শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বই বুকে নিয়ে বেঁচে আছে

বইমেলার সময়ে গণগ্রন্থাগারের গল্প না হলে কী চলে? বই তো বেঁচে থাকে গ্রন্থাগারে। সুুচিত্রা সেনের শহরে আছে বহু পুরোনো, অমূল্য বইয়ের ভান্ডার ‘অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি’। স্যামসন ও অঞ্জন চৌধুরীর সাহায্যে আজ খুব ভালোভাবে আছে সে মিলনায়তন, শিশুবিকাশ প্রতিযোগিতাগুলো ও বইয়ের প্রদশনী নিয়ে। লিখেছেন ও ছবি তুলেছেন রিজভী রাইসুল ইসলাম

অনেক আগের এক নতুন গল্প

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের অমর উপন্যাস ‘ইছামতী’র কল্যাণে মরতে, মরতে বেঁচে থাকা ইছামতী নদী আজো হারিয়ে যায়নি। নদীটির তীরে আরো সব শহরের মতো গড়ে উঠেছে সুচিত্রা সেনের পাবনা। বাংলা ছবির মহানায়িকার জন্মস্থানের বয়স এখন ২শ বছরের বেশি। প্রাচীন জেলাটি আব্দুল হামিদ সড়ককে কেন্দ্র করে তৈরি। পাবনা শহরের বয়স ৬১, তখনই গড়ে উঠেছে শহরবাসীর গণগ্রন্থাগারটি। তখন সুজানগরের তাঁতিবন্দের জমিদার ছিলেন গঙ্গাগোবিন্দ চৌধুরী। জমিদার গঙ্গাগোবিন্দের সন্তান বরদাগোবিন্দ চৌধুরীর সন্তান ছিল না। তিনি একটি ছেলে দত্তক নিয়েছিলেন। এই অন্নদাগোবিন্দ চৌধুরীর নামেই গণগ্রন্থাগারটি তৈরি হলো। তার স্মৃতিকে চিরকালীন করে রেখেছে সে। ‘অন্নদাগোবিন্দ চৌধুরী পাবলিক লাইব্রেরি’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৯০ সালে। তাঁতিবন্দের জমিদারদের দান করা ১৩ শতাংশ জমিতে দুটি রুমের একটি ভবনে পাবনার গণপাঠাগারটির শুরু। পরিচালনা পর্ষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন পাবনার সেই সময়ে ইংরেজ ম্যাজিষ্ট্রেট ও চিফ কালেক্টর এফ বিজ।

আলো এলো আলোর ভুবনে

তখন জেলায় বিদ্যুত নেই বলে পাঠকদের সুবিধায় লাগানো হলো ১৩ টাকা আট আনা বহুমূল্যের পেট্রো ম্যাক্স লাইট। সন্ধ্যার পর এই বাতির আলোতেই জ্ঞানতৃষ্ণা মেটাতেন, পড়ালেখা করতেন তরুণ ও বৃদ্ধ পাঠকরা। এভাবে ধীরে, ধীরে পাঠাগারটি উন্নতি লাভ করতে লাগলো। বই বাড়তে লাগলো, সুবিধাদিও। ১৯৩৬ সালে বিরাট পরিবতন এলো অন্নদাগোবিন্দ চৌধুরী পাবলিক লাইব্রেরিতে। মোট ১ শত টাকা খরচ গণপাঠাগারে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার ব্যবস্থা করলেন বিদ্বোৎসাহীরা। তাতে ১৯৩৬ সাল থেকে এই ১৯২২ সাল পযন্ত টানা ১৩১ বছর ধরে সকাল ১০টা-রাত ৮টা পর্যন্ত বিরাট গণপাঠাগার জ্ঞানের আলো বিলিয়ে যেতে পারছে। এখন সে কালেরও সাক্ষী, ইতিহাসের অন্যতম নিদর্শন। মানুষের জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসার আদশ উদাহরণ। ঐতিহাসিক শহর পাবনার প্রাণকেন্দ্রে আছে, আবদুল হামিদ সড়কে। বয়সের কোঠা শতকের ঘর অনেক পেরোলেও জ্ঞান বিতরণে প্রাচীন এই গণপাঠাগার চিরতরুণ, ক্লান্তিহীন ও প্রবাহমান একটি স্রোত ধারা। পাবনা জেলায় শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক অগ্রগতির পুরোধা জ্ঞান ভান্ডারটি-জানিয়েছেন বিদ্বানরা। ১শ ৩০টি বছর ইছামতীর মতো প্রতিটি প্রজন্মের অন্তহীন জ্ঞান লাভের ঋণের ভান্ডার সে। পুরো উত্তরবঙ্গের গৌরবের অনিবার্য এক জ্ঞান শিখা। জ্ঞানের এই বাতিঘরটি মানবিক বোধ ছড়িয়ে যাচ্ছে সর্বস্তরের পাঠকে।

অমূল্য সংগ্রহশালাটি বড় দুর্লভ

সংগ্রহে আছে অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির ৩০ হাজারের বেশি বই। তিনটি হাতে লেখা তালপাতার বই আছে। তালপাতায় লেখা দুর্লভ কটি পান্ডুলিপিও আছে। জ্ঞানের অনুশীলন করে যাওয়াদের চমকে দেয় ৩শ বছরের পুরোনো হাতে লেখা বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার বই, পুঁথি ও পান্ডুলিপিগুলো। মোট ৯ হাজার ৮শ ৬টি হাতে লেখা পান্ডুলিপি আছে। গণগ্রন্থাগারটির অমূল্য শ্রম ও ভালোবাসার নিদর্শন ১৮৮১ সালে প্রকাশিত ‘প্রভাতী’ পত্রিকার সংকলনটি আছে। ৩শ বছরের পুরোনো ইংরেজি, বাংলা, উর্দু ও ফারসি ভাষার চারশর বেশি বই আছে। অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরিতে আছে ১শ ২৩ বছরের পুরোনো বাংলা পত্রিকার কপি। স্থানীয় পুরোনো দৈনিক পত্রিকার কপি আছে। কয়েক হাজার পত্রিকা, ছোট কাগজ রয়েছে। মোট ২০ হাজার জার্নাল আছে। পালি সাহিত্যের দুর্লভ বইগুলো আছে। ইংরেজি বইয়ের মধ্যে ১৭৫৮ সালে প্রকাশিত ‘দ্য সেইন্টস এভার লাষ্টিং রেষ্ট’ই সবচেয়ে পুরোনো। বাংলা, ফাসি, উর্দু, আরবি, হিন্দি, বুলগেরিয়, নরওয়েজিয়ান, ইটালিয়ান, রুশ, তুর্কি, চীনা ভাষার বই আছে। দেশ-বিদেশের ইতিহাস, রাজনীতি, কবিতা, গল্প, বিজ্ঞান, দর্শন ও জ্যোতির্বিদ্যার অনেক, অনেক বই আছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকাশিত পত্র, পত্রিকার সংকলন বাঁধাই করে রেখেছেন বাকিসব সংগ্রহের মতো কর্মীরা। অনেকগুলো সংবাদপত্র রাখা হয় এখন। সেগুলো সংগ্রহও চলে। বিশাল বইভান্ডারে বিজ্ঞান, বক্তৃতা, অর্থনীতি, আইন, গণিত, পদার্থবিদ্যা, ভূতত্ব, রসায়ন, উদ্ভিদ, সাধারণ জ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, সংগীত, খেলাধুলা, চারুকলা, উপন্যাস, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, অভিধান, বিশ্বকোষ, সাংবাদিকতা, লোকসাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, শিশুসাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, সাধারণ জ্ঞান, কম্পিউটারসহ অনেক বিষয়ের অন্তত ৩২ হাজার বই আছে। বিরাট গ্রন্থভান্ডারের পাশাপাশি অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরীতে রয়েছে একালের প্রসিদ্ধ সব লেখকের বই। গবেষণা, পাঠ, দেখা ও কৌতুহলে প্রায় দিনই দেশ-বিদেশের গবেষক, পাঠকদের পদচারণা হয় এখানে। দেশ, বিদেশের জ্ঞান ও ভ্রমণ পিপাসুদের আগ্রহ আছে অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির প্রতি। বিদ্যোৎসাহী পাঠক আসেন, পড়তে আসেন কত, শত মানুষ। অন্নদাচৌধুরী গণগ্রন্থাগারের কর্মীরা জানালেন, দিনে অন্তত হাজার খানেক মানুষের পা পড়তে, গবেষণা করতে ও দেখতে এই লড হার্ডিঞ্জের ব্রিজ, সুচিত্রা সেনের শহরের গণগ্রন্থাগারে আসেন। তাতে তারা খুব খুশি।

মান্যগণ্য অতিথিদের আপন ভুবন

১৯৩৯ সালের জুলাইতে ‘অন্নদাগোবিন্দ চৌধুরী পাবলিক লাইব্রেরি’ তার ৫০ বছর পালন করেছে জাঁকজমকের সঙ্গে। বিরাট সেই অনুষ্ঠানে অমর বাঙালি সাহিত্যিক ‘ইছামতী’র স্রষ্টা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে এসেছিলেন। কলকাতা থেকে আরো এসেছিলেন সাহিত্যিক পরিমল গোস্বামী (ভালো নাম পরিমল কুমার গোস্বামী)। বিভূতিভূষণ আলোচনা করেছেন তার ইছামতী ও পাবনা নিয়ে। এই সুবিখ্যাত পাবলিক লাইব্রেরিতে পা পড়েছে, বই উপহার দিয়েছেন-ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বীর নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান নেতা ও মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী (তিনি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংস্কারেও ভূমিকা রেখেছেন), বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম বীর সংগঠক ও মুজিব নগরের মন্ত্রী শহীদ এএইচএমএম কামরুজ্জামান, লালকেল্লার প্রমথনাথ বিশী, প্রখ্যাত গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক, স্বাধীন বাংলা বেতারের নামকরা লোক গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, ভারতের বাঙালি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামাল, শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, দৈনিক বাংলার সাবেক সম্পাদক, আধুনিকতার কবি শামসুর রাহমান, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি নির্মলেন্দু গুণসহ বহু প্রখ্যাত মানুষ। ‘অন্নদাগোবিন্দ চৌধুরী পাবলিক লাইব্রেরি’র পরিদর্শন খাতায় তারা ভালোবেসে এই পাঠাগার, তার বইয়ের ভুবন ও পরিবেশ নিয়ে লিখেছেন। সেসবও বাঙালির অমূল্য সম্পদ। তবে বইয়ের মতো, এই প্রখ্যাত মানুষদের মতো পাঠাগার ভবন পুরোনো, জীর্ণ হয়ে গিয়েছে। তখন স্কয়ারের প্রাণপুরুষ স্যামসন এইচ চৌধুরী বেঁচে। পাবনার এই কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শিল্প-উদ্যোক্তা ১৯৯৮ সালে সাহায্য করেছেন বলেই অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির বইয়ের ভুবন বেঁচেছে। ১৯৯৮ সালে তার টাকায় শুরু করে ২০০৪ সালের ৪ নভেম্বর বিরাট চারতলা ভবনটি গড়ে তুলেছে গ্রন্থাগার। সেই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় মূল পাঠাগার কমপ্লেক্স আছে। সেখানে রয়েছে বিশাল তিনটি পাঠকক্ষ। তাতে সব শ্রেণি, বয়স ও পেশার পাঠকদের পড়ার জন্য বই, ম্যাগাজিন ও পত্র-পত্রিকা আলাদাভাবে সাজানো রয়েছে। চারটি ভাগে ১৭০টি আসন রয়েছে। একটি বড় মিলনায়তন আছে, প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে।

পাবনায় প্রগতিশীল আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে

অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরিতে যেতে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কের বাসস্ট্যান্ডে যেতে হবে। এরপর পায়ে হেঁটে মোটে ১শ গজ গুলোকেই স্যামসন এই চৌধুরীর গড়ে দেওয়া সুদৃশ্য চারতলা পাঠাগার ভবনটি। সামনে পুরোনো টাউন হলটি ও বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্র আছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাবনার সব সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু এই পাঠাগার। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, একুশের মহান ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পাবনাবাসী ও সারাদেশের মানুষকে প্রেরণা, সাহস ও সংগ্রামী করেছে কালের সাক্ষী অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি। পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী, মৃত্যু দিবস, শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ সব জাতীয় দিবস নিয়মিত পালিত হয় পাঠাগারে। আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য নানাসময় থাকে আবৃত্তি, চিত্রাংকন, রচনা, সংগীত ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি জুড়ে অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি আয়োজন করে বইমেলা ও বিশেষ পুস্তক প্রদর্শনী।

অঞ্জন চৌধুরীর সহযোগিতায় এগিয়ে চলছে

এখন পুরোপুরিভাবে বেসরকারি উদ্যোগে পাঠাগারটি পরিচালিত হয়। তাদের ১৭ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। সভাপতি স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্প উদ্যোক্তা অঞ্জন চৌধুরী। মহাসচিব সাংবাদিক আবদুল মতীন খান। অন্নদাগোবিন্দ চৌধুরী পাবলিক লাইব্রেরি প্রতি বছরের শুরুতে কার্যনির্বাহী ও আজীবন সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতায় নতুন বই কেনে। সরকারি, বেসরকারি অনুদান লাভ করে। প্রদেয় পুস্তকে সমৃদ্ধ হয় তার বই ভান্ডার। নিজস্ব ওয়েবসাইট, সার্বক্ষণিক বিদ্যুতসহ পাঠকের জন্য সব সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন পরিচালনা পর্ষদে। অবৈতনিক মহাসচিব আবদুল মতীন খান বললেন, “সদস্য চাঁদা, মিলনায়তন ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থ ছাড়া অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির আয়ের কোনো উৎস নেই। ব্যবস্থাপনা ও কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়।” তিনি জানিয়েছেন, পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি অঞ্জন চৌধুরীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাঠাগারের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের অনেক কাজ হয়েছে। ফলে বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় এমন আধুনিক সুবিধা ও প্রাচীন দুর্লভ সংগ্রহের সমন্বয় বাংলাদেশের খুব কম পাঠাগারে আছে। তাদের সাহায্যে পাঠাগার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়নে বড় পরিসরে উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা চলছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, ‘১৩১ বছরের পুরোনো আমাদের প্রাচীন এই গণগ্রন্থাগার পুরো পাবনাবাসীর গর্বের প্রতিষ্ঠান। ঐতিহাসিক নানা সংগ্রহের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রয়োজনীয় ও পছন্দের বই প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে। তবে, আজকের প্রজন্মের অতিরিক্ত ফেসবুক ও ইন্টারনেটভিত্তিক জীবনযাপনে নিজেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, গ্রন্থাগারও নতুন প্রজন্মে পাঠক সংখ্যা বাড়াতে পারছে না। এই সংকট সারা দেশে। নবীন প্রজন্মের অভিভাবকদের উচিত, তাদের সন্তানদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ও পাঠাগারমুখী হতে উৎসাহ দেয়া।’

ওএস।

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো