর্থমন্ত্রী হওয়ার।

তার একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাকাপ্রকাশ-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শাহজাহান মোল্লা। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনারা তো বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। আপনার দল গণঅধিকার পরিষদের নিবন্ধন কি পেয়েছেন? না পেলে নিবন্ধন নেবেন কি না?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমরা নিবন্ধন চাইবো। কাজটা প্রায় শেষ। সরকার ইচ্ছা করে একটা বাধা দিয়ে রেখেছে নতুন দলের রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে। এই সরকার চায় না নতুন দলের নিবন্ধন দেওয়া হোক। নিবন্ধন পেতে এতো কাগজপত্র প্রয়োজন যে এটা একজন ক্যারি (বহন) করতে পারবে না, দুই-তিন জন লাগবে এটা নিয়ে যেতে। এতো ভারি হবে কাগজপত্র।

ঢাকাপ্রকাশ: তার মানে আপনার এই নির্বাচন কমিশনকে মেনে নিয়েছেন?

ড. রেজা কিবরিয়া: হ্যাঁ। নিবন্ধন চাইতে তো ওদের কাছেই যেতে হবে। আর কোথায় যাব? নিবন্ধনের জন্য কমিশন ঠিক আছে, কিন্তু তাদের কোনো কাজে আমরা সন্তুষ্ট না এখন পর্যন্ত। দেখি নিবন্ধনের ব্যাপারে তারা যদি ‘সেনসিবল’ হয় ভালো।

ঢাকাপ্রকাশ: নিবন্ধন পেলে ভোটে যাবেন কি না?

ড.রেজা কিবরিয়া: এই সরকারের অধীনে কোনো ভোটে আমরা যাব না। এই সরকার প্রমাণিত ভোট চোর। প্রমাণিত ভোট চোরের কাছে কী বিশ্বাস করব? কেন বিশ্বাস করব? নির্বাচন কমিশন একটা আছে সেটা ঠিক আছে। নির্বাচনে যাব কি না সেটা সময় বলে দেবে।

ঢাকাপ্রকাশ: সরকার তো বলেছে সংবিধানের বাইরে যাবে না। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে যাবার কোন সুযোগ নেই। তাহলে আপনারা কোন সরকার চাচ্ছেন?

ড. রেজা কিবরিয়া: একটা নিরপেক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ। তাদের কথায় জনগণ বিশ্বাস করে? যারা মিথ্যা ভোটের তথ্য জনগণকে দিয়েছে। যারা মিথ্যা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান দেয়- তাদের কথায় কেউ বিশ্বাস করে? করবে না।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনি বলছেন ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। আমরা তো দেখেছি জনগণের অধিকার কেড়ে নিলে তারা সেটা মেনে নেয় না। জনগণ রাজপথে নেমে আসে গত ৪ বছরে তো সেরকম কিছু দেখিনি।

ড রেজা কিবরিয়া: খুলনাতে যখন ১০৪ শতাংশ ভোট পড়ে তখন সাংবাদিকদেরও একটু সন্দেহ জাগা উচিত। এতো চুরি হয়েছে এতোগুলো আসনে। বিদেশী পর্যবক্ষেকদের আসতে ভিসা দেয়নি। সব কিছু থেকে বোঝা যায় ওদের উদ্দেশ্যেই খারাপ ছিল। ভোট চোরের সরকার জনগণ মেনে নিয়েছে সেটা ভাববেন না। হয়তো মানুষকে খুন করে, গুম করে, রাস্তায় কথা বলার মতো মানুষকে খুন করে তারা কিছু মানুষকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে, কিন্তু সব মানুষ সাহস হারায়নি, আশা হারায়নি। আমাদের দল গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার করার জন্য যা করার করবে।

ঢাকাপ্রকাশ: মানুষ যদি সাহস না হারায় তাহলে সে রকম আন্দোলন কি হয়েছে?

ড. রেজা কিবরিয়া: সে রকম বড় কিছু হয়নি। আমাদের দল তো মাত্র সক্রিয় হয়েছে কয়েক মাস। আমরা কি করবো সেটা অন্য দলের সঙ্গে তুলনা করবেন না। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে আমাদের দল খুবই শক্তিশালী। ভবিষ্যতে দেখবেন। সব দল করে না বা করতে চায় না, আমরা করে দেখিয়েছি। ভবিষ্যতে প্রমাণ দেখতে পাবেন। জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, বিদ্যুতের দাম আবার বাড়াবে। তারা জনগণের কথা চিন্তা করে না। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি।

ঢাকাপ্রকাশ: তাহলে বিএনপি কি জনগণের কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ বলে মনে করেন?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমরা বিএনপি থেকে অনেক কিছু আশা করি। হয়তো পুরোপুরি আমরা পাইনি, কিন্তু তাদেরও তো অসুবিধা আছে। তাদের নেতা একজন লন্ডনে আর একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

ঢাকাপ্রকাশ: সমালোচনা আছে যাদের নিবন্ধনই নাই। যাদের এখনও ভোট করার অধিকার হয়নি। তারা কিভাবে সরকারের পতন ঘটাবে?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমি আশাবাদী। এই ধরনের কথা যারা বলে তারা হতাশ হয়ে বলছে বা সরকারের দালাল লোক এসব কথা বলেন। ঘটনা এবং সময় প্রমাণ করবে আমরা পারব কিনা।

ঢাকাপ্রকাশ: সেই সময়টা কবে?

ড. রেজা কিবরিয়া: খুব বেশি দিন বাকি নেই। এই বছরেই হতে পারে। সময় বলবো না, কিন্তু এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন হবে। হিটলারের পতন হয়েছিল, মুসলিনির পতন হয়েছিল, গাদ্দাফির পতন হয়েছিল, এই সরকারেরও পতন হবে। মনে হবে তারা খুবই শক্তিশালী, কিন্তু তারা এক সময় দেখবে বিপদে পড়ে মানুষের কাছে কিভাবে কৈফিয়ত দিতে হয়; এটা ঘটবে ইনশাল্লাহ। খুব বেশি দেরি নাই। অনেক বছর অপেক্ষা করছি। আর কিছু দিন সবুর করেন।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনারা যে আন্দোলন করছেন, আপনাদের কথা কী সরকারের কাছে পৌছায় বা বাইরের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছেন?

ড. রেজা কিবরিয়া: সরকারের কাছে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। ওদেরকে আগে থেকে খবর দেওয়ার প্রয়োজন নাই। আমি জনগণের কাছে পৌঁছাতে চাই। আমাদের কেউ হারাতে পারবে না, কারণ আমরা জনগণের অধিকারের কথা বলছি। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ সরকারকে ভয় করে না। স্বৈরাচারি দেশে জনগণ সরকারকে ভয় পায়। কখন তুলে নিয়ে যায় এই ভয় থাকে। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ রাস্তায় নামলে সরকার ভয় পায়।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনার কাছে কী মনে হয় আপনাদের ডাকে মানুষ রাস্তায় নামবে?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমাদের ডাকে আসবে কি না জানিনা। আমরা থাকব মাঠে। জনগণ যেটা করতে রাজি নই, আমরা করতে রাজি আছি। আমরা সেই ঝুঁকি নিতে রাজি আছি। কষ্ট করতে রাজি আছি।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনাদের আন্দোলন তো শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক।

ড. রেজা কিবরিয়া: কথাটা সঠিক না। ঢাকার বাইরে জনপ্রিয়তা একটু বেশি ঢাকার চেয়ে। তবে ঢাকার রাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের আন্দোলন ঢাকা কেন্দ্রিক। তবে আমাদের দলটা খুবই জনপ্রিয় সাধারণ মানুষ কাছে।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনি বলছেন ঢাকা গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার সবগুলো আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো প্রস্তুতি আপনাদের আছে?

ড. রেজা কিবরিয়া: ঢাকার ১৮ টি আসনে নাই, কিন্তু অনেকগুলোতে আছে। তবে আমাদের কমিটি সবখানে হয়ে গেছে।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনারা যে গণতন্ত্র মঞ্চ করলেন সেটার উদ্দেশ্য কী?

ড. রেজা কিবরিয়া: উদ্দেশ্য আমাদের মধ্যে যে ঐক্য আছে, সেটা বোঝানোর জন্য। জেনারেল এরশাদকে সড়াতে যে বড় ঐক্য হয়েছিল, সে ধরণের ঐক্য করতেই এই মঞ্চ। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই সরকারকে হটানো এবং একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনারা আওয়ামী লীগকে হটাতে চান? তাহলে কি আপনারা আওয়ামী লীগকে সরিয়ে বিএনপিকে নিতে চাচ্ছেন ক্ষমতায়?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমরা সে ধরণের কোন পরিকল্পনা করছি না এই মুহূর্তে। জনগণ যদি চায় তাহলে যে কোন দলকে তারা ভোট দেবে। মনে হতে পারে আমরা ছোট দল, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের দল বেশি ভোট পাবে আওয়ামী লীগের চেয়ে।

ঢাকাপ্রকাশ: বিএনপির চেয়েও আপনারা জনপ্রিয়?

ড. রেজা কিবরিয়া: না, সেটা আমি ভাবছি না। কিন্তু আওয়ামী লীগের চেয়ে তিন-চার গুণ জনপ্রিয় হবো এই মুহূর্তে। এককভাবে যেতে পারলে ভালো, আমরা যদি জোটগত ভাবে যাই সেটা পরে দেখা যাবে। তবে বড় একটা পরিবর্তন দরকার। ৫২ বছর যেভাবে দেশ চলেছে সেভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। তাদের (বিএনপির) সঙ্গে নিয়ে আমরা সামনে থাকব। তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা কাজ করব। বিএনপির স্টাটিজিতে ভুল ছিল, না হলে এখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হতো না। বিএনপির দুর্বলতার কারণে তারা এখন ক্ষমতায় নাই।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনাদের গণতন্ত্র মঞ্চ এবং বিএনপির মধ্যে যদি ঐক্য হয় আপনাদের ইমাম কে হবেন?

ড. রেজা কিবরিয়া: জনগণের মতামত নিয়ে ইমাম ঠিক হবে। আমরা এক সঙ্গে কাজ করব।

ঢাকাপ্রকাশ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আপনাদের কথা হয়েছে?

ড. রেজা কিবরিয়া: না, সেরকম না। মির্জা ফখরুল ভাইয়ের সঙ্গে অনেক দিন কথা হয়েছে।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনাদের সঙ্গে জামায়াত আছে?

ড. রেজা কিবরিয়া: সেটা দেখছি না। খুশি হবো, আওয়ামী লীগ, জামায়াত বিএনপির যদি কেউ আসে।

ঢাকাপ্রকাশ: একটা কথা বাইরে প্রচলিত আছে আপনাদের কেউ নামিয়ে দিয়েছে? আসলে কী?

ড. রেজা কিবরিয়া: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশীদের হাত আছে কোন সাল থেকে? ১১০০ সাল থেকে, যখন দিল্লীর সুলতানরা এসে দখল করল। বাইরের প্রভাব ১৯৭১ সালেও ছিল, ১৯৭৪ সালেও ছিল। কোন সালে বিদেশী প্রভাব আমাদের উপর পড়েনি। আমরা এখনও জাপান বা আমেরিকার মতো হয়নি যে বাইরের কোন প্রভাব আমাদের উপর পড়বে না। কিন্তু কেউ আমাদের নামিয়েছে এটা হাস্যকর। ওই সব দেশ যদি কাউকে নামায় তাদের শক্তি এবং প্রভাব দিয়ে যে কোন সরকারকে উৎখাত করতে পারে কয়েক দিনে।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনারা কারও কাছে যাচ্ছেন পরিবর্তনের জন্য?

ড. রেজা কিবরিয়া: কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিরোধী দলকে একটা জায়গা দেওয়ার জন্য বলি। আমরা গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে আলোচনা করি। গণতান্ত্রিক দেশগুলো সাপোর্ট করবে, এটাই স্বাভাবিক। তারা চায় বাংলাদেশের জনগণের অধীনে সরকার থাকবে। কোনো দেশ যদি চায় জনগণের কাছে ক্ষমতা থাকুক এতে দোষের কিছু নেই।

ঢাকাপ্রকাশ: গণঅধিকার পরিষদে সাবেক আমলা এবং অবসরপ্রাপ্ত সামরিক- বেসামরিক অফিসার যোগদান করার কথা শুনেছি, কতটা সত্য?

ড. রেজা কিবরিয়া: হ্যাঁ। এই সংখ্যাটা ক্রমেই বাড়ছে। অনেক আবেদন জমা আছে। আমরা সবাইকে নিইনি। আমরা কিছুটা পর্যবেক্ষণ করে দেখি লোকটা দলে যোগ দেবে কি-না? তার ব্যাকগ্রাউন্ড কি? অনেক মানুষ পাইপ লাইনে আছে। অনেক মানুষ দরখাস্ত দিয়েছে তাদেরকে এখন পরিপূর্ণভাবে দলে যুক্ত করিনি। গ্রামে এবং বিভিন্ন জেলায় অনেক সিনিয়র মানুষ যোগদান করেছে।

ঢাকাপ্রকাশ: আপনার কথা অনুযায়ী, সরকার চলে গেলে আপনারা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত?

ড. রেজা কিবরিয়া: আমরা প্রস্তুত। আমার আত্মবিশ্বাস আছে আমি পারবো। এই মুহূর্তে আমি পারবো। তবে দেড় বছর পর যদি আমাকে বলা হয় আপনি পারবেন কি না, আমার মনে হয় আমি পারব না। তখন বলব আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর কাছে যান, ওরাই ঠিক করবে। এই মুহূর্তে আমি পারব, আরও দেড় মাস, দুই মাস ঠিক আছে ম্যানেজ করতে হবে। কষ্ট হবে, আমার কষ্ট হবে দেশের মানুষের কষ্ট হবে। এজন্য আত্মত্যাগ করতে হবে। আমি পারবো। আমি ৩৫টি দেশে কাজ করেছি। অনেক দেশে এরকম-খারাপ অবস্থায় উপদেষ্টা ছিলাম। বের হওয়ার পথ আমি জানি। এই পরিস্থিতি যেন না হয় তার জন্য আমার কিছু অভিজ্ঞতা আছে, সেগুলো কাজে লাগাব।

ঢাকাপ্রকাশ: নতুন সরকার হলে আপনি কি অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চান?

ড. রেজা কিবরিয়া: জনগণ তো তাই ভাবে। দেখা যাক। আমিও প্রস্তুত।

দ্বিতীয় পর্বে পড়ুন: আওয়ামী লীগকে কোথাও খুঁজে পাবেন না।

এনএইচবি/এমএমএ/

Header Ad
Header Ad

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার রঞ্জুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। তার বাড়ি গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার মহুরি পাড়ায় (বিহারি পট্টি)।

অপরদিকে, মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র পরিচালকও ছিলেন।

গ্রেপ্তারি বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে অবস্থান করা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিমকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের আগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সাঈদ হোসেন জসিম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলাম। সবার দোয়া চাই।’

Header Ad
Header Ad

সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি- এবার আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে, আমরা একটি মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে জন্ম নেয়।

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী এবং দেশকে মুক্তকারী ছাত্রনেতারা আমাকে আমাদের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের আগমনের পর থেকে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিমসটেক সচিবালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।

Header Ad
Header Ad

নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু

বক্তব্য রাখছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে উদ্দেশ্য শহীদরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই ভোটের অধিকারের প্রতিষ্ঠার যে দাবি, যেটি আমি মনে করি যৌক্তিক সময়েই এই সরকার প্রদক্ষেপ নিবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগ করবে এটিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাজেই এই সরকার ব্যর্থ হলে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস এ তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, নির্বাচনের দাবি কিন্ত বাংলাদেশের আপামোড় জন সাধারণের। মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সত্বেও তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাজেই সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এ দেশের মানুষ ও জনগণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা এক প্রশ্নে জবাবে আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে পাশ্ববর্তী দেশে থেকে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন রকম উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, সেভাবে এদের ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো।

এ সময় জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের