নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করছি: দুদক চেয়ারম্যান

ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলে স্বাধীনভাবে কাজ করার মাত্রা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থার চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, “সব ধরনের স্বাধীনতারই একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের যতটুকু স্বাধীনতা আছে, তার মধ্যেই যতটা সম্ভব ভালোভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।”
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দুদকের গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. আবদুল মোমেন বলেন, “দুদকের কাজ হচ্ছে বিচারের জন্য মামলা তৈরি করা। বিচার করেন আদালত। পাবনা সব সময় একটি প্রতিবাদী জেলা। এই প্রতিবাদটা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও বেশি হওয়া উচিত, যাতে দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে পাবনা আগে দুর্নীতিমুক্ত জেলা হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “নিপীড়নমূলক, নির্যাতনমূলক, শোষণমূলক মামলাগুলোর পরিণতি কী হয়, তা সবার জানা। আমরা যদি সেই ধারাটা অব্যাহত রাখি, তাহলে আমাদেরও একই রকম পরিণতি হবে।”
পাবনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গণশুনানিতে ১৫৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে দুদক ৫৭টি তফসিলভুক্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে শুনানি করে।
ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সরকারি দফতরে হয়রানি ও দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করেন। তাদের বেশির ভাগ অভিযোগ জমিজমা সংক্রান্ত ছিল। বিশেষ করে জোনাল সেটলমেন্ট অফিস ও স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানির নানা অভিযোগ উঠে আসে।
একজন অভিযোগকারী, ইব্রাহিম হোসেন, বলেন, “ভূমি অফিসে চাকরি করে ৫ হাজার টাকা বেতন পাওয়া কর্মচারীরা কীভাবে ৫ তলা বাড়ি বানায়? অথচ আমি দীর্ঘ বছর ইতালি থেকেও ৫ তলা বাড়ি করতে পারিনি। আমার মায়ের জমি নিয়ে মাসের পর মাস সেটলমেন্ট অফিসে ঘুরতে হচ্ছে।”
আরেক ভুক্তভোগী, চর বোয়ালিয়া গ্রামের মজিবর রহমান, অভিযোগ করেন, “ভূমি অফিসের লোকজন টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না। টাকা দিলে কাজ হয়ে যায়, আর না দিলে মাসের পর মাস ঘোরায়। আমাকে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়েছে।”
দুদক চেয়ারম্যান জানান, এসব অভিযোগ তদন্ত করতে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানো হবে।
গণশুনানিতে পাবনার বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, জেনারেল হাসপাতাল, নির্বাচন অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, বিভিন্ন ইনস্যুরেন্স কোম্পানি এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে।
দুদক কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন, পর্যায়ক্রমে সব অভিযোগ তদন্ত করে সমাধান করা হবে।
