শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ভয়ংকর’ কিশোর গ্যাং

রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা থামছেই না। বরং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা বাড়ছে। এরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় অপরাধ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য মতে, রাজধানীতে বেপরোয়া হয়ে উঠা কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। তারা নানা অপরাধে যুক্ত হয়ে পড়ছে।

গোয়েন্দারা বলছেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যেভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠছে তাতে রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় সচেতন মহলসহ সবাই তৎপর না হলে এই গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এদের অপরাধের বিস্তার এতোটায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে যে, আগামীতে কিশোর গ্যাংই হবে নগরবাসীর দুশ্চিন্তার বড় কারণ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুত্র বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গড়ে উঠছে এ সব কিশোর গ্যাং। তারা বিভিন্ন অপরাধ সংগঠনের পাশাপাশি নিজেদের একটা জগত তৈরি করেছে ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, পাড়া-মহল্লায় তৈরি হওয়া কিশোর গ্যাং নিজেদের তৈরি করা সাংকেতিক ভাষায় নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে। বিগবস, নাইন এমএম, নাইন স্টার, ডিসকো বয়েজ ইত্যাদি নামে পরিচিত ‘কিশোর গ্যাং’ আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই, চুরি, পাড়া বা মহল্লার রাস্তায় মোটরসাইকেলের ভয়ংকর মহড়া, মাদক এবং ইয়াবা সেবন ও বিক্রি, চাঁদাবাজি, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা এমনকি বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ছে।

পুলিশের তালিকা অনুযায়ী রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি কিশোর গ্যাং রয়েছে মিরপুর এলাকায়। এ ছাড়া তেজগাঁও, উত্তরা, গুলশান, ওয়ারী, সায়দাবাদ, মতিঝিলে, রমনায়, লালবাগ, গাবতলী, মহাখালী, বাড্ডা, রামপুরা, আজিমপুর, হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে।

এদের পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষক বা রাজনৈতিক গডফাদারদের নামও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেগুলো রাজনৈতিক ভাবে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তালিকায় কিশোর গ্যাংয়ের রাজনৈতিক শেলটারদাতা বা পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অর্ধশত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। কেউ কেউ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে সুবিধার জন্য সরকারি দলের সাইনবোর্ড এবং পদ-পদবিও নিয়েছেন।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গত কয়েক বছরে ঢাকায় কিশোর অপরাধীদের কারণে খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, অপহরণের অনেক ঘটনা ঘটেছে। একটি ঘটনার পর পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে কিছু দিন ভাটা পড়ে, পরে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে কিশোর গ্যাং।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীরা কিশোরদের ব্যবহার করে অপরাধ করায়। তারা মারামারি, জমি দখল, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দল বড় করা, হিরোইজম দেখানো, ভয়ভীতি এবং এদের কেউ কেউ আবার মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেও এই কিশোর গ্যাংয়ের জন্ম দিয়েছে। তা ছাড়া টিকটক ও নাটক-সিনেমার আড়ালে অপরাধ করার জন্যও এই গ্যাং তৈরি হয়।

গোয়েন্দা তথ্য মতে, দিনে দিনে বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ বেড়েই চলেছে। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকাসহ সারাদেশে বিস্তার ঘটেছে কিশোর অপরাধের। তাদের দাবি, আজ থেকে কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের চিত্র এমন ছিল না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভ থেকে সরে এসে কিশোররা নানা অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে।

কিশোর গ্যাং এর বিভিন্ন অপরাধ বিশ্লেষণের পর গোয়েন্দারা বলছেন, অনেক সময় অভিভাবকরা তাদের সন্তানের খোঁজ নেয় না। তারা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে তার খোঁজও নিচ্ছেন না। যার কারণে এমন অপরাধ দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।

পুলিশি তথ্য মতে, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আবার কিশোর অপরাধ আইন ও ধারা অনুযায়ী বড় অন্যায় করেও পার পেয়ে যাচ্ছে অনেকেই। ছাড়া পেয়ে আবার যুক্ত হচ্ছে নতুন অপরাধে। আর ওই কিশোরের অপরাধের দায় ভোগ করতে হচ্ছে পরিবারকে।

অনেক সময় সংবাদমাধ্যমে যাদের কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয় পরবর্তীতে দেখা যায়, তারা কেউ মাদক চোরাচালান, কেউ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও বহনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। মূলত অল্প বয়সে তারা ধ্বংস হচ্ছে। পুলিশের দাবি, অবিলম্বে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ ও অভিভাবকদের এই বিষয়ে সতচেতন হতে হবে। অন্যথায় এর দায়ভার সমাজের সবাইকে বহন করতে হবে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক বলেন, কিশোর গ্যাং ভয়াবহভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এই গ্যাং বৃদ্ধির পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাতি নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় কাউন্সিলরসহ অনেক নেতা-কর্মীরা জড়িত। কিশোররা না বুঝে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। কিশোর অপরাধ দমন করতে হলে আইনি, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন খন্দকার ফারজানা রহমান বলেন, 'কিশোর অপরাধ অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। তবে কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি আলোচনায় আসে ২০১৭ সালের শুরুতে। স্কুল ছাত্র আদনান কবীর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। কিশোর গ্যাং বিস্তারের অন্যতম কারণ হলো সামাজিকভাবে তাদের প্রতিহত করার জায়গাটি অনেক দুর্বল। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এজন্য এর প্রভাব বেড়েই চলেছে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মসজিদ কমিটি থেকে স্কুল কমিটি, রাজনীতি, পরিবার সব জায়গায় দ্বন্দ্ব, মারামারি, কলহ। আমাদের শিশু-কিশোররা এ সব সংস্কৃতির মধ্যে বড় হচ্ছে। তাই তারাও নানাভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কিশোর অপরাধ কমাতে যারা দ্বায়িত্বপূর্ণ জায়গায় আছে তাদের আগে ঠিক করতে হবে।

মহানগর পুলিশ জানায়, কিশোর অপরাধ দমনে সচেতন নাগরিকদের এ সম্পর্কিত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। সঠিক তথ্য পেলে হয়ত কিশোর অপরাধ কমে আসবে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী। ইতোমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সব থানায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, লেখাপড়া ছেড়ে দেওয়া বিশেষ করে উঠতি বয়সি ছেলেরা নানাবিধ অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। তাদের পুলিশের পক্ষ থেকে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু মেট্রাপলিটন পুলিশ নয় সারা দেশের পুলিশ কাজ করছে। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং হলো আমাদের সামজের একটি মারাত্মক ব্যাধি। ছোটখাটো ছিনতাই থেকে শুরু করে মাদক সেবন, মেয়েদের ইভটিজিং করা এমনকি নিজেদের মহল্লায় জুনিয়র-সিনিয়র সংঘাতের কারণে খুনের ঘটনাও ঘটছে। সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজ করছি।

র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, 'কিশোর অপরাধ বাড়ার পেছনে সব স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা আছে। মূলত সমাজের বিভিন্ন ছোটো ছোটো অপরাধ করতে করতেই কিশোররা বড় ধরনের অপরাধ করে থাকে। নৈতিক শিক্ষার অভাবে কিশোর অপরাধ বাড়ছে। তা ছাড়া পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও কিছু ঘাটতি আছে।

তিনি বলেন, সমাজে যারা আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তারা কিশোরদের নানাভাবে মদদ দেয় এবং তাদের দিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অন্যায় কাজ করায়।

এনএইচবি/আরএ/

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত

নিহত শফিউল্লাহ মিয়া। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ট্রাক চাপায় শফিউল্লাহ মিয়া (৪৭) নামে এক আনসার সদস্য (কমান্ডার) সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলা হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শফিউল্লাহ মিয়া উপজেলার মৌলভীপাড়া গ্রামের মরহুম হাবিবুল্লাহ ওরফে মজনু মিয়ার ছেলে। তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কমান্ডার (পিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায, ঈদের ছুটিতে গত ২৮ মার্চ বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। ছুটি শেষে শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল শফিউল্লাহর। শুক্রবার ভোরে হাঁটতে বেরিয়ে ছিলেন তিনি।

এ সময় দেলদুয়ার সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এতে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি ভেঙে শফিউল্লাহর মাথায় পড়ে। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোয়েব আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন শফিউল্লাহ। শুক্রবার ভোরে তিনি নামাজ পরে হাঁটতে বের হন। হাঁটার একপর্যায়ে হাসপাতালের সামনে এলে মাটি বহনকারীর ড্রাম ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান