ভারতে মুসলিম সম্প্রদায় ও বিরোধী রাজনীতিকদের তীব্র আপত্তির মুখে বিতর্কিত ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫ লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজ্যসভায় মাত্র ৩৩ ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাস হয়। এখন শুধু রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর স্বাক্ষরের অপেক্ষা। তারপরই এটি ৭০ বছরের পুরনো আইনের জায়গা করে নেবে।
নতুন এই আইনে মুসলিমদের জন্য পবিত্র ও দানকৃত সম্পত্তির দেখভালকারী ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। বোর্ডে অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখা, ওয়াকফ ঘোষণার আগে মহিলাদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি দান করে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওয়াকফ সম্পত্তি তদন্তের ক্ষমতা— এই বিষয়গুলো মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সংসদে বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে আয় ঠিকমতো হচ্ছে না। ২০০৬ সালের সাচার কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ৫ লাখ ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে আয় হওয়ার কথা ছিল ১২ হাজার কোটি টাকা, কিন্তু হয়েছে মাত্র ১৬৩ কোটি টাকা। সরকার দাবি করছে, নতুন আইনে আয় বাড়বে এবং গরিব মুসলিম, নারী ও অনাথ শিশুদের উপকার হবে।
বিরোধী সাংসদরা বলছেন, এই বিলের মাধ্যমে সরকার ওয়াকফ বোর্ডকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ধর্মীয় সংস্থায় অমুসলিম সদস্য রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, এটি সংবিধানসম্মত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।
তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া বিলটির পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এটি গরিব মুসলিমদের ধনী শ্রেণির হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা মাত্র, ধর্মীয় চর্চায় কোনো হস্তক্ষেপ নয়।
নতুন আইনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- ওয়াকফ বোর্ডে সর্বোচ্চ ৪ জন অমুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন
- ওয়াকফ ঘোষণার আগে উত্তরাধিকারীদের (বিশেষ করে নারীদের) অংশ বুঝিয়ে দিতে হবে
- ১ লাখ টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক অডিট
- সরকারি জমিকে কেউ ওয়াকফ দাবি করলে, কালেক্টরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্ত করবেন
- ধর্মাচরণকারী মুসলিমরাই কেবল ওয়াকফ করতে পারবেন
বিলটি নিয়ে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রাজ্যসভায় আলোচনা হয়। সরকারের দাবি, এতে স্বচ্ছতা আসবে। আর বিরোধীদের আশঙ্কা, এটি সংখ্যালঘুদের উপর হস্তক্ষেপ ও তাদের স্বার্থহানির ইঙ্গিত।
মোটকথা, ভারতের ওয়াকফ বিল নিয়ে আপত্তির মূল কারণ—ধর্মীয় সংস্থায় সরকারি হস্তক্ষেপ, মুসলিমদের স্বতন্ত্র ধর্মীয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন, এবং অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তি। বিরোধীদের আশঙ্কা, এভাবে ধাপে ধাপে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।