শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

হিলিতে মাল্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষক

দিনাজপুরের হিলিতে ভালো ফলন ও বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় মাল্টা চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। একজনের দেখাদেখি অপরজন এই মাল্টা চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন। এদিকে ফলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে মাল্টা চাষাবাদে কৃষকদের সবধরনের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

হিলির খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের খট্টা গ্রামের কৃষক এএনএম জাকারিয়া তার বাড়ির পার্শ্বে ২০ শতক জমিতে ৬০টি মাল্টার গাছ দিয়ে গড়ে তোলেন মাল্টার বাগান। সেই মাল্টা বাগান লাভজনক হওয়ায় এবার পরিসর বাড়িয়ে আরও প্রায় ২বিঘা জমিতে মাল্টাসহ কমলার বাগান গড়ে তুলেছেন।

বাগানে কর্মরত শ্রমিক জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, জাকারিয়া ভাই মাল্টা বাগান করেছেন সেখানে আমার মতো আরও তিনজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে মাল্টা বাগান দেখাশোনা করাসহ গাছের পরিচর্যা ও মাল্টা উঠানোর কাজ করি। এতে করে ৩০০-৪০০ টাকা মজুরি পাই। তাই দিয়ে আমাদের ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচ চালানোসহ দিনপথ ভালোই যাচ্ছে।

বাগান দেখতে আসা কৃষক আসলাম হোসেন বলেন, জায়গাটি পতিত ছিল। কোনো ফসলের আবাদ হচ্ছিল না। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে গাছ নিয়ে এখানে মাল্টার বাগান করেছেন। তাতে করে ভালোই ফলাফল দেখতে পারছি আমরা। আগে তার যে অবস্থা ছিল মাল্টার বাগান করার ফলে তার চেয়ে এখন অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ উন্নত হয়েছে। আমাদের বেশ জায়গা পতিত রয়েছে তা কোনো কাজেই আসে না। তাই আমিও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তার মতো মাল্টা বাগান করব। তাতে করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারব সংসারের আয় উন্নতি আসবে। এজন্য জাকারিয়া ভাইয়ের কাছ থেকে মাল্টা চাষাবাদের পরামর্শ নিচ্ছি পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকেও পরামর্শ নিচ্ছি।

কৃষক এএনএম জাকারিয়া বলেন, গত ২০১৬ সালে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বারি-১ জাতের ৬০টি মাল্টা গাছের চারা পাই। আমার বাড়ির পাশে পতিত ২০ শতক জমিতে সেই চারাগুলো লাগায়। ৬০টি গাছের মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক গাছ হয় ৩৬টি, গাছ লাগানোর দুবছরের মাথায় ফল আসতে শুরু করে। এসময় সেই ফলগুলো এলাকাবাসীর মাঝে বিলিয়ে দিই। এরপরে ২০১৯ সাল থেকে বিক্রি শুরু করি। এ সময় ৩০ হাজার টাকার উপরে মাল্টা বিক্রি করি। এরপরের বছর গাছে আরও বেশি মাল্টা ধরলে সেসময় ৫৪ হাজার টাকার উপরে মাল্টা বিক্রি করি। এরপরের বছর সেটি আরও বেড়ে ৭৪ হাজার টাকার উপরে মাল্টা বিক্রি করি।

তিনি বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছে বেশ মাল্টা ধরেছে, আকারও বেশ বড়। তবে এখনো গাছ থেকে মাল্টা বিক্রি শুরু করিনি। এ বছর আশা করছি ১ লাখ টাকার উপরে মাল্টা বিক্রি করতে পারব। বাগান করা থেকে শুরু করে এপর্যন্ত আমার ব্যয় হয়েছে ৭৪ হাজার টাকা। এতে করে এই মাল্টা বাগান করে আমি ভালো লাভবান হয়েছি। আমি এটিকে আরও বড় করতে সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে অন্য একটি বাগান করেছি। যেখানে ৪৮৫টি গাছ রয়েছে এর মধ্যে দার্জিলিং কমলার গাছ রয়েছে ১৫০টি। এ ছাড়া ৬০টি গাছ রয়েছে ভিয়েতনামের বারোমাসি মাল্টা গাছ, বাকিটা বারি-১ জাতের মাল্টা গাছ রয়েছে।

জাকারিয়া বলেন, ইতোমধ্যেই এসব মাল্টাগাছে ফল আসতে শুরু করেছে। তবে আমি এখনো বাণিজ্যিকভাবে ফল উত্তোলন শুরু করিনি। আগামী বছর থেকে মাল্টা বিক্রি শুরু করব আর ২০২৪ সাল থেকে কমলা গাছে আসতে পারে। আর এসব মাল্টা বিক্রি নিয়ে কোনো টেনশন নেই, পাইকাররা বাগানে এসে মাল্টা দেখে কিনে নিয়ে যায়। প্রতি কেজি মাল্টা ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।

তবে সময়ের আগেই মাল্টা উত্তোলন না করতে মাল্টা চাষিদের পরামর্শ দেন তিনি। সময়ের আগে মাল্টা উত্তোলন করলে বাজারে সেসময় মাল্টা পরিপক্ক হবে না। আর এতে স্বাদ ভালো হবে না। ফলে বাজারে দাম কম থাকে তাতে করে কৃষকরা লোকশানের মুখে পড়ে। অক্টোবর মাস থেকে মাল্টা উত্তোলন শুরু করলে মাল্টা যেমন পরিপক্ক হবে, স্বাদ ভালো হবে এবং দাম ভালো পাবেন। এতে করে কৃষকরা লাভবান হতে পারবে।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, আমাদের এই উপজেলায় মাল্টা একটি সম্ভাবনাময় ফসল। প্রথমে প্রকল্পের আওতায় জাকারিয়া নামের এক কৃষককে ৬০টি মাল্টা গাছ দিয়েছিলাম। সেই বাগানে বিগত কয়েকবছর ধরে ফল ধরতে শুরু করেছে। মাল্টার আকার বেশ বড়, সুস্বাদু ও ফলন বেশ ভালো হওয়ায় উনি মাল্টাচাষাবাদ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। এর ফলে উনি আরও বৃহৎ আকারে ৪৮৫টি গাছ দিয়ে পৃথক একটি মাল্টার বাগান করেছেন। এ ছাড়া ৩ হেক্টর জমি জুড়ে আরও ৩টি বাগান রয়েছে। তাদের দেখাদেখি আরও অনেক কৃষক মাল্টা চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন। আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে আসছেন। আমরা চাচ্ছি এই ফসল এই উপজেলায় সম্প্রসারিত হোক। বিদেশ থেকে যে মাল্টা আমদানি করা হয় সেটি কমিয়ে দেশীয়ভাবে উৎপাদন করে সেই চাহিদা মেটাতে চাই। সেলক্ষ্যে কৃষকদের প্রকল্পের আওতায় চারা বিতরণসহ সবধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এসএন

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো