রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫ | ২৩ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

সংখ্যা নয়, ঐক্যমতে হবে জাতীয় ঐক্য

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে চূড়ান্ত পথে টেনে নিতে রূপরেখা তৈরি করতে যাচ্ছে বিএনপি। সেই লক্ষে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ শুরু করেছে দলটি।

এখনই জোটবদ্ধ নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিজেদের চিন্তাভাবনা ও দাবির বিষয়ে প্রাথমিকভাবে একটি খসড়া তৈরিতে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে এ সংলাপের যাত্রা শুরু করে বিএনপি।

ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে জোটবদ্ধ এমন রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়া এই মুহূর্তে সরকারবিরোধী প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যুক্ত থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনার দরজা খোলা রাখার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব বিএনপির। দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক আলোচনায় বিএনপির মূল যে দাবিগুলো আছে, প্রথম: দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সমস্ত রাজবন্দিদের মুক্তির দাবি, দুই: বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকা্রকে পদত্যাগ করতে হবে, পদত্যাগ করে তাদের নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, তিন: সংসদ বাতিল করতে হবে এবং তারপরে পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদ গঠন হবে, সরকার গঠন হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকাপ্রকাশকে বলেন, ‘রাজনীতিতে শেষ বলে কোনো কিছু নেই। আমাদের দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে। সবে মাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার দ্বার উন্মুখ হয়েছে। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা কিন্তু সব সময়ই হচ্ছে। দাবি আদায়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে যে সব রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যেমতে পৌঁছাবে তাদের নিয়ে এক পথে এক সঙ্গে হাটঁতে শুরু করা হবে। যদিও চলার পথে অনেক ষড়যন্ত্র হবে, কেউ কেউ লোভে পড়ে যাত্রা বিরতিতে যাবে, কেউ আবার ঐক্যে ভাঙার দালালিতে জড়িয়ে পড়বে। কাজেই জাতীয় ঐক্যে গঠনে সংখ্যা বিষয় নয়, দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কারা থাকবে। তখন আমরা যারা একসঙ্গে থাকব তারাদের সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করা হবে। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে জাতীয় সরকারের কথা বলেছেন- সেই সরকার গঠন করা হবে। অবশ্য সেই পর্যন্ত সবাইকে ঐক্যে ধরে রাখতে হবে।’

এদিকে, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপি ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে এবং নির্বাচন প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল। পরবর্তীতে ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফন্ট্রের ব্যানারে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। সেই নির্বাচনে ভরাডুবির পরাজয় বরণ করার পরও নির্দলীয় সরকারের দাবি থেকে সরে আসেনি বিএনপির অবস্থান। বরং সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আন্দোলন সংগ্রামে পাশে রাখতে দলগুলোর দেওয়া প্রস্তাব জাতীয় সরকার গঠন সেই বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের। যদিও বিএনপির ঘোষিত জাতীয় সরকার ব্যবস্থা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ঘোষিত জাতীয় সরকার ব্যবস্থার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠেছে। বিএনপি চাচ্ছে এই সরকারের পতন নিশ্চিত করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন। পরবর্তীতে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। কিন্তু অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে কোনো দল চাচ্ছে এক সঙ্গে আন্দোলনে যাওয়ার পূর্বেই জাতীয় সরকার গঠন ব্যবস্থার ধরণ নির্ধারণ করা। অবশ্য জাতীয় সরকার গঠনে ভিন্নমতকে মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একে অপরের আস্থাহীনতা-অবিশ্বাস থেকে সৃষ্টি বলেই ধরে নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সরকার গঠনের চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে সরকার পতনে সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উঠে আসা ঐক্যমতের ভিত্তিতে আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে—দলীয় সরকারের অধীন বিশেষ করে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। পক্ষান্তরে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে—সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলব। সেই প্রেক্ষিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের যে রূপরেখা, সেই রূপরেখা তৈরি করা হবে। সেক্ষেত্রে জোটে থাকা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও কথা বলতে হবে। তাদের সঙ্গে কথা না বললে কেমন হবে। সবার সঙ্গেই হবে, অল দ্য পলিটিক্যাল পার্টিস।

তিনি বলেন, আলোচনার মূল্য উদ্দেশ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং এই ফ্যাসিবাদী সরকার যারা মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং আজকে অর্থনীতি, দেশের সমস্ত যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোকে ধবংস করে ফেলেছে সেই সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা, জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা—এটাই হচ্ছে আমাদের মূল্য লক্ষ্যে। এজন্য আন্দোলন তৈরি করতে হবে। এই আন্দোলন তৈরি করতে ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে এই আলোচনার উদ্যোগ আমরা নিয়েছি।

বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা সরকারবিরোধী প্রায় সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত বিএনপির। সেক্ষেত্রে আলোচনার প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে নাগরিক ঐক্যে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), গণ অধিকার পরিষদ, গণফোরাম (ড. কামাল), গণফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), ভাসানী অনুসারী পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বিবেচনায় রাখা হচ্ছে—বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু), জাতীয় পার্টিকে (এরশাদ), গণস্বাস্থ্য ট্রাস্টির প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তবে এখানেই চূড়ান্ত নয়। পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় সংলাপ আলোচনায় ব্যক্তি ও দলের পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানা গেছে।

নামপ্রকাশে অনিইচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ঢাকাপ্রকাশ কে বলেন, জাতীয় ঐক্যে গড়ে তোলা এতো সহজ বিষয় নয়। এটি গড়ে তুলতে অনেক প্রতিবন্ধকতা বিবেচনায় ধীরে চলা নীতি অবলম্বন করা হলে অপেক্ষাকৃত ভালো ফলাফল আসবে। এখানে তড়িঘড়ির কিছু নেই। এটাই হবে সরকারবিরোধী সবশেষ পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর ইচ্ছাকে মূল্যায়ন জানাতে গিয়ে জাতীয় ঐক্যে গঠনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করা হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, বিএনপি জাতীয় ঐক্যের কথা সভা-সমাবেশ-সেমিনারে বলছেন অথচ কোনো রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তেমনভাবে আসেন না। তাদের সেই কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা শুরু করা হয়েছে। সময় যত যাবে আলোচনায় ঐক্যেমতে হওয়া তত সম্ভবপর হয়ে উঠবে।

এমএইচ/আরএ/

Header Ad
Header Ad

বিশ্বজুড়ে ট্রাম্প-মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের রাজপথে উত্তাল জনতা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সাধারণ মানুষ। শনিবার (৫ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

আয়োজকদের দাবি, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি এবং মাস্কের অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

ওয়াশিংটনের কানেটিকাট অ্যাভিনিউ ও ন্যাশনাল মল এলাকায় বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো বিক্ষোভকারী প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন। ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা নেই’, ‘মাস্ককে বিতাড়িত করুন’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখর ছিল রাজপথ। আয়োজকদের ধারণা, শুধু ওয়াশিংটনেই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইউরোপের শহরগুলোতেও ছিল একই দৃশ্য। জার্মানির বার্লিনে টেসলার শোরুমের সামনে এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে ‘হ্যান্ডস অফ’ ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের হাতে ছিল ব্যানার: ‘গণতন্ত্র রক্ষা করুন’, ‘ট্রাম্প চলে যাও’। প্যারিসের প্যালেস দে লা রিপাবলিক এলাকায় মার্কিন অভিবাসীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়, যেখানে ‘আইনের শাসন চাই’, ‘অত্যাচারীকে প্রতিহত করুন’—এমন বার্তাবাহী প্ল্যাকার্ড বহন করা হয়।

লন্ডন, লিসবনসহ আরও বেশ কিছু শহরেও মাস্ক ও ট্রাম্প বিরোধী আন্দোলনের ঝড় উঠে। বার্লিনে “ইলন, তোমাকে কেউ ভোট দেয়নি”—এই স্লোগানটি মাস্কের অগণতান্ত্রিক প্রভাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের মনোভাব স্পষ্ট করে তোলে।

বিশ্বব্যাপী এই বিক্ষোভ শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে। আয়োজকরা বলেন, এখনকার বিশ্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তঃসংযুক্ত—একটি দেশের নেতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে অন্য দেশেও। এই বিক্ষোভ তাই স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বজাগরণের প্রতিচ্ছবি। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Header Ad
Header Ad

চীনের গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিজিটিএন-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর এবং কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করতে চান তিনি। শনিবার (৫ এপ্রিল) চার মিনিটের সেই ভিডিও সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এই সম্পর্ক শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূমি পরিবেষ্টিত দেশগুলোর জন্যও উপকার বয়ে আনবে।” তিনি চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প-কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পথে রয়েছে, আর এ যাত্রায় চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নে চীনের ভূমিকা হতে পারে উল্লেখযোগ্য। “আমাদের অর্ধেক জনগণের বয়স ২৭ বছরের নিচে। এরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, এবং তাদের অর্থনৈতিক দক্ষতায় পরিণত করতে হবে,” বলেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, “বাংলাদেশ ও চীনের ৫০ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সাফল্য আরও এগিয়ে নিতে সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি বাংলাদেশে চাইনিজ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেন, যাতে বাংলাদেশের মানুষ চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস স্বাস্থ্যসেবা খাতেও চীনের সহায়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “চীনের স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও পরিষেবা থেকে বাংলাদেশ অনেক কিছু শিখতে পারে। দেশের সাধারণ মানুষ চীনের মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেতে আগ্রহী।”

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “শান্তিই একমাত্র সমাধান, যুদ্ধ কোনো পথ নয়। একটি টেকসই, শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার বিকল্প নেই।”

উল্লেখ্য, গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূস দক্ষিণ চীনের হাইনান দ্বীপে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরে বেইজিং সফর করেন। এটি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল।

Header Ad
Header Ad

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের প্রভাব বড় নয়, সামাল দেয়া সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপ নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। রবিবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে ঈদ-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন করে যেসব শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, সেগুলোর প্রভাব মোকাবিলা করা কঠিন হবে না।

তিনি জানান, “ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমাদের রপ্তানি বাজার বহুমুখী, সেই সঙ্গে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় আমরা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে আছি।”

ঈদের পরবর্তী সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “মানুষ এবার ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করেছে। মার্চ মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যার প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে।”

সালেহউদ্দিন আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং যেকোনো বৈশ্বিক চাপে তা টিকে থাকতে সক্ষম হবে।

 

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্বজুড়ে ট্রাম্প-মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের রাজপথে উত্তাল জনতা
চীনের গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের প্রভাব বড় নয়, সামাল দেয়া সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা
রাশিয়ার দাবি ইউক্রেনে একদিনে ৪৩০ সেনা হতাহত
সরকারি সফরে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া গেলেন সেনাপ্রধান
ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায় হেফাজত, বিএনপির সঙ্গে একমত
চীনের পাল্টা শুল্কারোপে মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উত্তেজনা
সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ
পরকীয়া করলে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ডের আইন করতেন অপু বিশ্বাস
বিএনপির দল পুনর্গঠনে তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বের অগ্রাধিকার
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে: প্রেসসচিব
টাঙ্গাইলে ধান ক্ষেতে মিলল ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ
বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
রংপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০
গত ২৫ বছর ‘জয় বাংলা’ বলিনি, এখন থেকে বলব: কাদের সিদ্দিকী
বিরামপুরে ভয়াবহ আগুনে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই
রাতেই ঢাকাসহ ৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে
মোদির প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার ফেরত নিয়ে নেতিবাচক ছিল না: প্রেস সচিব
নওগাঁ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে অসোন্তোষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ২৫৫