রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫ | ২৩ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্রতারক চক্রের হাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডিভাইস

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর চেয়েও ক্ষমতা সম্পন্ন ডিভাইস এখন প্রতারক চক্রের হাতে। আমদানি নিষিদ্ধ হলেও একটি চক্র অন্য পণ্যের আড়ালে এগুলো দেশে এনে তুলে দিচ্ছে এই চক্রের হাতে। ডিভাইসগুলো নিয়ে চক্রটি নানা ধরনের প্রতারণা ও অসৎ উদ্দেশে ব্যবহার করছে। অতি সম্প্রতি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জ্যামার, বুস্টার, হিডেন স্পাই ওয়ারলেস কিট ও ওয়াকিটকি জব্দ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগুলো সাধারণ মানুষের হাতে থাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলোর অপব্যবহারের যথেষ্ট ঝুঁকি থাকে। অনেকেই আবার এগুলো অপরাধমূলক কাজেও ব্যবহার করছেন।

গত ১৪ মে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্যামার, রিপিটার ও নেটওয়ার্ক বুস্টারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. আবু নোমান ও সোহেল রানা। তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যামার, ২৪টি জ্যামার এন্টিনা, চারটি এসি এডাপ্টার, তিনটি পাওয়ার ক্যাবল, তিনটি মোবাইল নেটওয়ার্ক বুস্টার, নয়টি বুস্টারের আউটডোর এন্টিনা, ২৬টি ইনডোর এন্টিনা, ৩৭টি বুস্টারের ক্যাবল, একটি ল্যাপটপ জব্দ করে। বিষয়টি নিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনও করে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, অবৈধ জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রয়কারী চক্রের কিছু সদস্য দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বিনা অনুমতিতে অবৈধ জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রয় করে আসছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাবের একটি দল বিটিআরসির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গত শনিবার রাত পৌনে ১টায় মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রয়কারী ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা র‌্যাবকে জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রি করে আসছেন। গ্রেপ্তার নোমানের ‘আইটি স্টল.কম.বিডি’ নামে ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ রয়েছে। সোহেল রানার ‘সোআইএমবিডি’ নামে ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ রয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে গ্রেপ্তাররা আইপি ক্যামেরা, ডিজিটাল ক্যামেরা ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের পাশাপাশি উচ্চমূল্যে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টারসহ এর যন্ত্রাংশ লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে বিক্রি করে থাকে।

র‌্যাব অধিনায়ক জানান, জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার টুজি, থ্রিজি এবং ফোরজি মোবাইল নেটওয়ার্কের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। তাদের ক্রেতা বিভিন্ন বহুতল ভবনের বাসিন্দা, মসজিদ কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বিভিন্ন অপরাধীরা অপরাধ করার উদ্দেশে উচ্চমূল্যে এসব অবৈধ ডিভাইস কিনে থাকে।

বিক্রি ও আমদানি নিষিদ্ধ এসব পণ্য কিভাবে দেশে আসছে জানতে চাইলে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, বৈধ আমদানিকারকদের মাধ্যমে অধিক পরিবহন মূল্য পরিশোধ করে বৈধ মালামালের আড়ালে তারা এসব অবৈধ যন্ত্রাংশ আমদানি করছে। এরপর চাহিদা মোতাবেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে আসছিল।

তাদের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তর পায়নি র‌্যাব। যেহেতু উত্তর পায়নি, সে কারণে র‌্যাব ধারণা করছে, অবশ্যই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল, সঙ্গে নাশকতার ষড়যন্ত্রও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দেশের স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এসব অবৈধ জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রি করা হচ্ছিল বলেও জানান লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন।

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি অধিক মুনাফা লাভের আশায় তারা এসব বিক্রি করে আসছিল। এছাড়াও আরও জিজ্ঞাসাবাদেও সময় পেলে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

কারা কিনতেন জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার, কাদের কাছে এসব অবৈধ ডিভাইস বিক্রি করা হয়েছে জানতে চাইলে লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দুই বছরে দুই শতাধিক জ্যামার ও নেটওয়ার্ক বুস্টার বিক্রি করা হয়েছে। আমরা বিস্তারিত তালিকা পাইনি। তবে বেশ ক’জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম আমরা জেনেছি। তথ্য প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার পর খুব শিগগির অভিযান চালানো হবে।

এর একদিনই পরেই হিডেন স্পাই ওয়্যারলেস কিট জব্দ করে র‌্যাব। এটি ব্যবহার করে সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণের নিশ্চয়তা দিয়ে চাকুরী প্রার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে শর্তসাপেক্ষে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় ইকবাল হোসেন (৪২), রমিজ মৃধা (৩০), নজরুল ইসলাম (৫০) এবং মো. মোদাচ্ছের হোসেন (৬২)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা বর্ণিত প্রতারণা সম্পর্কে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দেন।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, প্রথমে তারা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগ পরীক্ষা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে ওই নিয়োগ পরীক্ষার পরীক্ষা নেওয়ার স্থান ও পরীক্ষার গার্ড সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে। এসময় চক্রের অন্যান্য সদস্যরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি/বেসরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের খুঁজে বের করে ১০-১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় পাশ ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তার মাধ্যমে তাদের প্রলোভন দেখাত। পরবর্তীতে আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের কাছে উদ্ধারকৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলো প্রদান করে এর ব্যবহার বিধি প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রাথমিকভাবে ১/২ দুই লাখ টাকা জামানত হিসেবে গ্রহণ করত। অবশিষ্ট টাকা চাকরি পাওয়ার পরে পরিশোধ করবে মর্মে চুক্তি করত। এভাবে তারা বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

গ্রেপ্তাররা জিজ্ঞাসাবাদে তাদের প্রতারণার কৌশল হিসেবে আরও জানান যে, বিদেশ থেকে আনা এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলো মূলত দুইটি অংশে বিভক্ত। ডিভাইসটির একটি অংশ ইয়ার পিছ তারা পরীক্ষার্থীদের কানের ভেতর এবং অটোমেটিক কল রিসিভ হওয়া সীম লাগানো অপর অংশটি শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে তাদের পরীক্ষার হলে প্রবেশ করাত। পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের নিকট পাঠাত। প্রতারক চক্রটি প্রশ্নপত্রের উত্তর দেওয়ার জন্য পূর্ব থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি টিম প্রস্তুত রাখত। অতঃপর এই চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার হল থেকে পাঠানো প্রশ্নপত্রের উত্তরগুলো মেধাবী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত টিম এর মাধ্যমে খুঁজে বের করে চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের বলে দিত।

এদিকে গতকাল সোমবার বিপুল পরিমান ওয়াকিটকি জব্দের তথ্য জানায় র‌্যাব। এ ওয়াকিটকিগুলো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে থাকা ওয়াটকির চেয়েও তিন চারগুন ক্ষমতাসম্পন্ন।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টম হাউজের প্রিভেনটিভ দল ১৭টি চালানে প্রায় এক হাজার ওয়াকিটকি জব্দ করেছে। জব্দকৃত এ সব ওয়াটকির এখন পর্যন্ত কেউ মালিকানা দাবি করেনি। তবে যে ঠিকানা ব্যবহার করে সেটগুলো শাহজালালে আসে সেই নাম ঠিকানাও ভুয়া।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয় দিয়ে অপরাধ ও বাহিনীর সেট টিউনিং করে কথোপকথন শোনে অবস্থান শনাক্তের জন্যই এই সেটগুলো আমদানি করছে একটি চক্র বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র মতে, রাজধানীসহ সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে নানা ধরনের অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তারও হচ্ছে এ সব অপরাধীরা। এসময় তাদের কাছ থেকে পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত ওয়াকিটকি সেটও উদ্ধার হচ্ছে।

জানা যায়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে বিশেষ করে ছিনতাইয়ের সময় অপরাধীদের হাতে ওয়াটকি সেট দেখা যায়। ওয়াটকি হাতে থাকেল সহজেই সেই ব্যক্তিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে ধারনা করেন সাধারণ মানুষ। বাইরে সাধারণ ওয়াকিটকি কিনতে পাওয়া গেলেও জব্দ করা ওয়াটকি সেট উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন। এর রেঞ্জ ক্ষমতাও অনেক।

বিমানবন্দরে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক এক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা বলেন, জব্দ হওয়া ওয়াকিটকি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন। দেশের কয়েক গোয়েন্দা সদস্যরা যে ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার করেন তার ক্ষমতা ঢাকা, নারায়নগঞ্জ এবং গাজিপুর। ঠিক এই সেটগুলোর ক্ষমতাও একই।

এদিকে শুধু ওয়াকিটকিই নয় ঝুঁকিপূর্ণ এসকল সাধারণ ব্যক্তিদের জন্য আমাদানি নিষিদ্ধ এ সকল ঝুঁকিপূর্ণ ডিভাইসগুলো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আনা হচ্ছে। বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে ডিভাইসগুলো আমদানি করা হয়ে থাকে।

কাস্টম প্রিভেনটিভের উপ-কমিশনার সানোয়ারুল কবির বলেন, আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের ব্যাপারে আমরা বরাবর সতর্ক থাকি। এর মধ্যেও অন্য পণ্যের আড়ালে কেউ আমদানি করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব।

কেএম/আরএ/

Header Ad
Header Ad

স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন মির্জা ফখরুল

স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন মির্জা ফখরুল। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসা সংক্রান্ত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরে গেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি তার স্ত্রীসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, “স্যার এবং ভাবী হেলথ চেকআপ করাতে সিঙ্গাপুর গেছেন। সেখানে একটি ক্লিনিকে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করবেন। ইতোমধ্যে ডাক্তারদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিক করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপি মহাসচিবের এক সপ্তাহ পর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রী।

Header Ad
Header Ad

বিশ্বজুড়ে ট্রাম্প-মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের রাজপথে উত্তাল জনতা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সাধারণ মানুষ। শনিবার (৫ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

আয়োজকদের দাবি, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি এবং মাস্কের অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

ওয়াশিংটনের কানেটিকাট অ্যাভিনিউ ও ন্যাশনাল মল এলাকায় বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো বিক্ষোভকারী প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন। ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা নেই’, ‘মাস্ককে বিতাড়িত করুন’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখর ছিল রাজপথ। আয়োজকদের ধারণা, শুধু ওয়াশিংটনেই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইউরোপের শহরগুলোতেও ছিল একই দৃশ্য। জার্মানির বার্লিনে টেসলার শোরুমের সামনে এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে ‘হ্যান্ডস অফ’ ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের হাতে ছিল ব্যানার: ‘গণতন্ত্র রক্ষা করুন’, ‘ট্রাম্প চলে যাও’। প্যারিসের প্যালেস দে লা রিপাবলিক এলাকায় মার্কিন অভিবাসীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়, যেখানে ‘আইনের শাসন চাই’, ‘অত্যাচারীকে প্রতিহত করুন’—এমন বার্তাবাহী প্ল্যাকার্ড বহন করা হয়।

লন্ডন, লিসবনসহ আরও বেশ কিছু শহরেও মাস্ক ও ট্রাম্প বিরোধী আন্দোলনের ঝড় উঠে। বার্লিনে “ইলন, তোমাকে কেউ ভোট দেয়নি”—এই স্লোগানটি মাস্কের অগণতান্ত্রিক প্রভাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের মনোভাব স্পষ্ট করে তোলে।

বিশ্বব্যাপী এই বিক্ষোভ শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে। আয়োজকরা বলেন, এখনকার বিশ্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তঃসংযুক্ত—একটি দেশের নেতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে অন্য দেশেও। এই বিক্ষোভ তাই স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বজাগরণের প্রতিচ্ছবি। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Header Ad
Header Ad

চীনের গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিজিটিএন-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর এবং কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করতে চান তিনি। শনিবার (৫ এপ্রিল) চার মিনিটের সেই ভিডিও সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এই সম্পর্ক শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূমি পরিবেষ্টিত দেশগুলোর জন্যও উপকার বয়ে আনবে।” তিনি চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প-কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পথে রয়েছে, আর এ যাত্রায় চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নে চীনের ভূমিকা হতে পারে উল্লেখযোগ্য। “আমাদের অর্ধেক জনগণের বয়স ২৭ বছরের নিচে। এরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, এবং তাদের অর্থনৈতিক দক্ষতায় পরিণত করতে হবে,” বলেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, “বাংলাদেশ ও চীনের ৫০ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সাফল্য আরও এগিয়ে নিতে সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি বাংলাদেশে চাইনিজ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেন, যাতে বাংলাদেশের মানুষ চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হতে পারে।

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস স্বাস্থ্যসেবা খাতেও চীনের সহায়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “চীনের স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও পরিষেবা থেকে বাংলাদেশ অনেক কিছু শিখতে পারে। দেশের সাধারণ মানুষ চীনের মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেতে আগ্রহী।”

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “শান্তিই একমাত্র সমাধান, যুদ্ধ কোনো পথ নয়। একটি টেকসই, শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার বিকল্প নেই।”

উল্লেখ্য, গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূস দক্ষিণ চীনের হাইনান দ্বীপে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরে বেইজিং সফর করেন। এটি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন মির্জা ফখরুল
বিশ্বজুড়ে ট্রাম্প-মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের রাজপথে উত্তাল জনতা
চীনের গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের প্রভাব বড় নয়, সামাল দেয়া সম্ভব: অর্থ উপদেষ্টা
রাশিয়ার দাবি ইউক্রেনে একদিনে ৪৩০ সেনা হতাহত
সরকারি সফরে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া গেলেন সেনাপ্রধান
ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায় হেফাজত, বিএনপির সঙ্গে একমত
চীনের পাল্টা শুল্কারোপে মার্কিন শেয়ারবাজারে ধস, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উত্তেজনা
সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ
পরকীয়া করলে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ডের আইন করতেন অপু বিশ্বাস
বিএনপির দল পুনর্গঠনে তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বের অগ্রাধিকার
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে: প্রেসসচিব
টাঙ্গাইলে ধান ক্ষেতে মিলল ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ
বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
রংপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০
গত ২৫ বছর ‘জয় বাংলা’ বলিনি, এখন থেকে বলব: কাদের সিদ্দিকী
বিরামপুরে ভয়াবহ আগুনে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই
রাতেই ঢাকাসহ ৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে
মোদির প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার ফেরত নিয়ে নেতিবাচক ছিল না: প্রেস সচিব
নওগাঁ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে অসোন্তোষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক