শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ভারতের দাবার বিস্ময় ‘প্রাগ’


‘প্রাগ’ নামে দাবার ভুবনের মহাবিস্ময় রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। ইতিহাসের চতুথ কম বয়সের গ্রান্ড মাস্টার। হারিয়ে দিয়েছেন কদিন আগে বিশ্বচ্যাম্পিন ম্যানগাস কার্লসেনকে। দাবার এই প্রতিভার শুরু কীভাবে? একটি দাবা পরিবারের গল্পে স্বাগতম...

জন্মেছেন তিনি ২০০৫ সালের ১০ আগষ্ট। একটি দাবারু পরিবারে। মোটে পাঁচ বছর বয়সে খুব ভালোভাবে দাবা খেলা শিখে গিয়েছেন তাই রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। তাকে দাবা খেলা শিখিয়েছেন বড় বোন ভেশালি রমেশবাবু। তিনিও একজন দারুণ নারী দাবারু।

ভেশালি তাদের চেন্নাইয়ের বিখ্যাত দাবারু। অনুধ্ব ১২ ও ১৪ দাবায় মেয়েদের তরুণ দাবায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ২০১৬ সালে হয়েছেন নারী আন্তজাতিক দাবা খেলোয়াড়। সেবার তিনি ভারতের দ্বিতীয় সেরা নারী দাবারু ও আন্তজাতিক মাস্টার দাবারুদের মধ্যে ১২তম নারী ছিলেন। ২০১৮ সালের ১৩ আগষ্ট তার ও ভারতের নারী দাবারুদের জন্য অনন্য একটি দিন ছিল। সেদিন আর. ভেশালি নামে বিখ্যাত এই খেলোয়াড় গ্রান্ড মাস্টার হয়েছেন। প্রতিযোগিতাটি হয়েছিল লাটভিয়ার রিগার দি রিগা টেকনিক্যাল ইউনিভাসিটিতে। তখন ভেশালির বয়স মোটে ১৭ বছর। এই প্রতিযোগিতাতেই তিন মাস আগে তার আদরের ছোট ভাইটি ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সের দাবারু হিসেবে গ্রান্ড মাস্টার হয়েছে। তারও কোচ আর. বি. রমেশ। তিনি তখন বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, সে তার এই তৃতীয় নমটি সুন্দরভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে লাভ করেছে।’ তিনি কম সময়ের মধ্যে তার ছাত্রীটি যে সম্মাননাটির জন্য স্কোর করে চলেছে, সেটি খেয়াল করেছেন। তবে বলেছেন, ‘তাকে আরও পরিশ্রম করতে হবে যাতে ২৫শ রেটিং লাভ করে ছেলেদের গ্রান্ড মাস্টার হতে পারে। সেজন্য তাকে প্রতিযোগিতাগুলোতে ভালোভাবে অংশ নিতে হবে ও ভালো খেলোয়াড়দের হারাতে হবে।’
তখন তার এই ভাইয়ের বয়স মোটে ১২ বছর। ভারতের সবচেয়ে কম বয়সের গ্রান্ড মাস্টার হয়েছে সে মোটে ১২ বছর বয়সে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি তার প্রথম গ্রান্ড মাস্টার নম জয় করেছেন ওয়াল্ড জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে। এরপর হারকালিয়ন ফিশার মেমোরিয়াল গ্রান্ড মাস্টার টুনামেন্টে জয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় নমটি লাভ করেছেন। তার আগে ইউক্রেনের সারগেই কারজাকিন ১২ বছর ৩ মাস বয়সে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে গ্রান্ড মাস্টার হয়েছেন, ২০০২ সালে।
ডাক নাম ‘প্রাগ’ নামে দাবার দুনিয়াতে পরিচিত এই ছেলেটিকে বিবেচনা করা হয় দাবার ইতিহাসের সবচেয়ে উন্নয়নশীল ও আগামীদের সবচেয়ে ভালো তারকাদের একজন। একেবারে অল্প বয়স থেকে তিনি দারুণ ভালো খেলে চলেছেন। দাবার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সের আন্তজাতিক তারকা বা ইন্টারন্যাশনাল চেস মাস্টার হয়েছেন ২০১৬ সালে। তখন তার বয়স মোটে ১০ বছর। তার খেলা দেখে তখন থেকেই অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ভবিষ্যতবাণী করেছেন, একদিন তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবেন। তারপর মোটে ১২ বছর, ১০ মাস, ১৩ দিন বয়সে বছর বয়সে দাবার সবচেয়ে বড় গ্রান্ড মাস্টার খেতাবটি জয় করেছেন প্রাগ। তখন থেকে আজও তিনি দাবার ইতিহাসের চতুথ সবচেয়ে কম বয়সে গ্রান্ড মাস্টার খেতাব জয় করা খেলোয়াড়।
তাদের বাড়ি ভারতের চেন্নাইতে। তার বাবাও একজন নামকরা দাবা খেলোয়াড়। নাম ভাইশালি রমেশবাবু। তিনি দুইবার ভারতের তরুণ দাবা চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। প্রাগের মা নাগাল²ী ও বাবা তাদের গ্রান্ড মাস্টার দুই ভাই, বোনের মধ্যে প্রথমে ভেশালিকে দাবা খেলা শিখিয়েছেন, যাতে দীঘসময় ধরে টিভির সামনে বসে না থাকে। তবে বোনের দাবা খেলা খুব দ্রুতই ছোটভাই প্রাগের কল্পনার জগতে ঢুকে পড়লো। তাদের বাবা রমেশবাবুর ক্যারিয়ারটি আটকে গিয়েছে পোলিও রোগে। ফলে তার স্ত্রী টুনামেন্টগুলোতে নিয়ে গিয়েছেন, ভালোমন্দ দেখেছেন। আর দুজনেই একই প্রতিযোগিতাতে অংশ নিচ্ছে বলে মায়ের কষ্ট কমেছে, ভালো লেগেছে। একত্রে তারা নানা বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন, হোটেল রুমগুলোতে ভালো ও সেরা সঙ্গী জোটে দুই ভাই, বোনের। এভাবে এগিয়েছেন তারা।
তাদের জীবনের গল্প বলেছেন বাবা রমেশবাবু, ‘যখন প্রজ্ঞানন্দ খেলাটি শিখতে শুরু করলো, ততদিনে আমার স্ত্রী বড় মেয়ে ভিশালির সঙ্গে নানা জায়গাতে সফর করে চলেছে। ফলে আমাদের প্রথম সমস্যা ছিল কীভাবে তাদের দুজনের শিডিউলগুলোকে আমরা ম্যানেজ করবো। যখন ছেলেরও দাবার প্রতি আগ্রহ টের পেলাম, তাদের খেলার শিডিউল এক করতে আমরা জোর করতে পারলাম।’ তারা থাকেন চেন্নাইয়ের একটি শহরতলী পাডিতে। রমেশবাবুর পুরো পরিবারটি তাদের উপস্থিতি ছেলেমেয়েদের দাবার ক্যারিয়ার ও সেগুলোর শিডিউলে কেন্দ্রীভূত করেছেন। প্রজ্ঞানন্দ একজন উচ্চাকাংখী দাবারু। তবে প্রতিযোগিতাগুলোতে তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকেনি। তারপরও তার বাবা ছেলেকে নিয়ে খুশি। তিনি হাসতে, হাসতে বলেছেন, ‘যেকোনো কিছুর চেয়ে আমার ছেলে খেলতে বেশি ভালোবাসে বলে খেলোয়াড় হিসেবে আমার মনে হয়। খেলার ফলাফল তার পক্ষে এলো কিনা তাতে খুব বেশি কিছু প্রাগের আসে, যায় না।’ প্রাগের কোচ হলেন ভারতের গ্রান্ড মাস্টার রামাচন্দন রমেশ। কোচের ভাষ্য হলো-‘আরো বেশি স্পন্সরের সমথন পেলে তার ক্যারিয়ারটিকে উচ্চতম স্তরে সে বেশিদিন রাখতে পারবে।’ এই কোচ তাকে ভালোভাবে গড়ে দিতে অ্যাকাডেমিতে তাদের নিয়ে দলগত আলোচনা করেছেন। জানিয়েছেন, আমরা প্রজ্ঞানন্দের মাধ্যমে খুব কম কয়েকটি ব্যক্তিগত সেশনের আয়োজন করতে পেরেছি। একা তাকে দিয়ে সেশন চালানো খুব কঠিন। আর তাকে নিয়ে বলবো, সে খুবই মনোযোগী এবং গ্রান্ড মাস্টার হবার অনেক আগে থেকেই সে একজন গ্রান্ড মাস্টারের মতো খেলে চলেছে। যখন সে প্রথম আমার কাছে এসেছিল, তখনই একটি বিশেষ শিশু ও-আমি জানতাম। আমি অনেক মেধাবী শিশুর সঙ্গে কাজ করেছি তবে প্রাগ সবসময়ই আলাদা হয়েছে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের শক্তিগুলোর বিষয়ে সবসময়ই ওয়াকিবহাল এবং সবচেয়ে কঠিন শ্রমটি সে স্বেচ্ছায় দেয়। যে কোনো অবস্থায় আক্রমণে বেরিয়ে পড়ে। এটি একটি দুলভ গুণ যেটি দাবারুদের মধ্যে দেখা যায়। অ্যাকাডেমিতে তিনি কেবল তাদের জয় লাভের দিকে নিয়ে যাননি, হেরে যাবার পরও নিজের ছাত্র, ছাত্রীদের নিয়ে কাজ করে চলেছেন তিনি। তাদের পরাজয়গুলোকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া, সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা ও ভুলে যাওয়া শিখিয়েছেন। আরো শক্তিশালী হিসেবে ফিরে আসার শিক্ষা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আপনার পক্ষে সম্ভব সবচেয়ে কঠিন কাজগুলো করে গিয়েও আপনি হারতে থাকতে পারেন। ফলে তখন আপনার করণীয় একমাত্র হলো সঠিক আচরণটি করে যাওয়া। আমাদের প্রজ্ঞানন্দের মধ্যে এই চমৎকার গুণটি আছে। সে তার সুযোগগুলোর বিষয়ে অত্যন্ত প্রয়োগবাদী। সে আরো জানে যে, সবকিছুকে, সবসময় সে জিততে পারবে না। এটি তাকে গ্রান্ড মাস্টারের নম লাভের পথে হারতে থাকার সময়গুলোতেও প্রেষণা যুগিয়ে গিয়েছে। কখনো সে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে না। নিজেকে এই শিক্ষা খুব ভালোভাবে দিয়েছে প্রজ্ঞানন্দ।’ খেলাটির প্রতি ভালোবাসা থেকে ছোটবেলা থেকেই সে ক্লাস ও পরীক্ষা বাদে অন্যসময়গুলোতে প্রশিক্ষণ ও খেলায় অংশ নিতে টুনামেন্টগুলোতে গিয়েছে। বিদ্যালয়ের খাবারের অবসরে যে সময়গুলোতে তাকে প্রতিযোগিতাতে অংশ নিতে হয়েছে, এর বিনিময়ে কোচ অ্যাকাডেমিতে তাদের জন্য মজা ও আনন্দের মাধ্যমে সবকিছু করতে চেষ্টা করেছেন। প্রজ্ঞানন্দের মনোযোগকে কেন্দ্রীভূত করতে একটি নতুন টিটি টেবিল একটু উঁচুতে স্থাপন করেছেন। কেবল তখনই তার এই ছাত্র ও অন্যদের কাছে চলে আসে টেবিলটি যখন তারা লুকিয়ে পড়তে চায়। কার পাকিংয়ের জায়গাগুলোতে তারা খেলে। একেবারে ছোট থেকে তৈরি করা এই ছাত্রের বিষয়ে কোচ বলেছেন, আমার এই ছেলেটির সবচেয়ে আকষণীয় ও দেখার মতো দিক হলো তার পরিপক্কতা। তার যেকোনো বসয়ে বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের পক্ষে অচিন্তনীয় কাজ করেছে প্রজ্ঞানন্দ। তবে এই অবিশ্বাস্য এই খেলোয়াড়ের দাবী, সে তার বাবা যা করতে পারতেন সেগুলোই তিনি করে চলেছেন। বলেছেন, তার পরিপক্কতাগুলোই কেবল আমার মাধ্যমে খেলাটিতে আছে। তবে অন্যসব শিশুদের মতো ছোটবেলায় তিনি কাটুন দেখতে ভালোবাসতেন। ছোট সাইকেলে পা চালিয়ে ঘুরতেন। যখন তিনি বাড়িতে থাকতেন।
গ্রান্ড মাস্টার রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ তার দাবা জীবনের জীবনের আদশ মানেন বিশ্বনাথন আনন্দ ও ম্যানগাস কার্লসেনকে। তবে এই ১৬ বছরের কিশোর দাবার ভুবনের বিস্ময় দাবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ম্যানগাস কার্লসেনকে স্তব্ধ করে দিলেন। ‘দি এলারথিংস মাস্টার’ নামের বিশ্বসেরা দাবাড়দের ১২ রাউন্ডের অনলাইন প্রতিযোগিতাতে তাকে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ সালে আয়োজনটি হয়েছে। প্রাগ মিথ্যে প্রমাণ করেছেন তার বয়সকে, ঠান্ডা ও পূণ মনোযোগী এবং গুছিয়ে খেলে বলে তার খুব সুনাম আছে। যে ভুলগুলো কার্লসেন করে গিয়েছেন, সেগুলোরই সুবিধা গ্রহণ করে ভারতের তরুণ তারকা তাকে হারিয়ে দিয়েছেন।
কার্লসেন সম্পকে একটি তথ্যই যথেষ্ট-তিনি টানা পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। যখন তিনি প্রাগের সঙ্গে খেলায় ফিরে আসার যুদ্ধে নেমেছেন, একবারও তাকে সুযোগ দেননি প্রজ্ঞানন্দ। ফলে নিজের খেলা শুরুই করতে পারেননি কালসেন। ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে অত্যন্ত দ্রুতগতির দাবার এই প্রতিযোগিতায় স্বাভাবিকভাবে জিতেছেন তিনি। তাতে লাভ করেছেন একটি বিশ্ববিখ্যাত জয়। ২০১৩ সালে দাবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার পর সবচেয়ে কম বয়সের খেলোয়াড় হিসেবে তাকে হারিয়ে দিলেন প্রাগ। এই নরওয়েজিয়ানের বিপক্ষে জেতা ইতিহাসের তৃতীয় ভারতীয় তিনি। তবে জয়ের অনুভূতি খুব অল্পে জানালেন-‘আমি খুবই খুশি।’ কীভাবে উদযাপন করবেন-এই প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এখন আমার কেবল ঘুমাতে বিছানায় যাওয়া প্রয়োজন।’ তারপর বলেছেন, ‘এখন ঘুমানোর সময় চলে এসেছে, আমার মনে হয়, এই রাত আড়াইটায় আমার সকালের খাবার খেতে যাওয়া উচিত নয়।’ তাকে দাবা খেলা শেখানো কোচ আর.বি. রমেশ বলেছেন, ‘আমরা আশা করি, যদি এটি ঘটে তাহলে মহৎ কম হয়েছে। আর যদি না হয়ে থাকে, তাহলেও ভালো।’ দিনে গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা অনুশীলন করেন তার ছাত্র প্রাগ।
প্রাগের জয়ে বিশ্বনাথন আনন্দ টুইটারে লিখেছেন, আমি আমাদের প্রতিভাগুলোর জন্য সবসময় গব অনুভব করি।’ প্রাগকে বলেছেন, ‘আজ তোমার খুব ভালো একটি দিন।’ ভারতের কিংবদন্তী ক্রিকেট তারকা, ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ব্যাটসম্যানদের একজন শচীন টেন্ডুলকারও প্রাগকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘প্রাগের জন্য আমাদের কী অসাধারণ অনুভূতি হলো। ১৬ বছর বয়সেই অভিজ্ঞদের মধ্যে সেরা ও সবচেয়ে গোছানো-দাবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেনকে হারিয়ে দিলো। কালো ঘুঁটিগুলো নিয়ে এই জয় আসলে জাদুর মতো।’ আরো লিখেছেন ক্রিকেট বিস্ময়, ‘আগামী দিনের একটি বড় ও সফল দাবার ক্যারিয়ারের জন্য আমি তোমাকে সবচেয়ে ভালোভাবে আশীবাদ করছি। তুমি ভারতকে গবিত করেছো।'

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা