বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বীরাঙ্গনা মা

মিহির তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। মেধাবী ছাত্র। সেদিনও বরাবরের মতো সন্ধ্যার পড়া শেষ করে রাত দশটায় ঘুমাতে যায়। সাথে মা মরিয়ম বেগম। নানা গল্পে মিহিরকে ঘুম পাড়িয়ে অপেক্ষা করে মিহিরের বাবার জন্য। রাত এগারোটায় মিহিরের বাবা গঞ্জের বাজার থেকে ফিরে। বিদ্যুতের আলোয় ঘুমন্ত মিহিরের মুখটা ঝলমল করছে। বাবা ওদিকটায় চেয়ে আর চোখ ফিরাতে পারে না। পুত্রের কপালে স্নেহের চুম্বন এঁকে বলে, বেঁচে থাকো বাবা।’ খাওয়া শেষে স্বামী-স্ত্রী গা এলিয়ে দেয় বিছানায়। রাতের কোনো একসময় বিশাদের ছায়া নেমে আসে সুখ-সংসারে। হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যু হয় মিহিরের বাবার। ঘুমের মধ্যেই।

উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা মরিয়ম। কী করবে- ভেবে পায় না। অবশেষে সেলাই মেশিন চালিয়েই সংসারের হাল ধরেন। মিহিরের পড়াশোনার খরচও চলে এভাবে। মায়ের শত কষ্টেও এতটুকু কষ্টের আচঁড় পড়েনি মিহিরের। কিন্তু মিহির বুঝতে পায় মায়ের কষ্টের পরিধি। মায়ের চোখে তাকিয়ে তার কচি মন কেঁদে ওঠে। ও স্বভাবজাতভাবেই মায়ের বাধ্যগত। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী।

সময়ের পরিক্রমায় আজ মিহির প্রাচ্যের অক্সফোর্ড-খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার চেতনাজুড়ে বড়ই তাড়া- পড়া শেষ করেই তাকে একটি চাকরি নিতে হবে, মায়ের কষ্ট ঘুচাতে হবে, মায়ের মুুখে হাসি ফুটাতে হবে, মায়ের সাধ পূর্ণ করতে হবে। হাজারো স্বপ্ন, হাজারো কল্পনার প্রজাপতি, রঙিন ডানা মেলে ওড়ে বেড়ায় মিহিরের হৃদয়রাজ্যে।
এরই মাঝে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। রাজপথ শ্লোগানে মুখরিত। পাকিস্তানি হায়েনাদের বুলেটে ঝাঁঝড়া হয় এদেশের শত যুবকের প্রাণ। কত মায়ের বুক খালি হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ। রাতের ঘন-অন্ধকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে হামলা হয়। অসংখ্য ঘুমন্ত ছাত্রের প্রাণ কেড়ে নেয় ঘাতকের বুলেট। সৌভাগ্যবশত সেদিন মিহির হলে ছিল না। মায়ের আহবানে ছুটে গিয়েছিল কলাবাগানের সেই ছোট্ট নীড়ে। পরদিন প্রত্যুষে ও খবরটা পায়। সূর্য ওঠার আগেই সোহেল আর নাফিজ চলে আসে মিহিরের বাসায়। উসকো-খুসকো চুল। পরনে লুঙ্গি। মিহির ঘুমঘুম চোখে দরজা খোলে হতবাক। ঢকঢক করে কয়েক গ্লাস পানি খেয়ে কেঁদে ফেলে সোহেল। বলে, ‘মনে হয় হলের কেহ আর বেঁচে নেই রে মিহির। আমরা দু’জন কোনোরকমে জীবন নিয়ে পালিয়ে এসেছি। পাকিস্তানি মিলিটারির গুলিতে নিহত হয়েছে সবাই।’ চিন্তার চিকন রেখা ফুটে ওঠে মিহিরের কপালে। মিহির বলে, ‘শুনেছি দক্ষিণ পাড়ার কয়েকজন যুবক ইন্ডিয়া যাবে। সেখান থেকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে। চল, আমরাও তাদের সাথে যোগ দিই।’ সোহেলের চোখে তখনও বিভীষিকার দৃশ্য ভেসে বেড়াচ্ছে। সে কাঁপা কণ্ঠে বলে, ‘ঠিকই বলেছিস। এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। চল, আজকেই আমরা ওদের সাথে যোগ দিব।’ মিহির বলল, ‘তোরা তো জানিস, আমার পরিবারে মা ছাড়া আর কেউ নেই। যাব, তবে মাকে কিছু জানতে দেয়া যাবে না। মা জানতে পারলে কিছুতেই আমাকে যেতে দিবেন না। মা ভীষণ কষ্ট পাবেন।’ গোপন আলোচনায় হঠাৎ মরিয়ম বেগমের উপস্থিতিতে তারা আশ্চর্য হয়। সকলেই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। মরিয়ম বেগম পাঁচটি এক হাজার টাকার নোট মিহিরের হাতে ধরিয়ে দেন। বলেন, ‘মিহির, তোমাদের সব কথাই আমি শুনেছি। না, আমি তোমাদের বাঁধা দেব না। এই টাকাটা রাখো। কাজে লাগবে।’ মরিয়ম বেগমের এহেন অনুপ্রেরণায় মিহির উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে। বলে, ‘মা, যদি আর ফিরে না আসি? মরিয়ম বেগমের চোখ জলে ছলছল, তিনি আচঁল দিয়ে চোখ মুছে বলেন, ‘কত মায়ের বুক ইতিমধ্যে খালি হয়ে গেছে। তাঁদের যে অবস্থা, আমারও না হয় তাই-ই হবে।’

মায়ের দোয়া নিয়ে মিহির চলে যায় ইন্ডিয়া। সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে আসে। সঙ্গে আরো অনেকে। ২৭ অক্টোবর ১৯৭১ সাল। রাত দশটায় মায়ের সাথে খাবার খাচ্ছিল মিহির। কমান্ডারের ফোন- ‘আজ শেষ রাতে বড়বাজারে একটি জরুরি অপারেশনে যেতে হবে। তুমি এই অপারেশনের নেতৃত্ব দিবে। অপারেশন সাকসেসফুল হলে পাক বাহিনীর মনোবল একেবারে ভেঙ্গে পড়বে। জলদি চলে আসো।’
মিহিরের আর খাওয়া হয় না।

মরিয়ম বেগম বাঁধা দেননি বরং বন্দুক এগিয়ে দেন। বলেন, ‘আর ছাড় নয়, এবার রুখে দাঁড়াও।’
মায়ের কপালে চুমু দিয়ে মিহির চলে যায়। মরিয়ম বেগম সারা রাত না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেন। ফজরের নামায পড়ে তসবিহ হাতে বসেছিলেন। এমন সময় দরজায় আলতো টোকা। চমকে ওঠেন মরিয়ম বেগম। পাকিস্তানিরা আবার তার বাসায় হানা দেয়নি তো? তিনি আস্তে আস্তে দরজা খোলেন। মিহির, সোহেল আর নাফিস দাঁড়িয়ে। আনন্দে মিহিরের চোখ চিকচিক করে ওঠে। ‘মা, অপারেশন সাকসেসফুল।’

মরিয়ম বেগম দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন, বলেন, ‘এখনো অনেক পথ বাকি বাবা। তোমরা ক্ষুধার্ত, একটু বসো। খাবার দিচ্ছি।’
ঘরে খাবার বলতে কিছু নেই। মরিয়ম বেগম খুঁজে খুঁজে কিছু মুড়ি পেলেন। তা-ই খেতে দিলেন। মিহির এক মুঠ মুড়ি মুখে দিবে এমন সময় আবার দরজায় টোকা। সবাই দরজার দিকে তাকাল। চোখে মুখে ভয়। এই অসময়ে আবার কে এল?
মরিয়ম বেগম বললেন, তোমরা বসো। আমি দেখছি।
বন্দুক তাক করে ঘরে ঢুকল পাকিস্তানি বাহিনী। মিহিরের কপালে একজন বন্দুকের নল ঠেকিয়ে বলল, তুই কি মিহির? মিহির, সোহেল, নাফিসের চোখে চোখ রাখে। সবার চোখেই আতঙ্ক। মায়ের পানে তাকায় মিহির। মায়ের চোখে অশ্রু নয়, দেখেছে প্রতিশোধের আগুন। মিথ্যা নয় সত্য বলার সিদ্ধান্ত নেয় মিহির, ‘হ্যাঁ, আমি মিহির।’

বড়বাজার হত্যা কা-ের সন্দেহজনক আসামী হিসেবে মিহিরকে ধরে থানায় নিয়ে গেল পাকিস্তানি বাহিনী।
অমানসিক শারীরিক নির্যাতন চলে তার ওপর। পায়ে রশি বেঁধে মাথা নিচে ঝুলিয়ে রাখা হয়। নখের নিচে সুঁচ বিঁধানো হয়। অসহ্য অত্যাচারেও মিহির দৃঢ় কঠিন প্রতিজ্ঞ। গোপন তথ্য ফাঁস করেনি।

মরিয়ম বেগম তাকে দেখতে থানায় আসেন। একটি আধো-অন্ধকার প্রকোষ্টে শুয়ে আছে মিহির। গায়ে কাপড় বলতে একটি প্যান্ট। মায়ের ডাকে ঘাড় উচিয়ে দেখে। এক বিধবা মা খাবার হাতে দাঁড়িয়ে আছে ওপাশে। ওঠে দাঁড়ানোর মতো শক্তি নেই মিহিরের। পায়ের হাড় ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। অতি কষ্টে গ্রিল ধরে দাঁড়ায় মিহির। সারা শরীরের আঘাতের চিহ্ন। চোখের নিচে কালো দাগ। কপাল ফেটে রক্ত পড়ছে তখনও। যে ছেলের শরীরে এতটুকু আচঁড় পড়েনি কোনো দিন, সে ছেলের আজ ক্ষত-বিক্ষত অব¯’া দেখে মরিয়ম বেগমের মন কালবোশেখী ঝড় ওঠে। কিন্তু চোখে জল নেই। প্রতিশোধের আগুন ঝরছে চোখ থেকে। ছেলের কপালে হাত বুলিয়ে মরিয়ম বেগম জানতে চায়।
-ওরা তোমার কাছে কী জানতে চায় মিহির?
-ওই অপারেশনে কে কে ছিল? কে কমান্ডার ছিল? কোথায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প- জানতে চায় ওরা।
-তুমি কিছু বলোনি তো?
- মিহির ডানে-বামে মাথা ঝাঁকায়। না।
-তুমি কিছুই বলবে না। ওরা তোমাকে যতই মারুক। তুমি কিছুতেই মুখ খুলবে না। মরিয়ম বেগম মিহিরের পিঠে হাত বুলিয়ে জানতে চান-ওরা তোমাকে খেতে দেয় বাবা?
- দেয় মা, ওরা দিনে একবার খেতে দেয়। পেট ভরে না মা। মিহিরের দু’চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়ে। মায়ের চোখে মুখে হাত বুলিয়ে মিহির আবার বলে, কতদিন হল তোমার হাতের পিঠা খাই না মা। তোমার হাতের পিঠা খেতে বড়ই ইচ্ছা করছে। খাওয়াবে মা?
-হে বাবা, খাওয়াব। আমি কালই তোমার জন্য পিঠা নিয়ে আসব। মরিয়ম বেগম শাড়ির আচল দিয়ে ছেলের চোখ মুছেন।

পরের দিন সকাল বেলা। মরিয়ম বেগম পিঠা ভর্তি বাটি নিয়ে দারোয়ানকে মিনতি করে, ‘শুধু একটা পিঠা আমার মিহিরকে খাইয়ে চলে আসব। আমাকে পাঁচ মিনিটের জন্য অনুমতি দিন। অনুগ্রহ করুন।’
-অল্প কিছুক্ষণ আগে ওরা মিহিরকে হাত বেঁধে নিয়ে গেছে। দারোয়ান গোঁফের ফাঁক গলে ফিসফিসিয়ে বলে।
-ওরা কোথায় নিয়ে গেছে মিহিরকে? দারোয়ানের কথায় মরিয়ম বেগম হতবিহবল হয়ে পড়েন।
-বড়বাজার বালুর মাঠে।
মরিয়ম বেগমের মন কেঁদে ওঠে অজানা সঙ্কায়। তিনি এক মুহূর্ত দেরি না করে বালুর মাঠের দিকে হাঁটা দেয়। পাক-বাহিনী মিহিরসহ বহু যুবককে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। মাঠের ওপাশ থেকে মরিয়ম বেগম স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন মিহিরকে। হঠাৎ করেই মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। মুর্হূতেই ঝরে পরে বহু মিহিরের নিথর দেহ। মরিয়ম বেগম জ্ঞান হারায়। এক সময় জ্ঞান ফিরে আসে কিন্তু স্বাভাবিকতা ফিরে আসেনি।

মিহিরদের তাজা রক্তের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা এসেছে। স্বাধীন পতাকা এসেছে। কিন্তু মিহির ফিরে আসেনি। সেই থেকে মিহিরের মা মরিয়ম বেগম পাগল। তিনি এখনো শাড়ির আঁচলে পিঠা নিয়ে বসে থাকেন বধ্যভূমির গেটে। তাঁর বিশ্বাস, মিহির কোনোএকদিন পিঠা খাওয়ার বায়না নিয়ে ঠিকই ফিরে আসবে। মিহিরের নামানুসারে পাশের বাজারের নামকরণ করা হয়েছে মিহিরবাজার। এই বধ্যভূমির নামকরণ করা হয়েছে মিহিরবাজার বধ্যভূমি। বধ্যভূমিতে আগত লাখো জনতা আজও মরিয়ম বেগমকে দেখে মমতা ভরা চোখে। পরম শ্রদ্ধা ভরে তাকে ডাকে ‘বীরাঙ্গনা মা’ বলে।

 

 

ডিএসএস/ 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী