হালকা শিল্পে সারাদেশের চাহিদা পূরণ করছে যশোর

যশোরে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানার সূচনা হয় পঞ্চাশের দশকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক বাঙ্গালীর ওয়ার্কশপ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। পরবর্তীতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানাগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা ও বর্ধিত জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের কারণে এই ক্লাস্টারটি প্রবৃদ্ধি লাভ করতে থাকে। এই ক্লাস্টার অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে।
যশোর লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাষ্টারে আনুমানিক ৪০০ টি শিল্প কারখানা রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে৷ অধিকাংশ কারখানা মালিকের নিজস্ব আলাদা কোন বিক্রয়কেন্দ্র নেই। কারখানা থেকেই যন্ত্রপাতি বিক্রয় করা হয়। একক বা যৌথ মালিকানা পদ্ধতিতে বেশিরভাগ কারখানা চালিত হয়। ক্লাস্টারের উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিক্রয়ের পাশাপাশি এখন পুরো দেশেই সরবরাহ হয়। যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
চুলা, গিয়ার, ঘাস কাটা মেশিন, পাম্প, ট্রেলার রিং, ভাটার ব্রেয়ার, খ্রি হুইলার রিং, গাড়ির হপ, প্রেশার প্লেট, অটো কাটার, গ্যাস রেগুলেটর, পেস্টিং, সিলিন্ডার লাইনার, বয়লার মেশিন, গাড়ির বুশ, পিস্টন, বেকারি শিল্পের মেশিনারি, মশলার মেশিন, জুট মিলের পার্টস, কৃষি বা ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ, মটর লঞ্চ এবং মেরিন যন্ত্রাংশ, সার কারখানা মেশিনের যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল মেশিনের যন্ত্রাংশ, স্পেয়ার পার্টস, ময়দা মিলের যন্ত্রাংশ, প্রিন্টিং এবং প্যাকেজিং মেশিনের যন্ত্রাংশ, গাড়ীর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, শ্যালো মেশিনের যন্ত্রাংশ, বিভিন্ন প্রকার মটরের পার্টস, অটো রাইস মিলের যন্ত্রাংশ, পেপার মিলের যন্ত্রাংশ, হার্ডওয়্যার এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ইজি বাইকের বিভিন্ন পার্টস ইত্যাদি উৎপাদন করা হয়। এছাড়াও যশোর লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাস্টারে বিভিন্ন ধরনের গাড়ী, কৃষি যন্ত্রাংশ ও মেশিনের রিপেয়ারিং এর কাজ করা হয়।
এই শিল্পের কাঁচামাল প্রধানত দেশীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে আমদানি করা হয়। ক্লাস্টারের কারখানাগুলোয় কাঁচামাল হিসাবে সিআই প্লেট, এসএস প্লেট, এমএস প্লেট, কপার, পিতল, কাস্ট আয়রন, নাট, বোল্ট, প্লেন শিট, জাহাজের প্লেট, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাংগল, লোহা, হাই কার্বনস্টিল, কপার, পিতল, গ্যালুমিনিয়াম, জিংক, পিগ আয়রন, স্তরাপ, ইলেকট্রিক, ব্রাশ, স্টিল শিট, প্লেট বিয়ারিং, রাবার, গ্লু, প্যাকেজিং কাগজ, কার্বনসেল, প্লাস্টিক নাইলেন, তামা, সিলভার, বিবিধ প্রকার মেটাল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যন্ত্রপাতি হিসেবে মিলিং মেশিন, গ্রাইন্ডিং মেশিন, ডাই মোল্ড, প্লেইনার, সেপার, হোয়াইট বিট, রেস্টিফায়ার, ড্রিল মেশিন, পাওয়ার প্রেস, হাইড্রোলিক প্রেস, শিট কাটিং, লেদ মেশিন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
উদ্যোক্তারা বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ করে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানি-ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের অর্ডার নিয়ে সরাসরি পণ্য তাদের কাছে পৌঁছে দেয়।
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাষ্টারের মানোন্নয়ন এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-এসএমই ফাউন্ডেশন। এ লক্ষে বিসিএসআইআর এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। দক্ষ কারিগর তৈরির লক্ষ্যে ক্লাস্টারে আধুনিক মেশিন নিয়ে তার ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এসএমই ফাউন্ডেশন ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচীর প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় যশোর লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাস্টারে ৭৫লাখ টাকার ঋণ বিতরন করেছে।
