রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫ | ২৩ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

টাকা না দিলে ফিটরাও আনফিট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবার আতাউর রহমানের ছেলে ফরহাদ হোসেন ফাহিম। সৌদি আরবের ভিসা পেয়ে যান মেডিকেল পরীক্ষা করার জন্য নির্ধারিত এলাইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। মেডিকেল পরীক্ষার পর তাকে সেখান থেকে দেওয়া হয় এইচআইভি পজিটিভ রেজাল্ট। এই রেজাল্ট পাঠিয়ে দেওয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সৌদি দূতাবাসে। বাতিল হয়ে যায় ফাহিমের ভিসা। রেজাল্ট দেখে বিস্মিত হয়ে যান ফাহিম। লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারেন না। এলাকায় সামাজিক ভাবেও নিগৃহীত হতে থাকেন। এরপর তার মাকে নিয়ে আবারও আসেন ঢাকায়। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকল বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইসিডিডিআরবিতে আবারও পরীক্ষা করেন। সেখানে পরীক্ষায় এইচআইভি নেগেটিভ দেখানো হয়। এই রিপোর্ট নিয়ে পরবর্তীতে এলাইডে গেলে শুরু হয় নানা ধরনের টালবাহনা। এক পর্যায়ে টাকা দাবি করে বসে তারা।

শুধু ফাহিম নয়, এ রকম ভাবে বিদেশগামীদের কাছ থেকে মেডিকেল টেস্টের নামে বাণিজ্য করছে কিছু প্রতিষ্ঠান। যারা টাকা দিতে পারেননা তাদের আনফিট দেখানো হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্সে দেশের অর্থনীতির চাকা অনেকটা সচল থাকলেও, পদে পদে হয়রানি, প্রতারণা, দালালদের দৌরাত্মে নানা ভোগান্তির শিকার হন বিদেশগামীরা।

শ্রমিকদের বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে মেডিক্যাল চেক-আপ বাধ্যতামূলক। দেশে সরকারি-বেসরকারি, নামী-দামী বা বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা বিভিন্ন মেডিকেল সেন্টার থাকলেও, হাতে গোনা কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করানো হয় বিদেশ গমনেচ্ছুদের মেডিকেল টেস্ট। এসব মেডিকেল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার একটি সিন্ডিকেটের হাতে থাকায় ভোগান্তির অন্ত নেই সেবা প্রার্থীদের। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল অ্যাপ্রুভড মেডিকেল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন-গামকা ও অন্যান্য মেডিকেল সেন্টরাগুলোতে দুর্দশা এবং শ্রমিক ভোগান্তির কোনো শেষ নেই।

নিয়মানুসারে মেডিকেল টেস্টে এইচআইভি (এইডস), খুব বেশি চর্মরোগ, জন্ডিস, হার্টের সমস্যা এবং শ্বাসকষ্ট এসব রোগের লক্ষণ থাকলে বিদেশ গমনেচ্ছুদের আনফিট দেখানো হয়। কিন্তু ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শরীরে এসব রোগ না থাকলেও ইচ্ছা করে ভুল রিপোর্ট দিয়ে সেবা প্রত্যাশীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে মেডিকেল সেন্টার গুলো।

সূত্র মতে, মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর সমন্বয়কারি সংস্থা হল গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল অ্যাপ্রুভড মেডিকেল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন-গামকা। তবে প্রবাসীরা এর নাম দিয়েছেন গরীব মারার কারখানা। গামকা সিন্ডিকেট ও দালালদের দৌরাত্ম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, অবস্থার উন্নতি হয়নি।

দরিদ্র গ্রামীণ সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে গামকা। গামকার ভেতরে বাইরে রয়েছে শত শত দালাল। ছবি তোলার নামে ইচ্ছামত টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ডাক্তার, নার্স বা টেকনিশিয়ান ছাড়াই বিদেশ গমনেচ্ছুদের মেডিকেল টেস্টের নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মেডিকেল সেন্টার নামধারী একশ্রেণির প্রতিষ্ঠান।

মেডিকেল ফিটনেস কার্ড সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয় বিদেশগামীদের। সাধারণ মেডিকেল পরীক্ষায় এক হাজার টাকা খরচ হলেও গামকায় নেওয়া হয় প্রায় ছয় হাজার টাকা।

দেশে মানসম্মত সরকারি- বেসরকারি অনেক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও বিদেশ গমনেচ্ছুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয়েছে মাত্র ৪৬টিকে। প্রতিজনের কাছ থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে আদায় করা হয় ৫ হাজার ৮৫০ টাকা করে।

রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, এক্স-রে সহ কয়েকটি পরীক্ষার জন্য এই টাকা আদায় করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরীক্ষাগুলো বাইরের কোন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে করালে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা লাগার কথা। টাকা না দিলে অনফিট করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ি প্রতিটি সেন্টারে পুরুষ-মহিলা ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কোন মেডিকেল সেন্টারেই মহিলা ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান পাওয়া যায়নি।

আল ফালাহ মেডি-কম ক্লিনিক। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত এই সেন্টারটির বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। এখানে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া মেলে না ফিটনেস কার্ড।
সেবা প্রার্থীদের এমন অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মহিলাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন পুরুষ চিকিৎসক। তবে মানুষের অভিযোগ ও নিয়ম নীতির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কর্মরত ডাক্তার ও মালিক।

রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত এস. কে. এন. হেলথ সার্ভিস। এই সেন্টারটির বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। নেই নারী ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান। এছাড়া, নির্ধারিত সময়ে ফিটনেস কার্ড না দেওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় অনেককে। রাজধানীর ফকিরাপুল, পল্টন, আরামবাগসহ আশপাশে রয়েছে অসংখ্য মেডিকেল সেন্টার নামধারী অর্থ উপার্জনের প্রতিষ্ঠান। কোন ডাক্তার বা টেকনিশিয়ান ছাড়াই এখান থেকে দেওয়া হয় রিপোর্ট।

ইউরো-বাংলা ডায়াগনেস্টিক সেন্টার। বাহারী নাম হলেও কাজ পুরোই উল্টো। ল্যাব ছাড়াই দেওয়া হয় রিপোর্ট। একটি এক্স-রে মেশিন থাকলেও, কবে এটি শেষ কবে চালু হয়েছিলো সেটি হয়ত জানা নেই কারোরই। রিসিপশনিস্ট শারমিন আক্তারই সব। তার হাতেই তৈরি হয় রিপোর্ট। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ফকিরাপুলের অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারদের সীল ব্যবহার করে ইচ্ছামত মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। ফকিরাপুলে অর্ধশত মেডিকেল সেন্টার এমন প্রতারণার ব্যবসায় জড়িত। কোন ধরণের পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট দিচ্ছে তারা।

টাকা না দিলে সুস্থদেরও আনফিট করে দিচ্ছে মেডিকেল চেকআপ সেন্টারগুলো। টাকা দিলে অসুস্থ ব্যক্তি ফিট, না দিলে সুস্থরাও আনফিট। মধ্যপ্রাচ্যগামী বেশিরভাগ কর্মীর সঙ্গে এমন প্রতারণা করছে বেশিরভাগ মেডিকেল চেক আপ সেন্টার। শুধু তাই নয়, জন্ডিস, যক্ষাসহ কঠিন রোগে আক্রান্ত অনেকে টাকার বিনিময়ে ফিট কার্ড নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে। এ বিষয়ে নেই সরকারি নজরদারি। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদেশ যাত্রার স্বপ্ন ভাঙার যন্ত্রনায় অশ্রুশিক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আহসান হাবীব। সচ্ছলতার আশায় জীবনের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে, যেতে চান সৌদি আরবে। ভাটারা মোহায়মিদ মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করান। কিন্তু তাকে আনফিট করা হয়। পরে ২৩ হাজার টাকায় ফিট হন আহসান। অপরদিকে টাকা দিতে না পারায় কুড়িলের ট্রান্সওয়ার্ল্ড মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে আনফিট করার অভিযোগ তোলেন বিদেশগামী ফরহাদ।

প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় দেশের অর্থনৈতিক ভিত শক্ত হচ্ছে, পারিবারিক জীবনে ফিরছে স্বচ্ছলতা। অথচ ঠুনকো সমস্যা বা ঘুষ না দিতে পারায় প্রতিদিন শত শত বিদেশগামীর স্বপ্ন ভাঙছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বরাবরের মত বক্তব্য দিয়েই দায় সারছেন। তারা বলছেন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা এ ধরনের বেআইনি কাজে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে অধিদপ্তর। মুখে মুখে এমন কথা বলা হলেও কাজে তার বিন্দুমাত্র বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়না বলে অভিযোগ ভুক্তোভোগীদের।

কেএম/এএস

Header Ad
Header Ad

স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন মির্জা ফখরুল

স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন মির্জা ফখরুল। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসা সংক্রান্ত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরে গেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি তার স্ত্রীসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, “স্যার এবং ভাবী হেলথ চেকআপ করাতে সিঙ্গাপুর গেছেন। সেখানে একটি ক্লিনিকে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করবেন। ইতোমধ্যে ডাক্তারদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিক করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপি মহাসচিবের এক সপ্তাহ পর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রী।

Header Ad
Header Ad

বিশ্বজুড়ে ট্রাম্প-মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের রাজপথে উত্তাল জনতা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সাধারণ মানুষ। শনিবার (৫ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

আয়োজকদের দাবি, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি এবং মাস্কের অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

ওয়াশিংটনের কানেটিকাট অ্যাভিনিউ ও ন্যাশনাল মল এলাকায় বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো বিক্ষোভকারী প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন। ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা নেই’, ‘মাস্ককে বিতাড়িত করুন’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখর ছিল রাজপথ। আয়োজকদের ধারণা, শুধু ওয়াশিংটনেই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইউরোপের শহরগুলোতেও ছিল একই দৃশ্য। জার্মানির বার্লিনে টেসলার শোরুমের সামনে এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে ‘হ্যান্ডস অফ’ ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের হাতে ছিল ব্যানার: ‘গণতন্ত্র রক্ষা করুন’, ‘ট্রাম্প চলে যাও’। প্যারিসের প্যালেস দে লা রিপাবলিক এলাকায় মার্কিন অভিবাসীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়, যেখানে ‘আইনের শাসন চাই’, ‘অত্যাচারীকে প্রতিহত করুন’—এমন বার্তাবাহী প্ল্যাকার্ড বহন করা হয়।

লন্ডন, লিসবনসহ আরও বেশ কিছু শহরেও মাস্ক ও ট্রাম্প বিরোধী আন্দোলনের ঝড় উঠে। বার্লিনে “ইলন, তোমাকে কেউ ভোট দেয়নি”—এই স্লোগানটি মাস্কের অগণতান্ত্রিক প্রভাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের মনোভাব স্পষ্ট করে তোলে।

বিশ্বব্যাপী এই বিক্ষোভ শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে। আয়োজকরা বলেন, এখনকার বিশ্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তঃসংযুক্ত—একটি দেশের নেতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে অন্য দেশেও। এই বিক্ষোভ তাই স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বজাগরণের প্রতিচ্ছবি। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Header Ad
Header Ad

চীনের গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিজিটিএন-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর এবং কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করতে চান তিনি। শনিবার (৫ এপ্রিল) চার মিনিটের সেই ভিডিও সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এই সম্পর্ক শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূমি পরিবেষ্টিত দেশগুলোর জন্যও উপকার বয়ে আনবে।” তিনি চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প-কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পথে রয়েছে, আর এ যাত্রায় চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নে চীনের ভূমিকা হতে পারে উল্লেখযোগ্য। “আমাদের অর্ধেক জনগণের বয়স ২৭ বছরের নিচে। এরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, এবং তাদের অর্থনৈতিক দক্ষতায় পরিণত করতে হবে,” বলেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, “বাংলাদেশ ও চীনের ৫০ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সাফল্য আরও এগিয়ে নিতে সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি বাংলাদেশে চাইনিজ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেন, যাতে বাংলাদেশের মানুষ চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস স্বাস্থ্যসেবা খাতেও চীনের সহায়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “চীনের স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও পরিষেবা থেকে বাংলাদেশ অনেক কিছু শিখতে পারে। দেশের সাধারণ মানুষ চীনের মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেতে আগ্রহী।”

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “শান্তিই একমাত্র সমাধান, যুদ্ধ কোনো পথ নয়। একটি টেকসই, শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার বিকল্প নেই।”

উল্লেখ্য, গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূস দক্ষিণ চীনের হাইনান দ্বীপে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরে বেইজিং সফর করেন। এটি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন মির্জা ফখরুল
বিশ্বজুড়ে ট্রাম্প-মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের রাজপথে উত্তাল জনতা
চীনের গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের প্রভাব বড় নয়, সামাল দেয়া সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা
রাশিয়ার দাবি ইউক্রেনে একদিনে ৪৩০ সেনা হতাহত
সরকারি সফরে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া গেলেন সেনাপ্রধান
ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায় হেফাজত, বিএনপির সঙ্গে একমত
চীনের পাল্টা শুল্কারোপে মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উত্তেজনা
সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ
পরকীয়া করলে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ডের আইন করতেন অপু বিশ্বাস
বিএনপির দল পুনর্গঠনে তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বের অগ্রাধিকার
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে: প্রেসসচিব
টাঙ্গাইলে ধান ক্ষেতে মিলল ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ
বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
রংপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০
গত ২৫ বছর ‘জয় বাংলা’ বলিনি, এখন থেকে বলব: কাদের সিদ্দিকী
বিরামপুরে ভয়াবহ আগুনে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই
রাতেই ঢাকাসহ ৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে
মোদির প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার ফেরত নিয়ে নেতিবাচক ছিল না: প্রেস সচিব
নওগাঁ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে অসোন্তোষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক