শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

আইভিআইতে গবেষক জুলহাস সুজন

আমাদের তৃতীয় গবেষক হিসেবে ‘আইভিআই’ বা ‘ইন্টারন্যাশনাল ভ্যাকসিন ইনস্টিউটিউট’-এ কাজ করছেন তিনি। এর আগে প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসইতে। বসুন্ধরা, ইনফোসিস ইন্ডিয়া ও ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেসঅব হেলথ ইন্টারন্যাশনাল (এমএসএইচ)-এ নয় বছরের গবেষণা জীবন। তাকে নিয়ে লিখেছেন মুহাম্মদ বাবুল হোসেন বাবু

ছেলেটির নাম মোহাম্মদ জুলহাস সুজন। দারুণ মেধাবী। বাংলাদেশের তৃতীয় হিসেবে চলে গিয়েছেন ‘আইভিআই’ বা ‘ইন্টারন্যাশনাল ভ্যাকসিন ইনস্টিউটিউট’-এ। অত্যন্ত উন্নত দেশে, দারুণ প্রতিষ্ঠানে গবেষকের অসাধারণ কর্মজীবন শুরু করেছেন। পড়ালেখা করেছেন তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথম ব্যাচের ছাত্র। একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তাদের সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের অন্যতম সেরা ছাত্র। প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় হয়ে পাশ। হাসতে, হাসতে দিয়েছেন খুশির খবর, ‘আমি ২০ জুন থেকে চাকরি করছি সিউলের অফিসে।’

তাদের ‘আইভিআই’ হলো একটি স্বাধীন, অলাভজনক, আন্তর্জাতিক সংস্থা। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯৭ সালে, ৯ অক্টোবর। উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর শিশুদের স্বাস্থ্য নাটকীয়ভাবে ভ্যাকসিন বা টিকা প্রদানের মাধ্যমে রোগগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মাধ্যমে উন্নত করাই তাদের লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী সমাজের সঙ্গে সহযোগিতায় কাজ করেন। সাহায্য করেন বিভিন্ন দেশের ও বিশ্বের বড়, বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো, সরকাররা ও এই ভুবনের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে আইভিআই বিস্তৃত পরিসরে, সব ধরণের টিকা উৎপাদন ও বিতরণ ক্ষেত্রে কাজ করে। গবেষণাগারগুলোতে নতুন টিকার পরিকল্পনাও করেন তারা। তেমনিভাবে তৈরি ও উৎপাদনের পর যেসব দেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের শিশুদের সুরক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

জাতিসংঘ উন্নয়ন প্রকল্প বা ইউএনডিপির একটি উদ্যোগ হিসেবে আইভিআইয়ের জন্ম। তাদের সদর দপ্তর কোরিয়াতে শুরু থেকে। এখন ৩৬টি দেশে কাজ করছেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বা হু’র সঙ্গে তো আছেন শুরু থেকে চুক্তিবদ্ধ। ফলে বিরাট বড় কাজের দুনিয়া। বিশ্বজুড়ে চলছেন শিশুদের ভুবনগুলোতে বাঁচাতে। যে রোগগুলোকে অবজ্ঞা করা হয় দেশে, দেশে সেগুলোর দিকেও জোর দেন তারা। ‘প্রতিষ্ঠানটি সদস্য দেশগুলোর আর্থিক অনুদানে পরিচালিত হয়’, বলেছেন সুজন। টিকা উন্নয়ন, নিরাপদ সরবরাহ, কার্যকরভাবে ব্যবহারও কাজের মহা কর্মযজ্ঞে। তথ্যগুলো দেবার পর জুলহাস সুজন বলেছেন, ‘জানেন আমাদের বাংলাদেশ আইভিআইয়ের অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র। ২০২২ সালের পহেলা মে সদস্য হয়েছে। অবশ্য প্রথম থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করে চলেছি আমরা।’

কীভাবে আইভিআইয়ের সঙ্গে শুরু? জবাবে দারুণ মেধাবী ও পরিশ্রমী সুজন বলেছেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের একটি প্রকল্পে বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ছিলাম। ফলে তারা আমাকে নিয়ে গিয়েছেন এবার সদর দপ্তরে।’ জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পগ্রুপ ‘বসুন্ধরা’, ‘ইনফোসিস ইন্ডিয়া’ ও ‘ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স অর হেলথ ইন্টারন্যাশনাল (এমএসএইচ)’ মিলিয়ে আমার কর্মজীবন মোট নয়টি বছর।”

‘ইনফোসিস ইন্ডিয়া’ বা ‘ইনফোসিস লিমিটেড’ হলো একটি ভারতীয় বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কম্পানি। তারা ব্যবসায় পরামর্শ, তথ্য প্রযুক্তি ও আউট সোর্সিং সেবা প্রদান করেন। পুনেতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত। ৪১ বছরের, সদর দপ্তর ব্যাঙ্গালুরুতে। ২০০০ সালের হিসেবে বিশ্বের ৬শ ২তম বড় পাবলিক কম্পানি। ২০২০ সালে তারা ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম আইটি কম্পানির আয় করেছেন। ২০২১ সালের আগষ্টে ভারতের চতুর্থ কম্পানি হিসেবে ১শ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের হয়েছেন ফোবর্সের হিসেবে।

‘এমএসএইচ’ বা ‘ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস অব হেলথ ইন্টারন্যাশনাল’ একটি বৈশ্বিক অলাভজনক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্ন দেশের সরকার, প্রতিষ্ঠানগুলো ও বেসরকারী খাতকে কর্মকৌশল, উপকরণ ও ব্যবস্থাপনা সাহায্য প্রদান করেন বিনা পয়সায়, যাতে কার্যকর ও দক্ষ উপায়ে উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। অগ্রসর জ্ঞান ও প্রযুক্তি সেবা দিয়ে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে। যেন স্থানীয়ভাবে সবার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হয়, অন্যতম লক্ষ্য। ‌‘এমএসএইচ’ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দেশে, দেশে কাজ করছে। বেসরকারী খাত, সুশীল সমাজেও তারা বিশ্বস্ত পরামর্শক। স্বাস্থ্যসেবাকে আমূল বদলে দেওয়ার জন্য এমএসএইচও কাজ করছে। কাঁধে, কাঁধে মিলিয়ে তাদের কাজের উদ্দেশ্য, মানুষের জীবন বাঁচানো। বিশ্বের সবচেয়ে গরীব ও সবচেয়ে দুর্বল মানুষগুলোকে ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী করতে কাজ করছেন তারা। টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও গড়ে দিচ্ছেন সবার। ৫০ বছরের বেশি কর্মরত আছেন তারা।

এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুজন মাতৃভূমিসহ মোট ১১টি দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশে কাজ করেছেন। তার ভুবন ‘এন্টি-মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ বা ‘জীবাণু প্রতিরোধী’। জনস্বাস্থ্য তথ্যবিদ হিসেবেও অনেক সুনাম আছে তার। খুবই দক্ষ। মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করবেন বলে পড়ালেখা করেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)’তে। সেখানে তিনি জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন আপন মেধার জোরে, খুব ভালো ফলাফলে।

বলেছেন জুলহাস সুজন, ‌‘আমার এই সাফল্যগুলোর অনুভূতি খুব ভালো। নতুন কিছু প্রাপ্তি অবশ্যই সুখের ও তৃপ্তির। আনন্দ ও ভালোলাগার।’ কীভাবে অর্জন? ‘আমার সাফল্যগুলোর পেছনে কঠোর পরিশ্রম আছে। পরিবার, শুভাকাংখী ও শিক্ষকদের অনেক অনুপ্রেরণা, উৎসাহদান ও প্রচেষ্টা রয়েছে।’ ভালো করতে হলে? ‘যেকোনো বিষয় ভালোবেসে পড়তে হবে। ভালো লাগা থেকে কাজ করে যেতে হবে। যেদিকে ভালো, সেদিকে আরো মনোযোগ দিতে হবে। দুর্বলতাগুলো শ্রম দিয়ে কাটিয়ে উঠতে হবে। তাহলে সাফল্য আসবে।’ গবেষক হতে চাইলে? ‘গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যেতে হবে। এর কোনো বিকল্প কোথাও নেই। শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভালো সম্পর্কও গড়ে তুলতে হবে।’ বলেছেন তিনি, ‘ভালো গবেষক হতে চাইলে শেখার জন্য গবেষণার সেমিনারগুলোতে নিয়মিত, ভালোভাবে অংশ নিতে হবে। যোগাযোগও বাড়াতে হবে।’ সুজন জানিয়েছেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়নির্ভর এবং ভালো লাগার ভুবনের ওপর লেখার আগ্রহ থাকতে হবে।’ তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আইভিআইতে কাজ করবেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল ভ্যাকসিন ইনস্টিউটিউটের নতুন প্রকল্পগুলোতে মাতৃভূমিকে যুক্ত করার চেষ্টা করব।’

ছবি : সিউলে আইভিআই অফিসের সামনে সুজন। তার কাজের দুনিয়া-বসুন্ধরা, ইনফোসিস ইন্ডিয়া, এমএসএইচ এবং মানুষটিকে গড়ে দেওয়া পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ওএফএস।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা