সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫ | ২৩ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

সতর্ক না হলে সমূহ বিপদের সম্ভাবনা

ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ‘রাধাকৃষ্ণ’ নামের সিরিয়ালটি সময় পেলে মাঝেমধ্যে দেখে থাকি। হংস নামের এক অসুরের ভাইয়ের নাম ডিম্বক। কৃষ্ণ একজন নারীকে (রাধা) অসম্মানের দায়ে হংসকে বধ করার পর যখন ডিম্বককে শাস্তি দিতে যাচ্ছিলেন তখন ডিম্বক কৃষ্ণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও কৃষ্ণ তা না শোনায় রাধা ক্ষমা করে দিতে কৃষ্ণকে অনুরোধ করেন। কৃষ্ণ রাধার অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারেননি, ডিম্বক মুক্তি পায়। কিন্তু কৃষ্ণ রাধাকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন যে ডিম্বককে ক্ষমা করে দেওয়া ভবিষ্যতে এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। পরে তাই ঘটেছিল। ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনার কথাই আমরা জানি।

১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন শান্তি কমিটির লোকজন, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, পাকিস্তানপন্থী বেসামরিক ও সামরিক আমলা, প্রভৃতি কি ভূমিকা রেখেছিল সেসব আমরা এখনো ভুলে যাইনি। ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অধিকাংশকেই ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ওইসব স্বাধীনতা বিরোধীরা নিজেদের সংশোধনের পরিবর্তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বা আওয়ামী লীগ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাদের জোট ধীরে ধীরে বিস্তৃত ও শক্তিশালী হতে থাকে। আর সেই ক্ষমার জন্য জাতিকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে এবং এখনো নানাভাবে দিয়ে যাচ্ছে।

আমরা জানি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঙালি কূটনীতিবিদ বাংলাদেশের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করে পাকিস্তানের ওইসব দূতাবাস ত্যাগ করেছিলেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতি অনুগত থেকে কয়েকজন বাঙালি কূটনীতিবিদও পাকিস্তান সরকারের চাকুরিতে বহাল থেকেছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে অন্তরে বিদ্যমান পাকিস্তান প্রেম নিয়েই তাদের অধিকাংশ বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধু তাদেরকে ক্ষমা করে দিলে তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। তাদের কেউ পররাষ্ট্র সচিবও হন। এমনকি, একজন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন। শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই নয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়েও এমন অনেকে ছিলেন। তারা বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদে আসীন হলেও মনেপ্রাণে ছিলেন পাকিস্তানি, নিজেদের বাঙালি করতে পারেননি, বাংলাদেশকে ভালোবাসতে পারেননি। যে উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু ওইসব কর্মকর্তাকে শোধরানোর সুযোগ দিয়েছিলেন তা না করে তারা ভেতরে ভেতরে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধেই কাজ করে গেছেন। অবসরে যাওয়ার পর যারা এখনো জীবিত রয়েছেন তাদের আমরা একই ধারায় চলতে দেখছি।

এ ছাড়া, আরেকটি গ্রুপ ছিল নিজেদের দলের মধ্যে, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগের মধ্যে। ওই গ্রুপে ছিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যারা ভেতরে ভেতরে পাকিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানি হয়ে থাকতে চেয়েছিলেন তারা এবং স্বাধীনতার পর যারা ওই পুরাতনদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এখানে তেমনি একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতেই হচ্ছে।

১৯৭১-এর সেপ্টেম্বর মাস। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে চলছে। সাত/আট জনের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমদ দমদম বিমান বন্দরে হাজির হলেন নিউইয়র্ক যাওয়ার জন্য। তার উদ্দেশ ছিল বিশ্ববাসীকে অবগত করানো যে স্বাধীনতা নয়, বরং পাকিস্তানের সঙ্গেই বাংলাদেশ থাকতে চায়। যাহোক ভারতীয় গোয়েন্দাদের তৎপরতায় খন্দকার মোশতাকের সেদিনের ইচ্ছাটি পূরণ করা সম্ভব হয়নি, বিমানবন্দর থেকেই তাদের ফিরে আসতে হয়েছিল। ওই ঘটনা তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের না জানার কথা নয়। কিন্তু তারা কি ওই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছিলেন বা কোনো ব্যবস্থা নিয়েছিলেন? মোশতাককে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর সেই সুযোগের আড়ালে সে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। নিজেকে শোধরানোর কথা না ভেবে নিজের নেতাকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে মীরজাফরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতি হলেন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। জেনারেল এম এ জি ওসমানী মোশতাকের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিলেন। দুই সপ্তাহ পর জাতীয় সংসদের স্পিকার আবদুল মালেক উকিলের নেতৃত্বে একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে লন্ডন যায়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের এই ছিল দল ও দলনেতার প্রতি আনুগত্যের নমুনা। যে লক্ষ্য ও চেতনায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল তার প্রতি আস্থার নিদর্শন।

এভাবে সেদিন যেসব পাকিস্তান-বিশ্বাসী নেতা ও কর্মকর্তাদের হাতে নবীন বাংলাদেশের দায়িত্ব দেওয়া হলো, তাদের কর্মকাণ্ড মনিটর করার কোনো ব্যবস্থা কি প্রশাসনের কাঠামোতে রাখা হয়েছিল? তারা কি বাংলাদেশকে ভালোবাসতে পেরেছিলেন? না কি তারা পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষার্থে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার মধ্যে থেকে কাজ করে যাচ্ছিলেন? ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা সেসব গ্রুপ যে একটি নেটওয়ার্কের মধ্যে এসে দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছিল সে খবর রাখার কি কোনো ব্যবস্থাই ছিল না? জানিনা দেশ পরিচালনার নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের চিন্তা-চেতনায় কেন এসব বিষয় ধরা পড়েনি। তারা দেখতে পেলেন না যে তাদেরই চোখের আড়ালে ঈশান কোনে অল্প অল্প করে মেঘ জমতে শুরু করেছে? না কি জানা সত্ত্বেও নিরব থেকেছিলেন?

গত ৩১ আগস্ট জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার কাছে অবাক লাগে যারা খুনিদের ক্ষমতা দিয়ে মন্ত্রী বানায়, গণতন্ত্রকে হত্যা করে সেনা শাসন আনে, এদের সঙ্গে কীভাবে অনেক মানুষ চলে গেল? আমরা বাবা-মা-ভাই সব হারিয়েছি। আমরা মামলা করতে পারিনি, বিচার চাইতে পারিনি। তাদের নিয়ে ক্ষমতায় বসায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে গিয়ে কথা বলে। আর তারাই হয়ে গেল প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে সেনাবাহিনীতে একের পর এক ক্যু হয়েছে। বহু সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। অনেকের লাশ পায়নি। ঢাকা জেলে প্রতিদিন ১০-২০টা করে হাজার হাজার সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। মামলার নামে প্রহসন হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরে মামলা দেওয়ার ঘটনাও হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে স্বাধীনতাবিরোধী ও যাদের আমরা পরাজিত করেছি, তাদের হাত ছিল।’

গত ২৩ আগস্ট কুমিল্লায় সাত তরুণ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে যোগ দিতে ঘর ছেড়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জানিয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও প্রায়শই এ ধরনের খবর পাওয়া যায়। জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে বা অন্যের প্ররোচনায় জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়া এদেশের তরুণদের জন্য নতুন কিছু নয়। আমাদের মনে আছে ২০১৬ সালে ঢাকার হলি আর্টিজান হামলার কথা। প্রশ্ন হচ্ছে কারা এদের উগ্রবাদের দিকে টেনে নিচ্ছে? নিশ্চয়ই তারা রাজনীতির আবরণেই আমাদের মাঝে থেকে এই তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশের বাইরেও যে তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। তাই দেশের অভ্যন্তরে যারা মূলহোতা হিসাবে কাজ করছে তাদের উৎপাটন করতে না পারলে এ ধারা চলতেই থাকবে।

ষড়যন্ত্রকারীরা যে এখনো এদেশের মাটিতে বিরাজ করছে না তা কি কেউ বুকে হাত রেখে বলতে পারবেন? নিশ্চয়ই না। আমাদের মনে রাখতে হবে তাদের তৎপরতা কিন্তু থেমে নেই। যে কোনো সময়ই ছোবল মারতে পারে। ঘরের ভেতর যেমন ষড়যন্ত্রকারীরা রয়েছে, তেমনি বাইরে থেকে ইন্ধন যোগানই নয় সার্বক্ষণিক সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়ার সংযোগও রয়েছে। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কিছুটা সজাগ থাকলেও জানিনা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের অভ্যন্তরে এ সব কাজকর্ম মনিটর করার কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা রয়েছে কিনা। বাস্তবতা হলো, নানা অবয়বে ওইসব লোক সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন অবস্থান ধারণ করে ছড়িয়ে রয়েছে, নির্বিঘ্নে নিজেদের করণীয় করে যাচ্ছে যারা দেশ চালাচ্ছেন তাদের সহযোগিতায় তাদেরই আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে। নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, সেদিন এটা যেমন সত্য ছিল, এখনো একই স্রোতে তা বহমান রয়েছে। আমরা শুধু অঘটন ঘটলেই জানতে পারি তার ব্যাপকতা এবং ধ্বংসমাত্রা। আর ভুক্তভোগী খেসারত দিয়ে যান তার লোকজনদের উপর সরল বিশ্বাসের প্রতিদান হিসাবে।

বলতে দ্বিধা নেই যে শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সরকারের প্রশাসনের ভেতর লুকিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তিগুলোও নীরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের গোপনীয়তা পাচার করছে। সংখ্যায় এখন তারা কিন্তু মোটেও কম নয়। তাদের ভেতরের আসল চেহারা ঢেকে রেখে সরকা্রের (এমনকি প্রধানমন্ত্রীর) কাছে তাদের নিজেদের লোক হিসাবে উপস্থাপন করা হয়। এর পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন উপরের স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বা সরকারের ঘনিষ্ঠ আমলারা। গত কয়েক দশক ধরেই এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। এসবক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে ব্যক্তি সম্পর্ককেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। আসল পরিচয় আড়ালে রেখে এসব লোক সুযোগের সদ্ব্যবহার করে যে কারো কোনো ক্ষতি করবে না বা বড় কোনো বিপর্যয় ডেকে আনবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে? তাই সতর্ক না হলে যে কোনো মুহূর্তেই বিপদ ঘটার সম্ভাবনা। আর আমরা তা দেখতে চাই না।

লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত

আরএ/

Header Ad
Header Ad

নওগাঁয় আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতির শীলা, আতঙ্কিত এলাকাবাসী

নওগাঁয় আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতির শীলা। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর আত্রাইয়ে সন্ধ্যার আকাশ থেকে বিরল আকৃতির শীলা এবং হালকা বৃষ্টি হয়েছে,যা এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

রোববার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হঠাৎ শুরু হওয়া শীলাবৃষ্টির সঙ্গে মিশে ছিল ছোট ছোট বরফখণ্ড (শীলা), যা প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে আত্রাইয়ের সাহেবগঞ্জ,পাঁচুপুর ও আহসানগঞ্জ এলাকায় পরিলক্ষিত হয়।

অনেকেই এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, বিশেষ করে শীলার আঘাতে টিনের ছাদে তীব্র শব্দে স্থানীয়রা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠেন। তবে এতে কোনো প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

শীলাবৃষ্টি একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যা সাধারণত মৌসুম পরিবর্তনের সময় তীব্র গরমে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে জলীয় বাষ্প জমে বরফে পরিণত হয়ে ভারী হয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষকরা তাদের ফসলের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে,আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আগামী কয়েকদিনে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে,তবে শীলা আবার হবে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যায়নি।এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে সারাদেশে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচির ডাক

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান নৃশংস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা সোমবার (৭ এপ্রিল) ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে গড়ে ওঠা বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং এ ঘটনার বিরুদ্ধে সমবেদনা জানাতে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

রোববার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলন’-এর দুই সংগঠক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং এ বি জোবায়ের দেশের প্রতিটি বিভাগে এই কর্মসূচি সফল করার জন্য আহ্বান জানান। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি আবু সাদিক কায়েম নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘MARCH For Palestine’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংহতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিজের ফেসবুক পোস্টে ছাত্রনেতা এ বি জোবায়ের লিখেছেন, “আমাদের মজলুম গাজাবাসী ভাইবোনেরা আগামীকাল বিশ্বব্যাপী হরতালের ডাক দিয়েছেন। তারা গণহত্যা বন্ধের দাবিতে একযোগে বিশ্বের সব দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশেও আমরা ৭ এপ্রিল সারাদিনের জেনারেল স্ট্রাইক পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। আগামীকাল সবাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, অফিস-আদালত বন্ধ রাখুন। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করুন। আসুন, বৈশ্বিক প্রতিবাদের অংশ হই। আওয়াজ তুলুন—Free, Free Palestine।”

সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে বলেন, “ইয়া গামযাহ! তোমাদের শাহাদাত ও লড়াইয়ের প্রতি আমাদের গভীর সংহতি। ইনশাআল্লাহ, শিগগিরই আমরা তোমাদের সংগ্রামে সরাসরি অংশ নেবো। গাজার প্রতি বৈশ্বিক সংহতির অংশ হিসেবে ৭ এপ্রিল ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানাই।”

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রেজওয়ান আহমেদ রিফাত বলেন, “‘MARCH For Palestine’-এর আহ্বানে আগামীকাল দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে রাজু ভাস্কর্যে বিকেল ৪টায় সংহতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বজুড়ে ৭ এপ্রিল ফিলিস্তিনের পক্ষে হরতাল পালিত হবে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তাই সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আমাদেরও রাজপথে নামতে হবে, প্রতিবাদ জানাতে হবে। একটিও জীবন যেন অবহেলায় হারিয়ে না যায়—এই চেতনাতেই আমাদের কর্মসূচি।”

Header Ad
Header Ad

বিয়ের গেটে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে মারামারি, ভাঙল বিয়ে

বিয়ের গেটে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে মারামারি। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে একটি বিয়েবাড়ির গেটে বরপক্ষে প্রবেশের সময় পার্টি স্প্রে ছেটানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে কনে পক্ষের অনুরোধ সত্ত্বেও ফিরে গেছে বরপক্ষ।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার (৬ এপ্রিল) সকালে কনের বাবা সামেদ মাতুব্বর ভাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, তিন মাস আগে মোবাইলে সামেদ মাতুব্বরের মেয়ে বর্ণা আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সদরপুর উপজেলার চরব্রহ্মনদী ভেন্নতুলী গ্রামের তৈয়ব মোল্লার ছেলে প্রবাসী নাঈম মোল্লার বিয়ে হয়। দুপক্ষ বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য দিন ধার্য করে।

মেয়ের বাড়িতে ১৩০ জন মেহমানের খাবার আয়োজন করা হয়। ছেলে পক্ষ এলে মেয়ের বাড়ির লোকেরা ছেলেকে গেটে আটকায়। সেখানে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সেটি সংঘর্ষে পরিণত হয়। এতে কনের বাবাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে নববধূকে না নিয়েই ফিরে যান জামাই।

মেয়ের বাবা সামেদ আলী মাতুব্বর বলেন, গেটে দুপক্ষের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্প্রে করছিল। এর মধ্যে দুপক্ষের ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বড়দের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ও খাবার নষ্ট করা হয়। বরপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়েছি কিন্তু তারা মেয়েকে না নিয়ে চলে যায়।

বর নাঈম মোল্লা বলেন, ছয় বছর প্রবাস জীবন খেটে বিয়ে করার জন্য এসেছি বাংলাদেশে। কীভাবে কী হয়ে গেল বুঝতে পারলাম না। আমার এক চাচাকে কনেপক্ষরা মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হবে বলে আমাকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। পরে চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি তাদের হেফাজতে আমাদেরকে পার করে দিয়েছে।

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, মেয়ের বাবা সামেদ আলী মাতুব্বর একটি অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

নওগাঁয় আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতির শীলা, আতঙ্কিত এলাকাবাসী
ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে সারাদেশে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচির ডাক
বিয়ের গেটে পার্টি স্প্রে দেওয়া নিয়ে মারামারি, ভাঙল বিয়ে
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় ছাত্রদলের নিন্দা ও কর্মসূচি ঘোষণা
দপ্তর হারালেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব নিজাম উদ্দিন
বাংলাদেশে ব্যবসা করার অনুমোদন পেল স্টারলিংক
শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প ও মার্কিন প্রশাসনকে চিঠি দেবে বাংলাদেশ: প্রেস সচিব
দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর বাস্তবায়নে এডিবির উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পরিদর্শন
ফেসবুকে নির্বাচনের কথা লিখলে সংঘবদ্ধ গালি শুরু হয়ে যাচ্ছে: ইশরাক
গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদ: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব সামাল দেওয়া কঠিন হবে না: অর্থ উপদেষ্টা
বিদেশি শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক বুধবার
এসএসএফের সাবেক ডিজি ও তার স্ত্রীর ফ্ল্যাট-জমি জব্দ, ৩৪ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
আওয়ামীপন্থি ৮৪ আইনজীবীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ, ৯ জনের জামিন
গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে সোমবার দেশবাসীকে রাজপথে নামার আহ্বান সারজিসের
ইতিহাস সৃষ্টি করে মার্চে এলো ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স
দুদকের সাবেক অ্যাম্বাসেডর থেকে আসামি হতে যাচ্ছেন সাকিব!
গাজায় ইসরায়েলি মিসাইলের আঘাতে মরদেহ উড়ছে আকাশে! (ভিডিও)
মা হারালেন অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ
‘দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিতে পারেননি বলেই টিউলিপ পদত্যাগ করেছেন’