শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

সত্যিকারের কন্ঠ

ভাষাটির নামের অর্থ হলো এই-সত্যিকারের কন্ঠ। যে ভাষায় কথা বলতে পারেন মোটে দুজন মানুষ। তারা পরস্পরের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিলেন। ফলে ভাষাটির চর্চা আর হবে না বলে ভয়ে মোবাইলের বিজ্ঞাপনে তাদের নিয়ে আসা হলো। এরপর হলো অভিধান। তারা সরকারিভাবে ভাষাটি শেখালেন। কিভাবে ‘আইয়াপা’ ভাষাকে মেক্সিকোতে বাঁচিয়ে রাখা হলো সে গল্প


তাদের ভাষাটি ১ হাজার বছরের পুরোনো। ভাষাটিতে অনর্গল কথা বলতে পারেন, সবকিছু বুঝতে ও বোঝাতে পারেন এমন মানুষ বিশ্বে তারা দুজন। একজনের বয়স এখন ৮৬, নাম তার মানুয়েল সেগোভিয়া। অন্যজনের নাম ইসিগ্রো বেলাফকেফ। তার বয়স হলো ৮০। দুজনেই ‘আরিয়াপা’ নামের একটি নীচু অঞ্চলের গ্রামটির বয়স্ক নাগরিক। মেক্সিকোর দক্ষিণের তাবাসকো অঙ্গরাজ্যে তাদের এই জন্মস্থান। তাদের ভাষাটিকে বলা হয় সংক্ষেপে ‘আইয়াপা’, তারা ‘আইয়াপানেকো’ জাতি। এই ভাষা থেকে তাদের আদিবাসী জনগোষ্ঠীটির জন্ম। ভাষাটি মেক্সিকোতে আছে। এই দুজনের মাধ্যমেই বেঁচেছে। ভাষাটি নিয়ে সামান্যতম আগ্রহও নেই দেখে, ভাষাবিজ্ঞানীরা এক দশক ধরে কাজ করেছেন ভাষায় একটি অভিধান তৈরিতে। সেই কাজের শুরু ১৯৯৮ সালে। ২০০৮ সালে মেক্সিকো সরকার অনন্য উদ্যোগ নিলেন ইসিগ্রো বেলাফকেফকে বেতন দেওয়া শুরু করে। আইয়াপানেকোর শিশুদের তিনি ভাষাটি শেখানো শুরু করলেন। তার ছেলে ও চারজন শিশুকে ভাষাটি শেখাতে লাগলেন। তারপরও ২০১৪ সাল পর্যন্ত আর কোনো ভাষাভাষী ছিল না, কেউ ভালোভাবে কথা বলতে পারতেন না। এর আগে স্প্যানিশদের উপনিবেশ ছিলেন তারা, তাদের ভাষাও। শুরু থেকে একের পর এক যুদ্ধ, বিপ্লব, দুর্ভিক্ষ ও বন্যায় আক্রান্ত হয়ে একে, একে মারা গিয়েছেন তাদের মানুষরা। অনেকে ভাষা ও দেশ বদল করেছেন। ফলে দুই মানুষের কথা বলার ভাষাটি অন্য আরো অনেক আদিবাসী ভাষার মতো হারিয়ে যেতে চলেছে। তবে তারা একে, অন্যের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন ও কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন সবাইকে চমকে গিয়ে।

এই দুজন মানুষকে নিয়ে তো উত্তেজনার অভাব নেই। তাদের মধ্যে বিবাদ কি নিয়ে হয়েছে, সেটি ভালোভাবে কেউ জানেন না। একটি প্রাচীন ভাষার কেন দুজন বন্ধু কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন, সেটি ভাষাতাত্বিক অধ্যাপকদের হতাশ করে দিয়েছে। তাদের সামান্য কথা বলায় রাজি করতে পারেননি তাদের কেউ। ২০১৪ সালে সংবাদমাধ্যমগুলো আইয়াপেনেকো ভাষা ও এই আদিবাসী গোষ্ঠীর বেদনাবিধুর গল্পটি প্রকাশ করতে শুরু করেছে। একটি অত্যন্ত বিপন্ন ভাষা, আছে সে তাবাসকো নামের মেক্সিকোর একটি অঙ্গরাজ্যে, তাদের আদি বাসস্থান আইয়াপেনেকো গ্রামে, তারা ভুলে যাওয়া কিছু বিবাদের ফলে একে অন্যের সঙ্গে আলাপ করা বা কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। ভাষাটিকে নিয়ে কাজ করতে ও একে শেষ দুজন মানুষের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখতে অনেক ভাষাবিজ্ঞানী ছুটে গিয়েছেন আদিবাসী এই পুরুষদের কাছে। একজন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতাত্বিক নৃতত্ববিদ ড্যানিয়েল সাসলাক। তিনি তাদের আইয়াপানেকো ভাষার একটি ডিকশনারি তৈরি করতে দুজনের সঙ্গে অনেক কাজ করেছেন। বলেছেন, ‘তাদের দুজনের মধ্যে অনেক মৌলিক মিল নেই। সেগোভিয়ার আমার মনে হয়েছে, সামান্য খোঁচানোর স্বভাব আছে আর বেলাফোকের হলেন সুখ, দু:খ যেকোনোকিছুতেই উদাসীন একজন ব্যক্তি। তিনি খুব কমই বাড়ি থেকে বেরুতে ভালোবাসেন। একেবারে ঘরকুনো স্বভাবের মানুষ। তাকেই খোঁচান সেগোভিয়া।’

তাদের এই গ্রন্থাভিধানটি দুজনের ভাষাটি চলে যাবার আগেই ধরে রাখার একটি তুমুল গতিশীল প্রকল্প। প্রকল্পের প্রধানকে দুই মানুষ কথা বলেছেন তাদের ভাষা নিয়ে। সেগোভিয়া জানিয়েছেন, ‘যখন আমি একটি ছোট্ট বালক ছিলাম, সবাই আমাদের আইয়াপা ভাষায় কথা বলতেন। একটু, একটু করে আমার মাতৃভাষাটি অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। এখন মনে হয়, আমার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এটিও মারা যাবে।’ তবে তিনি তার ভাষার শেষ মানুষ বেলাফকেরের সঙ্গে কোনো প্রকাশ্য শত্রুতার কথা অস্বীকার করেছেন। বরং বলেছেন, আইয়াপানেকো ভাষাটিকে এক দশক আগে পর্যন্ত কথা বলে চর্চা করার অভ্যাসটি ধরে রেখেছিলেন দুজনে মিলে। এখনও তিনি ভাষাটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তার ছেলের সঙ্গে কথা বলে। তার ছেলের বৌ-তিনিও তাকে বুঝতে পারেন; তার সঙ্গে আদিবাসী মানুষটি তার ভাষায় কথা বলেন। তবে ছেলে ও ছেলের বৌ কথা বলে সামান্য কটির বেশি শব্দ উচ্চারণ করতে পারেন না পূর্বপুরুষের।

এই ভাষায় অনর্গল আরেকজন মাত্র বেলাফকেফ তখন আর কোনো মানুষের সঙ্গে নিজের মাতৃভাষায় নিয়মিত কথা বলতে রাজি নন। এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ২০১১ সালে। এরপর থেকে তাদের নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। অথচ তারা দুজনে বাস করেন একে অন্যের থেকে ৫শ ফিট দূরের বাড়িতে। মৌখিক বিনিময় করতে কেন অস্বীকার করেছেন সেটিও ভালোভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে যারা তাদের চেনেন, বলেছেন, কোনোদিনও একে অন্যের সঙ্গ পছন্দ করেননি বিশ্বের একটিমাত্র ভাষায় কথা বলা মোটে দুজন পুরুষ।

আগে থেকে তাদের ভাষা নিয়ে তো অনেকে গবেষণা করছেন। তাদের নিয়ে কাজ করা ড্যানিয়েল সাসলাক জানিয়েছেন, “আইয়াপানেকো নামের আদিবাসীদের কাছে পরিচিত ভাষাটির মাধ্যমে শত, শত বছরের দ্বীপ-আইয়াপানেকো, একটি ভাষাভিত্তিক দ্বীপ ছিল সবসময়। এই ভাষার চারপাশে এখানে ছিল শক্তিশালী আদিবাসী ভাষাগুলো। তবে আইয়াপানেকো ভাষাটির মৃত্যুর কারণ অন্যরকম। ২০ শতকের মাঝামাঝিতে প্রধান ও দখলদার ভাষা স্প্যানিশে লেখাপড়ার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর অন্য মুখের ভাষাগুলো এই অঞ্চলের আদি মানুষদের কাছ থেকে দ্রুত হারিয়ে যেতে লাগলো। শক্তিশালী ভাষা আইয়াপানেকোর মৃত্যু খবর স্প্যানিশে শিক্ষাব্যবস্থা চালু হওয়ার পর শুরু হয়ে গেল। লিখিতভাবে তাদের আর কোনো বর্ণমালা তৈরি করা হলো না। ভাষাটিকে উন্নত করার কোনো কাজও করলেন না স্পেনের রাজা ও রাণী এবং মেক্সিকোর সরকার। তবে কয়েকটি দশক শিশুদের আদিবাসী ভাষায় কথা বলা নিষিদ্ধ করে ভাষাটিকে শেষ করে দেওয়া হলো। পরিবারগুলোতে মুখের ভাষা হিসেবে বেঁচে থাকলো আইয়াপানেকো। তবে শেষ রক্ষা হলো না। শহরায়ন ও অভিবাসনের কবলে পড়লো ভাষায়টি। এগুলোর শুরু হলো ১৯৭০’র দশকে। ফলে যে মূল মানুষগুলো গ্রামে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলে ভাষাটিকে ধরে রেখেছিলেন, তারাও উচ্ছেদ হয়ে গেলেন। তাদের বাঁধনগুলো ভেঙে যেতে লাগলো।”

আরিয়াপা ভাষা নিয়ে কাজ করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরেকজন ভাষাতাত্বিক জনাথন রেঙ্গল বলেছেন, ‘আরিয়াপা ভাষাটি আরিয়াপানেকো এলাকার ভাষা। আছে তাবাসকো অঙ্গরাজ্যে। ৬শ বছরের পুরোনো ভাষাটি। আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভাষা হয়ে দাঁড়ালো পরে মায়া, আজটেক ভাষা। ফলে ধীরে ধীরে একটি আঞ্চলিক ও এলাকাভিত্তিক ভাষা হয়ে গেল। তারা এই অঞ্চলে আগে কলম্বিয়ানদের অধীনে ছিলেন। তারপর এলো স্প্যানিশ ভাষা। ফলে দুর্বলতম হয়ে গেল। এরপর মেক্সিকোতে স্প্যানিশ ভাষায় আবিশ্যিকভাবে লেখাপড়ার নিয়ম চালু হওয়ার পর তাদের ভাষাটি শতবষ আগ থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করেছে। মেক্সিকো গ্রহণযোগ্য ভাষা হিসেবে বিদ্যালয়গুলোতে সরকারিভাবে স্প্যানিশ শেখানো শুরু করলো। তারপর তেলের খনি পাওয়া গেল বলে নতুন অধিবাসীরা আসতে শুরু করলেন আইয়াপানেকোতে। ফলে ধীরে, ধীরে আইয়াপোনেকোর স্থানীয় ভাষাটির সঙ্গে মানুষের সংযোগ আরো কমে যেতে লাগলো।’

তাদের ভাষাটিকে নিয়ে গবেষণা করতে, করতে সাসলাক বলেছেন, ‘একটি দু:খের গল্প এগুলো। তবে আপনি সত্যিই জেনে খুশি হবেন, কীভাবে একে চারপাশ থেকে উঁচুতে ধরে রাখা হয়েছিল।’ তিনি আরো জানিয়েছেন, ‘এই মেক্সিকোতে মোট ৬৮টি আদিবাসী ভাষা আছে। এই ভাষাগুলো আবার ৩শ ৬৪টি উপভাষাতে রূপান্তরিত হয়েছে। সামান্য যে কটি আদিবাসী মেক্সিকানদের ভাষা আছে, সেগুলোও হারিয়ে যাবার বিপদ মোকাবেলা করছে। তবে তাদের সবার মধ্যে সবচেয়ে বিপদে আছে আইয়াপানেকো উপজাতিদের ভাষাটি। বাইরের মানুষদের আরোপ করা তাদের এই আইয়াপানেকো নামটিও।’

এই আদিবাসী ভাষায় সবশেষ পুরোপুরি কথা বলতে পারা দুজন-মানুয়েল সেগোভিয়া ও ইসিগ্রো বেলাফকেফ জানালেন, তাদের মাতৃভাষার আসল নাম ‘নুমতে ওতে’। তার অথ হলো, ‘সত্যিকারের কন্ঠ।’ তারা এই ভাষাটির বিভিন্ন রূপান্তরে কথা বলতে পারেন, সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন দুজনে মিলে। কেননা, তাদের সম্পক ভালো নয়। ২০১১ সালে তাদের এই ভাষার অভিধানটি বেরুনোর কথা ছিল। সেখানে তাদের মাধ্যমে ভাষাটির ভাষান্তরগুলোও থাকবে বলা হয়েছে। ‘দি আইয়াপানেকো ডিশনারি’ তৈরি করতে করতে পেরেছেন ড্যানিয়েল সাসলাক।

আরো আশার কথা, মেক্সিকোতে সরকারিভাবে ‘দি ন্যাশনাল ইনডিজেনাস ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট’ আছে। তারাও শেষবারের মতো উদ্যোগ নিয়েছেন, দুজন শেষ ভাষাভাষীর মাধ্যমে ক্লাসগুলো নিয়ে তাদের জ্ঞানকে স্থানীয়দের মধ্যে যারা এই ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের কাছে পৌঁছানোর। ভাষাটিকে নিয়ে এর আগের উদ্যোগগুলো অথ বরাদ্দের অভাবে ও অনুৎসাহে বিপযন্ত হয়ে গিয়েছে। তবে অভিযোগ করে সেগোভিয়া জানালেন, ‘আমি নিজে পেন্সিল ও আমার নোটবুকগুলো নিয়ে এসেছিলাম। ক্লাসগুলো লোকে লোকারণ্য আকারে শুরু হয়েছিল এবং এরপর লোকেরা আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।’

সাসলাক বলেছেন, ‘ভাষাটি বিশেষ দিক থেকে ধনী’, সেটিকে তিনি বলেছেন, “ইঙ্গিতের দিক থেকে। তারা এগুলো পেয়েছেন তাদের চারপাশের প্রকৃতি থেকে। সেগুলো থেকে উদ্দীপ্ত হয়ে তারা এই ইঙ্গিতপূণ আচরণগুলো করতে, করতে সেগুলোকে ভাষার অপরিহায অংশ হিসেবে নিয়ে এসেছে। তাদের এই ইঙ্গিত পূণ আচরণগুলো ভাষার শব্দেও আছে, যেমন ‘কোলো-গোলো-নাই।’ এর মানে হলো, ‘টাকির মতো গরগর করে।’ টাকি হলো এক জাতের মুরগি।”

২০১৪ সাল থেকে তারা কথা বলা শুরু করেছেন। এর পেছনে আছে দারুণ একটি ব্যবসায়িক কৌশল। জামান টেলিকম বহুজাতিক ও বিরাট কম্পানি ভোডাফোনের সাহায্যে তাদের ভাষাটিকে নিরাপদ ও রক্ষা করতে দুজনের মধ্যে কথা বলার একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলো। ভোডাফোন তাদের আবার কথা বলতে রাজি করাতে পেরেছিল। ভোডাফোনের জন্য মেক্সিকোতে ও নানা দেশে বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছে বিজ্ঞাপন এজেন্সি ইয়ং ভন ম্যাট। তারা সিদ্ধান্ত নিলেন, দুজনের ফাটল পূরণ করে তাদের যুদ্ধটি মেটাবেন ও ভাষাটিকে বাঁচাবেন। তারা একে, অন্যের সঙ্গে মোবাইলে আলাপ করছেন এই বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালিয়েছে মোবাইল কম্পানিটি। এই বিশেষ প্রচারণার নাম দিয়েছিলেন তারা ‘ভোডাফোন ফাস্টস’। বিজ্ঞাপনটি দেখানো শুরু হলো ২০১৪ সালেই। এরপর ইয়ং ভন ম্যাটের মাধ্যমে একটি প্রচারাভিযানেও পৌঁছালো শেষ ভাষাভাষী দুজনের কাজ। লোকেরা অনলাইন থেকে তাদের ভাষাটির শব্দগুলোকে নিজেদের ভাষায় গ্রহণ করতে লাগলেন, যেগুলো এখন মৃত। তাদের দুজনকে নিয়ে ভোডাফোন একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে। আইয়াপেনেকো ভাষা নিয়ে তৈরি। এখন অবশ্য ইন্টারনেটে পাওয়া যায় না। আগে তাতে প্রবেশ করে দর্শনাথী ও ভাষাটি নিয়ে আগ্রহী এবং ভাষা চর্চাকারীরা ভাষাটির বিভিন্ন শব্দগুলোকে গ্রহণ ও শিখতে পারতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যবহার করা লাইক ও শেয়ারের মতো শব্দগুলোর আইয়াপেনেকোতে উচ্চারণ জানতে ও গ্রহণ করতে পারতেন। তাতে ভিডিও ছিল। তাদের নামে একটি স্কুল গড়ে দিয়েছেন মোবাইল কম্পানি। সেখানে তারা শিশুদের নিজেদের মাতৃভাষা শেখান। তৈরি হয়েছে সরকারিভাবে বই।


ড্যানিয়েল সাসলাক কেন তারা এই বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছেন জানার জন্য দুজনের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তারা বলেছেন, আমাদের সত্যিকারের গল্পে বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির কোনো আগ্রহ ছিল না। বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের জন্য তারা তাদের টাকা দিয়েছেন বলে কাজ করেছেন দুজনে। একটি বিদ্যালয় ভবনের গায়েও তাদের ছবি একে বিজ্ঞাপন করেছেন তারা।


এই ভাষাটি নিয়ে পড়ালেখা করেছেন ভাষাতাত্বিক জনাথন রেঙ্গল। তিনি এই উদ্যোগের বিপক্ষে। জানিয়েছেন, ‘ভুল বিষয়গুলোকে প্রচার করবে না এই বিজ্ঞাপনগুলো, অন্য ভাষাগুলোকে রক্ষা করার ক্ষেত্রেও কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। বলেছেন, আপিয়াপানেকো প্রবাদগুলো তৈরি করতে লাখ, লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। এই কাজগুলো তাদের জন্য যাদের এই ভাষা বা কোনো ভাষার প্রতিই কোনো আগ্রহ নেই।’


এরপরের উদ্যোগ তাদের নিয়ে হয়েছে একটি এক রুমের শ্রেণীকক্ষ। কক্ষটি তাদের নামে রাখা ও নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ২০১৪ সাল থেকে এই পুরোনো দুই বন্ধু তাদের প্রাচীন ভাষাটি শিশু কিশোরদের শিখিয়েছেন। তবে এত সব উদ্যোগের ফলে এখন এই ভাষাটির মোট ১৬ জন কথা বলার মতো মানুষ আছেন। এই তথ্যটি জানিয়েছেন সাসলাক ও রেঙ্গল।

তবে নিয়মিতভাবে অবশ্য কেউই ভাষাটিকে বাড়িতে ব্যবহার করতে শিখছেন না। যারা এই ভাষা শিখছেন, তারা সবাই নিরাপদে বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা করছেন। শহরের অনেক তরুণকে এখন এই ভাষাটি শেখানো শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ধরণের উৎসবে আইয়াপানোকোর ভাষাটিকে উচ্চারণ প্রতিযোগিতা হিসেবে রাখা হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোনির্য়া অঙ্গরাজ্যের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতাত্বিক অধ্যাপক জেমস ফক্সও বিমানে উড়ে গিয়েছেন তাবাসকো অঙ্গরাজ্যে তাদের কাছে এই ভাষার একটি অভিধান তৈরি করতে।

ভাষাটির মধ্যে অনন্য সৌন্দর্য আছে বলে জানালেন রেঙ্গল, “যেমন তাদের একটি শব্দ আছে, স্প্যানিশে উচ্চারণ করতে হয় ‘চুকেমবুনিয়ে’। মানে হলো, ‘বজ্রদেবতার বাড়িটি’। এভাবেই তারা ‘মেঘকে’ ডাকেন। খুব কাব্যিকভাবে।”

(ইন্টারনেট থেকে অনুবাদ)

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা