শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

শুরু থেকে আছি এই ভালোবাসার ভুবনে

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কী? কী, কী কাজ করেছেন তারা? কেমন চলছে? ভবিষ্যতের পরিকল্পনা-সবই লিখেছেন খলিলুর রহমান ফয়সাল। তিনি এই ক্যাম্পাসের কৃষি অনুষদের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। ছবিগুলোও তার দেওয়া। ফয়সাল জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক

২০০৮ সালে আমি আমাদের সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। কৃষি অনুষদের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। ফলে জন্ম থেকে সিলেটের কৃষিখাতের প্রধান শিক্ষা ও গবেষণা মহাবিদ্যালয়টির বেড়ে উঠা আমার চোখের সামনে হচ্ছে। আমরা সিলেট শহরের একটি প্রান্তে। মোট ৫০ একর। উঁচু-নিচু পাহাড়ি ভুমি আছে। ঠিকানা-আলুরতল, টিলাগড়, সিলেট।
কোরো কিছু কিনতে, ভালো কোনো রেস্তোরায় নাস্তা করতে হলেও ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে যেতে হত তখন, শহরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা বা আম্বরখানায়। যান বলতে সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ আমলের পুরাতন একটি বাস। এই কলেজ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি হয়েছে। বেশিরভাগ সময় আমিও ছাত্র-শিক্ষকদের মতো রিকশায় যাতায়াত করতাম। শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার সময় রিকশাওয়ালাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ে যেতে বললে, প্রথমদিকে তারা আমাদের পাশের বিখ্যাত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর করতেন। আমারও খুব আত্মসম্মানে লাগত। কারণ শাবিপ্রবি পুরোনো হলেও সিলেটে যে আরেকটা পাবলিক ও কৃষি শিক্ষা এবং গবেষণার বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, সেদিকে শহরবাসীর কী কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই?
তাই ভাবলাম, আমাদের ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে হবে খবরের কাগজে। এখন তো অনেকে লেখে, তাদের সমিতিও ভালো আছে। আমাদের সময় কিন্তু ছিল না। কত যে কষ্ট হয়েছে। কতজনকে তেল দিতে হয়েছে দফায়, দফায়। তবে ক্যাম্পাসের সিনিয়র জাফর, ফিরন, রাশেদ ভাই আমাকে খুব উৎসাহিত করেছেন। প্রথম আলোর লোকগবেষক, সাংবাদিক সুমনকুমার দাশের সঙ্গে কাজের সূত্রে পরিচয় হলো। তার সহযোগিতার কথা মনে থাকবে। আরেকটু সিনিয়র হবার পর আমি আমাদের সাংবাদিক সমিতির হাল ধরলাম। জুনিয়রদের ধরে, ধরে জোর করে লেখালেখির জগতে নিয়ে আসতাম ও সংগঠন করতাম। প্রথমদিকে ছোট্ট ক্যাম্পাসের বড় কোনো খবর থাকতো না কোথাও। অগ্রহায়ণের প্রথম দিন ‘নবান্ন উৎসব’, ‘পহেলা বৈশাখ’-এ মেয়েদের বেণী করে আসার ঘটনাও খবর হিসেবে পত্রিকায় পাঠিয়েছি। দৈনিক ইত্তেফাকে বহু বছর বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছি। প্রথম দিকে অত ইন্টারনেট সুবিধাও ছিল না। সাদা কাগজে লিখে খবরগুলো পত্রিকা অফিসে দিয়ে আসার ঘটনাও আছে আমার।
‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিনোদন সংঘ’ ও ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ’-এরও আমি অন্যতম পরিশ্রমী কর্মী ছিলাম। এখনো তারা আমার সঙ্গে আছেন। নিজে কয়েকটি সংগঠন তৈরি করেছি। রেডিও অনুষ্ঠান ‘মৃত্তিকা’ ও বানান ভুলের ‘কাকতাড়ুয়া’ আছে। খবর তৈরির জন্য নিজেরাই রেডিও অনুষ্ঠানটি তৈরি শুরু করলাম। সিলেটসহ সারা বাংলাদেশে তারা খুব জনপ্রিয়।
সেই সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখন ১৬ বছরের কিশোর। সারা বাংলাদেশের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা যেমন এখানে পড়তে আসে, এসেছে; তেমনি পাশ করে দক্ষ অনার্স, মাস্টার্স, পিএইচডি পাশ ছাত্র, ছাত্রী, গবেষক, শিক্ষকরা সারা বিশ্বে ও দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন। তাদের সিলেটের এই লালচে মাটির গুণমান অন্যান্য অঞ্চলের ভিন্ন। বৃহত্তর সিলেটে রয়েছে হাজার, হাজার একর অনাবাদি উঁচু-নিচু পাহাড়ী ভূমি। সেগুলোতে চায়ের চাষ হয়। বাংলাদেশে পরবাসী নারী শ্রমিকরা মানবেতরে কাজ করেন যুগের পর যুগ। আমাদের আছে ‘হাওড়, বাওড়, বিল নামের বিস্তীর্ণ জলাকেদ্রিকভূমি। অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গর্বিত প্রতিটি জলাধার। সেগুলোর চাষী, নৌকার মাঝিরা খুব গরিব। কারো কারো ছেলে, মেয়ে পড়ে সিলেটের এই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, এমসি কলেজসহ গর্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। আমাদের আরো আছে জাদুকাটা নদী, বিছানাকান্দি, রাতারগুলের মতো প্রাকৃতিক বিষ্ময়। সুন্দর নদীগুলো। তাদের সবার অপার সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদগুলোকে কাজ ও গবেষণা মাধ্যমে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ক্যাম্পাসগুলো।
এখন ৭টি অনুষদ ও ৪৭টি বিভাগের মাধ্যমে অত্যন্ত সাফল্যে কাজ করে যাচ্ছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ওয়েবসাইটে দেখলে চমকে যাবেন। ১৮ কোটি মানুষের দেশে কিন্তু একজনও এখন আর না খেয়ে থাকেন না। দাম যেমন-তেমন তবে আর দুর্ভিক্ষ হয় না। দেশী মাছ হারিয়ে যায়নি সিলেটে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও কাজের দৌলতে। হাইব্রিড মাছ পাওয়া যায় দেদার। মেহমান এলে সাধের পালা মুরগী উঠোন থেকে ধরে এনে জবাই করলেও ভাবনা নেই কোনো। আমাদের গবেষণায় দেশী মুরগি, হাঁসের কোনোদিন চলে যাবার সুযোগ নেই। আছে তাদের উন্নতির ক্রমবিকশিত গল্প। অল্প টাকায় বাজারে এখন পাওয়া যায় পোল্ট্রির মুরগি। যে ক্ষেতে আগে ১ টন ধান ফলন হত, এখন ফলছে ৫-৬ টন। তথ্যগুলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ছাত্রী ছাড়া আর কেউ ভালোভাবে জানেন না। সবই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের কৃষি ও মাৎস্য বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক পরিশ্রমে। প্রতি বছর বহু কৃষি বিজ্ঞানী তৈরি করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিসিএস আছে। প্রথম শ্রেণীর মর্যাদায় আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের সুখ ছড়িয়ে গিয়েছে কৃষক, মাঝি, জেলের জীবনে।
এবার বলি-‘সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা’য় হাওড়ের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছেন আমাদের গবেষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অধ্যাপকরা। হাওড়, বাওড়, বিলগুলো বছরে ৭ থেকে ৮ মাস থৈ, থৈ পানিতে ভরা থাকে। শুধু বসতভিটার উঁচু জায়গাটুকুই দ্বীপের মত জেগে থাকে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৌলতে হাওড় জীবনে ফিরেছে সচ্ছলতা।
একসময় বোরো ফসলনির্ভর শীতকালের হাওড়, বাওড় ও বিলাঞ্চলগুলো মাঠের পর মাঠ হয়ে অনাবাদী পড়ে থাকত। ২০১৫ সাল থেকে সুনামগঞ্জের দেকারসহ হাওড়গুলোর প্রান্তিক, ভূমিহীন কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। গবেষকদের সার্বিক তত্বাবধানে লাগসই-‘ধান’, ‘সবজি’, ‘মাছ’ চাষ, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী, কবুতর পালনসহ নানাবিধ অর্থকরী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
২০১৮ সাল থেকে সিলেটের রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ও গুরকচি নদীতে বিলুপ্ত ও অন্যান্য মাছ রক্ষায় সাফল্য এনে চলছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়। জলমগ্ন রাতারগুল বনাঞ্চলে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তুলে মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করায় দারুণ সাফল্য এসেছে। দেশীয় প্রজাতির মাছগুলো এখন বেঁচে আছে বহাল তবিয়তে। জেলে, মাঝি ও তাদের পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে টেকসই আয় ঘটেছে। এনজিওরা ইতোমধ্যে সেলাই মেশিন, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়েছেন মৎস্যজীবী পরিবারগুলোতে।
আমাদের মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের জলজসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ২০১৮ সালের জুলাই থেকে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রক্ষায় প্রকল্প শুরু করেছে। নেতৃত্বে মাৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ও এখন ডিন ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড। তার তত্বাবাবধানে সিলেটের সারি, গায়াইন নদী ও সংলগ্ন হাওড়, বাওড় ও বিলগুলোতে দেশীয় মাছগুলোর বংশবৃদ্ধির জন্য ধারাবাহিক গবেষণা কার্যক্রম চলছে।
আমাদের গবেষণার অংশ রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ও গুরকচি নদীর প্রায় ৩ একর মাছের অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। অভয়াশ্রম তৈরিতে ‘চিতল’, ‘ঘোড়া’, ‘খারি’, ‘নানিদ’ ইত্যাদি হারিয়ে যাওয়া মাছগুলো মিলছে। দেশের মাছের মড়ক রোধে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বায়োফিল্ম’ নামের নতুন ভ্যাক্সিন আবিস্কার করা হয়েছে। মৎস্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল্লাহ-আল-মামুন ভ্যাক্সিনটি আবিষ্কার করেছেন বলে আমরা অত্যন্ত গর্ব বোধ করি।
মাছ নিয়ে আরো কটি গবেষণা আছে আমাদের। ‘ডিএনএ বারকোডিং’-এর জেনেটিকস পদ্ধতিতে একই প্রজাতির মাছ সনাক্ত ও উৎপাদন বৃদ্ধি, পাশাপাশি চাষাবাদ পদ্ধতির কার্যক্রম চলছে। আমূল পরিবর্তন আনা এই গবেষণা মৎস্যজীববিদ্যা ও কৌলিতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরীনের নেতৃত্বে সম্পন্নও হয়েছে।
‘সয়াগ্রোথ বোস্টার’ নামের মাছের পরিপূরক প্রোটিনের পেটেন্ট লাভ করেছেন মাৎস্যচাষ বিভাগের অ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনামুল কবির। মৎস্য, ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্প সম্পদে প্রোটিনের পরিপূরক হয়ে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি আমরা। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামুদ্রিক কুয়াশা বা সি-ফগের অবস্থান ও পূর্বানুমান এবং এর স্থানান্তর প্রক্রিয়া নির্ণয়ের করার মাধ্যমে সামুদ্রিক দূর্ঘটনা রোধের কৌশল আবিষ্কার করেছেন জলজসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ হারুন-আল-রশীদ। তিনিও প্রযুক্তির পেটেন্ট লাভ করেছেন। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত স্বয়ংক্রিয় সেচ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন একদল গবেষক। ফলে পানির অপচয় রোধের পাশাপাশি সময়মত ফলবে সোনার ফসল। আধুনিক কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থাকে সহজ করে আবাদি জমিতে সঠিক মাত্রায় আর্দ্রতা বজায় রাখা সম্ভব হয় নতুন এই সেচ যন্ত্রে। মাটির আর্দ্রতা এবং পানির উচ্চতা সহজে নির্ণয় করেও মাঠে সেচ দেয়া যায় বলে জানিয়েছেন তারা। কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন এবং কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক মোঃ জানিবুল আলম সোয়েব তাদের বিভাগের দুই গবেষক ছাত্র-রাইসুল ইসলাম রাব্বী ও মো. নুরুল আজমীরকে নিয়ে প্রটো-টাইপ ডিভাইসটি তৈরি করে ফেলেছেন।
আরো নতুন জীবনের পথেও পা বাড়িয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ভেটেরিনারি, এনিমেল অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের মোট ৬টি বিভাগে ৬টি আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন হয়েছে। আরো ২টি ল্যাবরেটরি উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল। হয়ে গিয়েছে। কৃষি অনুষদেও কটি গবেষণাগার হয়েছে। ক সপ্তাহ আগে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে মাছের রোগ নির্নয়ের জন্য অত্যাধুনিক গবেষণাগার চালু হয়েছে। নাম ‘ফিশ ডিজিজ, ডায়াগনোসিস অ্যান্ড ফার্মাকোলজি ল্যাব’। অ্যালপার ডগার (এডি) নামের বৈশ্বিক ওয়েবসাইটভিত্তিক ইনডেক্সের ওয়েবসাইটে ১২টি বিষয়ে বিশ্বসেরা গবেষকদের নাম প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের ২৩ জন গবেষক সেই তালিকায় আছেন।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্হি:ক্যাম্পাস চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ফেঞ্চুগঞ্জ-তামাবিল বাইপাস সড়কের পাশে এফআইভিডিবির খাদিম নগরে মোট ১২.৩ একর জায়গা সরকার দান করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে। নতুন জায়গাপ্রাপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজের সুযোগ বিরাট সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্যাম্পাস যাত্রা করেছিল যার টিলা ও জঙ্গলবেষ্টিত বেশিরভাগ ভূমিতে।
আর সবার মতো বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ মতিয়ার রহমান হাওলাদারের অনেক অবদান রয়েছে। তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে এখানেই সরকারী ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষক ছিলেন। প্রথম কোনো একই কলেজের শিক্ষক ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিলেন। ক্যাম্পাস নিয়ে স্যারের আবেগও তাই বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বাণীতে তিনি বলেছেন, ‘বছর ঘুরে আবারও আমাদের মাঝে শুভদিনটি ফিরে এলো। কৃষিশিক্ষার জ্ঞানতীর্থ হয়ে ওঠা এবং কৃষি ও গ্রামীণ কৃষিনিভর অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের সব মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকে অনেক কাজ করে চলেছে। শিক্ষা ও গবেষণায় আধুনিক কৌশল ও দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মেধা এবং মননে অনন্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের উত্তর-পূর্ব কোণের এই পূণ্যভূমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।'
বতমান উপাচার্য ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা করেছেন। কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি বলেছেন, “সকলের সহযোগিতা পেলে আমরা সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে উঠব। ” স্যার জানিয়েছেন, সকলের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় আরো অনেক গতিশীল হয়েছে।
আমি যখন ছাত্র ছিলাম, প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে খুব হৈ হুল্লুর করতাম, নানা অনুষ্ঠান করতাম। প্রিয় এই ক্যাম্পাসে যখন বন্ধুরা দল বেঁধে যায় শিক্ষার্থী হিসেবে, আমার জীবনের সোনালী সময়গুলোকে মনে পড়ে। নতুনদের মুখের হাসিতে নিজের যৌবনের চেহারা খুঁজে পাই। একখন্ড সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমার আবেগের কোনো শেষ নেই। টিলাঘেরা এই সবুজ গালিচা আমার পূণ্যভূমি।

ওএস।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা