শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ঋতুভেদে বদলায় নওগাঁর জবই বিলের রূপ

নানা বৈচিত্র্যে ভরা আমাদের এ বাংলাদেশ। প্রকৃতি অকৃত্রিম ভালবাসায় এ দেশটি সাজিয়েছে। বাংলাদেশের অপার সৌন্দর্য পর্যটকদের হৃদয়স্পর্শ করে। প্রকৃতির অকৃত্রিম, অনাবিল, অফুরন্ত বহুমাত্রিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। তেমনই এক মন প্রশান্ত করা ও নয়ন জুড়ানো দর্শনীয় স্থান হলো নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জবই বিল। প্রতিদিনের যান্ত্রিক জীবন থেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে উঁচু বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা নওগাঁয় জবই বিলের কোনো জুড়ি নেই।

বিলটিতে সারা বছর পানি থাকলেও ঋতুভেদে এখানকার রূপ ও সৌন্দর্য বদলায়। বর্ষায় বিলের চারিদিকে বিস্তৃর্ণ জলরাশির এক নয়ানাভিরাম সৌন্দর্যের দেখা মিলে জবই বিল এলাকায়। যতদূর চোখ যায় দেখা মেলে পানি আর পানি। এ সময় বিলের চারপাশের গ্রামগুলোকে দূরের কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ বলে মনে হয়। স্বচ্ছ পানিতে মেঘের আনাগোনার প্রতিচ্ছবি বিলের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। সব মিলিয়ে বর্ষাকালে জবই বিল এলাকায় চোখজুড়ানো দৃশ্যপট তৈরি হয়। বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় পুরো বিল পানিতে নিমজ্জিত থাকার পর বিলের অধিকাংশ এলাকা জেগে ওঠে। শুষ্ক মৌসুমে বিলের মাঝে জমে থাকা জলরাশি থেকে আসা শীতল হওয়া ও পড়ন্ত বিকেলে মিষ্টি রোদের ছড়াছড়ি জবই বিলকে এক শিল্পীর হাতের সুনিপণ চিত্রপটের রূপ দেয়। তবে জবই বিলকে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের সবচেয়ে আকৃষ্ট করে শীতকালে। শীতের কুয়াশায় আচ্ছন্ন জবই বিল নানা ধরনের পাখির কলরবে মুখর হয়ে ওঠে। সাইবেরিয়াসহ পৃথিবীর শীতপ্রধান এলাকা থেকে আসা পরিযায়ী পাখি আর নানান ধরনের দেশি পাখির বিলের জলাশয়ে খাবারের খুঁজে বিচরণ করে। আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়তে থাকা হাজারো পাখি দেখে দর্শনার্থীরা পুলকিত হন।

সাপাহার উপজেলার আইহাই ইউনিয়নে ভারত সীমান্তঘেঁষে বিলটির অবস্থান। ঐতিহ্যবাহী বিলটির উত্তরে ভারত থেকে উৎপত্তি হয়ে দক্ষিণে পুনর্ভবা নদীতে মিলিত হয়েছে। এক সময় যুগ যুগ ধরে বিলটি সাপাহার উপজেলাবাসীকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছিল। ১৯৯৯ সালে জবই বিলের মাঝ দিয়ে নির্মিত ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাকা সড়ক ও ২০০ মিটার দীর্ঘবিশিষ্ট দুটি সেতু দ্বারা উপজেলাবাসীর এ বিভক্তি মোচন হয়। বিলের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে বিলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা। ঘুরতে আসা মানুষের সুবিধার জন্য সড়কের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে কংক্রিটের ছাউনি।

সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, জবই বিলের আয়তন ৯৯০ একর বা ৪ বর্গকিলোমিটার। আগে এ বিল দামুর মাহিল নামে পরিচিত ছিল। বিলের উত্তরের অংশকে বলা হতো দামুর বিল ও দক্ষিণ অংশকে বলা হতো মাহিল বিল। তবে বিলটি জবই গ্রামের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এটি বর্তমানে জবই বিল নামেই অধিক পরিচিত।

জবই বিলে এক সময় বাইচ (মাছ ধরার প্রতিযোগিতা) হতো। আগে সেখানে জাল যার জলা তার নীতি ছিল। বিলের আশপাশের হাজার হাজার মানুষ বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে বিলটি বেশ কিছু বছর ধরে মাছ চাষের জন্য ইজারা দেওয়ায় সেখানে বর্তমানে বাইচ হয় না। জেলেরা মাছ ধরা ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

জবই বিলের পশ্চিম তীরবর্তী পাহাড়িপুকুর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল গফুর মণ্ডল বলেন, ‘২০-২৫ বছর আগেও এ বাইচ হইছে। প্রতি বছর খরার সময় বিলের পানি কমে গেলে পলো (বাঁশ ও বেতের সংমিশ্রণে তৈরি মাছ ধরার যন্ত্র) নিয়ে বিলের আশপাশের গ্রামের মানুষ ছাড়াও সাপাহার, পত্নীতলা ও পোরশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ মাছ ধরতে আসতেন। সপ্তাহের দুই দিন রোববার বিলের উত্তর অংশে ও মঙ্গলবার দিন বিলের দক্ষিণ অংশে বাইচ হতো। হাজার হাজার মানুষের মাছ ধরার সেই দৃশ্য আজও চোখের সামনে ভাসে। ৩০-৪০ কেজি ওজনের বোয়াল, আইড়, গজারসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ত। বড় বড় মাছের আঘাতে প্রতি বছর বাইচে দুই-একজন মানুষের মৃত্যু হতো। এজন্য এলাকার লোকজন এ বিলকে মানুষ খেকো বিল বলে ডাকত। তবে যখন থেকে বিলে মাছ চাষের জন্য সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া শুরু হয়েছে তখন থেকে এখানে আর বাইচ হয় না।’

জবই বিলের সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতে চাইলে রোদের বিষয়টি মাথায় রেখে এখানে আসতে হবে। এখানে সকাল কিংবা বিকেলের দিকে আড্ডা দেওয়ার উপযুক্ত সময়। তবে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা অনেকেই খাবারের আবর্জনা ফেলে এখানকার পরিবেশ নোংরা করে ফেলেন।

বিলের পথ দিয়ে যেতে যেতে চোখে পড়বে ছোট ছোট মাছ ধরার নৌকা। বিলে ঘুরতে আসা মানুষের ঘোরার জন্য বিলের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া সড়কে ভেড়ানো থাকে নৌকা। টাকার বিনিময়ে স্থানীয় মাঝিরা নৌকায় করে দর্শনার্থীদের বিল ঘুরে দেখান। দিন শেষে যখন আলো ফুরিয়ে যায়, জবই বিলের সৌন্দর্য যেন আরও বেড়ে যায়। চাঁদের আলোয় দেখা যায় অপরূপ গ্রামবাংলা।

জবই বিলে অতিথি পাখির পর্যাপ্ত খাবার থাকায় প্রতি বছর শীতের মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে। বালিহাঁস, পাতি সরালীসহ জানা-অজানা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আসে বিলে। পাখির কিচিরমিচিরে সব সময় মুখরিত থাকে। বিলের ছোট ছোট মাছ, জলজ পোকা-মাকড় এবং শামুকই মূলত তাদের প্রধান খাদ্য। অতিথি পাখি ছাড়াও সারা বছর দেশি নানা প্রজাতির পাখির বিচরণ দেখা যায় এ বিলে।

জবই বিলের জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটি নামে ওই সংগঠনের সদস্যরা পরিযায়ী পাখিসহ যেকোনো দেশি পাখি শিকার বন্ধে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সোহানুর রহমান সবুজ বলেন, আগে যখন এ বিলে জাল যার জলা তার নীতি ছিল, তখন এখানে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। বিলের আশপাশের গ্রামের জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বিলে জলজ উদ্ভিদও প্রচুর পরিমাণে ছিল। তবে যখন থেকে বিলটি মাছ চাষের জন্য ইজারা দেওয়া শুরু হয়েছে, তখন থেকে বিলে আর দেশি মাছ তেমন একটা পাওয়া যায় না। বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের ফলে বিলের জলজ সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ২০২০ সাল থেকে ঐতিহ্যবাহী এ বিলের ইকোসিস্টেমের কথা চিন্তা করে এখানে বাণিজ্যিক মাছ চাষ বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে এ বিলে আশপাশের গ্রামের পরিচয় সনদধারী জেলেরা এখানে মাছ আহরণ করে থাকেন। এর ফলে এ বিলে আবারও দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে। জলজ সম্পদও সমৃদ্ধ হচ্ছে।

জবই বিলে ঘুরে বেড়ানোর প্রকৃত সময় বর্ষাকাল ও শীতকাল। নওগাঁ জেলা শহর থেকে জবই বিলের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। সেখানে যেতে হলে পর্যটকেরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দর যেতে পারবেন। রাজশাহী থেকে এরপর নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সদর পর্যন্ত বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসে করে আসতে পারবেন। এ ছাড়া ট্রেনে ঢাকা থেকে সান্তাহার রেলস্টেশন নামতে হবে। সেখান থেকে বাস কিংবা অটোরিকশার মাধ্যমে জবই বিলে যাওয়া যাবে। আবার ঢাকা থেকে বিভিন্ন জনপ্রিয় পরিবহনের এসি বা নন-এসি বাস করে সরাসরি সাপাহারে যাওয়া যাবে। সেখানে থেকে সিএনজি, অটোরিকশা কিংবা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে করে জবই বিলে যেতে পারবেন।

সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, ‘জবই বিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি বিলের মাঝ দিয়ে যাওয়া সড়কে জবই সেতু ও মাসনাতলা সেতুর সংযোগ সড়কের উভয় পাশে পিলার বসানো হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের পরিকল্পনা আছে দর্শনার্থীদের বসার জন্য বিলের মাঝ দিয়ে যাওয়া রাস্তায় কংক্রিটের বেঞ্চ তৈরি করা হবে। এ ছাড়া বিলের রাস্তা থেকে বিলের মাঝ বরাবর গিয়ে সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ঝুলন্ত রাস্তা তৈরি করা হবে। আশা করা যাচ্ছে চলতি অর্থবছরে এসব পরিকল্পনা দৃশ্যমান হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি জবই বিলের ইকোসিস্টেম রক্ষার জন্য প্রশাসন সব সময় সচেষ্ট রয়েছে।’

এসএন

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা