শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

আর বাজবে না তার ড্রাম...

বিশ্বকে বদলে দেওয়া, সর্বকালের সেরাদের অন্যতম ড্রামার টেইলর হকিন্স আর নেই। তিনি মার্কিন রক ব্যান্ড দি ফো ফাইটার্সের ড্রামার ছিলেন। খুব ভালো গাইতেন। তার জীবনের গল্প...

টেইলর হকিন্সের পুরো নাম অলিভার টেইলর হকিন্স। ১৯৭২ সালে জন্মেছেন আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওর্থে। বেড়ে উঠেছেন ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লাগুনা বিচে। ক্যালিফোনিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির একটি ছোট্ট শহরে, সাগরের ধারে। ছোটবেলায় দক্ষিণ ক্যালিফোনিয়ান একটি ছোট ব্যান্ড সিলভিয়াতে গান ও বাজানো শুরু করেন। এরপর ড্রামারের বিখ্যাত ক্যারিয়ারটি শুরু করেন। প্রথম কাজ করেছেন কানাডিয়ান গায়ক স্যাস জর্ডানের ড্রামার হিসেবে। তারপর চলে আসেন ‘দি এলানেস মোরিস্যাট’ ব্যান্ড দলে। ১৯৯০’র দশকের মাঝামাঝিতে গিয়ে টানা দুটি বছর ড্রামার হিসেবে বাজালেন, গাইলেন টেইলর হকিন্স। তারপর ‘দি ফো ফাইটাস’-এ।

তার ড্রাম বাজানোর ভালোবাসা তৈরি হয়েছে ও অনুকরণ করতেন ছোটবেলায় জেইন’স অ্যাডিকশন নামের মার্কিন রক ব্যান্ডের ড্রামার স্টিফেন পারকিনসকে। তিনি এখনো বেঁচে আছেন। গুরুর কথা বলেছেন টেইলর হকিন্স এভাবে-‘আমার ড্রামগুলো তার মতো করে বসাতাম। পুরো কাজকর্মের সবই তার মতো ছিল। এখনো তার অনুকরণ সেভাবে করি। নিজের স্টাইল আমার বাজানো ও গানে আছে। তবে তার মতো করে শব্দ বানাই না। আমি আমার মতো করে শব্দ করি। তবে আমার জন্য তিনি বিরাট বড় একজন অনুপ্রেরণা।’

২০১৯ সালে এপিকে হকিন্স বলেছেন, তার ড্রামিং জীবনের শুরু দিকে আরো অনুপ্রেরণা ছিলেন ‘দি পুলিশ’ ব্যান্ডের ড্রামার স্টুয়ার্ট কোপল্যান্ড, ‘কুইন’র রজার টেইলর ও ফিলিপ কলিন্স। ফিলিপ কলিন্স ‘দি জেনেসিস’ ব্যান্ডের ড্রামার। তার সম্পর্কে বলেছেন, ‘তিনি আমার সবসময়ের প্রিয় ড্রামারদের একজন। আপনি জানেন, তিনি যে একজন বিখ্যাত ড্রমার ছিলেন লোকেরা তা ভুলে গিয়েছে এবং সেই সঙ্গে এও ভুলেছে, সোয়েটার পরা একজন ভালো মানুষ ছিলেন।’

১৯৯৭ সালে তিনি চলে এলেন মার্কিন রক ব্যান্ড ‘দি ফো ফাইটার্স’-এ। ১৯৯৪ সালে দলটি প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠাতা ডেইভ গ্রোল। এর আগে মার্কিন ব্যান্ডদল নির্ভানাতে, ড্রামার ছিলেন। তিনি একজন বিশ্বখ্যাত গায়ক, নিজের প্রজন্মের সেরা ড্রামারদের অন্যতম। তার নির্ভানা দলের প্রধান ও লিড সিঙ্গার কার্ট কোবেনের আত্মহত্যার পর দলটি ভেঙে গেল। এরপর নতুন দল ‘দি ফো ফাইটার্স’ গড়ে তোলেন। তিনি প্রধান ভোকালদের, গিটারবাদককে তার নতুন দলে নিয়ে নিলেন। তিন বছর পর ১৯৯৭ সালে হকিন্স যোগ দিলেন।

তার ও গ্রলের একটি শোতে শোর পেছনের অংশে আলাপ। গ্রলের নতুন ব্যান্ড দলটি তখন কদিনের মধ্যে একটি নতুন কাজ শুরু করবে। তাদের ড্রামার উইলিয়াম গোল্ডস্মিথ দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাকে দলে আসতে অনুরোধ করলেন প্রধান। এর আগে থেকেই হকিন্স ফো ফাইটার্সের খুব ভক্ত। দ্রুতই এই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন। ‘দি এলানেস মোরিস্যাট’ ব্যান্ড দল থেকে ট্যুরগুলোর ড্রামার হিসেবে দলে আসলেন।

