শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

অর্থের অপচয়: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বারবার উপেক্ষিত

অর্থের অপচয় ঠেকাতে সরকার প্রধানের তাগিদ বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ও জরুরি ছাড়া কোনো প্রকল্প না নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও সেটি কার্যকর হচ্ছে না। বরং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর এমন সব উন্নয়ন প্রকল্প নিচ্ছে যেগুলো ভুলে ভরা। ফলে সঠিক সময়ে এ সব প্রকল্পের কোনোটিই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কাজ শুরুর আগেই করতে হচ্ছে সংশোধন। তাতে একদিকে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে জনগণও প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অথচ প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের পর থেকে গত ১৪ বছরে বহু অনুশাসন বা নির্দেশনা দিয়েছেন।

গত ১৪ বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনে সরকার নানা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে মোটা দাগে বলতে গেলে পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেল, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র,পায়রা সমুদ্রবন্দর, শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পসহ বহু মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যেগুলোর কোনো কোনোটি শেষ হয়েছে, আবার কোনো কোনোটি শেষ পর্যায়ে। এ সব উন্নয়ন কাজ দেশের দেশের চেহারা পাল্টে দিচ্ছে।

এ সব প্রকল্পের বাইরেও আরও অসংখ্য প্রকল্প নিচ্ছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর। কিন্তু এ সব প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াতেও বিভিন্ন রকম গলদ থাকায় সেগুলো ফেরতও দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় চার হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন শেখ হাসিনা সেনানিবাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প এলাকাকে বরিশাল জেলার কারখানা, বিঘাই ও পায়রা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা, শীর্ষক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন তৈরি করা হয় ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে। ওই প্রতিবেদন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যাচাই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রকল্পটি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। তাতে ব্যয় ধরা হয় ৮৫২ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্প প্রস্তাবটি যাচাই করতে ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রকল্প মূল্যায়ন যাচাই (পিইসি) সভা করে। তাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সংশোধন করতে বলা হয়। সংশোধন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে তাতে ব্যয় বাড়িয়ে ৯৫২ কোটি টাকা ধরা হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আইডব্লিউএম ২০২২ সালে জুনে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করে। তার উপর ভিত্তি করে সাড়ে আট কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণমূলক কাজ করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ১০০ কোটি টাকা বেশি প্রাক্কলন করে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৫২ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী কৃচ্ছ্রসাধন কথা বলার পরও এ প্রকল্পে সাত হাজার ২৫৪ লিটার পেট্রোল ও লুব্রিকেন্ট কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। দুই সেট আসবাসপত্র কেনারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন গত ২৪ অক্টোবর আবারও পিইসি সভা করে। তাতে ব্যয় ২৭৫ কোটি টাকা কমিয়ে ৬৭৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। অন্যান্য কাজ শেষে একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। এভাবেই গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটিতে অনুমোদন পেতে ছয় বছর লেগে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদনের সময় অর্থের অপচয় ঠেকাতে ও কাজের কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে হাজার খানেক অনুশাসন বা নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর এ সব অনুশাসন মানতে বাধ্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর নির্দেশনা দেওয়া হয় একনেক সভার অনুশাসনগুলো আবশ্যিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবীক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করতে বিভাগীয় পর্যায়ে আইএমইডি অফিস স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু চার বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও ফাইলবন্দি হয়ে আছে অফিস স্থাপনের কাজ।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, আমরা ফাইল পাঠিয়েছি। অর্থমন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ঘুরছে। কতো দিন লাগবে, বলা যাবে না। তিনি বলেন, আমিও চাই দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশটি কার্যকর হোক।

এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আসলে প্রকল্প বাস্তবায়ন জটিল প্রক্রিয়া। বিভিন্ন কারণে সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন হয় না। তবে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। আইএমইডি থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে ত্রুটি কোথায়। ধরা পড়লে তা সংশোধনের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দেওয়ার ব্যাপারেও বলা হচ্ছে। কারণ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কৃচ্ছ্রসাধনের কথা বলছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা প্রায় মন্ত্রণালয় মানে না। ফলে প্রকল্প অনুমোদনে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। বাস্তবায়নও ঠিকমতো হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সাবেক পরিকল্পনা বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো বই আকারে প্রকাশ করে যথাযথভাবে বাস্তবায়নে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নিতে বলে। কিন্তু তাতেও তেমন কাজ হচ্ছে না।

সূত্র মতে, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর যমুনা নদীতে টানেল নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে। কিন্তু সেতু বিভাগ ৫ বছরেও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সেই কাজ করতে পারেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন ঢাকাপ্রকাশ-কে ‘মাস্টার প্লান করা হচ্ছে। তবে এখনো সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়নি।’

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়কে দেশে উৎপাদিত আলুর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে স্কুল ফিডিং এ বিস্কুটের পাশাপাশি আলুর তৈরি খাদ্য সংযোজন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের একটি প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, ব্যয় প্রাক্কলন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও সংস্থাকে সতর্কতা অবলম্বন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

যানজট সৃষ্টি হয় বা দুর্গন্ধ ছড়াই এমন কোনো বর্জ্য সড়কে রাখা যাবে না। এ ব্যাপারে ২০২০ সালের ৩ মার্চ ঢাকার ২ সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট মহাসড়ক বিভাগের প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন ‘কাজের গুণগতমান বজায় রাখতে হবে।’

শুধু এটি নয়, ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রায় প্রকল্প অনুমোদনের আগে বিভিন্ন ভুল-ভ্রান্তির কারণে বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে। তারপরও অনুমোদন পাচ্ছে না। অথচ সরকারি প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন ও সংশোধনের জন্য সরকার একটি গাইডলাইন করে দিয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করা হলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে প্রকল্প তৈরি করে একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে সরকার তা পাস করবে। কিন্তু সেই গাইডলাইনও অনুসরণ করা হচ্ছে না।

করোনা ধকলসহ ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে সংকট দেখা দিয়েছে। তাই ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি-বেসরকারি পর্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের কথা বলেছেন। বাধ্য হয়ে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে ২০২২ সালে ৩ জুলাই বিদেশ ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ, জ্বালানি ও সম্মানী ব্যয় কমানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তারপরও প্রায় মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে ডিপিপিতে তা মানা হচ্ছে না।

জানা গেছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত রক্ষা ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। কিন্তু ডিপিপিতে বিভিন্ন ভুল বা অসঙ্গতি ধরা পড়ায় পিইসি সভায় উপস্থাপন করা সম্ভব নয় জানিয়ে গত ৬ নভেম্বর ডিপিপিটি ফেরত দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পে ২০১৯-২০ অর্থবছরের রেট সিডিউল অনুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে।

আবার কোনো কোনো প্রকল্প একনেক সভায় পাস হলেও বিভিন্ন অজুহাতে ঠিক মতো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। দেখা গেছে, দুই বছরের প্রকল্প সাত বছরেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ রকম একটি প্রকল্প হচ্ছে ‘কারা নিরাপত্তা আধুনিকায়ন, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্রগ্রাম বিভাগ’ প্রকল্প। ২০১৬ সালে অনুমোদন দেওয়া এই প্রকল্পের কাজ দুই বছরে শেষ করার কথা। কিন্তু চার বার সংশোধন করেও সাড়ে পাঁচ বছরেও শেষ করা যায়নি।

এনএইচবি/আরএ/

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত

নিহত শফিউল্লাহ মিয়া। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ট্রাক চাপায় শফিউল্লাহ মিয়া (৪৭) নামে এক আনসার সদস্য (কমান্ডার) সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলা হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শফিউল্লাহ মিয়া উপজেলার মৌলভীপাড়া গ্রামের মরহুম হাবিবুল্লাহ ওরফে মজনু মিয়ার ছেলে। তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কমান্ডার (পিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায, ঈদের ছুটিতে গত ২৮ মার্চ বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। ছুটি শেষে শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল শফিউল্লাহর। শুক্রবার ভোরে হাঁটতে বেরিয়ে ছিলেন তিনি।

এ সময় দেলদুয়ার সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এতে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি ভেঙে শফিউল্লাহর মাথায় পড়ে। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোয়েব আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন শফিউল্লাহ। শুক্রবার ভোরে তিনি নামাজ পরে হাঁটতে বের হন। হাঁটার একপর্যায়ে হাসপাতালের সামনে এলে মাটি বহনকারীর ড্রাম ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান