পরিত্যক্ত বোতল কেটে টব

নওগাঁর সাপাহারের যুব কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানার পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতলের নান্দনিক ব্যবহারে বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্ক বারান্দা সাজিয়েছে গাছে। এমন ব্যতিক্রমী প্লাস্টিকের বোতলে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করেছে স্থানীয়দের।
সরজমিনে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে নিত্যদিন বেঁচে থাকার অভ্যাস তৈরি করতেই এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। গত ডিসেম্বরে নিজ উদ্যোগে এ পরিকল্পনা নেন সোহেল। রাস্তায় পড়ে থাকা পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের ৪০০ বোতল কুড়িয়ে এনে, সেই বোতল কেটে বিভিন্ন রকম পাতাবাহারের গাছ লাগানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি কীভাবে তা দিয়ে সৌন্দর্য্যবর্ধন করা যায়, তাও হাতে-কলমে করে দেখিয়েছেন যুব কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা।
তিনি ঢাকাপ্রকাশকে বলেন, ‘জমির মাটি ছাড়াও বাহারি টবে মাটি ভরে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো যায়। কিন্তু পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতলে মাটি ভরে, তাকে টবের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের অভিনব ভাবনাটি মাথায় আসে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। এভাবে গাছ লাগানোর ফলে বারান্দার সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি বাগানে দর্শনার্থীদেরও সবুজের প্রতি আকৃষ্ট করতেই এমন উদ্যোগ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সব গাছই ছিল ছোট ও লতা জাতীয়। এখন তিন দিকের বারান্দায় গাছের বোতলগুলোকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নিয়মিত গাছে সার, মাটি, পানি দেওয়া থেকে যত্ন-পরিচর্যা সবই একাই করছি। সবুজের গুরুত্ব বোঝাতে এ অভিনব উদ্যোগ।’
সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ রুহুল আমিন ঢাকাপ্রকাশকে বলেন, ‘প্লাস্টিক পণ্য বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পথ থেকে কুড়িয়ে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল সংগ্রহ করতে সবাই পারে না আত্মসম্মানের ভয়ে। গাছ লাগানোর পরে গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব পালন ঠিক ঠাক মতো করেছেন। যার ফলে তার বাগান বারান্দা সৌন্দর্য্য দেখতে ছুটে এসেছি। তার এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামছুল ওয়াদুদ ঢাকাপ্রকাশকে বলেন,‘সোহেল রানার এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রতিটি বাড়ির বারান্দার সঙ্গে এমন পরিবেশও প্রয়োজন। আমি আশাবাদী, এ উদ্যোগ অন্যকেও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করবে।’
এসএন
