শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

সংকটকালে কৃষিই অর্থনীতির চালিকাশক্তি

ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কৃষি। সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে এসেছে এদেশের কৃষি খাত। অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির চাকাকে গতিশীল রাখার ক্ষেত্রেও প্রধানতম শক্তির জায়গা হিসেবে আমরা সবসময় পেয়েছি এদেশের কৃষি, কৃষক এবংকৃষি উদ্যোক্তাদের। স্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধু তার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দর্শনের ধারাবাহিকতায় যুদ্ধোত্তর দেশে কৃষি পুনর্গঠনে দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ মনোযোগ। তাই তার প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কৃষি ও পানিসম্পদ খাতকে সর্বোচ্চ (২৪ শতাংশ) বরাদ্দ পেতে দেখি।

অস্থির বৈশ্বিক বাস্তবতায় সদ্য স্বাধীন দেশকে এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শিল্প খাতের বিকাশের পাশাপাশি তিনি কৃষি ও কৃষকের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। ওই সময়টায় এখনকার মতো সারা বিশ্বেই তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। খাদ্য সংকটও ছিল তীব্র। তাই কৃষি উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়াটা ছিল খুবই প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে তার এই কৃষিমুখী নীতি ও উন্নয়নদর্শন অত্যন্ত গুরুত্ববহ ভূমিকা রেখেছে। তার দ্বিতীয় বিপ্লবের মূল প্রস্তাবনাতেও প্রধান জায়গায় ছিল কৃষি কেন্দ্রিক সমবায় আন্দোলন।

বঙ্গবন্ধুকে হারানোর পর দেশ পথ হারিয়েছিল।বঙ্গবন্ধুর শুরু করা সবুজ বিপ্লবও গতি হারিয়েছিল।  বহু বছর পর গেল শতাব্দীর একেবারে শেষে এসে আবার যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশের হাল ধরেন তখন আমরা আবার ফিরতে পেরেছি টেকসই কৃষি উন্নয়নের পথে। মাঝে দেশবিরোধীদের কারণে এইঅভিযাত্রায় ছেদ পড়ে। তবে ২০০৯ থেকে দ্বিতীয় দফায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বকাঁধে নেওয়ার পর থেকে দেশের কৃষি খাতকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এ সময়ে কৃষির সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নের প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই খাদ্য উৎপাদন সূচক, বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ইত্যাদিতে বাংলাদেশের দ্রুত অগ্রগতিতে। 

বর্তমানে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটকালে এই কৃষিনীতির যে দিকটিতে বিশেষভাবে আলোকপাত করা দরকার তা হলো এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় আমাদের কৃষি খাতের অবদান, সক্ষমতা ও সম্ভাবনা। ২০০৮-০৯-এও বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থার সংকটকালে অনেকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবিত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সেসময় সরকারের যথাযথ নির্দেশনা ও সহায়তায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিয়েলইকোনমিতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। 

মূলত ডিজিটাল পদ্ধতিতে আর্থিক সেবা প্রান্তিক মানুষের কাছে বিশেষ করে কৃষিনির্ভর জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াইছিল এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অভিযানের মূলনীতি। যথাযথ অর্থায়নের মাধ্যমে বহুমুখীকৃষির বিকাশ, নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি এবং সর্বোপরি কৃষকের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এগোনো আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এই অভিযান তখন সুফল দিয়েছিল। ৪০ শতাংশ কর্মশক্তি যেই কৃষি খাতে যুক্ত সেখানে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর ফলে বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও তাদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।একইসঙ্গে কৃষিতে ভর্তুকির পরিমাণও বাড়িয়েছিল সরকার। সারের দাম ব্যাপক হারে কমিয়ে ছিল সরকার।কৃষকের হাতে টাকা থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও বেগবান হয়েছিল।আর এর সুফল পেয়েছে অর্থনীতির অন্যান্য খাতও। ফলে ওই মন্দা থেকে অর্থনীতিকে কেবল সুরক্ষিত করা গিয়েছিল তাই নয়, পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির চাকাকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেগবান করাও সম্ভব হয়েছিলে। 

একইভাবে সর্বশেষ করোনা জনিত অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থার সময়ও কৃষি আমাদের অর্থনীতির রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। সে সময় যথাযথ প্রণোদনাসহ নানা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে কৃষির সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। ফলে খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ বহাল থেকে ছিল। এমনকি শহরাঞ্চলে অস্থায়ী বেকারত্বের শিকার হয়ে যারা গ্রামে ফিরেছিলেন তাদেরও একটি বড় অংশের সহায় হয়েছিলএই কৃষি খাতই। এভাবেই বারেবারে দেশের কৃষি খাত সামষ্টিক অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়ার পরীক্ষায় ভালোভাবে উত্তির্ণ হয়েছে।

করোনাজনিত সংকট থেকে পুনরুত্থান শুরু হতে না হতেই অনাকাঙ্ক্ষিত রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে গোটা বিশ্ব অর্থনীতি। প্রত্যাশিতভাবে সংকটের প্রভাব পড়ছে এদেশেও। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি হুঁশিয়ারি দিচ্ছে যে আগামী বছর বিশ্বজুড়েই ব্যাপক খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে। চলতি বছর সারাবিশ্বেই যে জলবায়ু পরিবর্তনের উথালপাথাল দেখা গেছে তাতেই খাদ্য উৎপাদন নিয়ে এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া বিশ্বের শস্য ভাণ্ডার বলে পরিচিত ইউক্রেন ও রাশিয়ায় যুদ্ধ চলতে থাকায় তাদের কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে খাদ্য পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। এতে আমাদের মতো দেশে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গম ও ভোজ্য তেলসহ অনেক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। খাদ্য সরবরাহ পেতেও অসুবিধা হচ্ছে। এসবই আমাদের আমদানি মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর পেছনে কাজ করছে। আর এবছর আমাদের দেশসহ এই অঞ্চলে বর্ষাকালে বৃষ্টি হয়নি। তবে বর্ষাকালের শেষ প্রান্তে এসে বেশ বৃষ্টি হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব আমন ফসলের ওপর পড়বে বলে মনে হয়।জমিতে রস থাকবে বলে বোরো ধান উৎপাদনেও কম সেচ লাগবে। তা সত্ত্বেও বিশ্ব খাদ্য পরিস্থিতি মোটেও সুবিধার মনে হচ্ছে না। সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাপক হারে কমে যাবে বলে বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ তাদের অর্থনৈতিক আউটলুক বা প্রক্ষেপণে একাধিকবার বলেই চলেছে। আইএমএফ আশঙ্কা করছে আগামী বছর বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২.৯ শতাংশ হবে।গত ১৩-১৪ বছরেদেশকে একটি শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো গেছে বলে চলমান সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ অন্যঅধিকাংশ দেশের চেয়ে ভালো করছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী এবং রেটিং এজেন্সিগুলোও তাই বলছে। 

তবে চ্যালেঞ্জ যে রয়েছে তা তো মানতেইহ বে। একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে যে, এই সংকট উত্তরণের ক্ষেত্রেও কৃষি সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষাকবচ হতে পারে। এ জন্য দরকার সময়োচিত নীতি গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী কৃষিকেই আমাদের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। সেজন্য যথোপযুক্ত বাজেটারি সহায়তা ছাড়াও সহজ শর্তে ঋণ, সম্প্রসারণ এবং মার্কেটিং সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।বঙ্গবন্ধু পুরস্কার পেয়েছেন যেসব কৃষক এবং যাদের নাম প্রস্তাব করা হয় সেগুলোর তথ্য ভাণ্ডার কৃষি মন্ত্রণালয়ে আছে। এরা আধুনিক কৃষক। এদের জন্য বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করা যায়।

সোলার সেচের বিকাশে আরও মনোযোগী হতে হবে। সরকার কৃষি যান্ত্রিকিকরণের জন্য যে ভর্তুকির ব্যবস্থা করেছে সেখান থেকে সোলার সেচ প্রকল্পও অনুরূপ ভর্তুকি দেওয়া হোক।পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া পঁচিশ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে কয়েক লক্ষ সোলার পাম্পের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।গবেষণা ও উদ্ভাবন সমর্থনের পাশাপাশি কৃষির উন্নয়নের জন্য মার্কেটিং ও গুদামজাত করার জন্য ঋণ দেওয়া যায়।কৃষি পণ্যের জন্য ই-কমার্স উৎসাহ দেওয়ার অংশ হিসেবে ট্রেড লাইসেন্সবিহীন ছোট ঋণ মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো যেন ন্যানো ঋণ মডেলে দেয় তার নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক দিতে পারে।

আজকাল অনেক শিক্ষিত নারীও আধুনিক কৃষি উদ্যোগ নিচ্ছেন। তাদের জন্য আলাদা কিছু ঋণ ও রাজস্ব সুবিধার কথা নিশ্চয় ভাবা যায়।কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা স্টার্টআপ উদ্যোগ ত্বরান্বিত করা গেলে মন্দ হয় না। এবারের মন্দায় আমাদের কৃষি এবং ছোট উদ্যোগ প্রণোদিত করতেই হবে।

কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সব ধরনের নীতি সমর্থন দিতে হবে।বদলে যাওয়া গ্রাম বাংলায় অকৃষি খাতের প্রসারের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হাতে প্রয়োজনীয় পুঁজি জোগান দিয়ে যেতে হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি কতটা তা দেখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিজিটাল মনিটরিং জোরদার করতে পারে। এই কর্মসূচি যেন অব্যাহত থাকে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে ঋণ দিতে উৎসাহী করার জন্য সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। সোলার পাম্পও এই কর্মসূচির সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। তাহলে কৃষিতে বিনিয়োগের হার বাড়বে। প্রয়োজনে এই গ্যারান্টি স্কিমের জন্য বাজেটারি বরাদ্দ আরও বাড়ানো যেতে পারে। ন্যানো ক্রেডিট ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ডিজিটাল ফাইন্যান্সের আওতায় ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই ঋণ দেওয়ার যে উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আধুনিক কৃষি উদ্যোক্তাদেরও এই সুযোগ দেওয়া হোক। কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে সরকার। সম্প্রতি  কৃষিমন্ত্রী বলেছেন যে এ বছর ২৮ হাজার কোটি বিনিয়োগ করেছে। আগামী বছর কৃষিতে এই বিনিয়োগ ৪৬ হাজার কোটি করবে বলে তিনি আশা করছেন কৃষির প্রতি  নীতিনির্ধারকদের এই মনোযোগ এই সংকটকালে খুবই প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়।

লেখক: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর

Header Ad
Header Ad

লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিনজনের মধ্যে একজন শুক্রবার (৪ এপ্রিল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার নাম তসলিমা আক্তার প্রেমা (২০)।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে ওই ঘটনায় আহত আরও দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সাত বছর বয়সী শিশু আরাধ্য বিশ্বাস আইসিইউতে এবং ২৫ বছর বয়সী দুর্জয় মণ্ডল হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন আছেন।

শিশু আরাধ্য বিশ্বাসের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি তপন চৌধুরী।

এদিকে, বুধবার (২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হন। আহত তিনজনের মধ্যে আজ আরও একজন মারা গেছেন।

দুর্ঘটনায় নিহত হন শিশু আরাধ্য বিশ্বাসের বাবা দিলীপ কুমার, মা সাধনা রানী ও সাধনার বড় ভাই। তারা ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়, আরাধ্য জানে না যে তার মা-বাবা আর ফিরে আসবেন না। তার ভরসা এখন তার দাদু দুলাল বিশ্বাস।

বন্ধু ও নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে মাইক্রোবাসে বুধবার ভোরে ঢাকা থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার পথে লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান দিলীপ, তার স্ত্রী সাধনা রানী ও সাধনার বড় ভাইসহ ১০ জন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল আলম আশিক জানান, লোহাগাড়ায় দুর্ঘটনায় আহত তিন জনের মধ্যে আজ একজন মারা গেছেন। শিশু আরাধ্য বিশ্বাসের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুর্জয় মণ্ডল নামে আরও এক যুবক চিকিৎসাধীন আছেন।

Header Ad
Header Ad

নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে

ছবি: সংগৃহীত

ইন্টার মায়ামির হয়ে লিওনেল মেসি খেলতে নামলেই সাইডলাইনে এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে ইয়াসিন চুকোকে দেখা যায়। মেসির দেহরক্ষী হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তার পাশে থাকেন এবং মেসির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তবে এমএলএসের নতুন নিয়মের কারণে এখন থেকে আর তাকে মেসির পাশে দেখা যাবে না।

লিওনেল মেসির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইয়াসিন চুকো সম্প্রতি মার্কিন ফুটবল লিগ এমএলএসের নিয়ম ভাঙায় নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মেসির সঙ্গে পাড়ি দেওয়ার পর থেকেই তার দৃঢ় শারীরিক গঠন এবং মাঠে মেসির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুকো প্রায়ই খেলোয়াড়দের নির্ধারিত ক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে ভক্তদের ঠেকিয়ে দেওয়ায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তবে এমএলএস কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়মের কারণে চুকোকে এখন থেকে খেলার সময় মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নিয়ম অনুযায়ী, খেলা চলাকালে শুধুমাত্র খেলোয়াড়, কোচ ও রেফারিরা মাঠে প্রবেশ করতে পারেন। নিয়মের বাইরে গিয়ে মাঠে প্রবেশ করার জন্য ইয়াসিন চুকোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং এখন থেকে তিনি কেবল মাঠের বাইরে থেকে মেসির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন।

এ সম্পর্কে চুকো নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "আমি নিজে সমস্যা নই, সমস্যাটা এখানকার। ইউরোপে সাত বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার, সেখানে আমি শুধু ৬ জনকে মাঠে প্রবেশ করতে দেখেছি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে গত ২০ মাসে ১৬ জন মাঠে ঢুকেছে। আমি মেসিকে সাহায্য করতে চাই, তবে আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে।”

ইয়াসিন চুকো আরও বলেন, “আমি এমএলএস ও কনকাকাফ ফুটবলকে ভালোবাসি, তবে আমাদের আরও ভালোভাবে একসাথে কাজ করা উচিত। আমি যে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছি, সেটা মেনে নিয়েছি, কিন্তু আরও ভালো কাজ করতে পারতাম।”

এদিকে, চুকোর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পর এমএলএস কর্তৃপক্ষ মাঠে মেসির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে। তাছাড়া, নিজের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা দলটির ৫০ সদস্যকে সমন্বয় করছেন চুকো, যারা মেসি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে ও মাঠের বাইরে কাজ করছেন।

মেসির সঙ্গে কাটানো কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে চুকো বললেন, “নিজেকে শুধু মেসির দেহরক্ষী নয়, তার পরিবারের একজন সদস্য মনে করি। আমি শুধু শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করি না, মানসিকভাবেও তাকে রক্ষা করি। মেসি আমাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে, এবং আমি তার ওপর মনোযোগ দিয়ে কাজ করি।”

মেসি ২০২৩ সালে পিএসজি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পরই ইয়াসিন চুকোকে নিজের দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর থেকে তিনি মেসির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত। এমনকি মেসি ও তার স্ত্রীর একাকী সময় কাটানোর মুহূর্তগুলোতেও চুকো তাকে কাছ থেকে তদারকি করতে দেখা যায়।

এমনই একজন নিরাপত্তাকর্মী যিনি মেসি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর থাকলেও, এমএলএসের নিয়মের কারণে এখন থেকে তাকে মাঠের বাইরে থেকেই তার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

Header Ad
Header Ad

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে।’

প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বন্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বা বাংলাদেশ অন্যান্য যেসব বিষয় তুলে ধরেছে সেসব বিষয়ে ভারত কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শুরুতে ভারতের ধারণা ছিল এটা একটা ‘স্টপওভার’ আর তার মেয়াদ বড়জোর ছয়-সাত ঘণ্টা। সেই ভুল ভাঙতে অবশ্য দিল্লির সময় লাগেনি। প্রায় ৮ মাস হতে চললেও শেখ হাসিনাকে এখনও পাঠানো সম্ভব হয়নি তৃতীয় কোনো দেশে– এবং রাষ্ট্রের অতিথি হিসেবে তিনি আজও ভারতেই অবস্থান করছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলো। এর আগে গতকাল বিমসটেক সম্মেলনের নৈশভোজে দুই নেতার সাক্ষাৎ হয় এবং তারা কুশলাদি বিনিময় করেন। নৈশভোজে উভয় নেতাকে বেশ কিছু সময় ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গেছে।

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন ২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা