শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব: ৬

অঘ্রানের অন্ধকারে

তুরির সঙ্গে শাবিনের আবার দেখা হলো পরদিন রাতে। তুরি গিয়েছিল শপিংয়ে। ছোটোখাটো টুকটাক কেনাকাটা। তাতে রাত হয়ে গেল। রিকশা থেকে নামতেই দেখে ওদের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে শাবিন দাঁড়িয়ে আছে।
তুরি এগিয়ে এসে বলল, ‘আপনি!’
তুরির সঙ্গে গতকাল কথা বলার পর থেকে শাবিনের মন কেমন যেন অস্থির হয়ে পড়েছে। খানিক বিভোর, খানিক ছটফটে। তুরির দিকে তাকিয়ে ওর আবারও মনে হলো, মানুষ এত সুন্দর হয়! অন্যমনষ্ক হয়ে পড়েছিল শাবিন। তুরির প্রশ্নে চমকাল।
‘আমার কাছে এসেছেন, না অন্য কোনো কাজে?’
শাবিন যতখানি সম্ভব নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বলল, ‘গতকাল একটা মিথ্যা বলেছিলাম আপনাকে। কেন বলেছিলাম জানি না। তবে বলার পর থেকে খারাপ লাগছে। তাই স্যরি বলতে এসেছি।’
‘মিথ্যেটা কী?’
‘আমার মা আমাকে ‘সাবু’ বলে ডাকেন না। ডাকেন ‘শিব’ বলে।’
‘বাহ্ ভালো তো। শিব হচ্ছেন দেবতা। শিব অর্থ সুন্দর। মঙ্গল, কল্যাণ।’
‘আমার কেমন জানি লাগে।’
‘সে মা ডাকেন ডাকুন। আপনাকে আমি ‘শাবিন’ বলেই ডাকব।’

তুরি তাকায় শাবিনের দিকে। ছেলেটিকে ভালো লাগে। সহজ সরল। ওর দৃষ্টিতে কী যেন আছে। চোখের দিকে তাকালে বুকের ভেতর অচেনা তোলপাড় শুরু হয় নিজের অজান্তে। ওর দৃষ্টি যেন ভেতরটাকে স্পর্শ করে খুব আলতোভাবে নরম করে।
তুরি বলল, ‘কাল আসুন বাসায়। বড়ো’পার সাথে পরিচয় করিয়ে দেব।’

শাবিন পরদিন বিকেলে এলো তুরিদের বাসায়। তুরির বড়ো আপাকে বেশ ভালো লাগল শাবিনের। ভীষণ প্রাণবন্ত। খুব হাসেন। নিপাট ভালোমানুষ। আদুরে ভঙ্গিতে মিষ্টি করে কথা বলেন। দু’এক কথার পর কী সুন্দর ‘তুমি’ করে বললেন, ‘শাবিন ভাই শোনো! আমার ওই আপনি টাপনি কিন্তু আসে না। আমি তোমাকে ‘তুমি’ করে বলব।’
‘আমি খুশি হব। আপনি তো আমারও বড়ো বোন।’ কাতর গলায় শাবিন বলল, ‘আমার কোনো বড়ো বোন নেই।’
‘হয়েছে। আমি তোমার বড়ো বোন।’
শাবিন বড়ো আপার কথা শুনে যত না মুগ্ধ হলো তারচেয়ে বেশি হয়েছে খুশি। বড় আপা ওদের ড্রয়িংরুমে বসিয়ে ভেতরে গেলেন নাস্তা বানাতে। আজ নাকি শাবিনকে আপা এক্সপেরিমেন্টাল স্ন্যাকস টেস্ট করাবেন।

তুরি আর শাবিন বসে আছে। তারা নিজেরা কথা বলছে। যেন কতদিনের পরিচিত। শাবিন নিজের কথা বলে যাচ্ছে। তুরি তুরির। শাবিনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তুরি অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ছে বারবার। তার ভেতরে কোথায় যেন তিরতির করে কেঁপে উঠছে। সেই কাঁপন ধরা দিয়েছে চোখের পাতায়।
তুরি বলল, ‘মাঝেমধ্যে খুব হাঁসফাঁস লাগে। ছুটে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে করে কোথাও। ঠিক বুঝতে পারি না কোথায় যেতে মন চায়। সমুদ্র নাকি পাহাড়ের কাছে। নাকি দূর কোনো নির্জন গ্রামে।’
শাবিন বলল, ‘বেরিয়ে পড়লেই হয়। পথই নিয়ে যাবে কোথাও।’
‘এরকম টুকটাক ভালোলাগা, নিজেদের পছন্দের কথা ভাগাভাগি করে নেয় ওরা।’
কোথাও যাওয়া যে তুরির বারণ। আবার কোন ভুল পিছু টানে! কিছুই দেখা হলো না তার। না সমুদ্র, না পাহাড়। না কোনো এক নির্জন গ্রাম। এসবের কিছুই শাবিনকে বলে না তুরি।
শাবিন জিগ্যেস করল, ‘কেন যাওয়া হয়নি কোথাও?’
তুরি হাসে। ওর সেই মন পাগল করা হাসি। বলল, ‘তারাশঙ্করের ‘কবি’র কথা মনে আছে? নিতাই গান লিখল, ‘আমার কর্মফল, দয়া করে ঘুচাও হরি-জনম করো সফল।’ আমার হয়েছে সেই দশা। সবই আমার কর্মফল।’
‘কবি পড়া হয়নি’, লজ্জা পায় শাবিন কথাটা বলতে গিয়ে।
তুরি অবাক হয়ে বলে, ‘‘কবি’ পড়েননি! বিরাট মিস করেছেন। আচ্ছা ঠিক আছে ‘দৃষ্টিদান’ তো পড়েছেন।’
‘বাউণ্ডুলে টাইপ মানুষ আমি। বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন কেউ কোনোদিন খোঁজ নেইনি আমার। কী পড়ছি, আদৌ পড়ছি কিনা। ইশকুল, কলেজে পড়ার সময় পরীক্ষা দিতাম কিনা, পাশ করেছি কিনা-এসব কেউ কখনো জানেনি। আমাকে নিয়ে কারও কখনো কোনো মাথাব্যথা ছিল না। এখনো নেই।’

