শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গের যত্ন নিতে টিপস

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে শরীরের যত্ন নিতেই হয়। তবে শুধু বাইরের অংশ বা রূপচর্চায় মনোনিবেশ করলেই চলবে না। রোগমুক্ত থাকতে হলে শরীরের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বা সংবেদনশীল অঙ্গের যত্ন নিতে হবে সমানভাবে। যদিও আমরা বাহ্যিক সৌন্দর্যের কথা মাথায় রেখে অন্যান্য স্পর্শকাতর অঙ্গের দিকে তেমন নজর দিই না। আর এজন্য অনেক সময় নানা রকম সংক্রমণও হতে পারে গোপনাঙ্গে। তাই শুধু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নয় রোগমুক্ত থাকতেও সমান গুরুত্ব দিতে অভ্যন্তরীণ বা সংবেদনশীল অঙ্গের দিকে।
তবে অনেকেই জানেন না কী করা উচিত আর কোনটি করা উচিত না! কীভাবে যত্ন নিতে হবে এসব অঙ্গের। আবার অনেকই নানা রকম শারীরিক সমস্যা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন, কারোর সঙ্গে আলোচনা করতেও লজ্জা বা দ্বিধা বোধ করেন। এক্ষেত্রে আক্রমণ করতে পারে নানা রোগ। আসুন জেনে নিই এসব অঙ্গের যত্নের পাঁচটি টিপস।
ইন্টিমেট ওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করা
আমরা মুখণ্ডলের ত্বকের জন্য যেমন ফেসওয়াশ, চুলের জন্য শ্যাম্পু আবার শরীরের জন্য বডি ওয়াশ ব্যবহার করি, ঠিক তেমনই গোপনাঙ্গের জন্য ভালো একটা ইন্টিমেট ওয়াশ ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি সুগন্ধি ও অ্যালকোহলযুক্ত পণ্য সংবেদনশীল অঙ্গ প্রত্যাঙ্গের পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। আর এটা থেকে নানারকম সংক্রমণ হতে পারে। ইন্টিমেট ওয়াশ ১৫ বছর বয়স থেকেই ব্যবহার করা যাবে৷ এটি সংবেদনশীল অংশকে কোমলভাবে পরিষ্কার করে ও আর্দ্রতা ধরে রাখে।
সাবান নির্বাচন
সাধারণত সংবেদনশীল অঙ্গের পিএইচ ৩.৫-৪.৫ পর্যন্ত হয়। তাই এমন পণ্য বেছে নিতে হবে যার পিএইচ কম। অনেকে খুব বেশি সুগন্ধি ও উচ্চ মাত্রায় ক্ষার আছে, এমন সাবান ব্যবহার করেন। এতে এসব অঙ্গের উপকারী ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে সংক্রমণ হতে পারে৷ তাই এই ধরনের বেশি ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার না করায় উচিত।
সঠিক অন্তর্বাস নির্বাচন
যেহেতু অন্তর্বাস বাইরে থেকে দেখা যায় না, তাই অনেকের এ পোশাকের প্রতি তেমন গুরুত্ব দেন না। তবে স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে সবাইকেই। তাই অন্তর্বাস নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক বা সচেতন হতে হবে। অবশ্যই স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক হতে হবে। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেমন- কাপড় কেমন ও সেটা আরামদায়ক কি না সেটা বুঝে নিন। এক্ষেত্রে সূতি ও নরম কাপড় সবচেয়ে ভালো। সহজেই ধোয়া যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। আকার একটি বড় বিষয়। সঠিক আকার না হলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। খুব বেশি ঢিলেঢালা অথবা খুব বেশি আঁটোসাঁটো অন্তর্বাস ব্যবহার না করাই ভালো।
বেসিক ক্লিনিং
এ ধরনের অঙ্গ-প্রত্যাঙ্গের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতি যেন স্বাস্থ্যসম্মত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন- অন্তর্বাস ভালোভাবে শুকানো ও পরিষ্কার রাখা যাতে কোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ না হয়। নারীদের মাসিকের সময় ৪-৬ ঘণ্টা পর পর স্যানিটারি ন্যাপকিন বদলানো, প্রতিদিন অন্তর্বাস বদলানো। এ ছাড়া শরীরচর্চার পর কাপড় পাল্টানো।
সুষম খাদ্যের দিকেও নজর দেওয়া
মেয়েদের যোনিতে অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে; যা এ অঙ্গকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে৷ এমন কিছু খাবার তালিকায় যোগ করা যেতে পারে, যেগুলো এ উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে দিতে পারে৷ আয়রন সমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি, যেমন- পালং শাক, বাঁধাকপি গোপনাঙ্গের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। লেবু, কমলা প্রয়োজনীয় পরিমাণে ভিটামিন সি সরবরাহ করে, যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এ ছাড়াও কাঠবাদাম খেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই পাওয়া যায় যা এ অংশের শুষ্কতা রোধ করে।
ঘরে বসে শরীরচর্চা
কেগেল এক্সারসাইজ আমাদের যোনির পেলভিক ফ্লোর মাসলকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও এই অনুশীলনগুলো ইউটেরাস, ওভারিকে ভালো রাখতে বেশ সহায়তাকারী। তাই অনুশীলনের সঙ্গে কেগেল করার অভ্যাস করতে হবে। ইন্টারনেটে অনেক টিউটোরিয়াল আছে এ বিষয়ে।
এসএন
