শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

‘স্টুডিওগুলো থেকে আমি আশাবাদ নিয়ে এসেছি’

দিদি, আশা করি ভালো স্বাস্থ্য ধরে রেখেছেন।
আমার বয়স বিবেচনায়, মনে করি, সম্পূর্ণভাবে ভালো আছি। অবশ্যই অসুস্থতাগুলো রয়েছে। শরীরটি দুবল তবে সৌভাগ্যবশত মনটি আগের মতোই আছে। আমার বয়সের বেশিরভাগ মানুষ হয় চলে গিয়েছেন নয়তো হুইল চেয়ারে।

এর কারণটি কী আপনি ছাড়া বিশ্বটি কল্পনা করা যায় না?
এমনভাবে বলার জন্য ধন্যবাদ। তবে কেউই অপরিহার্য নন। অনেক আলোর উৎস, আমার চেয়ে অনেক গুণ বেশি ঐশ্বরিক প্রতিভা পেয়েছেন-বিজ্ঞানী, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতা, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা আছেন; এসেছেন আবার চলে গিয়েছেন। বিশ্বে মানুষ বাস করে চলেছে।

তবে আপনার সম্পদ কোনোদিন মরবে না। আজ থেকে এমনকি একশ বছর পরেও গানগুলো শোনা হতে থাকবে।
আমি এই বিষয়ে নিঃসন্দেহ নই। আজকের দিনগুলোতে তরুণ প্রজন্মের মনোযোগের দূরত্ব খুব কম। তারা শেষ পযন্ত অতীতে বসবাস করে না। এখন সঙ্গে, সঙ্গে থাকা ও পাওয়াদের যুগ। প্রত্যেকে মুহূর্তটির জন্য বাঁচতে চায়। আপনার মতো মানুষরা যেমন করছেন, তেমনি আগামী প্রজন্মের মধ্যে উত্তরাধিকার অর্থ বহন করার বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে।

সব বন্ধুরা ও সঙ্গীতের সমসাময়িকরা চলে গিয়েছেন।
আমি কী তাদের অভাব বোধ করি? অবশ্যই তাদের জন্য কাতর হই। মোহাম্মেদ রাফি সাব, কিশোরদা (কিশোর কুমার), মুকেশ ভাইয়া ও মান্নাদা (মান্না দে)’র মতো সহকর্মীরা আমার জীবনের অপরিবতনীয় অংশ ছিলেন। প্রতিদিন তাদের কারো না কারো কাছে দৌড়ে যেতাম। সম্পকগুলো কেবল কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। সঙ্গীত পরিচালক ও কবিরা-মদন ভাইয়া (মদন মোহন), নরেন্দ্র শর্মা-যাকে আমি ‘ড্যাডি’ ডাকতাম; চিত্রগুপ্ত সাব (চিত্রগুপ্ত শ্রীবস্তব) ও মাজরুহ সুলতানপুরী সাব আমার বাড়িতে নিয়মিত আসতে অভ্যস্ত ছিলেন। আমিও তাদের সবাইকে দেখতে যেতাম। আমরা তেমন ছিলাম-যাদের পরিবারিক বন্ধু বলে। এখন লোকেরা ভিডিও করে দেখাসাক্ষাৎ করে।

প্রিয় সঙ্গীত পরিচালকরা কারা?
এটি একটি বিপদজনক প্রশ্ন। কেননা, যদি কোনো নাম ভুলে যাই, তাহলে বিপদে পড়ব (হাসি)। তবে সত্যিকারভাবে শঙ্কর-যাইকৃষণ, সলীল চৌধুরী, এস. ডি. বর্মণ, আর. ডি. বর্মণ, লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলাল, চিত্রগুপ্ত ও আমার ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরের গান গাওয়া উপভোগ করেছি। নামগুলো এজন্যই উল্লেখ করেছি, কারণ তাদের জন্য বেশি কাজ করেছি। অন্য যে পরিচালকদের জন্য কাজ করেছি, তারাও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের প্রতিটি সঙ্গীত পরিচালক ও গীতিকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা তাদের গানগুলো আমাকে গাইতে গিয়েছেন। হৃদয়ের গভীর থেকে কথাটি বললাম। যদি রাজা মেহেদী আলী খান ‘লাগ যা গালে’ না লিখতেন ও মদন মোহন সুরটি কম্পোজ না করতেন, কীভাবে আমি গাইতাম?

‘লাগ যা গাল’র কথাই বলি-কীভাবে আপনি এর অবিনশ্বর জনপ্রিয়তা অন্য গানগুলোর চেয়ে বেশি হবে হিসেব করেছিলেন?
এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। কেন অন্যগুলোর চেয়ে কিছু গান অনেক জনপ্রিয় হলো? ‘ওহ কারণ তুই’ ছবিতে অরেকটি সুন্দর কম্পোজড গেয়েছি-‘গজল’। সেটি ‘জো হুমনে দাসতান আপনি শুনারে আপ কিউ রয়ে’, কিন্তু ‘লাগ যা গালে’ বছরের পর বছর ধরে আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে। কেহনা মুশকিল হায় কে এক গানা ধোরছে সে জায়াদা লগন কো কিয়ন পছন্দ আতি হায় (তার হিন্দিতে বলা কথাটির অথ-কীভাবে অন্যগুলোর চেয়ে কিছু গান জনপ্রিয়তার দৌড়ে এগিয়ে গেল বলা কঠিন।)

আপনার জনপ্রিয় গানগুলো অনেক দূরে, বিস্তুতভাবে যাচ্ছে। মানুষ সেভাবে শুনছেন। তবে পছন্দ এমন কিছু গান আছে, যেগুলো প্রাপ্য পায়নি?
স্বীকৃতির ব্যাপারে আমি জানি না। নিজের প্রিয় গানগুলো জনপ্রিয় হয়েছে এমনটি আমার কাছে প্রয়োজনীয় নয়। হৃদয়নাথের সঙ্গীত পরিচালনা ‘মায়া মেমসাব’র গানগুলো ভালোবাসি। লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারোলের একটি কম্পোজিশন (সঙ্গীত রচনা) আছে, ‘ইয়ে রাত ভাই যা রাহি হায়’। ছবিটি মনে করতে পারছি না (সাও সাল বাদ)। গানটিতে আমি খুব আসক্ত। তেমন আরেকটি গান আছে-সাজ্জাদ হুসাইন সাবের কম্পোজ , ‘এ দিলরুবা নাজরিন মিলা’, ‘রুস্তম-সোহরাব’ ছবি থেকে নেওয়া। গানটি ভালোবাসি। সেভাবে খুব ভালোবাসি ওই গানগুলো, যেগুলো পন্ডিত রবি শঙ্কর হৃষিকেশ মুখার্জির ‘আনওয়াদা’ ছবিতে আমার জন্য পরিচালনা করেছিলেন। ফলে অনেক গান পড়ে আছে, অনেক কারণে।

প্রকাশিত হয়নি এমন কোনো গানের কথা মনে করতে পারেন?
কালিয়মের করা একটি সুন্দর কম্পোজিশন ছিল, নাম-‘ইয়ে হাসিন রাত’। এটি আমার ও ইয়েসউদাসের ডুয়েট। কোনোদিনও রেকর্ডিং করা হয়নি। নিজে মনে করি, কামাল আমরোহিকে ছবিটি (মাজনুন) স্থগিত করতে হয়েছে। এমন আরেকটি আছে। একটি অ্যালবাম আছে, কম্পোজিশনগুলো গুলাম মোহমেদের; ‘পাকিজা’র জন্য করা; ছবিটিতে একটি অ্যালবামের গানগুলো অলংকারের মতো যুক্ত করা হয়েছে। এই আরেকটি অ্যালবাম ছবিতে যুক্ত করা হয়নি। ‘পাকিজা’ ছবির অব্যবহৃত গানগুলোও খুব সুন্দর ছিল। ওই গানগুলো জনপ্রিয় হতে পারেনি, কেননা তারা ছবিটিতে ছিল না। মোহমেদ রাফি, কিশোর কুমার, আশা ভোঁসলে, মুকেশ ও মান্না দে-আমার এই সহকমীদের সবারই জোর করে মুক্তি দেওয়া হয়নি এমন গান আছে। সেগুলো কোথাও না কোথাও ঘুমিয়ে রয়েছে।

এত গান ব্যবহার হয়নি বলে দু:খ করেন?
অনুতাপ বা দু:খ করার জন্য কোনো সময়ই আমার ছিল না। আমরা তো একটি রেকডিং স্টুডিও থেকে আরেকটিতে কাজের জন্য ছুটে গিয়েছি। আমার যে গানটি একবার রেকর্ড হয়ে গিয়েছে, সেটি কখনো শুনতে পারিনি। ফলে কোনটি ব্যবহার করা হয়েছে ও কোনটি ব্যবহার করতে পারেননি, সেসব জানার কোনো উপায় ছিল না। সেই দিনগুলোতে যদি কোনো গান ছবিতে ব্যবহার করা হতো না, সেটি যেমন প্রাপ্য, পেত না। লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলালের মিলন ছবিতে একটি সুন্দর কম্পোজিশনের কথা মনে পড়ছে, যেটি ছবিটি থেকে কেটে ফেলা হয়েছিল। গানটি-‘আজ দিল পে কই ঝর চলতে নাহিন।’ তাদের কম্পোজ করা অনেকগুলো গানের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয়গুলোর একটি। আমি খুশি যে, মহান মদন মোহনের কম্পোজ করা কিছু অব্যবহৃত গান যশ চোপরা ব্যবহার করেছেন। মদন ভাইয়ার ছেলে সঞ্জীব কোহশি, যে আমার কাছে ছেলের মতো; যশজিকে অনুরোধ করেছিল, তারা মদন ভাইয়ার কটি অব্যবহৃত কম্পোজিশন ‘ভির-জারা’তে ব্যবহার করতে পারেন। সেভাবে এই ভালোবাসাময় মেলোডিগুলো রক্ষা পেয়েছে। গানগুলোর মধ্যে আছে ছবিটির ‘তেরে লিয়ে’ ও ‘তুম পাস আয়ে রাহে হো’। না হলে তারা বিস্তৃতিতে তলিয়ে যেতে পারত।

৯২ বছর বয়সে, আপনি কী যৌবনকালকে মিস করেন?
ম্যায় আপকো সাচ বাতাওন (আমার কী আপনাকে সত্যিটি বলা উচিত)? বয়সকে আমি মোটেও অনুভব করি না। এখনো যৌবনকে অনুভব করি। নিজের অসুবিধাগুলোর ওজনে কখনো আমি পড়ে যাইনি। প্রত্যেককে তার জীবনের সমস্যাগুলো নিয়ে থাকতে হয়। এমনকী যখন যুবতী ছিলাম ও সংগ্রাম করে যাচ্ছিলাম, তখনো স্টুডিওগুলো থেকে আমি ভালো বোধ ও আশাবাদ নিয়ে এসেছি। কিশোরদা ও মুকেশ ভাইয়ার মতো সংগ্রামীদের নিয়ে কুস্তি করেছি। সারাটি দিন যখন না খেয়ে থাকতাম আমি, তখনো আমার জীবনে আনন্দ এসেছে। পার্সে কোনো টাকা নেই, কিন্তু সেই সময়গুলোতেও আমার মনে কেবল আশাই ছিল। ভবিষ্যত কেমন কঠিন হবে আমি দেখতে পারছি, সেই সময়গুলোতেও সবসময় একটি ভালো আগামীর জন্য আমার বিশ্বাস ছিল।

রেকর্ডিংয়ের সময় একবার গরমে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন?
একে ভুলভাবে অনুমান করে বছরের বছর বলা হচ্ছে-সলীলদা (চৌধুরী)’র সঙ্গে একটি গান রেকর্ডিং করার সময় অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। অ্যায়সা কুচ নাহিন। অবশ্যই তার গানগুলো খুব জটিল ছিল আমার ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরের কম্পোজ করা গানগুলোর চেয়ে। তবে আমার বাবা (দ্বীননাথ মঙ্গেশকর)’র আর্শীবাদের কারণে রেকর্ডিং স্টুডিওগুলোর যেকোনো সমস্যা মোকাবেলায় আমি দাঁড়িয়ে গিয়েছি। না, সেই দুর্ঘটনাটিতে সলীলদার সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাইনি। এটি নওশাদ সাবের সঙ্গে ঘটেছে। আমরা একটি গান দীর্ঘ গরমের দুপুরে রেকড করছিলাম। আপনি জানেন, মুম্বাই গরমকালে কেমন হয়ে পড়ে। সেই দিনগুলোতে রেকর্ডিং স্টুডিওগুলোর কোনোটিতেই এয়ার কন্ডিশনার ছিল না। চূড়ান্ত রেকর্ডিংয়ের সময় আওয়াজ যেন না হয়, সেজন্য সিলিং ফ্যানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হতো। ব্যাস, মে বেহুশ হু গায়ি (তাই অজ্ঞান হয়ে গেলাম আমি)।

মনে করতে পারেন কোনো নিদিষ্ট ঘটনা যেটি আপনার সঙ্গে ইচ্ছা করে করা হয়েছে?
সত্যিকারভাবে আমার কিছু মজার ঘটনা আছে। মনে করতে পারি, উমা দেবী (উমা দেবী খাতরি)’র সঙ্গে একটি ডুয়েট রেকর্ডিং করছিলাম, তিনি পরে নারী কৌতুকাভিনত্রী তুন তুন নামে পরিচিত হয়েছিলেন (এটি তার সিনেমা নাম, ২০০৩ সালের নভেম্বরে মারা গিয়েছেন)। উমা দেবী তখন একজন গায়িকা হিসেবে খাতি-পেতি ধরণের পেছন দিকের ছিলেন, ফলে পরে একজন অভিনেত্রী হয়েছে। তো আমরা সেখানে ছিলাম, দুইজনে একত্রে একটি মাইক্রোফোনে গাইছিলাম। পরে জানলাম, ডুয়েট থেকে একটি মাইক্রোফোনের কন্ঠ রেকর্ড হয়েছে। আমি একটি দুর্বল, ক্ষুদে বালিকা, তিনি শারিরীক কারণে মাইক্রোফোনের সামনে ভয়াবহভাবে উপস্থিত। আমাকে একটি টুল দেওয়া হলো দাঁড়াতে, যেহেতু মাইক্রোফোনটিতে পৌঁছাতে আমার সমস্যা হচ্ছিল। আমি আমার লাইনগুলো গাইলাম। এরপর উমা দেবী মাইক্রোফোনটির সামনে গাইতে এলেন। তিনি কনুইতে ধাক্কা দিলেন, মাটিতে পড়ে গেলাম (উচ্চস্বরে হেসে ফেললেন)।

কার সঙ্গে রেকর্ডিং সবচেয়ে উপভোগ করেছেন?
কিশোরদা। তার সঙ্গে রেকর্ডিং করা পুরো সেশনটি মজা ও খেলার মাধ্যমে কাটানোর মতো। তিনি আমাকে এত বেশি হাসাতে পারতেন যে, খুব কমই গাইতে পারতাম। আমার তাই তাকে থামিয়ে দিতে হতো। বলতাম, কিশোরদা পেহলে গানা, পাহির মাস্তি (কিশোরদা প্রথমে গান পরে আনন্দ)। বিশেষভাবে সমস্যা হতো যখন আমরা দুঃখের দ্বৈত গান গাইতাম। দু:খের মধ্যে, আমার চোখ দুটি হাসতে, হাসতে পানিতে ভরে যেত।

এটি বলা হয়, রেকর্ডিংয়ে যুক্ত বাঘা মানুষরা আপনি যখন মদন মোহনের ‘হের’ গানটি ‘হের রাঞ্জা’ ছবিতে ও এস. ডি. বর্মণের ‘তুম মুঝছে দীর চাহলে জানা না’ ‘ইশক পার ঝোর নাহিন’ ছবিতে গেয়েছেন, সবাই কেঁদেছেন?
এই কথাটি সত্য। আমাকে বাদ দিয়ে তারা সবাই এই গান দুটির সময় কাঁদছিলেন। আমি কখনো কাঁদিনি এমনকি যখন সবচেয়ে বিষন্ন গানগুলো গেয়েছি। আমি কান্নার চেয়ে সবসময় হাসাকে পছন্দ করেছি। ঈশ্বর সবসময় দয়ালু থেকেছেন আমার প্রতি। ফলে আমাকে জীবনে কোনোদিনও কান্নার মতো কারণ দেননি তিনি। আমি জানি, যখন নিজের বাবা ও মাকে হারালাম তখন আমি সবচেয়ে বেশি কেঁদেছি।

সিনেমাতে কোন বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালকের সঙ্গে কোনোদিনও কাজ করতে পারেননি?
ও.পি. নাইয়ার। আমার বোন আশার কণ্ঠ তার পরিচালনার স্টাইলের বেশি উপযুক্ত।

কোনো প্রিয় ভাবনা?
আমাকে ৭০ বছরের বেশি সময়কাল ধরে শুনে যাওয়ার জন্য শ্রোতাদের কোনোভাবে যথেষ্ট ধন্যবাদ দিতে পারিনি। কীভাবে সময়টি উড়ে চলে গেল আমি জানিও না। ওয়াক্ত ক্যায়সে নিকলা গানা পাতা হি নাহিন চালা। আবার যদি সেই দিনগুলোতে বাস করার কোনো উপায় থাকত, আমি কোনোকিছুই বদলাম না। এমনকী উমা দেবীর সঙ্গে গাইতে গিয়ে টুল থেকে পড়ে যাওয়াও।

(৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, মুম্বাই)

ফাস্টপোস্ট অনলাইনের ইংরেজি থেকে অনুবাদ।

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো