বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

‘পদ্মা সেতু’ দেশের অর্থনীতির নতুন লাইফ লাইন

সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক স্বপ্নের পদ্মা সেতু। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯ জেলা তো বটেই বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন লাইফ লাইন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হচ্ছে আজ। যা দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের দেশের অন্যতম বড় যোগাযোগ অবকাঠামো স্বপ্নসারথি পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে পাল্টে যাবে দেশের অর্থনীতি। আমূল পরিবর্তন আসবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায়। ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ হবে ব্যবসা-বাণিজ্য। গড়ে উঠবে শিল্প কারখানা। সমৃদ্ধির পথে হাঁটবে বাংলাদেশ। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ যাবে অনন্য উচ্চতায়।

পদ্মা নদীর কারণে রাজধানীর সঙ্গে ঢাকা বিভাগেরই পাঁচটি জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বছরের পর বছর। শুধু ঘণ্টার পর ঘণ্টা নয়, দিনও পার হয়ে গেছে পদ্মা নদী পাড়ি দিতে। ইচ্ছা থাকলেও অনেকে বাবা-মা থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজনের চিকিৎসা করাতে পারেননি নদী পারাপারের বিড়ম্বনায়। অর্থনৈতিক ক্ষতিও কম হয়নি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ঢাকাপ্রকাশকে বলেন, ‘পদ্ম সেতু শুধু একটি সেতু না এটি হচ্ছে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন করে চেনার পথ। দেশের সক্ষমতা জানান দেওয়ার আওয়াজ। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে তথা অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন ঘটবে। কারণ ঢাকা বিভাগের জনগণই আগে দিনের মধ্যে রাজধানীর সুফল পেত না। খুলনা ও এর আশপাশের জেলায় রপ্তানিমুখী বড় শিল্পকারখানা নেই। যাতায়াত সহজ না হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু পদ্মা সেতুর আশির্বাদে শুধু দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা নয়, সারা দেশ এর সুফল পাবে। কৃষকের ফসল আর পচবে না। কৃষকের উৎপাদিত ফসলসহ মাছ, চাল, মৌসুমি ফল সহজেই রাজধানীসহ অন্যান্য জেলায় পৌঁছবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে নৌপথে ঢাকায় আসতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে পৌঁছে যাবে। কৃষক পণ্যের ন্যায্য দাম পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ মানুষ দিনের মধ্যেই কাজ শেষে বাড়িতে ফিরতে পারবে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণও হবে। এ জন্য দক্ষিণাঞ্চলে ইতোমধ্যে জমির দাম অনেক দাম বেড়ে গেছে। দ্রুত শিল্পায়ন হবে। এভাবে বিভিন্নভাবে অবদান রাখবে পদ্মা সেতু। উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের কারণে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ অবদান রাখবে। সারা বাংলাদেশ হাতের তালুতে আসবে।’

ব্যবসা-বাণিজ্যে অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে পদ্মা সেতু। দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পথ দেখাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের সুযোগ করছে। এই বাণিজ্য শুধু দেশে নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার পথ দেখাচ্ছে। বাড়বে রপ্তানি। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। বেকারত্ব ঘুচবে কয়েকগুণ। শিল্প কারখানার পাশাপাশি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করবে কৃষি নির্ভর অর্থনীতিও।

অর্থনীতিবিদরা আগেই গবেষণা করে দেখেছেন পদ্মা সেতু চালু হলে ব্যাপকভাবে কর্মচাঞ্চল্য গড়ে উঠবে। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ অবদান রাখবে। পদ্মা নদীর কারণে বছরের পর বছর দেশের একটা বড় জনগোষ্ঠী বঞ্চিত ছিল সবরকম সুযোগ সুবিধা থেকে। সেটি এখন দূর হয়ে গেছে। একসময় যেমন উত্তরবঙ্গ বিচ্ছিন্ন ছিল। কিন্তু যমুনা নদীতে সেতু নির্মাণের পর উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবনযাত্রার মান যেমন বেড়েছে, আর্থসামাজিক অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে, ঠিক তেমনি শিল্পায়নে বিপ্লব ঘটেছে দেশের উত্তরজনপদে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ার ফলে একই চিত্র দেখা যাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতেও। এই অঞ্চলে আগামী কয়েক বছরে শিল্পায়নে বিপ্লব ঘটবে। মানুষের কর্মযজ্ঞ বাড়বে। এক কথায় পদ্মার ওই পারের ২১ জেলার অর্থনীতি যেমন বদলে যাবে, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও বড় পরিবর্তন আসবে।

যশোরের বেনাপোল ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর দেশের অর্নীতির চাকা সচল করতে কয়েকগুণ সক্রিয় হয়ে উঠবে। একইভাবে মোংলা ও পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরও অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আশা করা হচ্ছে, পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিপণ্য সহজেই ঢাকায় পৌঁছবে। এতে করে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের সকল জেলায় কৃষিপণ্যের সরবরাহ বাড়বে। কৃষিপণ্যের দামও সাধারণের নাগালের মধ্যে থাকবে। কৃষকরাও তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে। এতে করে অর্থনীতির চাকা দ্রুতগতিতে ঘুরবে।

পদ্মা সেতু শুধু দেশীয় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বা দেশের অন্যান্য জেলার অর্থনীতে ভূমিকা রাখবে না, বৈদশিক মুদ্রা অর্জনেও বড় ভূমিকা রাখবে। এই সেতুর কারণে ভারতে, নেপাল, ভুটানসহ আশপাশের দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে বড় ভূমিকা রাখবে এমনটাই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। পদ্মা সেতুতে যখন রেল লাইন চালু হবে এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সহজ হয়ে উঠবে তখন আরও বেশি সুবিধা পাওযা যাবে।

পদ্মা সেতুর স্বপ্নসারথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে বলেছেন, ‘পদ্মা সেতুকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা হবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি জায়গা খোঁজা হচ্ছে।’

পদ্মা সেতুর ফলে বাংলাদেশের যে সামর্থ্য সেটা বিশ্বে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরবে। এই সেতু ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে মোটর পরিবহন কানেকটিভিতে আছে। এশিয়ান হাইওয়ে ও রেললাইন লিংকেও যুক্ত হবে। এর পরিচিতি কেবলমাত্র যে বাংলাদেশে থাকবে তা না, আঞ্চলিক ও উপআঞ্চলিক পর্যায়ে চলে যাবে। এর গুরুত্ব বিশ্বেও যাবে। পর্যটনেরও অপার সম্ভাবনা।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানো পদ্মা সেতু যেমন রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর দূরত্ব কমাবে, তেমনি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনেও রাখবে বড় ভূমিকা। এই সেতুর কারণে পদ্মার ওই পারের পর্যটন শিল্পেও বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের কাছে এখন পর্যন্ত বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন আর সাগরকন্যা কুয়াকাটা অন্যতম পর্যটন স্পট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বড় একটি পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে টুঙ্গিপাড়া। সেখানেও অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলোর বাইরে আরও বহু পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে যেগুলো এখনও পর্যটকদের কাছে ওইভাবে প্রকাশ পায়নি। পদ্মা সেতুর কারণে অন্ধকারে থাকা পর্যটন স্পটগুলো আলোকিত হবে। গড়ে উঠবে কর্মসংস্থান। অর্থনৈতিক বাঁক বদলে রাখবে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা।

যাত্রাপথের বিড়ম্বনা দূর হওয়ায় এখন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী হবেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। সহজেই যেতে পারবেন সুন্দরবন, কুয়াকাটা, বঙ্গবন্ধুর মাজার, মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা কিংবা অন্যান্য জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে। অর্থনীতির পরিবর্তনে এসব পর্যটনস্পটগুলো হয়ে উঠবে বড় সম্ভাবনাময় খাত।

এনএইচবি/এসএন

 

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক

ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আজ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই সফরের ফাঁকে তার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সরকারি সূত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকটি আগামী শুক্রবার (৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সরকারি সূত্রগুলো বৈঠকটি প্রায় চূড়ান্ত বলে জানিয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ খলিলুর রহমান বলেন, "আমরা সরকারিভাবে এই বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছি। আমাদের আশা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।"

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বরাত দিয়ে একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কিছুটা শীতল রয়েছে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিলেও দুই নেতা মুখোমুখি হননি। মোদি দেশে ফিরে যাওয়ার পর ইউনূস নিউইয়র্কে পৌঁছান। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মোদি তাকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠান এবং গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসেও শুভেচ্ছা জানান।

বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান আরও জানান, বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে সংগঠনের পরবর্তী চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং আগামী এক বছর বিমসটেকের কার্যক্রম পরিচালনার নেতৃত্বে থাকবে বাংলাদেশ।

এছাড়া সম্মেলনে বিমসটেকভুক্ত বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি দুটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সময়ও উপস্থিত থাকবেন।

প্রধান উপদেষ্টা আগামী ৪ এপ্রিল ব্যাংকক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

Header Ad
Header Ad

সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় মদপানের ফলে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও ৯ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই যুবকের মৃত্যু হয়। এর আগে, ঈদের সন্ধ্যায় তারা মদপান করেন এবং রাতের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন আশাশুনি উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের জাফর আলী খাঁর ছেলে জাকির হোসেন টিটু (৪০) ও সোহরাব গাজীর ছেলে নাজমুল গাজী (২৬)।

এ ঘটনায় অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণ তেতুলিয়া গ্রামের সাইদ সরদারের ছেলে ফারুক হোসেন, মোকামখালী গ্রামের কুদ্দুস সরদারের ছেলে ইমরান, মিত্র তেতুলিয়ার মর্জিনা খাতুনের ছেলে ইকবাল, কামরুলের ছেলে লিফটন, আজিবার সরদারের ছেলে রবিউল, শহীদ গাজীর ছেলে তুহিন, আনিসের ছেলে নাজমুলসহ আরও কয়েকজন।

গুরুতর অসুস্থদের মধ্যে ফারুক হোসেনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ইমরানকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঈদের দিন সন্ধ্যায় আশাশুনির তেতুলিয়া শ্মশানঘাট মাঠে বসে জাকির হোসেন টিটু, নাজমুল গাজীসহ মোট ১১ জন একসঙ্গে মদপান করেন। মদপানের পর তারা বাড়ি ফিরে যান এবং ঘুমিয়ে পড়েন।

এরপর রাত ১২টার দিকে একে একে সবাই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকির হোসেন টিটু ও নাজমুল গাজী মারা যান। বাকি ৯ জনের চিকিৎসা চলছে।

আশাশুনি থানার ডিউটি অফিসার এসআই ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যু অন্য কোনো কারণে হয়েছে কিনা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

নিহতদের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Header Ad
Header Ad

ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান, চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।

এই পদক্ষেপকে ইরানের ওপর আরও চাপ সৃষ্টির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটির ওপর বোমা হামলা চালানো বা নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও বিচার বিভাগ যৌথভাবে জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন কর্মসূচির অন্যতম প্রধান নির্মাতার জন্য মানববিহীন এয়ার ভেহিকল (ইউএভি)–এর উপকরণ সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছয়টি সংস্থা ও দুই ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, "ইরান তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়াসহ তাদের প্রক্সিদের সরবরাহ করছে। রুশ বাহিনী এগুলো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে, যা বেসামরিক নাগরিক, মার্কিন বাহিনী ও মিত্রদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা ইরানের সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স এবং তাদের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রচলিত অস্ত্রের বিস্তার ব্যাহত করতে কাজ চালিয়ে যাব।"

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে একটি ইরান-ভিত্তিক সংস্থা, দুইজন ইরানি নাগরিক, একটি চীন-ভিত্তিক সংস্থা এবং চারটি সংযুক্ত আরব আমিরাত-ভিত্তিক সংস্থা।

এ বিষয়ে জাতিসংঘে ইরানের মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আখাউড়ায় ট্রেনের ছাদে টিকটক বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নিহত ২
বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার আহ্বান ভারতের ত্রিপুরার রাজপরিবার প্রধানের
বিএনপি কখনোই নির্বাচনের পরে সংস্কারের কথা বলেনি: মির্জা ফখরুল
বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় আটক ৫
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ভ্যাল কিলমার আর নেই
ময়মনসিংহে সিনেমা হলে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে দর্শকদের ভাঙচুর
সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যে ভারতীয় রাজনীতিবিদদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
মিয়ানমারের ভূমিকম্পে এক ইমামের ১৭০ স্বজনের মৃত্যু
ঈদের আনন্দে যমুনার দুর্গম চরে গ্রাম-বাংলার ঘুড়ি উৎসব, আনন্দে মেতে উঠে বিনোদনপ্রেমীরা!
ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়, দেওয়া হলো ৯ লাখ টাকার সংবর্ধনা
লন্ডনে একসঙ্গে দেখা গেলো সাবেক চার আওয়ামী মন্ত্রীকে
ঢাকায় ফিরছে ঈদযাত্রীরা, অনেকে ছুটছেন শহরের বাইরে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আবারও সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭
বিটিভিতে আজ প্রচারিত হবে ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা, নেই যানজটের চিরচেনা দৃশ্য