শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব: ৬

অঘ্রানের অন্ধকারে

তুরির সঙ্গে শাবিনের আবার দেখা হলো পরদিন রাতে। তুরি গিয়েছিল শপিংয়ে। ছোটোখাটো টুকটাক কেনাকাটা। তাতে রাত হয়ে গেল। রিকশা থেকে নামতেই দেখে ওদের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে শাবিন দাঁড়িয়ে আছে।
তুরি এগিয়ে এসে বলল, ‘আপনি!’
তুরির সঙ্গে গতকাল কথা বলার পর থেকে শাবিনের মন কেমন যেন অস্থির হয়ে পড়েছে। খানিক বিভোর, খানিক ছটফটে। তুরির দিকে তাকিয়ে ওর আবারও মনে হলো, মানুষ এত সুন্দর হয়! অন্যমনষ্ক হয়ে পড়েছিল শাবিন। তুরির প্রশ্নে চমকাল।
‘আমার কাছে এসেছেন, না অন্য কোনো কাজে?’
শাবিন যতখানি সম্ভব নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বলল, ‘গতকাল একটা মিথ্যা বলেছিলাম আপনাকে। কেন বলেছিলাম জানি না। তবে বলার পর থেকে খারাপ লাগছে। তাই স্যরি বলতে এসেছি।’
‘মিথ্যেটা কী?’
‘আমার মা আমাকে ‘সাবু’ বলে ডাকেন না। ডাকেন ‘শিব’ বলে।’
‘বাহ্ ভালো তো। শিব হচ্ছেন দেবতা। শিব অর্থ সুন্দর। মঙ্গল, কল্যাণ।’
‘আমার কেমন জানি লাগে।’
‘সে মা ডাকেন ডাকুন। আপনাকে আমি ‘শাবিন’ বলেই ডাকব।’

তুরি তাকায় শাবিনের দিকে। ছেলেটিকে ভালো লাগে। সহজ সরল। ওর দৃষ্টিতে কী যেন আছে। চোখের দিকে তাকালে বুকের ভেতর অচেনা তোলপাড় শুরু হয় নিজের অজান্তে। ওর দৃষ্টি যেন ভেতরটাকে স্পর্শ করে খুব আলতোভাবে নরম করে।
তুরি বলল, ‘কাল আসুন বাসায়। বড়ো’পার সাথে পরিচয় করিয়ে দেব।’

শাবিন পরদিন বিকেলে এলো তুরিদের বাসায়। তুরির বড়ো আপাকে বেশ ভালো লাগল শাবিনের। ভীষণ প্রাণবন্ত। খুব হাসেন। নিপাট ভালোমানুষ। আদুরে ভঙ্গিতে মিষ্টি করে কথা বলেন। দু’এক কথার পর কী সুন্দর ‘তুমি’ করে বললেন, ‘শাবিন ভাই শোনো! আমার ওই আপনি টাপনি কিন্তু আসে না। আমি তোমাকে ‘তুমি’ করে বলব।’
‘আমি খুশি হব। আপনি তো আমারও বড়ো বোন।’ কাতর গলায় শাবিন বলল, ‘আমার কোনো বড়ো বোন নেই।’
‘হয়েছে। আমি তোমার বড়ো বোন।’
শাবিন বড়ো আপার কথা শুনে যত না মুগ্ধ হলো তারচেয়ে বেশি হয়েছে খুশি। বড় আপা ওদের ড্রয়িংরুমে বসিয়ে ভেতরে গেলেন নাস্তা বানাতে। আজ নাকি শাবিনকে আপা এক্সপেরিমেন্টাল স্ন্যাকস টেস্ট করাবেন।

তুরি আর শাবিন বসে আছে। তারা নিজেরা কথা বলছে। যেন কতদিনের পরিচিত। শাবিন নিজের কথা বলে যাচ্ছে। তুরি তুরির। শাবিনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তুরি অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ছে বারবার। তার ভেতরে কোথায় যেন তিরতির করে কেঁপে উঠছে। সেই কাঁপন ধরা দিয়েছে চোখের পাতায়।
তুরি বলল, ‘মাঝেমধ্যে খুব হাঁসফাঁস লাগে। ছুটে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে করে কোথাও। ঠিক বুঝতে পারি না কোথায় যেতে মন চায়। সমুদ্র নাকি পাহাড়ের কাছে। নাকি দূর কোনো নির্জন গ্রামে।’
শাবিন বলল, ‘বেরিয়ে পড়লেই হয়। পথই নিয়ে যাবে কোথাও।’
‘এরকম টুকটাক ভালোলাগা, নিজেদের পছন্দের কথা ভাগাভাগি করে নেয় ওরা।’
কোথাও যাওয়া যে তুরির বারণ। আবার কোন ভুল পিছু টানে! কিছুই দেখা হলো না তার। না সমুদ্র, না পাহাড়। না কোনো এক নির্জন গ্রাম। এসবের কিছুই শাবিনকে বলে না তুরি।
শাবিন জিগ্যেস করল, ‘কেন যাওয়া হয়নি কোথাও?’
তুরি হাসে। ওর সেই মন পাগল করা হাসি। বলল, ‘তারাশঙ্করের ‘কবি’র কথা মনে আছে? নিতাই গান লিখল, ‘আমার কর্মফল, দয়া করে ঘুচাও হরি-জনম করো সফল।’ আমার হয়েছে সেই দশা। সবই আমার কর্মফল।’
‘কবি পড়া হয়নি’, লজ্জা পায় শাবিন কথাটা বলতে গিয়ে।
তুরি অবাক হয়ে বলে, ‘‘কবি’ পড়েননি! বিরাট মিস করেছেন। আচ্ছা ঠিক আছে ‘দৃষ্টিদান’ তো পড়েছেন।’
‘বাউণ্ডুলে টাইপ মানুষ আমি। বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন কেউ কোনোদিন খোঁজ নেইনি আমার। কী পড়ছি, আদৌ পড়ছি কিনা। ইশকুল, কলেজে পড়ার সময় পরীক্ষা দিতাম কিনা, পাশ করেছি কিনা-এসব কেউ কখনো জানেনি। আমাকে নিয়ে কারও কখনো কোনো মাথাব্যথা ছিল না। এখনো নেই।’

তুরি খেয়াল করল শাবিনের চোখভরা অভিমান। তার চোখ থেকে অভিমান ঝরে পড়ছে। তাকে কথাগুলো বলতে পেরে নিশ্চয় শাবিনের ভালো লাগছে।
‘বন্ধুদের সাথে ইশকুলে যেতাম। অনেকদিন দেখেছি আমার শার্টের বোতাম ছেঁড়া। বন্ধুরা দেখিয়ে দিত। কেউ কেউ হাসাহাসি করত।’
‘মা খেয়াল করতেন না?’
শাবিন বুকের ভেতর লম্বা শ্বাস টেনে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘চণ্ডালের মতো রাগ বাবার। কথায় কথায় রাগারাগি করত। মা বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকত বাবা যাতে রেগে না যান। আমার দিকে খেয়াল করার সময় ছিল না তার।’
কথাগুলো বলতে গিয়ে গলা ধরে এলো শাবিনের। মুখ ঘুরিয়ে নিল অন্যদিকে। তুরি মাথা নিচু করে বসে আছে বিভোর হয়ে। বুকের ভেতর নিজের অজানিতেই মোচড় দিয়ে ওঠে তুরির। তবে চট করে নিজেকে সামলেও নেয়।
তুরি নিচু গলায় জিগ্যেস করল, ‘আর কলেজে?’
‘তখন পাড়ার বন্ধুদের কাছ থেকে মাস্তান হওয়ার ট্রেনিং নিতে শুরু করেছি। মাস্তান হতে পারলাম না। তাদের সঙ্গে থাকলাম ঠিকই তবে আলাদা হয়ে। ভার্সিটিতেও একই অবস্থা। গতবছর পরীক্ষা ড্রপ দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর পড়াশোনা করব না।’
‘এমন ভাবার কোনো মানে নেই। নতুন করে আবার শুরু করা যায় সব। ইচ্ছে করলেই হয়।’
শাবিন নিজের ভেতর শক্তি খুঁজে পাচ্ছে। উচ্ছ্বল চোখে বলল, ‘আপনি একটা কাজ করবেন? আমাকে কয়েকটা বইয়ের নাম লিখে দিন। আমি পড়ব।’
‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পগুলো পড়ুন।’
‘ওরকম করে বললে হবে না। কাগজে লিখে দিন।’
‘ঠিক আছে। লিখে দিচ্ছি। প্রথমে খুব বেশি না। অল্প কয়েকটা। কমন বাঁধলে সেগুলো পড়ার দরকার নেই।’
তুরি কাগজ কলম এনে তাতে বইয়ের নামের তালিকা তৈরি করতে বসল। একটু চিন্তা করে আবার লেখে।
উদাস হয়ে পড়ে শাবিন। হঠাৎ নিজেকে খুব একা মনে হয়। শূন্য হয়ে আসে চারপাশ। মনে হয় কে যেন নেই। কোনোদিন কি কেউ ছিল যে ওকে নিয়ে ভেবেছে! ওর জন্য অস্থির হয়েছে কখনো! কেন জানি খুব মায়ের কথা মনে পড়ছে। বাবার সামনে মায়ের সেই ভীত মুখ।
শাবিনের দিকে তাকায় তুরি। মুখ ঘুরিয়ে আছে শাবিন অন্যদিকে। তুরি নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘বাড়িতে কে কে আছেন?’
‘শুধু মা। আর বাবা কোথায় আছেন জানি না।’
‘বাবা কোথায় আছেন জানেন না, বুঝিনি ব্যাপারটা।’
‘বাবা ইঞ্জিনিয়ার। পাশ করার পর অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা কাজে লাগানোর বিশেষ চেষ্টা করেননি। ব্যবসা শুরু করেছিলেন। প্রতিবছর ব্যবসায় লস খেয়েছেন। মাকে টর্চার করতেন নানার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য। মা এনে দিয়েছে। বাবা এখন আমাদের সঙ্গে থাকেন না।’
কষ্ট হয় তুরির। একজন সাদাসিধে মানুষের জীবনটা এমন কেন হবে! চোখে পানি চলে এসেছিল। আটকায়। তুরি বলল, ‘পড়াশোনা করতে কি একেবারেই ইচ্ছে করে না?’
‘কতকিছুই তো ইচ্ছে করে। সব ইচ্ছে কি পূরণ হয়?’
‘আর কী ইচ্ছে হয়?’
‘ইচ্ছে হয় কোনো এক বড়ো পুকুরের পানিতে কারও সঙ্গে পা ডুবিয়ে বসে থাকি।’

বড়ো আপা এসেছেন নাস্তা নিয়ে। হইচই করে বললেন, ‘চুপচাপ খেয়ে যাবে। কোনো মন্তব্য করবে না। ইউটিউব থেকে রেসিপি নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেছি। আজই প্রথম।’
ঘরের গুমোট পরিবেশ হালকা হয়ে গেল। শাবিন বলল, ‘ভালো লাগলেও বলা যাবে না?’
‘তার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটা হয়েছে অক্সিজেনের মতো। নিজে জ্বলে না, অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে। মুখে দিয়ে জ্বলে উঠবে।’
তুরি বলল, ‘যেমনই লাগুক এমন এক্সপ্রেশন দেবেন যেন মনে হয় খেতে খুব ভালো লাগছে।’
বড়ো আপা ওদের দুজনকে স্ন্যাকস দিয়েছে। শাবিন খেয়ে বলল, ‘ওয়াও! দারুণ হয়েছে।’
তুরি হেসে ফেলেছে। সে হাসতে হাসতে বলল, ‘বলেছিলাম শুধু এক্সপ্রেশন দিতে। আপনি দেখি ডায়ালগসহ দিচ্ছেন।’
খাবার সত্যি মজা হয়েছে। শাবিন আনন্দ নিয়ে খাচ্ছে।

(চলবে)

 

পর্ব ৫: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৪: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৩: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ২: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ১: অঘ্রানের অন্ধকারে

 

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা