ইশ্ গল্পটা যদি আমাদের হতো!

ফোনের রিংটনে বিকেলের কাঁচা ঘুমটা ভেঙে গেলো। কোনো এক অচেনা নাম্বার থেকে কল এসেছে। ফোনটা ধরতেই নারী কন্ঠ কানে লাগলো।
কেমন আছো তুমি?
কন্ঠটা অনেক পরিচিত। মনে হয় প্রায় দেড় বছর পর কন্ঠ টা শুনলাম।
ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?
আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
চুপ হয়ে গেলো। আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। হয়তো অনেক দিন পর মানজুর সাথে কথা তাই এমন। কিছুটা সময় চুপ থাকার পর মানজু কে জিজ্ঞেস করলাম
এতো দিন পর?
অনেক দিন পর কথা বলতে একটু ইচ্ছে হলো তাই কল দিলাম। তুমি বললে এখনি রেখে দিচ্ছি।
না না রাখতে হবে না। আমি তো এমনি বললাম।
কি করো তুমি এখন?
আমি এখনো পড়াশোনা করি।
এতো পড়াশোনা করে কি হবে? তুমি যদি একটা চাকরি করতে তাহলে হয়তো আজ গল্পটা আমাদের হতো।
পড়াশোনা করার জন্যই তো তোমাকে হারিয়েছি। সেদিন যদি তোমার কথায় পড়াশোনা রেখে তোমাকে নিয়ে চলে যেতাম তাহলে হয়তো আজ!
আমাদের গল্প হতো, কিন্তু আমাদের গল্পে শুধু অভাব অনটন থাকতো।
বুঝেছি বুঝেছি তোমার এই কথার সাথে আমি আজও পারবো না।
তারপর বলো তোমার দিনকাল কেমন কাটছে?
আমার চলছে আল্লাহ যেভাবে নেয়। তোমার কি অবস্থা? এখন কথায় পড়ো?
অনার্স করছি রাজধানীর একটা কলেজে।
আসিফ তোমাকে দেখিনা অনেকদিন। তোমার কথা আগে খুব মনে পরতো। এখনো মনে পরে। তোমাকে কল করার সাহস পাই না। কি বলবো তোমাকে? হয়তো কথা বলার কোনো শব্দ খুঁজে পাবো না। আজ অনেক সাহস নিয়ে কল করেছি।
তোমাকেও অনেক মনে পরে। কল দিতে খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু কল দিয়ে কি বলবো? তুমি তো অন্যের সহধর্মিণী।
আসিফ আমি এখন রাখি আমার স্বামী চলে আসবে। তুমি এই নাম্বারে কখনো কল দিও না। এটা আমার নাম্বার না। আমি তোমাকে কল দিবো যদি কখনো পারি।
আচ্ছা ঠিক আ....। কথাটা বলতেই পারলাম না ওপার থেকে কলটা কেটে দিলো।
তারপর অনেকদিন তার কলের অপেক্ষায় থাকলাম। কখনো আর ওই নাম্বার থেকে কল আসেনি। আমিও কল দেওয়ার সাহস পাইনি যদি তার স্বামী কল ধরে।
মাঝে মাঝে ভাবি ইশ্ গল্পটা যদি আমাদের হতো। আবার ক্ষণেই মনে পরে আল্লাহ নিশ্চয়ই উত্তম পরিকল্পনাকারী।
ডিএসএস/
