শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

চাল-আটায় ভোক্তার পকেট কাটা বন্ধ করেনি সিটি গ্রুপ

চাল, ডাল, সাবান, ডিটারজেন্টসহ নিত্যপণ্যে ভোক্তার পকেট কাটা বন্ধ হয়নি। অথচ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে সিটি গ্রুপ, ইউনিলিভারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে ভোক্তা অধিদপ্তর। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। তারপরও থেমে নেই ভোক্তাদের পকেট কাটা।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদের অভিযোগ, আগের লটের পণ্য শেষ না হতেই বেশি দামের পণ্য নিয়ে হাজির হচ্ছে সিটি গ্রুপ। শুধু তাই নয়, মিনিকেট নামে কোনো চাল না থাকলেও সিটি গ্রুপ মোটা ধান পলিশ করে ‘তীর মিনিকেট’ নামে সবচেয়ে বেশি দামে চাল বিক্রি করছে। আটাও বেশি দামে বিক্রি করছে। তাদের চিনিও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। বড় বড় মার্কেট থেকে শুরু করে পাড়া মহাল্লার ছোট ছোট দোকানে সরেজমিন ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, আমাদের অনুসন্ধানেও সিটি গ্রুপসহ বিভিন্ন কোম্পানি বেশি দামে চাল, আটা, চিনি ও ডিটারজেন্ট বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শুনানির জন্য তাদের ডাকা হয়েছে। তারা জবাবও দিয়েছে। তদন্ত করার জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই সিটি গ্রুপসহ অন্যদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলা করার পরও সিটি গ্রুপসহ অন্যরা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে আইনের আওতায় যেটুকু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা করা হবে। তবে এ ব্যাপারে কাজ করার জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ অন্য প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আমি ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলব।

তিনি বলেন, আসলে মিনিকেট নামে কোনো ধানের জাত আছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়ে। তারা জানিয়েছে মোটা থেকে মাঝারি চিকন, বিআর-২৮, ২৯, জিরাশাইল ও স্বর্ণা জাতের ধান একাধিকবার পলিশ করে চিকন করে তা বস্তার উপর মিনিকেট নামে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন। চালের পুষ্টিগুণ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান ঢাকাপ্রকাশ-কে জানান, মিনিকেটের নামে বেশি দামে চাল, আটা ও চিনি বিক্রি করায় সিটি গ্রুপসহ বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের অনিয়ম ধরা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে মিনিকেট আছে কি না তা খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় বলবে। সরকার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। আমার দেখার বিষয় উৎপাদনের পরে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে কেউ অতি মুনাফা করছে কি না। যদি ধরা পড়ে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারও গত ১৩ সেপ্টেম্বর বলেছেন, ‘দেশে মিনিকেট বলে কোনো চাল নেই। তবু ব্যবসায়ীরা মিনিকেট নামে চাল বাজারজাত করছেন। যারা মিনিকেটের নামে চাল বাজারজাত করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন করা হচ্ছে।

তীর মিনিকেট সর্বোচ্চ ৭৫ টাকা কেজি

গত সেপ্টেম্বরে বেশি দাম রাখায় মামলা হয়েছে। তখন মিনিকেট চাল ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করা হত। কিন্তু মামলার নিস্পত্তি না হলেও রাজধানীর কৃষিমার্কেট, কারওয়ান বাজারসহ অলিগলিতে বেশি দামে সিটি গ্রুপের তীর ব্রান্ডের চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে। সরেজমিনে গেলে কৃষিমার্কেটের সাপলা রাইস এজেন্সির শিপন, চৌধুরী রাইস এজেন্সির গোলাম রসুলসহ অন্যন্য চাল ব্যবসায়ীরা ঢাকাপ্রকাশ-কে জানান, কর্পোরেটের দখলে চলে গেছে চালের বাজার। তাইতো রশিদ, মোজ্জামেলের চেয়ে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে তীরের মিনিকেট সর্বোচ্চ বেশি দামে বিক্রি করছে। তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের ফিউচার টাউন হাউজিং আল আমিন এন্টারপ্রাইজের আনোয়ার বলেন, আগে অন্য মিনিকেট চাল বিক্রি করা হলেও তীরের মিনিকেট চাল সবচেয়ে বেশি ৭৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের দেখা উচিত।

মামলার শুনানির পর তদন্ত শুরু

ধানের ভরা মৌসুমেও চালের দাম কমছে না। আটা, সয়াবিন তেল, ডিম,মুরগিও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, ডলারের অজুহাতে ইউনিলিভারসহ বিভিন্ন কোম্পানি সাবান, পাউডার বেশি দামে বিক্রি করছে।

এ নিয়ে দেশে হই-চই পড়লে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত প্রশ্ন করেন এতো দাম বাড়ছে কেন? তারপর থেকেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নড়েচড়ে বসে। বাধ্য হয়ে ভোক্তা অধিদপ্তর সারাদেশে বাজারে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তারা দেখতে পায় বিভিন্ন নামীদামি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বেশি দামে বিক্রি করছে। এর কারণ জানতে চাল, তেল, আটাসহ বিভিন্ন খাতের উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজনও করে ভোক্তা অধিদপ্তর। সেখানে দাম বেশি নেওয়ার কারণ স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়। অনেকে সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ আমলে নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন সিটিগ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪৪টি মামলা করে।

প্রতিযোগিতা কমিশন বলছে, সরকারের লাইসেন্স নিয়ে যে কেউ বৈধপথে ব্যবসা করতে পারবে। নিয়ম মেনেই তা করতে হবে। কিন্তু সম্প্রতি দেখা গেছে, বোরো ধানের ভরা মৌসুমেও কমেনি চালের দাম। বরং সিটি গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইচ্ছামতো মিনিকেট নামে বেশি দামে চাল, সয়াবিন তেল ও আটা বিক্রি করছে। বাধ্য হয়ে সিটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে বেশি দামে চাল বিক্রি করার অপরাধে গত ২৬ সেপ্টেম্বর (২৪/২০২২) ও আট-ময়দা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে (৩৮/২০২২ নং) মামলা করে।

শুনানীতে কমিশন থেকে বলা হয়, মিনিকেট নামে কোনো ধান নেই। বিআর-২৮, জিরাসাইল, নাজিরসাইল থেকেই পলিশ (চিকন) করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ভোক্তারা শুধু বিভ্রান্তি নয়, প্রতারিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের মামলার শুনানির আদালত তাদের কাছে জানতে হয়েছে কেন বেশি দামে চাল, সয়াবিন তেল আটা বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রথম শুনানিতে বেশি দামে পণ্য বিক্রির জবাব দিতে না পারায় দ্বিতীয় বার শুনানি হয়েছে। এ সব ব্যাপারে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনের আওতায় দোষী সাব্যস্ত হলে জরিমানা করা হবে। ১৫ ও ১৬ ধারায় অর্থাৎ ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য অস্বাভাবিকভাবে নির্ধারণ ও কর্তৃত্বময় অবস্থানের অপব্যবহারে অভিযোগে এ সব মামলা হয়েছে।

মামলার পরও বেশি দামে আটা বিক্রি, চিনি ছাড়া বাজার

সিটিসহ বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করার সময় ২ কেজি আটা ১৩৫ টাকা বিক্রি করা হতো। সরকার চিনির দাম ৯৫ থেকে ১০৭ টাকা কেজি ঘোষণা করেছে গত ১৭ নভেম্বর। তারপরও সহজে মিলছে না আটা ও চিনি। এ ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের লক্ষীপুর স্টোর, ইউসুফ জেনারেল স্টোর, আব্দুর রব স্টোরসহ অনেক খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, চিনি ৯৫ থেকে ১০৭ টাকা কেজি করেছে মিল থেকে। তারপরও চাহিদা মতো পাওয়া যাচ্ছে না। এই মার্কেটের তৃতীয় তলায় সিটি গ্রুপের ডিলারের লোক শুধু দিব দিচ্ছি বলেও চিনি দিচ্ছে না। তাই আমরা বিক্রি করতে পারছি না।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার দাম বেধে দেওয়ার পর থেকেই তারা চিনি পাচ্ছেন না। মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলেও দাম বেশি চায়। তাই জরিমানা খাওয়ার ভয়ে কিনি না। তাদের অভিযোগ মিল থেকে কি কোনো চিনি উৎপাদন হয় না। তাহলে সেগুলো যাচ্ছে কোথায়?

এদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষিমার্কেটেও একই দশা। বিক্রমপুর এন্টারপ্রাইজ, সিটি এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চিনি নেই। বেশি দাম না দিলে পাওয়া যায় না। আবার বেশি দামে কিনে জরিমানা খেতে হচ্ছে। তাই চিনি রাখি না। নেই কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, কিছু জানতে হলে সিটিগ্রুপের ডিলার খালেক এন্টারপ্রাইজে যান। তাদের কথা মোতাবেক খালেক এন্টারপ্রাইজে গেলে দেখা যায়, সারি সারি তীর মিনিকেট চালে বস্তা। চিনির ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির মালিক খালেক জানান, চিনি নেই। চাইলেও পাওয়া যায় না। মিল থেকে শুধু দিব দিব বলে দিচ্ছে না। তাই আমরাও বিক্রি করতে পারছি না।

একই মার্কেটের সিটি এন্টারপ্রাইজের আবু তাহের বলেন, ‘চিনি না থাকায় ব্যবসার লোকসান হচ্ছে । কোম্পানির সিন্টিকেটের কারণে ভোক্তারা চিনি পাচ্ছেন না। দুই তিন মাস আগে সিটি গ্রুপের ২ কেজি আটা ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ছিল। কিন্তু সিটির গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর সেই আটা ১৫০ করেছে। বর্তমানে কমিয়ে সেই আটা ১৩৫ টাকা ঘোষণা দিলেও তা পাওয়া যাচ্ছে না।

সিটি গ্রুপের বক্তব্য

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে রবিবার (৮ জানুয়ারি) সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘মামলা হয়েছে। এগুলোর ব্যাপারে এখনো কিছু হয়নি। প্রতিযোগিতা কমিশন শুধু কাগজপত্র চেয়েছে।

অন্য কোম্পানির চেয়ে বেশি দামে মিনিকেট চাল বিক্রি করা হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কস্টিং (খরচ) বেশির কারণে দাম বেশি হবে, এটাই স্বভাবিক।

এনএইচবি/আরএ/

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত

নিহত শফিউল্লাহ মিয়া। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ট্রাক চাপায় শফিউল্লাহ মিয়া (৪৭) নামে এক আনসার সদস্য (কমান্ডার) সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলা হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শফিউল্লাহ মিয়া উপজেলার মৌলভীপাড়া গ্রামের মরহুম হাবিবুল্লাহ ওরফে মজনু মিয়ার ছেলে। তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কমান্ডার (পিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায, ঈদের ছুটিতে গত ২৮ মার্চ বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। ছুটি শেষে শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল শফিউল্লাহর। শুক্রবার ভোরে হাঁটতে বেরিয়ে ছিলেন তিনি।

এ সময় দেলদুয়ার সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এতে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি ভেঙে শফিউল্লাহর মাথায় পড়ে। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোয়েব আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন শফিউল্লাহ। শুক্রবার ভোরে তিনি নামাজ পরে হাঁটতে বের হন। হাঁটার একপর্যায়ে হাসপাতালের সামনে এলে মাটি বহনকারীর ড্রাম ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান