শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

‘মানুষের ভেতরের শক্তিকে কখনো দুর্বলভাবে দেখবেন না’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষ্যে ব্রিটেনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল পাঁচ বিশিষ্ট অভিবাসী বাংলাদেশীর নামে সেখানে পাঁচটি ভবনের নামকরণ করেছে। তাদের অন্যতম সমাজসেবক তাসাদ্দুক আহমেদ এমবিই। এই মানুষটি কে ছিলেন? কেমন ছিলেন?

১৯৬০ সালে, জার্মান স্ত্রী রোজমেরিকে নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মী তাসাদ্দুক আহমেদ প্রতিষ্ঠা করলেন ‘দেশের ডাক’। এটিই বাঙালিদের জন্য ব্রিটেনে প্রথম প্রকাশনা। চার বছর পর আয়-রোজগারের প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে এই দম্পতি প্রতিষ্ঠা করলেন ‘দি গাঙ্গেজ’। সোহোর জোরার্ড স্ট্রিটের রেস্তোরাটি তার সময়ে লন্ডনের সবচেয়ে ভালো ও নামকরা রেস্তোরাগুলোর অন্যতম ছিল। তারা তৈরি করেছিলেন ‘দি গুড ফুড গাইড’। ব্রিটিশ-বাঙালি রেস্তোরা ব্যবসায়ীদের বিশ্বখ্যাত ‘তন্দুরি ওভেন’র ভবিষ্যত গড়ে দেওয়া প্রথম দিকের ভালো রেস্তোরাগুলোর অন্যতম এটি।

‘দি গাঙ্গেজ’ পরে চলে গিয়েছিল পেডিংটনে। সেখানে এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আসা মানুষদের আলোচনার আশ্রয়স্থল। রাজনীতিবিদ, কবি ও ব্রিটিশ রাজনীতির মৌলিক পরিবর্তনের কমীরা সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতেন। আর তারা বাংলাদেশের জন্য নানা পরিকল্পনা করতেন। যে দেশটির জন্ম হয়েছিল অনেক পরে-১৯৭১ সালে। তারা রেস্তোরাটিতে, ব্রিটেনের রাজধানীর সবচেয়ে ভালো এশিয়ান খাবারগুলোর কিছু খেতেন। এভাবে তাদের আলোচনাগুলো উন্নতিও লাভ করতো। এই খাবারগুলোর মেন্যু তৈরি করেছিলেন ও রেস্তোরাটি চালাতেন সমাজের ভালো করতে চাওয়া একজন মানুষ; তিনি ও তার স্ত্রী একটি পত্রিকার প্রকাশক। আকর্ষণীয়ভাবে সেসব ভাবনা, অঙ্গীকার ও আলোচনাগুলো তারা তাতে ছাপতেন। তাদের সংগঠনের অভ্যন্তরীন বুলেটিনেও তেমন আকর্ষণীয়ভাবে ছাপানো হতো।

এই সব কাজের প্রাণ যে মানুষ, তিনি ১৩ জন ভাইবোনের সবার বড়। বিরাট সেই পরিবারের বড় ছেলেটির জন্ম হয়েছিল ভারতবর্ষের আসামে; তারা মধ্যবিত্ত ছিলেন। এই ছেলেটির ভেতরে রাজনীতির প্রতি তুমুল আগ্রহের জন্ম হলো ধাপে, ধাপে, বিশ্রামহীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে। এরপর সিলেটে কলেজে পড়ার সময় তিনি ‘অল আসাম মুসলিম লীগ স্টুডেন্টস ফেডারেশন’র মহাসচিব হলেন। তাসাদ্দুক আহমেদ গণভোটে সিলেট পূর্ব পাকিস্তানে যোগ দেবার জন্য প্রচারাভিযান করেছেন। সেটিই হয়েছে। এরপর তো বাংলাদেশ নামে একটি নতুন দেশ হয়ে গেল পূর্ব পাকিস্তান।

তবে কেবল রাজনীতি নিয়ে পড়ে থাকেননি তিনি, লেখাপড়া করেছেন ভালোভাবে। গ্রাজুয়েশনের পর তাসাদ্দুক চলে এলেন রাজধানী ঢাকায়। এখানেই কর্মজীবনের শুরু হলো তার। ইংরেজি ও বাংলা সংবাদপত্রগুলোতে সাংবাদিক হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন তিনি। তবে তখন পূর্ব-পাকিস্তানের প্রধানত সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলা ভাষার মানুষরা পশ্চিম অংশের ব্যাপকভাবে উর্দু ভাষাভাষীদের কাছ থেকে নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। তাদের অধিকারগুলো উপেক্ষিত হচ্ছিল। পশ্চিম-পাকিস্তানভিত্তিক সরকার নানাভাবে তাদের বঞ্চিত করছিল। এরপর তাসাদ্দুক কমিউনিজমের দিকে চলে গেলেন। তবে তার নামে একটি গ্রেফতারি পরোয়ারা হচ্ছে জানতে পেরে ১৯৫২ সালে পালিয়ে চলে গেলেন লন্ডনে।

প্রথমে লন্ডন কাউন্টি কাউন্সিলে একজন ল্যাবরেটরি টেকনেশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন। তবে তার মৌলিক আগ্রহ পড়েছিল রাজনীতিতে। তাসাদ্দুক আহমেদ ‘দি পাকিস্তান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন সেখানে। নতুন ও কেবল শুরু হওয়া বাংলা ভাষার আন্দোলনের একজন প্রধান সংগঠক হয়ে গেলেন। জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে তিনি বিশ্বাস করতেন, ভাষা সঠিকভাবে নির্ধারণ করে দিচ্ছে এমন একটি সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও অনুশীলন; ধর্ম নয়। বাংলা ভাষার জন্য ১৯৫২ সালের আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানের সমাপ্তি টানার পূর্ব লক্ষণ ও বাংলাদেশের উত্থানের কারণ-তার মনে হতো।

বিভিন্ন পরিকল্পনার অগ্রদূত ছিলেন তিনি। পাকিস্তান সরকার সেই দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রা এনে দেবার বিনিময়ে রপ্তানিকারকদের কমিশন দিয়েছিল। আহমেদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘অ্যাংলো-পাক এন্টারপ্রাইজেস’। যেটি লন্ডনের রান্নাঘরগুলোতে কাজ করা অভিবাসী শ্রমিকদের ও নামমাত্র মজুরিতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে বাধ্য হওয়া শ্রমিকদের অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী লাভ প্রদান করেছিল। পরিপূরক হিসেবে তারা যেন তাদের পরিবারগুলোর কাছে বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেন সে ব্যবস্থাটি করেছে।

১৯৮২ সালে তার প্রিয়তমা স্ত্রী রোজমেরি মারা যান। ফলে গাঙ্গেজ বিক্রি করে দেন হতাশ ও বিষন্নতায় আক্রান্ত তাসাদ্দুক। চলে গেলেন ইস্ট এন্ডে; এটিই লন্ডনের বাংলাদেশীদের হৃদপিন্ড। এখানে তিনি বিপুল পরিমাণ সংগঠনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। তবে তার সবই স্বেচ্ছাসেবায়। ব্রাডে সেন্টার থেকে শুরু করে কাজ করেছেন স্পিটালফিল্ডস স্মল বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনে (এসএসবিএ)। ব্রাডে সেন্টার সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো পরিচালনা করতো আর এসএসবিএ স্থানীয় নামমাত্র শ্রমের মজুরদের কম ভাড়ায় আধুনিক বাসা-বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিত।

এসএসবিএ’র মাধ্যমে তাসাদ্দুক আহমেদ ব্রিটেনের যুবরাজ প্রিন্স চার্লসের একজন বন্ধু হয়ে গেলেন। তারা দুজনেই ইস্ট এন্ডের উন্নয়নের বিষয়ে একই ধরণের পরিকল্পনা করেছিলেন। সেগুলো বিনিময় করেছেন তারা। বিদ্যালয়গুলো থেকে ঝড়ে পড়াদের জন্য সেখানে একটি নৈশ বিদ্যালয় ছিল। নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অল্প বয়সের প্রজন্মটির জন্য ছিল ভাষা শেখার ক্লাসগুলো আর নারীদের জন্য ছিল একটি সামাজিক শিক্ষা কেন্দ্র।

বহু শিক্ষাক্রম এবং শিক্ষায় জোর দিয়ে তাসাদ্দুক আহমেদ বাঙালিদের যেমন বাংলাদেশী সমাজ থেকে বের করে আনতে পেরেছিলেন, তেমনি বাইরের মানুষদের এই সমাজের ভেতরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। ১৯৯৮ সালে একটি স্ট্রোক হলো তার। মস্তিস্কের এই রোগে হঠাৎ তার চৈতন্য ও চলাফেরার শক্তি লোপ পেয়েছিল। তার আগ পযন্ত তিনি তার প্রতিদিন স্পিটালফিল্ডস ঘুরে বেড়ানোর কাজটি করে গিয়েছেন। এখানে কাজ করেছেন নিজের ভেতরের অসীম অনুপ্রেরণা, আশাবাদ, মানবতা ও ভালোবাসায়।

বলেছিলেন-‘একজন মানুষের ভেতরের শক্তিকে কখনো দুর্বলভাবে দেখবেন না।’ আরেকবার বলেছেন, ‘একজন দুজনে পরিণত হন ও আপনি বেশিদিন একা থাকেন না। দুজন সাতজনে পরিণত হন ও এটি একটি দলে পরিণত হয়। সাতজন ৭০ জনে রূপ লাভ করে ও এটি একটি আন্দোলনে পরিণত হয়। ফলে আপনি যা করতে চান, তার যেকোনোকিছুই করতে পারেন।’

এত গুণের তাসাদ্দুক আহমেদ একজন রেস্তোরা ব্যবসায়ী হিসেবেও খ্যাতিমান ব্রিটেনে। তবে প্রধান পরিচয় তিনি সে দেশে বাঙালি কমিউনিটির জন্য কাজ করেছেন।

তাকে ১৯৮৯ সালে একজন এমবিই (অর্ডার অব দি ব্রিটিশ এম্পায়ার) পদকে ভূষিত করা হয়। ২০০০ সালে দি ফ্রিডম অব টাওয়ার হ্যামলেটস সম্মাননা গ্রহণ করেন।

২০০১ সালের ২ এপ্রিল মারা গিয়েছেন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে, ৭৮ বছর বয়সে।

গার্ডিয়ান অবলম্বনে ২৫-১-২০২১।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা