শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১১

মোস্তফা রাতেই বলে রেখেছিল এদফু টেম্পল দেখতে যাবার জন্যে বেরোতে হবে সকাল ছয়টায়। রানা ভাইয়ের ধারণা মোস্তফা কিছুটা সময় হাতে রেখেই বলে। কাজেই খুব ভোরে উঠে পড়লেও আমরা নিচের লবিতে এলাম সোয়া ছয়টার দিকে। তখনও দুবাই মরক্কো বাহরাইনের যাত্রীদের দেখা নেই। সাড়ে ছয়টার দিকে সবাই এসে গেলে জলযান ছেড়ে আমরা ডাঙায় নেমে গেলাম। অন্যদিনের মতো কোথাও কোনো গাড়ি অপেক্ষা করে নেই, কিংবা সরাসরি পায়ে হেঁটে মন্দিরে ঢুকে পড়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই। তার পরিবর্তে পথের উপরে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য অশ্বচালিত শকট! সোজা বাংলায় টমটম বা ঘোড়ার গাড়ি।

মিশরে এসে রাজশাহী শহরের প্রধান বাহন দেখে রাজশাহী দুহিতার খুশি হবার কথা! কিন্তু তাঁর মনোভাব বোঝার আগেই মোস্তফার নির্দেশনা অনুসারে আমরা দুজন একটা টাঙ্গায় উঠে বসলাম। তৃতীয় ব্যক্তিটি নিশ্চয়ই রানাভাই হবেন যখন ভাবছি তখনই অপরিচিত আরো একজন আমাদের সাথে এসে জুটলেন এবং মোস্তফার সাথে কিশোর চালকের কী কথপোকথন হলো জানি না, আমাদের অশ্ব শকট একটা আকস্মিক ঝাঁকুনি দিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে শুরু করলো।

এদফু মন্দিরের পথে

খ্রিস্টপূর্ব ৫৭ অব্দে ক্লিওপেট্রার বাবা দশম টলেমি আউলেটাসের আমলে এদফুর মন্দিরের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলেও আমরা দেখতে যাচ্ছি দুই হাজার ঊনআশি বছর পরে। আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট-এর মেসোডেনিয়ান জেনারেল এবং বিশ্বস্ত সঙ্গী প্রথম টলেমি দ্য সেভিয়ার খ্রিস্টপূর্ব ৩০৫ অব্দে নিজেকেই ফারাও প্রথম টলেমি হিসাবে ঘোষণা দিয়ে রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ততোদিনে আলেক্সান্ডারের ভবলীলা সাঙ্গ হয়েছে এবং প্রকৃত ফারাও সম্রাটগণ তখন বিলুপ্ত প্রাণী। যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৩৪১ বছর আগেই শেষ মিশরীয় ফারাওয়ের রাজত্ব শেষ হলে সূচনা হয়েছিল পারস্য রোমান গ্রিকদের রাজত্ব। এদের মধ্যে মিশরের ইতিহাসে টলেমি রাজবংশ সর্বশেষ এবং দীর্ঘতম শাসক রাজবংশ হিসাবে খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দে ক্লিওপেট্রার মৃত্যু পর্যন্ত টিকে গিয়েছিল। এদফুর বর্তমান মন্দিরটি প্রাচীন ফারাওদের বাজপাখির মাথাওয়ালা হোরাসের পুরোনো মন্দিরের জায়গাতেই নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। দেশ ও জাতির রক্ষাকর্তা হিসাবে প্রাচীন মিশরে দেবতাদের সর্দার হোরাসের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। সেই কারণে নতুন ফারাও রাজত্বেও তাঁর গুরুত্ব এতটুকু কমেনি। তৃতীয় টলেমির নির্দেশে এদফু মন্দিরের কাজ শুরু হলেও শেষ করতে সময় লেগেছে দেড়শ বছরের বেশি।

নদীর ঘাট থেকে এদফু মন্দিরের দূরত্ব তিন কিলোমিটারের কিছু বেশি। পথের দুপাশ দিয়ে ঘোড়ার পাড়ি চলাচলের বিরাম নেই। ডানদিক দিয়ে যাত্রী বোঝাই এবং বাঁ দিকেরগুলো খালি। খালি টাঙ্গাগুলো নদীর ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে এদফু মন্দির চত্বরে নামিয়ে দিয়েই আবার ছুটছে। এদের ঘোড়ার গাড়ির চাকা চারটি, সামনের দিকের দুটো আকারে ছোট। নগরীর বাহনের মতো এখানকার পথঘাটও চল্লিশ বছর আগের রাজশাহী শহরের মতো। দীর্ঘ জীর্ণ দেয়াল, কিছু বাসভবনে রঙের ছোঁয়া লাগলেও বেশিরভাগই সস্তা চুনকাম করা অথবা পলেস্তারাখসা বসত বাড়ি। পথে কিছু বন্ধ দোকান চোখে পড়ে, দুই একটা কেবল খুলতে শুরু করেছে। একটা বস্তিও কেবল জেগে উঠছে। ঘোড়ার গাড়ির চাকার শব্দ, খুরের খটখট এবং চালকের মুখে ঢাকা বা রাজশাহীর চালকদের মতো সেই একই ধরনের ‘টিক-টক’ শব্দ! নিশ্চয়ই জাতি গোষ্ঠী নির্বিশেষে ঘোড়াদের জন্যে বোধগম্য করেই সহিসদের মুখে এই ভাষা সৃষ্টি হয়েছে।

মন্দিরে ঘোড়াগাড়ি পার্কিং

আমাদের শকট-সঙ্গী, যাকে আমি এতোক্ষণ নেহায়েতই মিশরের কোনো গ্রামাঞ্চল থেকে আসা সাদামাটা আরবি জানা পর্যটক ভাবছিলাম, হঠাৎ করেই তিনি বিশুদ্ধ ইংরেজিতে জানতে চান, ‘হোয়ার আর ইউ ফ্রম স্যার? আই মিন হুইচ কান্ট্রি?’ বললাম, ‘বাংলাদেশ।’ আমি নিশ্চিত ছিলাম, তিনি বাংলাদেশের নাম কখনো শোনেননি। তাই সঙ্গে সঙ্গেই আবার বললাম, ‘হ্যাভ ইউ এভার হার্ড দ্য নেম অফ আওয়ার কান্ট্রি?’ আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি বললেন, ‘ওহ ইয়া। দেয়ার আর লটস অফ পিপল ফ্রম বাংলাদেশ ইন কানাডা?’ ‘সো... ইউ লিভ ইন কানাডা?’ এরপর তিনি তাঁর কানাডাবাসের বিবরণ দিতে শুরু করলেন। বয়সে আমার চেয়েও কিছুটা বড়ো, এলোমেলো পোশাকের ভদ্রলোকের আদি নিবাস মিশরেই। বহু বছর ধরে কানাডা প্রবাসী হলেও প্রতিবছর নভেম্বর ডিসেম্বরে দুতিন মাসের জন্য দেশে আসেন। তার এই ফিরে ফিরে দেশে আসা যতোটা না দেশপ্রেমের জন্য তারচেয়ে বেশি ঠাণ্ডার কারণে। শীত একেবারেই সহ্য করতে পারেন না বলে এ সময় দেশে চলে আসেন। বললেন, স্ত্রী এবং পুত্র কন্যারা আসতে চায় না বলে তিনি একাই ফিরে আসেন, আসবেন যতোদিন বেঁচে আছেন!

বিশাল অভ্যন্তরীণ চত্বর

এদফু মন্দিরের বাইরে যেখানে আমরা ঘোড়ার গাড়ি থেকে নেমে এলাম সেই জায়গাটাকে কী বলবো, পার্কিংজোন, গ্যারেজ নাকি আস্তাবল বুঝতে পারলাম না। দীর্ঘ কয়েকটি সারিতে শতাধিক টাঙ্গার স্থান সংকুলান হতে পারে। সকালে অবশ্য ঘোড়া এবং সহিস করোরই বিশ্রাম নেবার সময় নেই। প্রবেশ পথের বাইরে আমাদের কিছুক্ষণ দাঁড়াতে হলো। দর্শণার্থী ভক্তগণ সমবেত হলেও সম্ভবত মন্দির দ্বার খোলার সময় তখনো হয়নি। করিৎকর্মা মোস্তফা অবশ্য বুকিং কাউন্টার খোলার প্রায় সাথে সাথেই আমাদের প্রবেশ পত্র সংগ্রহ করে নিয়ে এলো এবং অনতি বিলম্বে আমরা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে মন্দিরের বাইরের চত্বরে ঢুকে পড়লাম। কিছুটা হেঁটে মূল মন্দির পর্যন্ত পৌছাবার আগেই কয়েকটি ভগ্নদশা প্রাচীর, ধ্বসে পড়া তোরণ এবং প্রকাণ্ড পাথরের স্তূপ পেরিয়ে এগোতে থাকি। এ সব ভেঙে পড়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নির্মাণ কৌশল এবং স্থাপত্যকলার বিন্যাস দেখে মুগ্ধ হতে হয়। অনেক দেয়ালেই প্রাচীন মিশরের চিত্রকলায় এখনো ফুটে আছে সমকালের সমাজের দৃশ্যাবলী। কিছু দৃশ্য এখনো রঙিন। হায়রোগ্লিফিক লিপিতে কোথাও কোথাও লেখা রয়েছে সেকালের কথা ও কাহিনি। আমাদের ঠিক পেছনে বিশুদ্ধ বঙ্গ ভাষায় উচ্চস্বরে কথপোকথন শুনে ফিরে দেখলাম পশ্চিম বাংলার জনাকয়েক দাদা বৌদি ঠিক আমাদের পেছনেই আছেন।

এদফু মন্দিরের দেয়াল চিত্র

মূল মন্দিরের প্রবেশ পথের বাইরে দুটি বিশাল সুদৃশ্য তোরণের দুপাশে বাজ পাখির রূপ ধারণ করে গ্রানাইট পাথরে নির্মিত দেবতা হোরাস বসে আছেন। গেটের দেয়ালে করা রিলিফের কাজে দশম টলেমি আউলেটাসকে চিত্রিত করা হয়েছে। তিনি তাঁর শত্রুদের আঘাত করছেন আর দেবতা হোরাস তাকিয়ে দেখছেন। সিনিয়ার দাদাদের একজন বলে উঠলেন, ‘দেখেছিস পেঁচার নাকটা কে যেনো ভেঙে দিয়েছে!’ কমবয়েসী দাদা বললেন, ‘ওটা পেঁচা নয় বাজপাখি, দেবতা হোরাস!’

এই নাক-মুখ-মুণ্ডু ভাঙাভাঙির ব্যাপারটা হাজার বছর ধরেই চলছে। তবে নাক ভাঙার পরেও হোরস মহোদয় যে দুই হাজার বছর টিকে আছে, সেই তো অনেক!

স্তম্ভের উপরে অক্ষত সিলিং 

তোরণ পেরিয়ে ভেতরে আমরা একটা বিস্তৃত খোলা চত্বরে ঢুকে পড়ি। তিনদিকে বত্রিশটি স্তম্ভ দিয়ে ঘেরা এই উন্মুক্ত প্রাঙ্গণেই এক সময় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। কেমন ছিল সেই উপাসনা পদ্ধতি! উঠানের তিন পাশের দেয়ালগুলোতে দেখা যায় হোরাস এবং তাঁর স্ত্রী দেবী হাথোরের রিলিফের কাজ। মূল প্রবেশ পথের বিপরীতে আরো একটি ছোট আকারের পথ দিয়ে ভেতরের হল ঘরে ঢুকে পড়া যায়। ভেতরে পা রাখার পরেই অবাক হয়ে লক্ষ করি মিশরের অন্যসব মন্দিরের ছাদ খুলে পড়লেও দীর্ঘ পিলারের উপরে এখানে সিলিংগুলো অক্ষত অবস্থায় এখনো টিকে আছে। বাইরের হলঘরটির বারোটি স্তম্ভের দুপাশে দুটি লম্বা কক্ষ, যার একটি ছিল ধর্মগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের লাইব্রেরি আর অন্যটি ছিল পবিত্র উৎসর্গের জন্য সংরক্ষিত। ভেতরের দিকের তুলনামূলক ছোট কক্ষটি ছিল ধুপধুনা বা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সুগন্ধি তৈরির ল্যাবরোটারি। দেবতা হোরাসের উদ্দেশ্যে নিবেদিত নৈবেদ্য উপহার রাখার জন্যেও বরাদ্দ ছিল একটি কক্ষ। এসব নৈবেদ্যের কতোটা পাথরের বাজপাখি আর কতোটা পুরোহিতকূলের ভোগে লেগেছে তা এখন বলা কঠিন। এইসব হলঘর এবং পবিত্র কক্ষগুলোর ভেতর দিয়ে সবশেষে যেখানে পৌঁছালাম সেটিই হচ্ছে এদফু মন্দিরের পবিত্রতম স্থান। ঘষেমেজে পালিশ করা গ্রানাইট পাথরের বেদীতে এখানেই ছিল হোরাসের পবিত্র স্বর্ণমূর্তি।

বাইরের হল পেরিয়ে অভ্যন্তরের কক্ষ আবার কক্ষ পেরিয়ে আরো ভেতরের পবিত্র প্রকোষ্ঠ। এখানে খোলা ছাদ নেই, ফলে অন্ধকার কক্ষের ভেতরে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা আছে। তারপরেও কালো পাথরের দেয়াল চিত্র খুব ভালো করে দেখা যায় না। পবিত্রতম মন্দিরে ছবি তুলতে মানা নেই, কিন্তু কৃত্রিম আলো জ্বালাতে মানা। আধো অন্ধকারে বাজপাখি দেবতার মন্দির দর্শন শেষ করে আমরা উল্টো পথে ফিরতে শুরু করি। এই সময় দেখা হয়ে গেল কানাডা প্রবাসীর সাথে। প্রায় তাঁর সমবয়েসী এক ভদ্রমহিলার হাত ধরে অন্ধকার মন্দির থেকে বাইরে আলোর চত্বরে বেরিয়ে আসছেন। মিশরীয় কানাডিয়ান আমাদের দেখে একটা মৃদু হাসি দিলেন। দেখলাম তাঁর সঙ্গিনীর বয়স হয়েছে, কিন্তু এক সময় যে তিনি অসাধারণ সুন্দরী ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

হোরাসের পবিত্র কক্ষ

রানা ভাই আমাদের কিছু আগেই বেরিয়ে এসে প্রধান ফটকের সামনে সান্ধ্যকালীন ‘সাইট এ্যান্ড সাউন্ড’ শোর দর্শকদরে জন্যে পেতে রাখা চেয়ারে বসে তাঁর হাতে থাকা ‘ঈজিপ্ট’ বইটির পাতা ওল্টাচ্ছিলেন। অনেকটা সময় হেঁটে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম বলে আমরাও বসে পড়লে রানা ভাই ইতিহাসের পাতা থেকে কিছুটা উদ্ধৃতি দিলেন।

‘পরিত্যক্ত মন্দিরটি এক সময় নীল নদের পলি এবং মরুভূমি ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে আসা বালিতে সম্পূর্ণ দৃষ্টির আড়ালে চলে গিয়েছিল। অষ্টদশ শতকের শেষ দিকে মন্দির তোরণের উপরের অংশ মানুষের চোখে পড়ে। তবে তারও অনেক পরে ফরাসি মিশরবিদ অগাস্ত মেরিয়েট ধুলো মাটি সরিয়ে এদফুর মন্দির বের করে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।’

রোমের সম্রাট প্রথম থিওডিয়াসের রাজদকীয় আদেশ জারি করে ৩৯১ খ্রিস্টাব্দে রোমানদের সাম্রাজ্যে খ্রিস্টধর্ম ছাড়া অন্য সকল ধর্মের পূজা-অর্চনা, ভক্তি ভাবনা এবং প্রচার প্রচারণা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে ফারাও আমলের আরো অনেক মন্দিরের মতো এদফুর মন্দিরও অবহেলায় অব্যবহারে জীর্ণ হতে থাকে। ধর্মাবতারদের অতি উৎসাহের ফলে অনেক মূর্তির নাক মুখ ভেঙে বা আঁচড়ে দিয়ে বিকৃত করে ফেলা হয়। দেয়ালের সুদৃশ্য রিলিফের কাজগুও এসব ধর্মান্ধ খ্রিস্টান পুরোহিতদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়নি। এদফুর হাইপোস্টাইল হলের অভ্যন্তীর ছাদটি কালো রঙের। ধারণা করা হয়, অখ্রিস্টান পৌত্তলিকদের দেব দেবীর সব ধরনের চিহ্ন মুছে ফেলতে মন্দিরের ভেতের আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল।

এদিক থেকে আফগানিস্তানের মোল্লা এবং রোমান যাজকদের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তবে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় খ্রিস্টানরা পরবর্তী সময়ে সভ্য হয়ে উঠলেও মুসলমানরা দুই হাজার বছর পরেও সভ্যতার আলোক বঞ্চিতই থেকে গেছে।

মন্দির গেটের সামনে 

প্রত্ন এলাকা থেকে বেরিয়ে যাবার আগে মোস্তফা আমাদের নয়জনকে আবার একত্রিত করে কিছুটা আরবি এবং কিছুটা অ্যারাবিশ ইংরেজিতে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়ে দিল। সব কথা শোনা বা বোঝার দরকার মনে হলো না, তবে শেষে সে অভ্যাস মতো জোরে একটা হাঁক দিয়ে বললো, ‘তামাম!’ ছোটবেলায় পড়া আরব্য রজনী বা বাদশাহী গল্পের বইয়ের শেষে লেখা থাকতো ‘তামাম শোধ’, যার অর্থ সম্ভবত সমাপ্ত। এখানে মোস্তফার ‘তামাম’ অর্থ ইংরেজিতে ‘ওকে’ অথবা বাংলায় ‘ঠিক আছে?’ ধরনের কিছু একটা হবে। বুঝলাম এদফুর মন্দির দর্শন শেষ, এখন যে যার টাঙ্গায় উঠে ফিরে যেতে হবে জাহাজে।

বাইরে বেরিয়ে দেখলাম অসংখ্য অশ্বশকটে পরিপূর্ণ পার্কিং এলাকা থেকে নিজেদের ঘোড়ার গাড়ি খুঁজে বের করাই কঠিন। সহিসদের চিৎকার চেঁচামেচি, ফেরিওয়ালাদের হাঁক ডাক, চলমান টাঙ্গার খটখট এবং গাইডদের দিক নির্দেশনার মতো হুলস্থুলের ভেতরেও মোস্তফা ঠিকই আমাদের গাড়ি খুঁজে বের করে তুলে দিল। এখন অপেক্ষা শুধু কানাডিয়ান ভদ্রলোকের জন্য! দেখা গেল কিছু দূরে তিনি সেই সাবেক সুন্দরীকে বেশ সাবধনাতার সাথে একটি টাঙ্গায় তুলে দিচ্ছেন। এরপর তাঁর উদ্দেশ্যে সম্ভবত কিছু সাবধান বাণী উচ্চারণ করে তিনি আমাদের গাড়িতে এসে উঠলেন। কে জানে, তিনি হয়তো কানাডার শৈত্য প্রবাহের কারণে নয়, তাঁর বোন, বান্ধবী কিংবা প্রাক্তন প্রেমিকার ঊষ্ণতার কারণেই ফিরে ফিরে মিশরে আসেন।

চলবে...

এসএ/

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১০

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৯

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৮

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৭

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৬

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৫

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৪

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৩

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ২

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১

 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী