শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

মৃদু কোভিড রোগীরও মস্তিষ্কে নানা ক্ষতি

ছবি: সংগৃহীত

একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, মৃদু বা মাঝারি মানে আক্রান্ত হলেও কোভিড রোগীদের মস্তিষ্কে নানা ক্ষতিকারক পরিবর্তন ঘটতে পারে।

সোমবার (৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা নেচার জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করা হয়। এই সমীক্ষাটি সবচেয়ে বড় এবং বেশি সংখ্যক মানুষের উপর চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এতে দেখা গেছে, যাদের কোভিড-১৯ ছিল তাদের মস্তিষ্কে কোভিড-১৯ নেই তাদের তুলনায় ধূসর পদার্থ এবং মস্তিষ্কের টিস্যুতে অস্বাভাবিকতার পরিমাণ বেশি ছিল। তাদের মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থ অংশটি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত হারে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে, স্মরণশক্তি নষ্ট হয়। নষ্ট হয় ঘ্রাণশক্তি ও স্বাদক্ষমতা।

কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনগুলি স্থায়ী কি না, বা সেই পরিবর্তনগুলো কত দিন পর্যন্ত থাকে ইত্যাদি অবশ্য গবেষণায় খতিয়ে দেখা হয়নি। তাই গবেষকরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার জন্য পরবর্তী পর্যায়ের গবেষণার পথ এই গবেষণা খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

ব্রিটেনে ৫১ থেকে ৮১ বছর বয়সি ৭৮৫ জনের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান করে গবেষকরা এই ফলাফলে পৌঁছান। গড়ে ৩৮ মাস পরে তাদের সবারই মস্তিষ্কে আবার এমআরআই করানো হয়। পাশাপাশি করানো হয় তাদের ‘কগনিটিভ টেস্ট’ও (সচেতনতার মাত্রা মাপার পরীক্ষা)।

মূল গবেষক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গেনেলে দৌআউদ বলেন, ‘এই প্রথম কোনো গবেষণায় কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার আগেও মস্তিষ্কের এমআরআই করিয়ে দেখা হয়েছে। এমনকি, যারা কোনো দিনই কোভিডে আক্রান্ত হননি স্ক্যান করিয়ে দেখা হয়েছে তাদের মস্তিষ্কও। যারা কোভিডে না হলেও শ্বাসকষ্টের অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরও মস্তিষ্কের স্ক্যান করানো হয়েছে, কোভিডে আক্রান্তদের সঙ্গে শ্বাসকষ্টের অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের মস্তিষ্কের ফারাক বুঝতে।’

সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণে যে মস্তিষ্কের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়, আগের কয়েকটি গবেষণায় তার ইঙ্গিত মিলেছিল। জানা গেছে, ওই সংক্রমণে মস্তিষ্কের কোনো কোনো অংশের আকার আকৃতি বদলে যায়। ফলে প্রদাহ হয়।

কিন্তু যাদের কোনো দিন কোভিড হয়নি বা স্ক্যান করানোর পরে কোভিড হয়েছে বা যারা শ্বাসকষ্টের অন্যান্য রোগে ভুগছেন এই প্রথম তাদের মস্তিষ্কেরও স্ক্যান করিয়ে গবেষণাটি চালানো হয়েছে। এখানেই এই গবেষণার অভিনবত্ব।

গবেষকরা দেখেছেন, খুব মৃদু বা মাঝারি ধরনের কোভিডে আক্রান্তদেরও মস্তিষ্কে পিরিফর্ম কর্টেক্স, অলফ্যাক্টরি টিউবিকল, অ্যান্টিরিয়র অলফ্যাক্টরি নিউক্লিয়াস অঞ্চলগুলোর খুব ক্ষতি হয়। যাতে স্মৃতিশক্তি, ঘ্রাণশক্তি ও স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা হ্রাস পায়। তাদের মস্তিষ্কের সেরেবেলাম অংশ ক্ষয়ে যায় বলে তাদের সচেতনতার মাত্রাও কমে যায়।

সাধারণত, মধ্যবয়সিদের বছরে গড়ে ০.২ শতাংশ হারে মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থের ক্ষয় হয়। কিন্তু গবেষকরা দেখেছেন, কোভিডে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে ধূসর পদার্থের ক্ষয়ের হার আরও বেড়ে যায়। যা ০.৭ শতাংশ।

অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশিষ্ট স্নায়ুবিজ্ঞানী সারা হেলেওয়েল বলেছেন, ‘এটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য গবেষণা।’’ তিনি নিজে এই গবেষকদলের সদস্য নন। সারা আরও বলেন, ‘এ বার দেখতে হবে কোভিড রোগীদের মস্তিষ্কের সেই পরিবর্তনগুলো স্থায়ী হয় কি না বা সেগুলোর স্থায়িত্ব হয় কত দিনের। সেগুলো থেকে মস্তিষ্ককে আবার তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় কি না।’

সূত্র: সিএনএন

আরএ/

Header Ad
Header Ad

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে যাচ্ছে মিয়ানমার। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শিউ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নিবন্ধিত ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ৮০ হাজার জনকে ফেরত নেবে মিয়ানমার।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ছয় দফায় রোহিঙ্গাদের মূল তালিকা মিয়ানমারকে সরবরাহ করেছিল। এখনো ৭০ হাজার রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাইকরণ বাকি রয়েছে। মূল তালিকায় থাকা বাকি সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আরও মানবিক সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

Header Ad
Header Ad

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে আঞ্চলিক সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত এই জোট বর্তমানে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বৃহত্তর সংহতকরণের চেষ্টা করছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ ভাগে সভাপতিত্ব হস্তান্তর করা হয়। সাত সদস্যের আঞ্চলিক ব্লক—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের নেতারা ‘সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক এবং উন্মুক্ত বিমসটেক’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন। আয়োজক দেশ থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বিমসটেক সনদ অনুসারে, চেয়ারম্যানের পদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্ণানুক্রমিকভাবে আবর্তিত হয়। শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয় অংশগ্রহণকারী নেতাদের প্রতীকী গ্রুপ ছবি তোলার মাধ্যমে। এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, বিদায়ী বিমসটেক সভাপতি স্বাগত ভাষণ দেন। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য বিমসটেক নেতারা আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এছাড়া, সকালে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস থাই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দেন, যেখানে বিমসটেক কাঠামোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