শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে

বিশ্বব্যাপী একটা আশঙ্কা, ২০২৩ সালটি একটা মহাসংকটের বছর হবে। আরও স্পষ্ট করে বলা যায় যে এবছর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা প্রকট হতে পারে। সেজন্য আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। কৃষিই যে বিপদের দিনে আমাদের রক্ষাকবচ সে কথাটি বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই কৃষি খাতের বাড়তি বাজেট ছাড়াও তিনি সংকট মোকাবিলার জন্য আলাদা করে বাজেট করেছেন।

কৃষি গ্রামীণ মানুষের চল্লিশ শতাংশেরও বেশি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে। কৃষি ভালো করলে অকৃষি খাতও ভালো করে। বাড়ন্ত আধুনিক কৃষি শিল্পের কাঁচামাল ও দেশের সার্বিক অভ্যন্তরীণ চাহিদাও যোগায়। ফলে দেশে কোনো মন্দা দেখা দেয় না। ২০০৯ সালেও চলছিল বিশ্ব আর্থিক সংকট। কিন্তু সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধহস্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষি, এসএমই, রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের উপর বিশেষ নজর দিয়ে এমন এক অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করেছিলেন যার ফলে বাংলাদেশের মানুষ ওই বিশ্ব আর্থিক সংকটের আঁচই পায়নি।

উন্নয়নমুখী কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে সময়টায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির কৌশল নিয়ে সরকারের মাটিঘেঁষা উন্নয়ন অভিযাত্রায় শামিল হয়েছিল। কৃষককে ১০ টাকায় হিসাব খুলে দেওয়া, বর্গাচাষিদের কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা, নারী উদ্যেক্তাদের বিনা জামানতে ঋণের সুযোগ করে দেওয়াসহ অসংখ্য উদ্ভাবনীমূলক উদ্যোগ সরকারের জনবান্ধব উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে আরও শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে সহযোগিতা করেছিল। অন্তর্ভুক্তিমূলক সেই উন্নয়ন কৌশল কভিড-১৯ এর অর্থনৈতিক ঝাপ্টা মোকাবিলায় যথেষ্ট কাজে লেগেছে। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক মিলে প্রণোদনা কর্মসূচির আদলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এমন এক উপযোগী কৌশল গ্রহণ করেছিল যার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি মোটেও ঝিমিয়ে পড়েনি। বরং উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে গতিশীল প্রবৃদ্ধির দেশ হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে।

জিডিপির প্রায় ছয় শতাংশ এই প্রণোদনার আওতায় স্বল্প সুদের ঋণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখনো কৃষি ও ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি চালু করে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির চাকাকে বেশ গতিশীল রেখেছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ যখন সারা বিশ্বের প্রবৃদ্ধি এবছর এবং আগামী বছর তিন শতাংশের আশে পাশে রাখছে সেই সব প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার এই দুবছরই তার দ্বিগুণেরও বেশি হবে বলে তাদের অর্থনৈতিক প্রক্ষেপণে তুলে ধরেছে। এডিবি তার চেয়েও আরেকটু বেশির কথা বলছে। আর বাংলাদেশ আশা করছে তার প্রবৃদ্ধির হার এই সময়টায় সাত শতাংশের কম হবে না।

তবে এই ক্রান্তিকালে প্রবৃদ্ধি যদি প্রক্ষেপিত হারের চেয়ে খানিকটা কমও হয় তাতে দোষের কিছু নেই। এই মুহূর্তের বড় সংকট কী করে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়? শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বজুড়েই বইছে এই প্রবল মূল্যস্ফীতির লু হাওয়া। এর ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। দারিদ্র্যের হারও বাড়ন্ত। বিশেষ করে খাদ্যমূল্যস্ফীতির দাপট বেশ আক্রমণাত্মক।

অথচ এই মূল্যস্ফীতির উৎস অভ্যন্তরীণ নয়। আমদানি করা এই মূল্যস্ফীতির পেছনে একদিকে কোভিডের কারণে পর্যুদস্ত আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইন (বিশেষ করে বাড়ন্ত জাহাজ ভাড়া) এবং তদুপরি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে জ্বালানি, গ্যাস ও ভোজ্য তেলের পাশাপাশি খাদ্যমূল্য দারুণ হারে বেড়ে যাওয়ার কারণগুলো কাজ করছে। এর মধ্যে মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে নেমে এসেছে ডলারের দাম বৃদ্ধি। কোভিডের সময় যুক্তরাষ্ট্রও ব্যাপক হারে তার অর্থনীতিতে অর্থ ঢেলেছিল। সেই অর্থ বাজার থেকে তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মৌলিক নীতি হার বাড়িয়েই চলেছে। এরই মধ্যে কয়েকবারে তিন শতাংশের মতো মৌলিক সুদ হার বাড়িয়েছে ফের।

যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে এখনো মূল্যস্ফীতি আট শতাংশের বেশি তাই সহজেই এই নীতি হার বাড়ানোর কৌশল থেকে সরে আসবে না ফের। এর ফলে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ছে তো বাড়ছেই। বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রার বাস্কেটের মূল্যমানের চেয়ে এরই মধ্যে প্রায় তেরো-চৌদ্দ শতাংশ বেড়েছে ডলারের দাম। আর আমাদের মতো দেশের মুদ্রার তো কথাই নেই। যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও জাপান তাদের মুদ্রার মান ধরে রাখার জন্য রিজার্ভ থেকে বিদেশি মুদ্রা ছেড়ে দিচ্ছে। রেপো রেট বাড়াচ্ছে। কিন্তু একমাত্র জাপান ছাড়া আর সব উন্নত দেশেই মূল্যস্ফীতি নয় শতাংশের বেশি। শুণ্য মূল্যস্ফীতির দেশ জাপানের মূল্যস্ফীতিও তার টার্গেট দুই শতাংশ কবেই অতিক্রম করে গেছে।

বিশ্বের চল্লিশ শতাংশ বাণিজ্য হয় ডলারে। বিশ্ব বন্ড বাজার প্রায় পুরোটায় ডলারনির্ভর। ডলারের দাম বাড়ায় একদিকে আমদানির খরচ বাড়ছে তো বাড়ছেই, অন্যদিকে বিদেশে ডলার মূল্যের বন্ড বিক্রি করে বিনিয়োগকারীরা ছুটছে মার্কিন ট্রেজারি বন্ড কেনার জন্য। সেদেশে বন্ড থেকে পাওয়া লাভের অংক লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আর শ্রীলংকার মতো যেসব দেশ ডলার বন্ড বাজারে ছেড়েছিল তারা আর বিক্রিচ্ছুক বিনিয়োগকারীদের ডলারে দাম শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। শ্রীলংকা তো নিজেকে দেওলিয়া ঘোষণা করে এই সংকট থেকে বাঁচবার কতোই না চেষ্টা করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড মার্কেট তেজি হচ্ছে এবং একই সঙ্গে ডলারের দামও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ফের যাতে তার নীতি হার আর না বাড়ায় সেজন্য জাতিসংঘ পর্যন্ত আহ্বান জানিয়েছে। কেননা এর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা বেড়েই চলেছে। এর শিকার দুর্বল অর্থনীতির উন্নয়নশীল দেশগুলোর ম্যাক্রো অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে। অন্য দিকে উন্নত দেশগুলোর মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় তাদের ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব গিয়ে পড়ছে আমাদের মতো রপ্তানিকারক দেশগুলোর উপর।

বিশেষ করে মূলত বস্ত্র রপ্তানির দেশ বলে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রা আয়ের বেশ খানিকটা ঝুঁকি তো তৈরি হচ্ছেই। এমনিতেই হঠাৎ আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার বিলাসী ও কম অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমমদানি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরেই অনেকগুলো নীতি গ্রহণ করেছে। ঋণের মার্জিন বাড়িয়ে দেওয়া, বেশি মূল্যের এলসি নিবিড়ভাবে মনিটর করা, ডলার খরচ কমানোর জন্য প্রশাসনিক অনেক কৃচ্ছ কর্মসূচি হাতে নেয় এবং অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের গতি থামিয়ে দেওয়ার মতো সুবিবেচনামূলক নীতিমালার সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। তা ছাড়া দেশে আরও বেশি ডলার প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আনার জন্য টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন এবং নিয়মনীতি সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই বাণিজ্য ঘাটতি ও চলতি হিসেবে ঘাটতি গত তিন মাসে বেশ কমেছে। এর ফলে প্রায় এক বছর পরে হলেও রিজার্ভ ক্ষয়ের ধারাটি থেমেছে।

ধীরে হলেও রিজার্ভ ফের বাড়তে শুরু করেছে। ডলারের একাধিক হারের বদলে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি হারের দিকে এগোতে পারলে প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের গতি আরও বাড়বে বলেই মনে হয়। সামনের দিনগুলোতে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়বে এবং অন্যদিকে আমদানি খরচ কমবে আশা করা যায়। দুইয়ে মিলে ডলার-টাকা বিনিময় হার স্থিতিশীল হবে এবং রিজার্ভের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে।

এই প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ব মহামন্দার হুশিয়ারিকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে আমাদের খুবই বিচক্ষণতার সাথে পা ফেলতে হবে। সেজন্য মোদ্দা কিছু নীতি অনুসরণ করা গেলে এই মহাসংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক দেশের চেয়েই ভালো করবে।

সুনির্দিষ্ট নীতিকাঠামোর উপর ভরসা করে হিসাব করে এগোলে নিশ্চয় চলমান মন্দা বা আগামী দিনের মহামন্দা মোকাবিলা করেই বাংলাদেশের উন্নয়নের সুনাম ধরে রাখতে পারবো। এজন্য সবাইকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।

ড. আতিউর রহমান: অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর।

এসএন

Header Ad
Header Ad

লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিনজনের মধ্যে একজন শুক্রবার (৪ এপ্রিল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার নাম তসলিমা আক্তার প্রেমা (২০)।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে ওই ঘটনায় আহত আরও দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সাত বছর বয়সী শিশু আরাধ্য বিশ্বাস আইসিইউতে এবং ২৫ বছর বয়সী দুর্জয় মণ্ডল হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন আছেন।

শিশু আরাধ্য বিশ্বাসের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি তপন চৌধুরী।

এদিকে, বুধবার (২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হন। আহত তিনজনের মধ্যে আজ আরও একজন মারা গেছেন।

দুর্ঘটনায় নিহত হন শিশু আরাধ্য বিশ্বাসের বাবা দিলীপ কুমার, মা সাধনা রানী ও সাধনার বড় ভাই। তারা ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়, আরাধ্য জানে না যে তার মা-বাবা আর ফিরে আসবেন না। তার ভরসা এখন তার দাদু দুলাল বিশ্বাস।

বন্ধু ও নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে মাইক্রোবাসে বুধবার ভোরে ঢাকা থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার পথে লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান দিলীপ, তার স্ত্রী সাধনা রানী ও সাধনার বড় ভাইসহ ১০ জন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল আলম আশিক জানান, লোহাগাড়ায় দুর্ঘটনায় আহত তিন জনের মধ্যে আজ একজন মারা গেছেন। শিশু আরাধ্য বিশ্বাসের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুর্জয় মণ্ডল নামে আরও এক যুবক চিকিৎসাধীন আছেন।

Header Ad
Header Ad

নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে

ছবি: সংগৃহীত

ইন্টার মায়ামির হয়ে লিওনেল মেসি খেলতে নামলেই সাইডলাইনে এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে ইয়াসিন চুকোকে দেখা যায়। মেসির দেহরক্ষী হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তার পাশে থাকেন এবং মেসির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তবে এমএলএসের নতুন নিয়মের কারণে এখন থেকে আর তাকে মেসির পাশে দেখা যাবে না।

লিওনেল মেসির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইয়াসিন চুকো সম্প্রতি মার্কিন ফুটবল লিগ এমএলএসের নিয়ম ভাঙায় নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মেসির সঙ্গে পাড়ি দেওয়ার পর থেকেই তার দৃঢ় শারীরিক গঠন এবং মাঠে মেসির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুকো প্রায়ই খেলোয়াড়দের নির্ধারিত ক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে ভক্তদের ঠেকিয়ে দেওয়ায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তবে এমএলএস কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়মের কারণে চুকোকে এখন থেকে খেলার সময় মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নিয়ম অনুযায়ী, খেলা চলাকালে শুধুমাত্র খেলোয়াড়, কোচ ও রেফারিরা মাঠে প্রবেশ করতে পারেন। নিয়মের বাইরে গিয়ে মাঠে প্রবেশ করার জন্য ইয়াসিন চুকোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং এখন থেকে তিনি কেবল মাঠের বাইরে থেকে মেসির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন।

এ সম্পর্কে চুকো নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "আমি নিজে সমস্যা নই, সমস্যাটা এখানকার। ইউরোপে সাত বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার, সেখানে আমি শুধু ৬ জনকে মাঠে প্রবেশ করতে দেখেছি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে গত ২০ মাসে ১৬ জন মাঠে ঢুকেছে। আমি মেসিকে সাহায্য করতে চাই, তবে আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে।”

ইয়াসিন চুকো আরও বলেন, “আমি এমএলএস ও কনকাকাফ ফুটবলকে ভালোবাসি, তবে আমাদের আরও ভালোভাবে একসাথে কাজ করা উচিত। আমি যে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছি, সেটা মেনে নিয়েছি, কিন্তু আরও ভালো কাজ করতে পারতাম।”

এদিকে, চুকোর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পর এমএলএস কর্তৃপক্ষ মাঠে মেসির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। তাছাড়া, নিজের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা দলটির ৫০ সদস্যকে সমন্বয় করছেন চুকো, যারা মেসি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে ও মাঠের বাইরে কাজ করছেন।

মেসির সঙ্গে কাটানো কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে চুকো বললেন, “নিজেকে শুধু মেসির দেহরক্ষী নয়, তার পরিবারের একজন সদস্য মনে করি। আমি শুধু শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করি না, মানসিকভাবেও তাকে রক্ষা করি। মেসি আমাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে, এবং আমি তার ওপর মনোযোগ দিয়ে কাজ করি।”

মেসি ২০২৩ সালে পিএসজি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পরই ইয়াসিন চুকোকে নিজের দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর থেকে তিনি মেসির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত। এমনকি মেসি ও তার স্ত্রীর একাকী সময় কাটানোর মুহূর্তগুলোতেও চুকো তাকে কাছ থেকে তদারকি করতে দেখা যায়।

এমনই একজন নিরাপত্তাকর্মী যিনি মেসি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর থাকলেও, এমএলএসের নিয়মের কারণে এখন থেকে তাকে মাঠের বাইরে থেকেই তার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

Header Ad
Header Ad

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে।’

প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বন্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বা বাংলাদেশ অন্যান্য যেসব বিষয় তুলে ধরেছে সেসব বিষয়ে ভারত কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শুরুতে ভারতের ধারণা ছিল এটা একটা ‘স্টপওভার’ আর তার মেয়াদ বড়জোর ছয়-সাত ঘণ্টা। সেই ভুল ভাঙতে অবশ্য দিল্লির সময় লাগেনি। প্রায় ৮ মাস হতে চললেও শেখ হাসিনাকে এখনও পাঠানো সম্ভব হয়নি তৃতীয় কোনো দেশে– এবং রাষ্ট্রের অতিথি হিসেবে তিনি আজও ভারতেই অবস্থান করছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলো। এর আগে গতকাল বিমসটেক সম্মেলনের নৈশভোজে দুই নেতার সাক্ষাৎ হয় এবং তারা কুশলাদি বিনিময় করেন। নৈশভোজে উভয় নেতাকে বেশ কিছু সময় ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গেছে।

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন ২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা