দাগ থেকে দারুণ কিছু...

সর্বনাশা পদ্মা। ঢেউয়ে ঢেউয়ে গর্জন। স্রোতে দিশাহারা পদ্মাপাড়ের মানুষ। ভাঙনের শোরগোল তীরবর্তী বাড়িঘরে। পানি বাড়লেই আতঙ্ক বিশাল এ জনপদে। একদিকে বিধ্বংসী পদ্মা আবার অন্যদিকে দেশ বিদেশের ষড়যন্ত্র। এত এত প্রতিবন্ধিকতা। এত বাধা-বিপত্তি, ষড়যন্ত্র সব কিছু এখন ম্লান হয়ে গেছে। সবকিছুই আজ পরাজিত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে।
দেশের পাশাপাশি ভীনদেশিদের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তিনি। দেশের নিজস্ব অর্থ্যায়নে দৃঢ় হাতে তিনি নির্মাণ করিয়েছেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এই সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষকে তিনি এক সুতোয় বুনেছেন গভীর মমতায়। যার মাধ্যমে বিশ্বের বুকে অসামান্য এক ইতিহাস সৃষ্টি করল বাংলাদেশ। বিশ্ববাসী আজ অবাক দৃষ্টিতে বাংলাদেশের এই ইতিহাসের সফলতা দেখছে।
কতিপয় কিছু স্বার্থন্বেষীদের ইন্ধনে বিশ্বব্যাংকের অর্থ্যায়ন যদি বন্ধ না হতো তবে, নিজস্ব অর্থ্যায়নে স্বপ্নের এই সেতু নির্মাণের সুযোগও তৈরি হতো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের টাকায় পদ্মা সেতুর তৈরির কথা হয়তো চিন্তাও করতো না। আর বিশ্ববাসী হয়তো নতুন করে বাংলাদেশকে এভাবে এগিয়ে নেওয়ার সাহস দেখতে পারত না। তাই বিজ্ঞাপনের ভাষায় বলতে হয়, ‘দাগ থেকে যদি দারুণ কিছু হয়, তবে দাগই ভালো’।
ষড়যন্ত্রের সব অন্ধকার ভেদ করে আলোকিত তীর মেরে ‘পদ্মাকন্যা’ দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। দেশকে কীভাবে আলোতে আলোতে ভরিয়ে দিতে হয়? পদ্মা সেতু আজ আর স্বপ্ন নয়। আজ পুরোটাই বাস্তব।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন মহান স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে, মানচিত্র পেয়েছে এবং লাল সবুজের পতাকা পেয়েছে। এরপর ছোট বড় অনেক অর্জন রয়েছে। কিন্তু নিজেদের টাকায় প্রমত্তা পদ্মার বুকে সেতু তৈরি করে স্বপ্ন পূরণের যে দ্বীপশিখা তিনি জে¦লেছেন তা সত্যিই অভাবনীয় অনন্য এক অর্জন।
শনিবার (২৫ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন। এই সেতু নিয়ে দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষদের আবেগ অনুভূতি একটু বেশিই ছিল। অবশেষে তাদের কষ্ট যুগের অবসান হলো। ফেরী পারাপারের ভোগান্তি, যানজট, বৃষ্টি ও ঝড়-তুফানে প্রিয়জনদের ঘুম কেড়ে নেওয়ার রাত আর কাটাতে হবে না তাদের। নদীর জলে আর ভেসে যাবে না অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন। নদীর নির্মমতায় কেউ হারাবে না আর কোনো প্রিয়জন।
৪২টি পিলারের উপর ৪১টি স্প্যানে সগৌররে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে স্বপ্নের এই সেতু। যা বাংলাদেশকে গর্বিত করেছে পৃথিবীর মানচিত্রে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের যে উল্লাস, উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা তা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। নতুন অনবদ্য এক বাংলাদেশ তৈরিতে যে অপেক্ষা ছিল তা অবসান হলো। শেখ হাসিনা আবারও প্রমাণ করল তার হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। তার হাত ধরেই নতুন এক বাংলাদেশের মাইলফলক উন্মোচিত হলো। তার হাতেই বাঙালি ও বাংলাদেশ ভীষণ নিরাপদ।
এএম/এমএমএ/