তুরি খেয়াল করল শাবিনের চোখভরা অভিমান। তার চোখ থেকে অভিমান ঝরে পড়ছে। তাকে কথাগুলো বলতে পেরে নিশ্চয় শাবিনের ভালো লাগছে।
‘বন্ধুদের সাথে ইশকুলে যেতাম। অনেকদিন দেখেছি আমার শার্টের বোতাম ছেঁড়া। বন্ধুরা দেখিয়ে দিত। কেউ কেউ হাসাহাসি করত।’
‘মা খেয়াল করতেন না?’
শাবিন বুকের ভেতর লম্বা শ্বাস টেনে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘চণ্ডালের মতো রাগ বাবার। কথায় কথায় রাগারাগি করত। মা বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকত বাবা যাতে রেগে না যান। আমার দিকে খেয়াল করার সময় ছিল না তার।’
কথাগুলো বলতে গিয়ে গলা ধরে এলো শাবিনের। মুখ ঘুরিয়ে নিল অন্যদিকে। তুরি মাথা নিচু করে বসে আছে বিভোর হয়ে। বুকের ভেতর নিজের অজানিতেই মোচড় দিয়ে ওঠে তুরির। তবে চট করে নিজেকে সামলেও নেয়।
তুরি নিচু গলায় জিগ্যেস করল, ‘আর কলেজে?’
‘তখন পাড়ার বন্ধুদের কাছ থেকে মাস্তান হওয়ার ট্রেনিং নিতে শুরু করেছি। মাস্তান হতে পারলাম না। তাদের সঙ্গে থাকলাম ঠিকই তবে আলাদা হয়ে। ভার্সিটিতেও একই অবস্থা। গতবছর পরীক্ষা ড্রপ দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর পড়াশোনা করব না।’
‘এমন ভাবার কোনো মানে নেই। নতুন করে আবার শুরু করা যায় সব। ইচ্ছে করলেই হয়।’
শাবিন নিজের ভেতর শক্তি খুঁজে পাচ্ছে। উচ্ছ্বল চোখে বলল, ‘আপনি একটা কাজ করবেন? আমাকে কয়েকটা বইয়ের নাম লিখে দিন। আমি পড়ব।’
‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পগুলো পড়ুন।’
‘ওরকম করে বললে হবে না। কাগজে লিখে দিন।’
‘ঠিক আছে। লিখে দিচ্ছি। প্রথমে খুব বেশি না। অল্প কয়েকটা। কমন বাঁধলে সেগুলো পড়ার দরকার নেই।’
তুরি কাগজ কলম এনে তাতে বইয়ের নামের তালিকা তৈরি করতে বসল। একটু চিন্তা করে আবার লেখে।
উদাস হয়ে পড়ে শাবিন। হঠাৎ নিজেকে খুব একা মনে হয়। শূন্য হয়ে আসে চারপাশ। মনে হয় কে যেন নেই। কোনোদিন কি কেউ ছিল যে ওকে নিয়ে ভেবেছে! ওর জন্য অস্থির হয়েছে কখনো! কেন জানি খুব মায়ের কথা মনে পড়ছে। বাবার সামনে মায়ের সেই ভীত মুখ।
শাবিনের দিকে তাকায় তুরি। মুখ ঘুরিয়ে আছে শাবিন অন্যদিকে। তুরি নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘বাড়িতে কে কে আছেন?’
‘শুধু মা। আর বাবা কোথায় আছেন জানি না।’
‘বাবা কোথায় আছেন জানেন না, বুঝিনি ব্যাপারটা।’
‘বাবা ইঞ্জিনিয়ার। পাশ করার পর অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা কাজে লাগানোর বিশেষ চেষ্টা করেননি। ব্যবসা শুরু করেছিলেন। প্রতিবছর ব্যবসায় লস খেয়েছেন। মাকে টর্চার করতেন নানার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য। মা এনে দিয়েছে। বাবা এখন আমাদের সঙ্গে থাকেন না।’
কষ্ট হয় তুরির। একজন সাদাসিধে মানুষের জীবনটা এমন কেন হবে! চোখে পানি চলে এসেছিল। আটকায়। তুরি বলল, ‘পড়াশোনা করতে কি একেবারেই ইচ্ছে করে না?’
‘কতকিছুই তো ইচ্ছে করে। সব ইচ্ছে কি পূরণ হয়?’
‘আর কী ইচ্ছে হয়?’
‘ইচ্ছে হয় কোনো এক বড়ো পুকুরের পানিতে কারও সঙ্গে পা ডুবিয়ে বসে থাকি।’

বড়ো আপা এসেছেন নাস্তা নিয়ে। হইচই করে বললেন, ‘চুপচাপ খেয়ে যাবে। কোনো মন্তব্য করবে না। ইউটিউব থেকে রেসিপি নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেছি। আজই প্রথম।’
ঘরের গুমোট পরিবেশ হালকা হয়ে গেল। শাবিন বলল, ‘ভালো লাগলেও বলা যাবে না?’
‘তার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটা হয়েছে অক্সিজেনের মতো। নিজে জ্বলে না, অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে। মুখে দিয়ে জ্বলে উঠবে।’
তুরি বলল, ‘যেমনই লাগুক এমন এক্সপ্রেশন দেবেন যেন মনে হয় খেতে খুব ভালো লাগছে।’
বড়ো আপা ওদের দুজনকে স্ন্যাকস দিয়েছে। শাবিন খেয়ে বলল, ‘ওয়াও! দারুণ হয়েছে।’
তুরি হেসে ফেলেছে। সে হাসতে হাসতে বলল, ‘বলেছিলাম শুধু এক্সপ্রেশন দিতে। আপনি দেখি ডায়ালগসহ দিচ্ছেন।’
খাবার সত্যি মজা হয়েছে। শাবিন আনন্দ নিয়ে খাচ্ছে।

(চলবে)

 

পর্ব ৫: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৪: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৩: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ২: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ১: অঘ্রানের অন্ধকারে

 

Header Ad
Header Ad

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য তারুণ্য উৎসবের আয়োজন

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘তারুণ্য উৎসব-২০২৫' আয়োজিত হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি)। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ আয়োজন হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এনডিসি শীষ হায়দার চৌধুরী। অন্যান্য অতিথিরা হলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত) জনাব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক এম. এ. এন শাহীন, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পঙ্কজ বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং তারুণ্যে উৎসবের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের  উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর 'জুলাই বিপ্লব ও তথ্য প্রযুক্তি' বিষয়ক ডকুমেন্টারি এবং 'জুলাই বিপ্লবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়' দুইটি পৃথক ডকুমেন্টারি দেখানো হয়। তারুণ্য উৎসবে অনলাইন ভিত্তিক কুইজ এবং একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়। 

বিশেষ অতিথি শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, 'তারুণ্য উৎসবের মাধ্যমে ড. ইউনূস সরকারের পক্ষে আমরা একটি মেসেজ দেওয়া চেষ্টা করছি এদেশের তরুণরাই সবকিছুর চালিকা শক্তি। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে এটা প্রমাণিত। তারুণ্য উৎসবের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে করার কারণ হলো জুলাই বিপ্লবের অন্যতম স্থান ছিল কুমিল্লা। এছাড়া এই এলাকা একটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এডুকেশন হাব। এই অঞ্চলে একসঙ্গে অনেক ভালো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পরবর্তী ইনোভেশন হাবটি আমরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করবো।'

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো হায়দার আলী বলেন, 'আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আইসিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের অনুষ্ঠানের ভেন্যু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে করার জন্য এবং আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি আইসিটি মন্ত্রণালয়কে। তরুণদের এগিয়ে যাএয়ার পথ এখন সেটা তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ।  তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় একটি সুন্দর উদ্যোগ নিয়েছে  তরুনদের উদ্ভাবন ও উদ্দোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। আজকের আইসিটি মানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগৎ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগৎ খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ এখন এসব বিষয়ে তরুণদের টার্গেট হওয়া উচিত। যদি মন্ত্রণালয় থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক কিছু প্রজেক্ট হাতে নেয় সেখানেও আমরা সহযোগিতা করবো।'

তিনিও আরো, 'বলেন আইসিটি মন্ত্রণালয়কে সচিব ঘোষণা দিয়েছেন এখানে একটি আইসিটি হাব হবে এতে আমি আমি খুব খুশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় খুশি। তরুণদের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে আসতে হবে। আর এই হাবটিকে আমরা দেশের প্রথম এআই হাব বানানোর জন্য চেষ্টা করবো। কারন, এই সেক্টরে দেশ ও বিদেশে প্রচুর চাহিদা রয়েছে।'

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, 'আমাদের পুরো কার্যক্রমকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য যারা কাজ করেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। ভাষার মাসে আমাদের যে এই সুন্দর আয়োজন আমি শ্রদ্ধাভাবে স্মরণ করি বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি, বিশেষ করে চব্বিশে জুলাই বিপ্লবে যে আত্মত্যাগ ছিলো তাদেরকে বিশেষভাবে স্মরণ করি। গভীরভাবে স্মরণ করছি আমাদের ছাত্র শহিদ আবদুল কাইয়ুমকে যিনি চব্বিশের আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছেন।' 

তিনি আরও বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমি আরও বলে দিতে চাই বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরকে গ্লোবাল প্রডাক্ট হিসেবে নিজেদের পরিচিত করতে হবে।'

Header Ad
Header Ad

নতুন ছাত্রসংগঠন থেকে ২ নেতার পদত্যাগ

সালাহউদ্দিন আম্মার এবং মেহেদী সজীব। ছবি: সংগৃহীত

নবগঠিত ছাত্রসংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই সমন্বয়ক। ঢাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আধিপত্যের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তারা।

পদত্যাগকারী দুই নেতা হলেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী সজীব ও যুগ্ম সদস্যসচিব সালাহউদ্দিন আম্মার। তারা উভয়েই রাবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন।

গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’। সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে আবু বাকের মজুমদার এবং সদস্যসচিব হিসেবে জাহিদ আহসান-এর নাম ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ২০৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এই কমিটিতে ৬ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় মেহেদী সজীবকে, আর ১ নম্বর যুগ্ম সদস্যসচিব হন সালাহউদ্দিন আম্মার। কিন্তু কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা দুজনই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

ফেসবুকে মেহেদী সজীব লিখেছেন- ‘নতুন বন্দোবস্তের নামে ঢাকা ও ঢাবিকেন্দ্রিক ফ্যাসিবাদী মনোভাবের উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার প্রতিবাদেই আমি এই প্ল্যাটফর্মে থাকতে রাজি না।’

তিনি আরও লেখেন- ‘আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে সংগঠনে যুক্ত করা হয়েছে, যা আমি প্রত্যাখ্যান করছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে ঢাবিকেন্দ্রিক মনোভাব যেভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমি এই সংগঠনের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বোঝাপড়ায় যেতে রাজি নই।’

সালাহউদ্দিন আম্মারের বক্তব্য- ‘এই সংগঠন সর্বজনীন হতে পারত, কিন্তু বর্তমান অবস্থানের কারণে শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস রাখতে পারছে না। আমাদের আন্দোলনের প্রধান শক্তি ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা, তাদের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে রাজনীতি করা সম্ভব নয়।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন- ‘রাবি শিক্ষার্থীরা চাইছে না ঢাবিকেন্দ্রিক আধিপত্য বজায় থাকুক। তাই আমরাও থাকতে চাই না।’

এই পদত্যাগের ঘটনায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি স্পষ্ট হয়েছে। সংগঠনটি কতটা সর্বজনীন হতে পারবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

Header Ad
Header Ad

রাত পোহালেই বিএনপির নওগাঁ সদর ও পৌরসভা ভোট

ছবি: সংগৃহীত

একযুগ পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নওগাঁয় সদর উপজেলা ও পৌরসভার কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। রাত পোহালেই যেখানে ভোটাররা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে তাদের প্রত্যক্ষ ভোট প্রদান করবেন। দীর্ঘদিন পর কাউন্সিল হওয়ায় প্রার্থী ও সদস্যদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীরা নিজেদের জানান দিতে গত কয়েকদিন থেকে শহর ও গ্রামে মাইকের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করেছেন। তবে কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা তা ঠিক করবেন ভোটাররা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়- নওগাঁ পৌরসভা বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিলো ২০১০ সালে। যেখানে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কিমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুন নবী সাজা। বর্তমানে মোট ভোটার রয়েছে ৬৩৯ জন।

অপরদিকে, নওগাঁ সদর উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১২ সালে। যেখানে ৭১সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু এবং সাধারণ সম্পাদক আ শ ম আল কাফী তুহিন। বর্তমানে মোট ভোটার রয়েছে ৮৫২ জন।

নওগাঁ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি পদে দুই প্রার্থী- মোঃ নুরুন নবী সাজা ও শেখ মোঃ মিজানুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী- শাহ্ আজিজুর রহমান চৌধুরী হিরু, মোঃ আব্দুল মতিন তালুকদার এবং মোঃ দিদারুল হক রতন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পাঁচজন প্রার্থী-আগফা উদ দৌলা সবুজ, মোঃ মতিউর রহমান (বুলু), মোঃ মহসিন আলী, এস,এম শহীদুল ইসলাম (সাথী) এবং মোঃ শাহীদুজ্জামান (সাইদ)।
নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ আমিনুল হক বেলাল।

অপরদিকে, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে দুই প্রার্থী- দেওয়ান মোস্তাক আহমেদ (রাজা) ও মো. সারওয়ার কামাল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন প্রার্থী- মোঃ আব্দুস সালাম পিন্টু, মোঃ নাদিম কুদ্দুস, সরদার সাইফুল ইসলাম সাজু এবং শ.ম.আ. আল কাফী তুহিন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চারজন প্রার্থী- মোঃ খালেদ হাসান (লিপ্ত), মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ আরিফুল হক রানা এবং মোঃ ওবাইদুর রহমান।

নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. ফারুকুজ্জামান ফারুক, সহকারি নির্বাচন কমিশনার এ্যাড. মিনহাজুল ইসলাম ও মো. মোশারফ হোসেন।

পৌরসভা বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ নুরুন নবী সাজা ঢাকাপ্রকাশকে বলেন- ‘দলকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে কাউন্সিল খুবই দরকার। এতোদিন দলে যে দূর্বলতা ছিলো তা কাটিয়ে উঠবে। সেইসাথে এ কমিটির মাধ্যমে দল আগামীতে মজুত হবে এবং গতিশীল বাড়বে।’

সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী দেওয়ান মোস্তাক আহমেদ (রাজা) ঢাকাপ্রকাশকে বলেন- দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে সদস্যদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আশাবাদী নির্বাচনে ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।

নির্বাচনের দায়িত্বরতা জানান- সকাল ১০ টায় নওগাঁ সরকারি কেডি উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌর বিএনপি এবং সকাল ৯টায় নওগাঁ প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই) নওগাঁ সদর উপজেলা বিএনপির ভোট গ্রহণ শুরু হবে। চলবে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হওয়ায় স্বচ্ছতা থাকবে। যেখানে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য তারুণ্য উৎসবের আয়োজন
নতুন ছাত্রসংগঠন থেকে ২ নেতার পদত্যাগ
রাত পোহালেই বিএনপির নওগাঁ সদর ও পৌরসভা ভোট
দেশের বাজারে ফের কমলো সোনার দাম
চুয়াডাঙ্গায় গুণগতমানসম্পন্ন বীজ আখ উৎপাদন কৌশল ও ব্যবহারবিষয়ক দুদিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
টাঙ্গাইলে শিক্ষা সফরের ৪ বাসে ডাকাতি-লুটপাট, গ্রেফতার ৪
সবার জন্য উন্মুক্ত কনসার্ট, জেমসসহ গাইবেন আরও পাঁচ ব্যান্ড
বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এমন সংবাদ দিয়ে ছেলেকে অপহরণ
রামপুরায় গাড়িচাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত, বাসে আগুন
একযোগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৫৩ জন কর্মকর্তাকে রদবদল
‘টাকা-পয়সা-গয়না কেড়ে নেওয়াতে দুঃখ পাইনি, কিন্তু ধর্ষণের মিথ্যা খবর প্রচারে আমি ভেঙে পড়েছি’
বৈষম্যবিরোধীদের নতুন দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’, নেতৃত্বে যারা
নিরাপদ পানি পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’: বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৭৪৩ জন
বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ পরিত্যক্ত
বেক্সিমকোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ শুরু ৯ মার্চ, সরকারের ব্যয় ৫২৫ কোটি টাকা
চা দোকানির ছেলে হলেন বিচারক
টাঙ্গাইলে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে গেল চালকের প্রাণ
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২৭১ পদে বিশাল নিয়োগ
বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টা