তিনি ১৯৯৭ সালে ‘দি কালার অ্যান্ড দি শেপ’ নামের অ্যালবামটি তৈরি করার কদিন পরে যোগ দিলেন। তাদের আলাপ সম্পর্কে টেইলর হকিন্স বলেছেন, ‘এই কথা বলতে আমার ভয় লাগছে না যে, আমাদের দুজনকে বদলে দেওয়া সেই প্রথম সাক্ষাৎটি প্রথম দর্শনে ভালোবাসার মতো ছিল। আমরা গানের ও সুরের জোড়া যারা এখনো জ্বলে চলছে।’ তার সম্পর্কে নিজের ‘দি স্টেরিটেলার’ বইতে গ্রল লিখেছেন, ‘এরপর থেকে আমরা থামানো যায় না একটি জোড়াতে পরিণত হয়ে গেলাম। যেকোনো ধরণের সাধনা ও অভিযানে আমরা নিজেদের খুঁজে পাই।’

১৯৯৭ সালে এসে টেইলর হকিন্স দলের সবচেয়ে বিখ্যাত গান ‘এভারলং’র ভিডিওতে কাজ করলেন। তবে গানটি রিলিজের সময়ও দলে যোগদানের জন্য অপেক্ষা করছেন। আরো কিছু কাজ বাকি। এরপর থেকে টানা দুটি দশক তিনি তাদের সঙ্গে বাজিয়ে চলেছেন। এখানে তিনি তার ভীতিকর ও চমকপ্রদ কাজ করেছেন। এমন একটি দলের ড্রামার ছিলেন, যেটি রক ব্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে ভালো ড্রামারদের তৈরি একটি দল। তারা সবচেয়ে ভালো বাজানো মানুষদের অন্যতম। তিনি বলেছেন, ‘প্রথমে আমি সামান্য ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তবে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি।’

২০১৪ সালে অ্যান্ডারসন কুপারের সঙ্গে ৬০ মিনিট নামের একটি সাক্ষাৎকারে গ্রল বলেছেন তার ব্যান্ডে হকিন্সের প্রভাব নিয়ে, ‘আপনার দলে যখন টেইলর হকিন্সের মতো একজন ড্রামার থাকবেন, আমরা কেউই কোনো অপরিহার্য কারণ বাদে তাকে হারাবো না। কেননা আমার দলে আছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ড্রামার। সে আমার চেয়েও টেকনিক্যালি উন্নত মানসিকতার।’ সেই একই সাক্ষাৎকারে টেইলর বলেছেন এই ব্যান্ডে তাকে জায়গা করে নিতে তার কিছু সময় লেগেছে। তবে দলের প্রধান ও বিখ্যাত ড্রামার তার জন্য জায়গাটিকে কোনোদিনও কঠিন করে তোলেননি।

তিনি তার সুরে প্রথম ভালোবাসা ব্রিটিশ ব্যান্ড দি কুইনের প্রতি আবেগের কথাও জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমি রজার টেইলর হতে চেয়েছিলাম ও যেতে চেয়েছিলাম কুইনে। তাদের একজন হতে চেয়েছি আমি টেইলর হকিন্স।’ নিজের সম্পর্কে বলেছেন, ‘১০ বছর বয়স থেকে আমি স্টেডিয়ামগুলোতে ড্রাম বাজাচ্ছি।’

তাদের ব্যান্ডদল দি ফো ফাইটাস রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে ২০২১ সালে জায়গা পেয়েছে। আগের বছর তাদের নির্বাচিত হবার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো সময়ে বা মূহূর্তে, যেকোনো ক্ষণে আপনি কোনোকিছু যোগ করতে গিয়ে নার্ভাস হয়ে যেতে পারেন। তবে কেউই ডেইভ গ্রলের চেয়ে ভালো বাজাতে পারেন না। এই দর্শনটি তার নিজের হাতের মধ্যে আছে।’ দুজন একত্রে কাজ করেছেন তাদের ব্যান্ডের কনসার্টগুলো। তখন হকিন্স ভোকাল হিসেবে ব্যান্ডে গেয়েছেন। ভক্তরা তার মৃত্যুর খবর প্রদানের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কুইনের ‘সামবডি টু লাভ’ গানটি গাইছেন-ভিডিও ক্লিপ সংযুক্ত করেছেন।

তিনি রোগাক্রান্ত ছিলেন। ২০০১ সালে লন্ডন সফরের সময়ে টেইলর হকিন্স হেরোইন মাত্রাতিরিক্ত খেয়ে দুটি সপ্তাহ কোমাতে ছিলেন। এই নিয়ে ২০১৮ সালে বলেছেন, ‘আমার জীবনকে পরিবতন করে দেওয়া একটি আসল মূহুর্ত ছিল।’ তার মৃত্যুতে কলম্বিয়ার মার্কিন দূতাবাস শোক প্রকাশ করেছে। তাদের আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন এই ড্রামারের পরিবার, বন্ধু ও ভক্তদের জন্য।

এই ব্যান্ড দলে প্রতিষ্ঠাতা ও সামনের সারির প্রথম ব্যক্তি ডেইভ গ্রলের পর ফো ফাইটার্সের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সদস্য ছিলেন তিনি। গ্রলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারগুলো প্রদান করতেন। ব্যান্ডের ভিডিওগুলোতে খুব ভালোভাবে তার কাজ ও অংশগ্রহণ আছে। দলের সম্প্রতি প্রকাশিত ভৌতিক-কৌতুকের ছবি ‘স্টুডিও ৬৬৬’-এ অংশ নিয়েছেন। তিনি তাদের ব্যান্ডের সবচেয়ে ভালো অ্যালবাম ‘ওয়ান বাই ওয়ান’, ‘অন ইউর অনার’-এ কাজ করেছেন। তার একক গানগুলোর মধ্যে আছে ‘মাই হিরো’ ও ‘বেস্ট অব ইউ’। দলে শুরু থেকে একশর বেশি কনসার্টে তার অনন্যতা, অতিমানবের মতো পারফরমেন্সগুলো দেখিয়েছেন তিনি।

তাদের লাইভ শোগুলোতে অনেকবার গ্রলকে ড্রামের পেছনে চলে যেতে দেখা গিয়েছে ও তখন নিজের প্রিয়, কুইনের অ্যালবামের শিরোনাম ‘সামবডি টু লাভ’ গানটি গেয়ে শ্রোতা, দশর্কদের মাত করেছেন টেইলর হকিন্স। চিলিতে ২০২১ সালের ১৮ মার্চ এই গানের আগে বলেছেন, ‘দি ফো ফাইটার্সের লিড সিঙ্গার হবার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে এই একটি গানে, যেটি গাই আমি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ড্রামার।’ তার গলায় গানটি বিশ্বজুড়ে নন্দিত হয়েছে।

তিনি সহ-প্রকল্প হিসেবে ‘হকিন্স অ্যান্ড দি কোয়াটাইল রাইডাস’-এ কাজ করেছেন। এই ব্যান্ডে ২০০৬ সালে তারা ‘গেট দি মানি’ নামের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন।
দলের প্রধান গ্রল তার ‘দি স্টেরিটেলার’ নামের বইতে হকিন্সকে আরেক মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া তার ‘ভাই’ বলে উল্লেখ করেছেন। আরো লিখেছেন, ‘আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু, সে এমন একজন মানুষ যার জন্য আমি বুলেট খেতে রাজি।’ তার মৃত্যুর পর দলের প্রধান জানিয়েছেন, ‘আমার একজন প্রিয় শয্যাসঙ্গীর মৃত্যুর হলো।’

তার স্ত্রী অ্যালিসন ও তিনটি সন্তান বেঁচে আছে। তিনি ২০০৫ সালে বিয়ে করেছেন। তাদের কিশোর সন্তানেরা বেঁচে আছে। তাদের নাম হলো অলিভারে শেইন হকিন্স, এভারলি হকিন্স ও এনাবেল হকিন্স। তারা ক্যালিফোর্নিার হিডেন হিলসে বাস করতেন।

তিনি ২০০৫ সালে তার দীর্ঘদিনের এই বান্ধবীকে বিয়ে করেন। স্ত্রী তার ব্যক্তিগত জীবনে কেবল বিরাট ভূমিকা পালন করেননি, তাকে একজন রক স্টার হিসেবে বিকশিত হতে অবদান রেখেছেন। তবে একটি সাক্ষাৎকারে এই গায়ক হিসেবে নাম কামানো তারকা ড্রামার বলেছেন, কোনোদিন বিয়ে করবেন বলে ভাবেননি তিনি এবং মোটে ২৫ বছর বয়সেই তার সন্তান থাকবে কল্পনাতে ছিল না। অলিভার তাদের ছেলে, বাকিরা মেয়ে। একটি বড় শহরের ধারের বাড়িতে বাবা ও স্বামী হিসেবে তার জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি তার ‘গেট দি মানি’ নামের অ্যালবামটি প্রকাশ করেছেন। একটি গান আছে ‘মিডল চাইল্ড’। এটি বাবা মেয়ে অ্যানাবেলের জন্য লিখেছেন। প্রথমে তিনি তার বড় সন্তানের জন্য লিখতে চেয়েছেন, তবে তার জন্য গানের ঠিক লাইনগুলো খুঁজে পাননি তখন।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা