বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্রত্যাবর্তনে রিয়াল মাদ্রিদের শেষ মুহূর্তের যাদু

ছবি: সংগৃহীত

অবিশ্বাস্য! বাস্তবে একই ঘটনা বারবার ঘটতে পারে? এ যেন কল্পনাকেও হার মানানো। এমন ঘটনা গল্পে বা সিনেমার চিত্রনাট্যে লেখকের ইচ্ছায় দেখা যেতে পারে যত্রতত্র। তাই বলে বাস্তবে? একবার বা দুইবার নয়, তিন তিনবার। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ নকআউট পর্বের শেষ ষোলো থেকে শুরু করে কোয়ার্টার ফাইনাল, এরপর সেমি ফাইনালেও তারা প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে পৌঁছে গেছে ফাইনালে। যেখানে তারা সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলকে। দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে ২৮ মে প্যারিসে।

রিয়াল মাদ্রিদ এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার পথে একে একে পেছনে ফেলেছে শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের প্যারিস সেন্ট জার্মাইকে (পিএসজি), কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের চেলসিকে। সর্বশেষ বুধবার (৪ মে) রাতে ইংল্যান্ডের আরেক ক্লাব বর্তমান রানার্সআপ ম্যানচেষ্টার সিটিকে।

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রত্যাবর্তনের অনেক গল্প আছে। কিন্তু সেগুলো ছিল কোনো কোনো আসরে কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্লাবের একটি নির্দিষ্ট ম্যাচে। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের মতো এক আসরে টানা তিন ম্যাচে এ রকম প্রত্যাবর্তনের ঘটনা ফুটবলে বিশ্বে এই প্রথম।

প্রত্যাবর্তেনের সেরা গল্প বলা যায় বার্সেলোনার ক্ষেত্রে। ২০১৬ সালে পিএসজির মাঠে ৪-০ গোলে হেরে ন্যু ক্যাম্পে নিজেদের মাঠে খেলতে নেমেছিল বার্সেলোনা। পিএসজি ফাইনালে, ফুটবল খেলা যিনি বুঝেন না, তিনিও পিএসজির পক্ষে বাজি ধরবেন। কিন্তু মেসি-নেইমার-সুয়ারেজের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ হাল ছাড়তে রাজি ছিল না। খেলা শেষ হওয়ার ৩ মিনিট আগে ৩ গোল করে তারা ৬-১ গোলে ম্যাচ জিতে অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিয়েছিল ফুটবল বিশ্বে। ৫০ মিনিটে বার্সেলোনা ৩ গোল করার পর ৬২ মিনিটে কাভানির গোলে পিএসজির পাল্লা আবার ভারী হয়ে উঠে। খেলা গড়াচ্ছে শেষের দিকে। পিএসজিকে টপকাতে হলে বার্সেলোনাকে করতে হবে আরও ৩ গোল যা এক কথায় অবিশ্বাস্য। কারণ খেলা শেষ হতে বাকি মাত্র ২ মিনিট। সঙ্গে যোগ হবে কয়েক মিনিট ইনজুরি টাইম। ৮৮ মিনিটে ১ গোল ও ইনুজরি টাইমে আরও ২ গোল করে বার্সেলোনা জন্ম দিয়েছিল প্রত্যাবর্তনের সেরা গল্প।

যে রূপকথার জন্ম দিয়েছিল বার্সেলোনা, সেই বার্সেলোনাই নিজেরা আবার তার শিকার হয়েছিল ২০১৯ সালে। লিভারপুলের কাছে। নিজেদের মাঠে বার্সেলোনা জিতেছিল ৩-০ গোলে। কিন্তু লিভারপুলের মাঠে গিয়ে তারা ৪-০ গোলে হেরেছিল। ২০০৪ সালে ইতালির ক্লাব এসি মিলান কোয়ার্টার ফাইনালে স্প্যানিশ ক্লাব দেপোর্তিভো লা করুনার কাছে এ রকম ঘটনার শিকার হয়েছিল। প্রথমে নিজেদের মাঠে ৪-১ গোলে জিতে গিয়েছিল দেপোর্তিভোর মাঠে। কিন্তু সেখানে গিয়ে হেরে বসে ৪-০ গোলে। ফলে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে সেমিতে উঠে যায় স্প্যানিশ ক্লাবটি।

ফাইনালেও আছে এ রকম একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প। এখানেও শিকার এসি মিলান। এবার তারা ফাইনালে শিকার হয় ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের কাছে। ২০০৫ সালে ইস্তামবুলে অনুষ্ঠিত ফাইনালে এসি মিলান এক পর্যায়ে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। ফাইনাল এখান থেকে শিরোপা না জেতার কোনো কারণই নেই। কিন্তু লিভারপুল সেখানে নতুন ঘটনার জন্ম দেয়। মালদিনির জোড়া ও ক্রেসপোর এক গোলে প্রথমার্ধেই এসি মিলান ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ৩ ও ৬ মিনিটের ব্যবধান ৩ গোল পরিশোধ করে লিভারপুল অবিশ্বাস্যভাবে খেলায় ফিরে আসে। নির্ধারিত সময় খেলা ৩-৩ গোলে ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে লিভারপুল ৩-২ গোলে জিতে এসি মিলানের মুখের খাবার কেড়ে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে মেতে উঠে।

এ সবই হার মেনেছে রিয়াল মাদ্রিদের প্রত্যাবর্তনের কাছে। বিপদ সংকুল পথ পাড়ি দিয়ে এক একটি বাধা অতিক্রম করেছে। শেষ ষোলোতে তারা পিএসজির মাঠে ১-০ গোলে হেরে নিজেদের মাঠেও প্রথমে ১ গোল হজম করে আরও বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে বেনজামার হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতে ৩-২ ব্যবধানে বাধা অতিক্রম করে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে। এখানে তারা পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেলসিকে।

স্ট্যাম্পফোর্ড ব্রিজে চেলসির মাঠে তারা বেনজামার আরেকটি হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতে সেমির পথে এক পা দিয়েই রাখে। কারণ খেলা হবে আবার নিজেদের মাঠে। কিন্তু এবার চেলসি জন্ম দিতে চেয়েছিল প্রত্যাবর্তনের নতুন গল্প। ১৫, ৫১ ও ৭৫ মিনিটে তারা ৩ গোল করে ২ লেগ মিলিয়ে তারা এগিয়ে যায় ৪-৩ ব্যবধানে। ৮০ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ একটি গোল পরিশোধ করে খেলায় সমতা আনে ৪-৪। এরপর খেলা গড়ায় ইনজুরি টাইমে। আর তখনই ত্রাতা হয়ে হাজির হন সেই করিম বেনজামা। ইনজুরি টাইমের ৬ মিনিটে তিনি গোল করে একই আসরে প্রত্যাবর্তনের দ্বিতীয় গল্প লেখেন। তারপর আসে সেমি ফাইনাল।

ম্যানসিটির মাঠে তারা ৪-৩ গোলে হেরে নিজেদের মাঠে আসে। বাঁধা অতিক্রম করতে হলে ২ গোলে জিততে হবে। সেখানে গোলই হচ্ছিল না। ৭৩ মিনিট গিয়ে উল্টো গোলই হজম করে বিদায়ের ধ্বনি শুনতে থাকে। খেলার শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায়। যে কেনো সময় বাজতে পারে বাঁশি। আর রেফারির বাঁশি বাজলেই ফাইনালে টানা দ্বিতীয় বারেরমতো ফাইনালে উঠে যাবে ম্যানসিটি। আবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো হবে অল ইংলিশ ফাইনাল। কিন্তু এই আসর যাদের প্রত্যাবর্তনের গল্পে ভরা তারা কী এতো সহজে বিদায়ের ধ্বনি শুনতে চাইবে? যেখানে আছেন আবার করিম বেনজামা নামে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এক ফুটবলার। তাইতো রেফারির শেষ বাঁশি বাজার আগেই ব্রাজিলিয়ান নতুন সেনসেশন রদ্রিগো ৯০ মিনিটে গোল করে দলকে উজ্জীবিত করে তুলেন। কিন্তু তখনো তাদের বিদায় ঘণ্টার শঙ্কা কাটেনি। ৫-৪ গোলে পিছিয়ে। এ সময় শুরু হয় ইনজুরি টাইম। ডিসপ্লেতে দেখানো হয় ৬ মিনিট। রিয়ালের জন্য পোয়াবারো। প্রথম মিনিটেই রদ্রিগো আবারও গোল করে দলকে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন। এদিকে দুই লেগ মিলে খেলায় তখন সমতা ৫-৫। নির্ধারিত সময় খেলা শেষ হলে ফলাফল ৫-৫ থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৫ মিনিটেই ত্রাতা হয়ে হাজির হন সেই করিম বেনজামা। পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি দলকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। যা দুই লেগ মিলে রিয়াল মাদ্রিদ প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় ৬-৫ গোলে। খেলার বাকি সময় ম্যানসিটির পক্ষে আর সম্ভব হয়নি। এই ব্যবধান কমানোর। ফলে এক আসরে রিয়াল মাদ্রিদ টানা তিন ম্যাচে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে।

এবার দেখার পালা ফাইনালে তারা লিভারপুলের বিপক্ষে কী করে?

এমপি/আরএ/

Header Ad
Header Ad

টাঙ্গাইলে ক্ষুদে শিশুদের পুতুল নাচে মুগ্ধ দর্শক

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

পুতুল নাচ গ্রাম-বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য নাচ। গানের তালে তালে ও বাদ্যযন্ত্রে সুরের মূর্ছনায় পুতুলের নৃত্য হয়। এটি গ্রামীণ জনপদে শিশু-কিশোর ও সর্বস্তরের মানুষের বিনোদনের মাধ্যম এবং পুতুল নাচ শিশুদের কাছে এক অন্যরকম উৎসবের মতো। এই পুতুল নাচ কালের আবর্তে আর আধুনিক সাংস্কৃতির আগ্রাসনে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। মাঝে মধ্যে পহেলা বৈশাখ আর হাতেগোনা দু-একটি উৎসব ছাড়া পুতুল নাচ প্রদর্শিত হয় না।

সম্প্রতি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের গোপালপুর সূতি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় শিক্ষা পদক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে ক্ষুদে শিশুরা পুতুলের আদলে অসাধারণ নৃত্য প্রদর্শন করে। এতে পৌর শহরের সূতি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী অংশ নেন। শিশুরা পায়ের আঙুলের সঙ্গে হাতে সুতো বেঁধে, মাথায় ঘুমটা দিয়ে ও গায়ে বাঙালিয়ানা পোশাক পরিধান করে গানের তালে তালে নাচ প্রদর্শন করে।

 

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

এই মনোমুগ্ধকর পুতুলের আদলে নাচ উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে এবং তাদের মন জয় করে এই মানব পুতুল নাচ। সেই নাচের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা দেখে সুধীজনরা প্রশংসা করছেন। অনেকেই বলছেন পুতুলের আদলে শিশুদের এই নাচ নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পুতুল নাচের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। নাচের ভিডিওটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা তার ফেসবুকে শেয়ার করেন।

নৃত্য অংশ নেয়া তোহা, সূচী, হাবিবা, মীম, আরাধ্যা ও জীম বলেন- এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক আগে থেকে প্র্যাক্টিস শুরু করি। আমাদের স্কুলের সাবিনা ম্যাডামের সহযোগিতায় এই পুতুল নাচটি আমরা সুন্দরভাবে পুতুলের আদলে নাচতে পেরেছি। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তুহিন হোসেন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান, সহকারী ইন্সট্রাক্টর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূতি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা আক্তার কলি বলেন- পুতুল নাচটা আমাদের গ্রাম-বাংলার এক প্রাচীন ঐতিহ্য। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এই পুতুল নাচ আমাদের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল। আমরা যখন মেলায় যেতাম তখন এই পুতুল নাচ না দেখলে আমাদের মেলা দেখা সার্থক হতো না। এই ঐতিহ্যগুলো এখন আর গ্রাম-বাংলায় নেই। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে এই পুতুল নাচ উপস্থাপন করি।

তিনি আরও বলেন- পুতুল নাচটি বাংলার বুকে আবার ফিরিয়ে দিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মফিজুর রহমান জিন্নাহ স্যারের নির্দেশে আমাদের বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পুতুল নাচের উদ্যোগ নেই। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সহযোগিতা করে। এতে আমরা ফিরে পাই আমাদের হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতি সম্পদকে। আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো যে পিছিয়ে নেই তা এই শিশু শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করে দিল।

Header Ad
Header Ad

নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, নাম ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’

নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন ছাত্র সংগঠনটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন ছাত্র সংগঠন আনার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের আবু বাকের মজুমদার, সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরসহ আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা একদল শিক্ষার্থী।

তারা ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র নতুন সংগঠন গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বৈষম্যবিরোধীদের আন্দোলনের এই অংশ যখন নতুন ছাত্র সংগঠনের ঘোষণা দিলেন, তখন আরেকটি অংশ জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে মিলে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছেন।

আগামী শুক্রবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নতুন এ দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের সামনের সারিতে থাকা অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

নতুন দলটিতে যোগ দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়া নাহিদ ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংক রক্ষা করা সম্ভব নয়: গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংক খাতের সমস্যা সবারই জানা। সুশাসন ফিরিয়ে আনতে এবং ব্যাংকগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংককে বাঁচানো সম্ভব হবে না। কারণ, কিছু ব্যাংক থেকে একটি মাত্র পরিবার বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেছে, যার ৮৭ শতাংশই ফেরত আসার সম্ভাবনা নেই।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ টাস্কফোর্স’ সম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ বিষয়ক টাস্কফোর্স।

গভর্নর বলেন, যেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সুশাসনের অভাব ছিল, সেগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউসিবি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে, তাদের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। আকার বিবেচনায় এ দুটি ব্যাংকের উত্তরণ মানে দেশের সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর ৬০ শতাংশ সমস্যার সমাধান।

তিনি আরও বলেন, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান যাচাই করা হচ্ছে। আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি এ সংক্রান্ত রিপোর্ট পাওয়া যাবে, তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমানত বীমা স্কিমের আওতায় প্রতিটি আমানতকারীর জন্য অর্থ ফেরতের পরিমাণ ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে বলে জানান গভর্নর। এর ফলে ঋণখেলাপি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতা পাবে ব্যাংকগুলো, যা ঋণগ্রহীতাদের সতর্ক করবে। এছাড়া অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা বাড়ানো এবং রিট কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপ্রয়োজনীয় কিছু বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং আপাতত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে না।

ব্যাংক খাতের সংকট নিয়ে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী নেতারাও মতামত দেন। ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “গভর্নর যখনই বলেন যে কিছু ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে বা দুর্বল অবস্থায় আছে, তখনই আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এটি বন্ধ করতে হবে।”

ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি’র চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, “যেকোনো নীতি প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত, কিন্তু সেটি হচ্ছে না।”

অধ্যাপক আবু আহমেদ দাবি করেন, “আইএমএফের শর্ত মেনে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ৪.৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের জন্য এত কঠোর শর্ত মানার প্রয়োজন ছিল না, কারণ এটি মাত্র দুই মাসের রেমিট্যান্সের সমান।”

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ব্যাংক খাতের সংকট ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকেই শুরু হয়েছে। তার মতে, সরকার ঘোষিত খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশ বলা হলেও বাস্তবে তা ৫০ শতাংশেরও বেশি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছয় গুণ বেড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইন শিথিল করার সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে ব্যাংক খাতের সংকট আরও বাড়বে।”

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. মনজুর হোসেন বলেন, “অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি, তবে এ খাতে অতিরিক্ত ব্যয় ও দুর্নীতির কারণে সামাজিক সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হচ্ছে না।”

ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে তুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, কাঠামোগত সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রভাব কমানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে ব্যাংক খাতে আরও বড় বিপর্যয় আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

টাঙ্গাইলে ক্ষুদে শিশুদের পুতুল নাচে মুগ্ধ দর্শক
নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, নাম ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’
চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংক রক্ষা করা সম্ভব নয়: গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর
বিরামপুরে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার
কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
রমজানে ঢাবির ক্যান্টিনে খাবারের মান বৃদ্ধিতে মনিটরিং সেল গঠনে ছাত্রদলের আবেদন
৬০ কোটি টাকায় মার্কিন নাগরিকত্ব বিক্রি করবেন ট্রাম্প
পরকীয়ার জেরে ভাঙতে যাচ্ছে ৩৭ বছরের সংসার, যা বললেন গোবিন্দ
ছাত্রদের নতুন দল থেকে সরে দাঁড়ালেন নাগরিক কমিটির জুনায়েদ ও রিফাত
‘শুধু রণাঙ্গণের যোদ্ধারাই হবেন মুক্তিযোদ্ধা, বাকিরা মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির আয়োজনে আন্তর্জাতিক ছাত্র সম্মেলন
৬ মাসে যেভাবে অর্থনীতি কামব্যাক করেছে সেটা মিরাকল: প্রেস সচিব
নতুন তথ্য উপদেষ্টা হচ্ছেন মাহফুজ আলম
টাঙ্গাইলে শিক্ষা সফরের ৪ বাসে ডাকাতি, বাঁধা দেওয়ায় শিক্ষকসহ দুইজনকে মারধর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তিতে সম্মত ইউক্রেন  
ছোট অপরাধ বাড়লেও কমেছে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ  
নায়িকার মামলায় জাজের আজিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা  
মধুর ক্যান্টিনে বিকেলে যাত্রা শুরু করবে সমন্বয়কদের নতুন ছাত্রসংগঠন
১৩ মার্চ ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব  
গোল উৎসবে নিষ্প্রাণ বার্সার রক্ষণ, সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ড্র