বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ২২ মাঘ ১৪৩১
Dhaka Prokash

শুরু থেকে আছি এই ভালোবাসার ভুবনে

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কী? কী, কী কাজ করেছেন তারা? কেমন চলছে? ভবিষ্যতের পরিকল্পনা-সবই লিখেছেন খলিলুর রহমান ফয়সাল। তিনি এই ক্যাম্পাসের কৃষি অনুষদের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। ছবিগুলোও তার দেওয়া। ফয়সাল জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক

২০০৮ সালে আমি আমাদের সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। কৃষি অনুষদের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। ফলে জন্ম থেকে সিলেটের কৃষিখাতের প্রধান শিক্ষা ও গবেষণা মহাবিদ্যালয়টির বেড়ে উঠা আমার চোখের সামনে হচ্ছে। আমরা সিলেট শহরের একটি প্রান্তে। মোট ৫০ একর। উঁচু-নিচু পাহাড়ি ভুমি আছে। ঠিকানা-আলুরতল, টিলাগড়, সিলেট।
কোরো কিছু কিনতে, ভালো কোনো রেস্তোরায় নাস্তা করতে হলেও ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে যেতে হত তখন, শহরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা বা আম্বরখানায়। যান বলতে সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ আমলের পুরাতন একটি বাস। এই কলেজ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি হয়েছে। বেশিরভাগ সময় আমিও ছাত্র-শিক্ষকদের মতো রিকশায় যাতায়াত করতাম। শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার সময় রিকশাওয়ালাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ে যেতে বললে, প্রথমদিকে তারা আমাদের পাশের বিখ্যাত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর করতেন। আমারও খুব আত্মসম্মানে লাগত। কারণ শাবিপ্রবি পুরোনো হলেও সিলেটে যে আরেকটা পাবলিক ও কৃষি শিক্ষা এবং গবেষণার বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, সেদিকে শহরবাসীর কী কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই?
তাই ভাবলাম, আমাদের ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে হবে খবরের কাগজে। এখন তো অনেকে লেখে, তাদের সমিতিও ভালো আছে। আমাদের সময় কিন্তু ছিল না। কত যে কষ্ট হয়েছে। কতজনকে তেল দিতে হয়েছে দফায়, দফায়। তবে ক্যাম্পাসের সিনিয়র জাফর, ফিরন, রাশেদ ভাই আমাকে খুব উৎসাহিত করেছেন। প্রথম আলোর লোকগবেষক, সাংবাদিক সুমনকুমার দাশের সঙ্গে কাজের সূত্রে পরিচয় হলো। তার সহযোগিতার কথা মনে থাকবে। আরেকটু সিনিয়র হবার পর আমি আমাদের সাংবাদিক সমিতির হাল ধরলাম। জুনিয়রদের ধরে, ধরে জোর করে লেখালেখির জগতে নিয়ে আসতাম ও সংগঠন করতাম। প্রথমদিকে ছোট্ট ক্যাম্পাসের বড় কোনো খবর থাকতো না কোথাও। অগ্রহায়ণের প্রথম দিন ‘নবান্ন উৎসব’, ‘পহেলা বৈশাখ’-এ মেয়েদের বেণী করে আসার ঘটনাও খবর হিসেবে পত্রিকায় পাঠিয়েছি। দৈনিক ইত্তেফাকে বহু বছর বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছি। প্রথম দিকে অত ইন্টারনেট সুবিধাও ছিল না। সাদা কাগজে লিখে খবরগুলো পত্রিকা অফিসে দিয়ে আসার ঘটনাও আছে আমার।
‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিনোদন সংঘ’ ও ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ’-এরও আমি অন্যতম পরিশ্রমী কর্মী ছিলাম। এখনো তারা আমার সঙ্গে আছেন। নিজে কয়েকটি সংগঠন তৈরি করেছি। রেডিও অনুষ্ঠান ‘মৃত্তিকা’ ও বানান ভুলের ‘কাকতাড়ুয়া’ আছে। খবর তৈরির জন্য নিজেরাই রেডিও অনুষ্ঠানটি তৈরি শুরু করলাম। সিলেটসহ সারা বাংলাদেশে তারা খুব জনপ্রিয়।
সেই সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখন ১৬ বছরের কিশোর। সারা বাংলাদেশের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা যেমন এখানে পড়তে আসে, এসেছে; তেমনি পাশ করে দক্ষ অনার্স, মাস্টার্স, পিএইচডি পাশ ছাত্র, ছাত্রী, গবেষক, শিক্ষকরা সারা বিশ্বে ও দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন। তাদের সিলেটের এই লালচে মাটির গুণমান অন্যান্য অঞ্চলের ভিন্ন। বৃহত্তর সিলেটে রয়েছে হাজার, হাজার একর অনাবাদি উঁচু-নিচু পাহাড়ী ভূমি। সেগুলোতে চায়ের চাষ হয়। বাংলাদেশে পরবাসী নারী শ্রমিকরা মানবেতরে কাজ করেন যুগের পর যুগ। আমাদের আছে ‘হাওড়, বাওড়, বিল নামের বিস্তীর্ণ জলাকেদ্রিকভূমি। অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গর্বিত প্রতিটি জলাধার। সেগুলোর চাষী, নৌকার মাঝিরা খুব গরিব। কারো কারো ছেলে, মেয়ে পড়ে সিলেটের এই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, এমসি কলেজসহ গর্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। আমাদের আরো আছে জাদুকাটা নদী, বিছানাকান্দি, রাতারগুলের মতো প্রাকৃতিক বিষ্ময়। সুন্দর নদীগুলো। তাদের সবার অপার সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদগুলোকে কাজ ও গবেষণা মাধ্যমে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ক্যাম্পাসগুলো।
এখন ৭টি অনুষদ ও ৪৭টি বিভাগের মাধ্যমে অত্যন্ত সাফল্যে কাজ করে যাচ্ছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ওয়েবসাইটে দেখলে চমকে যাবেন। ১৮ কোটি মানুষের দেশে কিন্তু একজনও এখন আর না খেয়ে থাকেন না। দাম যেমন-তেমন তবে আর দুর্ভিক্ষ হয় না। দেশী মাছ হারিয়ে যায়নি সিলেটে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও কাজের দৌলতে। হাইব্রিড মাছ পাওয়া যায় দেদার। মেহমান এলে সাধের পালা মুরগী উঠোন থেকে ধরে এনে জবাই করলেও ভাবনা নেই কোনো। আমাদের গবেষণায় দেশী মুরগি, হাঁসের কোনোদিন চলে যাবার সুযোগ নেই। আছে তাদের উন্নতির ক্রমবিকশিত গল্প। অল্প টাকায় বাজারে এখন পাওয়া যায় পোল্ট্রির মুরগি। যে ক্ষেতে আগে ১ টন ধান ফলন হত, এখন ফলছে ৫-৬ টন। তথ্যগুলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ছাত্রী ছাড়া আর কেউ ভালোভাবে জানেন না। সবই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের কৃষি ও মাৎস্য বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক পরিশ্রমে। প্রতি বছর বহু কৃষি বিজ্ঞানী তৈরি করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিসিএস আছে। প্রথম শ্রেণীর মর্যাদায় আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের সুখ ছড়িয়ে গিয়েছে কৃষক, মাঝি, জেলের জীবনে।
এবার বলি-‘সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা’য় হাওড়ের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছেন আমাদের গবেষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অধ্যাপকরা। হাওড়, বাওড়, বিলগুলো বছরে ৭ থেকে ৮ মাস থৈ, থৈ পানিতে ভরা থাকে। শুধু বসতভিটার উঁচু জায়গাটুকুই দ্বীপের মত জেগে থাকে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৌলতে হাওড় জীবনে ফিরেছে সচ্ছলতা।
একসময় বোরো ফসলনির্ভর শীতকালের হাওড়, বাওড় ও বিলাঞ্চলগুলো মাঠের পর মাঠ হয়ে অনাবাদী পড়ে থাকত। ২০১৫ সাল থেকে সুনামগঞ্জের দেকারসহ হাওড়গুলোর প্রান্তিক, ভূমিহীন কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। গবেষকদের সার্বিক তত্বাবধানে লাগসই-‘ধান’, ‘সবজি’, ‘মাছ’ চাষ, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী, কবুতর পালনসহ নানাবিধ অর্থকরী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
২০১৮ সাল থেকে সিলেটের রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ও গুরকচি নদীতে বিলুপ্ত ও অন্যান্য মাছ রক্ষায় সাফল্য এনে চলছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়। জলমগ্ন রাতারগুল বনাঞ্চলে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তুলে মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করায় দারুণ সাফল্য এসেছে। দেশীয় প্রজাতির মাছগুলো এখন বেঁচে আছে বহাল তবিয়তে। জেলে, মাঝি ও তাদের পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে টেকসই আয় ঘটেছে। এনজিওরা ইতোমধ্যে সেলাই মেশিন, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়েছেন মৎস্যজীবী পরিবারগুলোতে।
আমাদের মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের জলজসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ২০১৮ সালের জুলাই থেকে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রক্ষায় প্রকল্প শুরু করেছে। নেতৃত্বে মাৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ও এখন ডিন ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড। তার তত্বাবাবধানে সিলেটের সারি, গায়াইন নদী ও সংলগ্ন হাওড়, বাওড় ও বিলগুলোতে দেশীয় মাছগুলোর বংশবৃদ্ধির জন্য ধারাবাহিক গবেষণা কার্যক্রম চলছে।
আমাদের গবেষণার অংশ রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ও গুরকচি নদীর প্রায় ৩ একর মাছের অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। অভয়াশ্রম তৈরিতে ‘চিতল’, ‘ঘোড়া’, ‘খারি’, ‘নানিদ’ ইত্যাদি হারিয়ে যাওয়া মাছগুলো মিলছে। দেশের মাছের মড়ক রোধে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বায়োফিল্ম’ নামের নতুন ভ্যাক্সিন আবিস্কার করা হয়েছে। মৎস্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল্লাহ-আল-মামুন ভ্যাক্সিনটি আবিষ্কার করেছেন বলে আমরা অত্যন্ত গর্ব বোধ করি।
মাছ নিয়ে আরো কটি গবেষণা আছে আমাদের। ‘ডিএনএ বারকোডিং’-এর জেনেটিকস পদ্ধতিতে একই প্রজাতির মাছ সনাক্ত ও উৎপাদন বৃদ্ধি, পাশাপাশি চাষাবাদ পদ্ধতির কার্যক্রম চলছে। আমূল পরিবর্তন আনা এই গবেষণা মৎস্যজীববিদ্যা ও কৌলিতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরীনের নেতৃত্বে সম্পন্নও হয়েছে।
‘সয়াগ্রোথ বোস্টার’ নামের মাছের পরিপূরক প্রোটিনের পেটেন্ট লাভ করেছেন মাৎস্যচাষ বিভাগের অ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনামুল কবির। মৎস্য, ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্প সম্পদে প্রোটিনের পরিপূরক হয়ে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি আমরা। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামুদ্রিক কুয়াশা বা সি-ফগের অবস্থান ও পূর্বানুমান এবং এর স্থানান্তর প্রক্রিয়া নির্ণয়ের করার মাধ্যমে সামুদ্রিক দূর্ঘটনা রোধের কৌশল আবিষ্কার করেছেন জলজসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ হারুন-আল-রশীদ। তিনিও প্রযুক্তির পেটেন্ট লাভ করেছেন। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত স্বয়ংক্রিয় সেচ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন একদল গবেষক। ফলে পানির অপচয় রোধের পাশাপাশি সময়মত ফলবে সোনার ফসল। আধুনিক কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থাকে সহজ করে আবাদি জমিতে সঠিক মাত্রায় আর্দ্রতা বজায় রাখা সম্ভব হয় নতুন এই সেচ যন্ত্রে। মাটির আর্দ্রতা এবং পানির উচ্চতা সহজে নির্ণয় করেও মাঠে সেচ দেয়া যায় বলে জানিয়েছেন তারা। কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন এবং কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক মোঃ জানিবুল আলম সোয়েব তাদের বিভাগের দুই গবেষক ছাত্র-রাইসুল ইসলাম রাব্বী ও মো. নুরুল আজমীরকে নিয়ে প্রটো-টাইপ ডিভাইসটি তৈরি করে ফেলেছেন।
আরো নতুন জীবনের পথেও পা বাড়িয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ভেটেরিনারি, এনিমেল অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের মোট ৬টি বিভাগে ৬টি আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন হয়েছে। আরো ২টি ল্যাবরেটরি উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল। হয়ে গিয়েছে। কৃষি অনুষদেও কটি গবেষণাগার হয়েছে। ক সপ্তাহ আগে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে মাছের রোগ নির্নয়ের জন্য অত্যাধুনিক গবেষণাগার চালু হয়েছে। নাম ‘ফিশ ডিজিজ, ডায়াগনোসিস অ্যান্ড ফার্মাকোলজি ল্যাব’। অ্যালপার ডগার (এডি) নামের বৈশ্বিক ওয়েবসাইটভিত্তিক ইনডেক্সের ওয়েবসাইটে ১২টি বিষয়ে বিশ্বসেরা গবেষকদের নাম প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের ২৩ জন গবেষক সেই তালিকায় আছেন।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্হি:ক্যাম্পাস চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ফেঞ্চুগঞ্জ-তামাবিল বাইপাস সড়কের পাশে এফআইভিডিবির খাদিম নগরে মোট ১২.৩ একর জায়গা সরকার দান করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে। নতুন জায়গাপ্রাপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজের সুযোগ বিরাট সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্যাম্পাস যাত্রা করেছিল যার টিলা ও জঙ্গলবেষ্টিত বেশিরভাগ ভূমিতে।
আর সবার মতো বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ মতিয়ার রহমান হাওলাদারের অনেক অবদান রয়েছে। তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে এখানেই সরকারী ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষক ছিলেন। প্রথম কোনো একই কলেজের শিক্ষক ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিলেন। ক্যাম্পাস নিয়ে স্যারের আবেগও তাই বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বাণীতে তিনি বলেছেন, ‘বছর ঘুরে আবারও আমাদের মাঝে শুভদিনটি ফিরে এলো। কৃষিশিক্ষার জ্ঞানতীর্থ হয়ে ওঠা এবং কৃষি ও গ্রামীণ কৃষিনিভর অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের সব মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকে অনেক কাজ করে চলেছে। শিক্ষা ও গবেষণায় আধুনিক কৌশল ও দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মেধা এবং মননে অনন্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের উত্তর-পূর্ব কোণের এই পূণ্যভূমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।'
বতমান উপাচার্য ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা করেছেন। কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি বলেছেন, “সকলের সহযোগিতা পেলে আমরা সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে উঠব। ” স্যার জানিয়েছেন, সকলের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় আরো অনেক গতিশীল হয়েছে।
আমি যখন ছাত্র ছিলাম, প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে খুব হৈ হুল্লুর করতাম, নানা অনুষ্ঠান করতাম। প্রিয় এই ক্যাম্পাসে যখন বন্ধুরা দল বেঁধে যায় শিক্ষার্থী হিসেবে, আমার জীবনের সোনালী সময়গুলোকে মনে পড়ে। নতুনদের মুখের হাসিতে নিজের যৌবনের চেহারা খুঁজে পাই। একখন্ড সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার আবেগের কোনো শেষ নেই। টিলাঘেরা এই সবুজ গালিচা আমার পূণ্যভূমি।

ওএস।

Header Ad
Header Ad

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে জনগনের মতামত চাইলো হাসনাত  

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছবিঃ সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে চলতি ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্বে থাকা এক তরুণ উপদেষ্টা পদত্যাগ করে নতুন এই দলের দায়িত্ব নিতে পারেন বলেও জানা গেছে।

এবার জনগণ কেমন দল চায় জানিয়ে মতামত চেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টে এ আহ্বান জানান।

পোস্টে হাসনাত লেখেন, ‘ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে!’

একটি ফরম পূরণ করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি কেমন দল চান আমরা তা জানতে চাই এবং সে আদলেই দলটি গড়তে চাই। কমেন্টে দেওয়া ফর্মে আপনার মতামত জানান। ফর্মটি পূরণ করতে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগবে।’

Header Ad
Header Ad

এই ফটো তোলোস কেন? আদালত চত্বরে শাহজাহান ওমর  

ঝালকাঠি-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান ওমর। ছবিঃ সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর আদাবর থানায় দায়েরকৃত রুবেল হত্যা মামলায় ঝালকাঠি-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান ওমর, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম. এ আজহারুল ইসলামের আদালত গ্রেফতার দেখানোর এ আদেশ দেন।

এদিন সকালে আসামিদের আদালতে হাজির করে উক্ত মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে সে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক।। সোয়া ৯ টার পর তাদের এজলাসে তোলা হয়। তিন জনের মধ্যে সামনে ছিলেন শাহজাহান ওমর।

এই সময় সাংবাদিকরা তাদের ছবি তুলতে গেলে। তখন শাহজাহান ওমর বলেন, ‘এই ফটো তোলোস কেন?’ পরে তাদের এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে অনেকটাই স্বাভাবিক ছিলেন শাহজাহান ওমর। আইনজীবী-পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সময় পার করেন। কখনও হেসেছেন। আইনজীবীদের কাছে মামলার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। জানতে চান তিনি এজাহারনামীয় আসামি কি না।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা সকাল ১১টার দিকে আদাবর থানাধীন রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

এ ঘটনায় ২২ আগস্ট আদাবর থানায় হত্যা মামলা করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।

Header Ad
Header Ad

মনে হচ্ছে বিবিসি বাংলা গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার ভক্ত : প্রেস সচিব  

প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবিঃ সংগৃহীত

মনে হচ্ছে বিবিসি বাংলা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক এবং গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার ভক্ত হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বুধবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, সংবাদ মাধ্যমটি (বিবিসি বাংলা) যখন শেখ হাসিনার বিষয়ে লেখে, তখন তার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পটভূটি বাদ দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর উনি ভারতে চলে গেছেন এমন শব্দ ব্যবহার করতে তারা অধিকতর পছন্দ করে। বাস্তবতা হচ্ছে শেখ হাসিনা অসংখ্য শিশু হত্যা, নজিরবিহীন সহিংসতা, লুণ্ঠন, দুর্নীতি, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং তিন হাজারের বেশি মানুষকে গুম করে ভারতে পালিয়ে গেছেন।

তিনি লেখেন, গত সপ্তাহে শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংস্থাটি বলছে, শেখ হাসিনা তার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে হত্যা এবং গুমের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের কিছুই উল্লেখ ছিল না। তারা বিপ্লবের পরে গণগ্রেপ্তার নিয়ে কথা বলতে বেশি পছন্দ করে।

শফিকুল আলম লেখেন, কোনো গণগ্রেপ্তার হয়েছে? কতজনকে গত ছয় মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? আমরা জানতাম যে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পুলিশ বিএনপির সমাবেশকে জোরপূর্বক ছত্রভঙ্গ করেছিল। তারপর কমপক্ষে ২৫ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।

প্রেস সচিব আরও লিখেছেন, মনে হচ্ছে বিবিসি বাংলা গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে একটি নিখুঁত প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। গতকাল তারা একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা বলেছে যে, হাসিনা নয়াদিল্লি থেকে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলবেন। প্রকৃতপক্ষে, এটি ‘বাংলার কসাইয়ের’ জন্য একটি নিখুঁত প্ল্যাটফর্ম! এটি কি কখনো নির্বাসিত বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে একই রকম প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে? হাসিনার স্বৈরশাসনের আমলে তারেক রহমান লন্ডনে কীভাবে সময় কাটাচ্ছিলেন সে সম্পর্কে লিখেছিল? এটি কি তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিল?

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে জনগনের মতামত চাইলো হাসনাত  
এই ফটো তোলোস কেন? আদালত চত্বরে শাহজাহান ওমর  
মনে হচ্ছে বিবিসি বাংলা গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার ভক্ত : প্রেস সচিব  
পটুয়াখালীতে বাংলাভিশনের সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম  
উত্তরবঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল বিক্রি বন্ধ
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপের আখেরি মোনাজাত আজ  
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে কড়া বার্তা হাসনাত আবদুল্লাহর  
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় আজ    
সুইডেনে স্কুলে বন্দুক হামলা নিহত ১০ জন  
বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত গ্রেফতার  
জাবিতে পোষ্য কোটা সম্পূর্ণরূপে বাতিলের ঘোষণা  
মুসলিম লীগ যেমন বিলুপ্ত হয়েছে, আওয়ামী লীগও বিলুপ্ত হবে : সলিমুল্লাহ খান
ছাত্রলীগ নেতা ইমতিয়াজ রাব্বীসহ ৮ বুয়েট শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার  
জীবননগর সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বাংলাদেশি যুবক আটক
নগদের সাবেক চেয়ারম্যান-এমডিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে ৬৪৫ কোটি টাকা জালিয়াতির মামলা
৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হচ্ছে নতুন মার্কিন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া
ক্যাম্পাসের মসজিদে কোরআন পুড়িয়েছে রাবি ছাত্র, জানা গেল পরিচয়
মার্কিন ভিসার জন্য প্রার্থনা করতে মন্দিরে ভিড় ভারতীয়দের
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন পোড়ানোর ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন আটক
পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়ন