শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

আলতাব আলী পার্ক

এটি ‘আলতাব আলী পার্ক’, এখন যেভাবে আছে, তেমনটি রয়েছে ১৯৯৮ সাল থেকে। তার আগে একে বলা হতো “সেন্ট মেরি’জ পার্ক”। এই জায়গাটি ১৪ শতকের একটি সাদা গীর্জার, তাকে ডাকা হতো সেন্ট মেরি’জ। স্থানীয়রা সাদা গীর্জার মাধ্যমে পার্ককেও এই নামে বলতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯৪০ সালে এখানে বিদুৎ গতিতে বোমাবষণ করা হয়েছিল। এই উল্লেখযোগ্য কীর্তিটিও আছে ঐতিহাসিক গীর্জাটির গায়ে। যুদ্ধ শেষ হবার কয়েক বছরে পর থেকে গীর্জাটির ঘন্টাধ্বনির ধর্মঘট শুরু হলো। এরপর তো থেমেই গিয়েছে। ফলে এখন কয়েকটি সমাধি পাথরই অবশিষ্ট আছে। যেখানে শুরু আছেন নানা বয়সের খ্রিস্টান মানুষরা।

এই ব্রিটেনে কঠোর অভিবাসন আইন চালু হলো ষাটের দশক থেকে এবং পরের দশক এই ভাবনাটির বৈধতা দিলো যে, স্পিটালফিল্ডসে নতুন বসতি স্থাপন করা বাঙালিরা এই জায়গাটির অন্তর্গত নন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জারি হলো তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক, তাতে অভিবাসীরা আক্রমণের একটি সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে গেলেন এবং তাদের সবকিছুর জন্য দায়ী করা যেত।

১৯৭৮ সালে সত্যিকারের রক্ত এই পার্কে ঝরেছে। ৪ মে স্থানীয় রাজনীতিগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার সন্ধ্যায়, মাগারেট থ্যাচার ক্ষমতায় আসার আগের ক্ষণে, সেই দিনটিতে; স্থানীয় একজন বস্ত্রকলের শ্রমিক, যার নাম আলতাব আলী; জন্মেছেন বাংলাদেশে; খুন হয়েছিলেন একটি বর্ণবাদী আক্রমণে। এরপর তিনি পড়েছিলেন একটি রক্তের পুকুরে হোয়াইট চ্যাপেল রোডে। তিনি হানবুরি স্ট্রিটে কাজ করতেন, ব্রিক লেন থেকে সামান্য দূরে। এই পার্ক পেরিয়ে ক্যানন স্ট্রিটে গেলে তার বাসা। বাসার দিকে যেতেই তিনি একদল বর্ণবাদীর আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। যখন তিনি মারা যান বয়স ছিল মোটে ২৫ বছর। তিনজন কিশোর সন্ত্রাসী তাকে বাড়িতে কাজ সেরে ফেরার সময় খুন করেছিল।

বাস্তবে, পুরো সত্তর জুড়ে বাঙালি সমাজের প্রতি বর্ণবাদী আক্রমণ বেড়ে গিয়েছিল। তাদের বাড়ির দিকে ইট পর্যন্ত ছুঁড়ে মারা হতো-এতটাই ঘৃণার পাত্র হয়ে গিয়েছিলেন তারা। মানুষ, পশুর মল তাদের দরজাগুলোতে লাগিয়ে দেওয়া হতো। গালাগাল, হামলা চলতো জনে-জনে। ফলে প্রতিটি বাঙালি পরিবারই যত দ্রুত সম্ভব তাদের সারাজীবনের সাধনার বাড়িঘর ফেলে অন্য কোথাও চলে যেতে বাধ্য হতেন।

রাজনীতিবিদরা ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এই সহিংসতার জন্য বেশিরভাগ খোঁচা দিয়েছে উগ্র-প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয় ফ্রন্টের স্কিনহেডদের। এই স্কিনহেডরা আসলে লন্ডনের শ্রমজীবি তরুণের দল। দ্বিতীয় শ্রেণীর এই মানুষদের আন্দোলন পরে সারা বিশ্বে কম, বেশি ছড়িয়ে গিয়েছিল। তারা এছাড়াও অভিবাসীদেরও দোষ দিয়েছিলেন সাদা চামড়ার মানুষদের সঙ্গে না মেশার আগ্রহকে। এমনকি তারা পুলিশ যখন তাদের পরিবারগুলোর নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে প্রয়োজনে আগুন জ্বালানোর মাধ্যমে জানানোর প্রস্তাব দিয়ে নিরাপদে রাখার নিশ্চিয়তা দিয়েছিল; সেসবও ভালোভাবে গ্রহণ না করার দোষে দুষেছে। এই কৈফিয়তগুলো অবশ্যই কেবলমাত্র লুকিয়ে রেখেছিল মূলধারাকে বলির পাঁঠা হওয়া থেকে, তাতে ষাটের শেষেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর গম্ভীর গর্জন প্রশমিত না হয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে এবং মন্দাও আঘাত করেছে ব্রিটেনকে।

শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর নেতারা ও টিইউসি (ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস) অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার জন্য কড়া পরিমাপন দাবী করেছিলেন। তারা সরকারের ব্যর্থতার কথা না বলে বা সেদিকে তত মনোযোগ না এনে কালো ও এশিয়দের কম দামে আরো বেশি কাজের জন্য নিয়ে সাদাদের চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার হিড়িকের দৃষ্টিভঙ্গিটির দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করছিলেন। বেশি শ্রমিক কম কাজ আছে-এমন একটি অবস্থায় বেপরোয়া ছুটে চলছেন, এই ধারণাটিও ব্রিটেনে জনপ্রিয় হয়ে গেল। এই সময় ব্রিটিশদের চাকরি ব্রিটিশদের জন্য-এটি জনপ্রিয় শ্লোগানেও পরিণত হয়ে গেল। মতবাদগুলো সেই দেশের ভূমিতে সহিংস বর্ণবাদী আক্রমণগুলোকে অনুপ্রাণিত করেছে।

৭০’র দশকের মধ্যভাগে বর্ণবাদবিরোধীদের ছায়ায় দি এশিয়ান ইয়ুথ মুভমেন্টের, স্থানীয় তরুণদের কয়েকটি আন্দোলন হয়ে গেল। সেগুলো এই বিশ্বাস এনে দিল-নিজেদের রক্ষা তাদেরই করতে হবে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলবাদী কালোদের সংহতি আন্দোলনগুলোর ধারণা থেকে উদ্দীপ্ত হয়েছিলেন। এরপর তারা বর্ণবাদীদের কাছ থেকে রাস্তাগুলো পুণরুদ্ধার করতে কাজ করেছেন। হোয়াইট চ্যাপেল রোডে ও ব্রিক লেনে যখন বর্ণবাদীরা বাঙালিদের দোকানগুলো ভেঙে গুড়িয়ে দিতে গেলেন, তখন বাঙালি যুবক, এশীয় তরুণ ও বণবাদবিরোধী ব্রিটিশরা তাদের মুখোমুখি হয়ে গেলেন। ব্রিটেনের ইতিহাসের এই পর্বে সম্পদ আসলে কোনো অথ বহন করতে পারেনি, এই কালে বর্ণবাদবিরোধীতা মানে হলো, আপনি কেবল একটি জাতে বিশ্বাস করেন, সেটি ‘মানবতাবাদ’। বণবাদবিরোধীরা মৌলবাদীতার সঙ্গে তাদের পার্থক্যগুলো মানুষের কাছে প্রচারণায় নিয়ে এসেছিলেন। কেবল তাই নয়, তারা যেকোনো ও সব ধরণের বৈষম্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্বোচ্চারভাবে; দাবী তুলেছেন, সব মানুষের জন্য; তার গায়ের রঙ, পেশা; দেশ; অবস্থান; নাগরিকতার সার্টিফিকের উধ্বে উঠে সবার জন্য সমান চিকিৎসার; আর যখন এটি চাকরি ও মজুরির প্রশ্ন হলো-এই তারুণ্যের শক্তি সাদা, কালো ও এশিয় নাগরিকদের জন্য সমভাবে বন্টনের দাবী করেছেন।

আলতাব আলীর হত্যাকাণ্ডের পর তার কফিন একটি লম্বা ও দীর্ঘ শোক যাত্রার মাধ্যমে নিয়ে আসা হলো হোয়াইট হলের পথ ধরে। হোয়াইট হল আছে লন্ডনের কেন্দ্রের ওয়েষ্ট মিনিস্টার শহরের একটি রাস্তা। তাতে ছিলেন ও প্রতিবাদ করেছেন হাজার হাজার এশিয় তরুণ, তরুণী এবং ব্রিটেনের বর্ণবাদবিরোধীরা। তারা তখন তুলে ধরেছেন, এই ক্ষোভ ও উত্তাপ নতুন সরকারের পতন ঘটিয়ে দিতে পারে, কেননা বর্ণবাদী আক্রমণগুলো থেকে এখন যেকোনো কিছুই সম্ভব। আবার পুলিশের একটি অবস্থায় বর্ণবাদী আচরণ ও অভিবাসীদের দেশগুলোর সরকারদের তাদের নাগরিকদের জন্য অপরাধ করার সুযোগ নেওয়াও বিচিত্র নয়। এই ধারণাগুলো মিথ্যে নয়।

আবার এ এমন গণ সংহতি, যেটি স্থানীয় বর্ণবাদবিরোধীদের, সেটি ব্রিক লেনে বড় আকারের বণবাদী কমকাণ্ডকে বেড়ে উঠতে দেয়নি। সেগুলোকে দমিয়ে দিয়েছে। যদিও স্থানীয় এলাকায় সহিংসতা চলেছে। পরের দশক ১৯৮০ তেও দাঙ্গার ভয় থেকেছে বলে অবশেষে এই সময়ে ব্রিটেনের বিভাজনকারী, মানুষের কাছ থেকে মানুষকে আলাদা করে দেওয়া বর্ণবাদী রাজনীতিবিদ ও দলগুলোকে এবং তেমন ধারণার মানুষদের আগের যুগ, যেটিতে আলতাব আলী মারা গিয়েছেন; সেটি থেকে মৌলবাদের একটি নব দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আলতাব আলীকে সম্মানিত করেছেন ব্রিটেনের সরকার ও সাধারণ মানুষ তার নামে পাকটি করে। ছোট্ট এই পার্কটি আছে ১০, অ্যাডলার স্ট্রিট, হোয়াইট চার্চ লেন ও হোয়াইট চ্যাপেল রোডের মাঝে; লন্ডন ই ১-এ। এখানে শুয়ে আছেন রিচাড পার্কার, রিচাড ব্রানডন, স্যার জন কাস, স্যার জেফরি ডানস্ট্যান (এই পরচুলা বিক্রেতা ১৮ শতকে ব্রিটেনের নির্বাচনী আনন্দ শোভাযাত্রা বা কার্নিভালের মাধ্যমে মুখে, মুখে নির্বাচিত করার সময়-গ্যারেট নামে পরিচিত; তাতে ‘গ্যারেট’ মেয়র হয়েছিলেন)।

১৯৯৮ সালে এই সেন্ট মেরি’জ পাকের নাম রাখা হয় আলতাব আলীর নামে-‘আলতাব আলী পাক’। সেই মানুষটিকে স্মৃতিতে রাখা হলো চিরদিনের জন্য। ইস্ট এন্ডে আলতাবকে মারা হয়েছে, যেখানে এর চেয়ে কম সহিংসতার অনেক আক্রমণ ঘটেছে। পার্কের প্রবেশ পথে একটি খিলান আছে, সেটি বানিয়েছেন ডেভিড পিটারসেন; তৈরি করেছেন বর্ণবাদী আক্রমণগুলোতে আলতাব ও অন্য শিকারদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে। খিলানটিতে বাঙালি স্টাইলও আছে। তাতে পূর্ব লন্ডনের নানা ধরণের সংস্কৃতিও একত্রে চলা ফুটেছে। রবীন্দ্রনাথের অমর উক্তি খোদিত আছে। আছে লন্ডনের বাঙালিদের একুশের শহীদ ও বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অর্ঘ্য একটি শহীদ মিনার। পাশেই আছে পাতাল রেল সড়ক।

বর্ণবাদের শিকার শহীদ আলতাব আলীর নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বা ৫০ বছর উপলক্ষে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিল একটি বিশেষ ভবন উৎসগ করেছেন। তার নামে ভবনটি আছে।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ, ওমর শাহেদ; ২৫-১-২০২২।

 

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা