আগামী দিনের বাউয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা নাটোর রাজবাড়িতে

নাটোরের কাদিরাবাদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনানিবাসে আছে ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউয়েট)’। অত্যন্ত মানসম্পন্ন ও সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়টির পুরকৌশল বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১২তম ব্যাচের ছাত্র, ছাত্রী তারা। সবাই মিলে দারুণ একটি দিন কাটালেন। সেদিন ছিল ৫ মার্চ। বাংলাদেশের বিখ্যাত প্রত্নসম্পদ নাটোর রাজবাড়ি ঘুরে দেখলেন সবাই। ‘নাটোর রাজবাড়ি’ বিশ্বজুড়ে ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান। নাটোর জেলা শহরে অবস্থিত। নাটোরের রাজারা রাজবাড়িটিতে বসবাস করতেন। পরিবারটির প্রতিষ্ঠাতা রাজা রাম জীবন বানিয়েছিলেন ১৮ সালের প্রথমে। রাজপ্রাসাদটি তার প্রশাসনিক কেন্দ্রও ছিল। মধ্যযুগের স্থাপত্যরীতিতে গড়া। প্রবেশের জন্য দীর্ঘ পথ আছে। ভেতরে অনিন্দ্য সুন্দর রাজপ্রাসাদ, বিরাট দীঘি, রাজমন্দির ও ফুলের সুন্দর বাগান।
তারা বিরাট প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি গড়েছিলেন ৩৭.২০ একর জমির ওপর। বিপুল প্রাসাদটি দুটি প্রতিরক্ষা বেষ্টনীতে সুরক্ষিত ছিল। পানির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটিকে তাদের প্রজারা ডাকতেন-‘ছই ভাঙার বিল’। নাটোরের বিখ্যাত জমিদার ও এই বংশের রাণী ভবানী প্রাসাদ কমপ্লেক্সের যথেষ্ট উন্নয়ন করেছেন। সাতটি ব্লকের প্রাসাদ কমপ্লেক্সের মোটে চারটি এখন মোটামুটি সংস্কার করা হয়েছে। সেখানে নাটোর জেলা প্রশাসনের অফিসগুলো আছে। রাজভবনের দক্ষিণে বিরাট লন। প্রাসাদের বিরাট স্তম্ভগুলো সেমি-কোরেনথিয়ান রীতিতে, খিলান নামেও পরিচিত। ক্লাসিক্যাল রোমান নিমার্ণ স্থাপত্য রীতিতেও গড়া। ‘এ’ ব্লকের মাঝখানটি বিরাট অভ্যর্থনা হল। এমন কক্ষ আরো আছে অনেক। এখানেই তো ১১টি রাজকক্ষ আছে। বিরাট বড় একেকটি। আছে রঙিন কাঁচের আলোবাতাসের ব্যবস্থার জানালা অনেকগুলো। খুব সুন্দর। কটি স্তম্ভের ওপর আছে শোভাবাড়ানোর জন্য দারুণ ভাস্কর্য। রাজপ্রাসাদে ডোরিক রীতির স্তম্ভ আছে। নাটমন্ডল, বিশেষভাবে গড়া। রয়েছে কৃষ্ণমন্দির। বিরাট মন্দিরটি রাজপরিবারের মন্দির হিসেবে বহুকাল ব্যবহার করা হয়েছে। পুরো প্রাসাদের বারান্দাগুলো খুব বড় ও খোলামেলা। ফুলের মোটিভ আছে বিভিন্ন দালানের গায়ে।
এত সুন্দর, ঐতিহাসিক ও অসাধারণ রাজভবন সারা বিশ্বের সম্পদ। বেড়াতে ও নানাকিছু দেখতে পেরে খুব খুশি হয়েছেন ছাত্র, ছাত্রীরা। জীবনের খাতায় টুকে নিয়েছেন কীভাবে গড়া হয়েছে অনন্য প্রাসাদটি। কী আছে, কেমন করে বানানো, অবদান ইত্যাদি সব শিখেছেন তারা। তাদের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার ড. মাহমুদুর রহমান তাদের সবাইকে নিয়ে গিয়েছেন এই বিশেষ শিক্ষাসফরে। তাতে প্রাচীন ও অনন্য প্রত্নসম্পদের স্থাপত্যরীতি, নির্মাণ কৌশল, শৈলীসহ কত কিছু যে তারা সবাই জানতে পেরেছেন। সবার জীবনে কাজে লাগবে অভিজ্ঞতাটি।
ওএস।
