সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০২৪ | ২২ আশ্বিন ১৪৩১
Dhaka Prokash
Header Ad

আবরারের স্মৃতি আঁকড়ে একাকী দিন কাটছে মায়ের

ছবি: সংগৃহীত

প্রয়াত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ব্যবহৃত হাতঘড়ি, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, নামাজের টুপি, তসবিহ, ব্রাশ, না খাওয়া চকলেট, জুতা, জামাকাপড়, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড-সবকিছু স্বযত্নে রেখে দিয়েছেন তার মা রোকেয়া খাতুন। আলমারিতে সযত্নে রাখা রয়েছে আবরারের অর্জিত পুরষ্কারগুলোও। শেষবার কিনে দেওয়া নতুন জামাটিও অক্ষত রয়েছে মায়ের সংগ্রহশালায়।

কুষ্টিয়ায় পারিবারিক বাড়ির ছোট একটি কক্ষ, যা আবরারের থাকার জন্য নির্ধারিত ছিল, সেই কক্ষেই সাজানো রয়েছে তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও বইগুলো। একাকী দিন কাটে মায়ের, ছেলের স্মৃতির সঙ্গেই কথা বলেন তিনি।

রোকেয়া খাতুন বলেন, “এই মোবাইলটাই ছিল ওর জীবনের কাল। যদি জানতাম যে মোবাইলের ফেসবুক পোস্ট ওর জীবন কেড়ে নেবে, তাহলে কখনোই মোবাইল কিনে দিতাম না।”

আবরারের বাবা ঢাকায় ব্র্যাকের নিরীক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকেন, মূলত ছোট ছেলে ফায়াজের পড়াশোনার জন্য ঢাকায় তার পোস্টিং। কুষ্টিয়ার বাড়িতে একাই থাকেন রোকেয়া খাতুন। ছেলের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “সেদিন ছিলো ৬ তারিখ, রবিবার। ঠিক পাঁচ বছর পরেও আজকের দিনটিও রবিবার এবং ৬ তারিখ। সেদিন আমার ছেলেকে বাসে তুলে দিয়েছিলাম। বারবার ফোন দিয়ে বলছিলো দেরি হচ্ছে। হয়তো এটাই ছিলো ওর শেষ যাত্রা।”

তিনি আরও বলেন, “কেউ সেদিন আমার ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। ওদের হাতে আমার ছেলেকে শিবির বলে মেরে ফেলা হলো। পাঁচ বছর পরেও আমি কিছুই ভুলতে পারিনি।”

আবরারের মা চান, দ্রুত মামলার রায় কার্যকর করা হোক এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “জেলে থাকা খুনিরা পালিয়ে যাবে কি না, এই ভয়ও আমাকে তাড়া করে।”

আবরার ফাহাদের হত্যার ঘটনায় দেশের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে সহপাঠীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন আবরার। তার বাবা বরকতউল্লাহ ওই বছরের ১৩ নভেম্বর চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার রায়ে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর বুয়েটের ২০ জন শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় আছে।

আবরারের মা দেশপ্রেমিক ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন, তার মৃত্যুর বিচারের আশায় অপেক্ষায় রয়েছেন।

Header Ad

টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ড: বাবা-ছেলেসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অনলাইনে জুয়া খেলা দ্বন্দ্বের মিমাংসায় বসা সালিশি বৈঠক শেষে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাস্তায় প্রকাশ্যে মো. মুসলিম উদ্দিন (৩৪) নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (৬ অক্টোবর) মুসলিম উদ্দিনের ভাই মুসা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে সুজনকে প্রধান আসামি করে তার বাবা মর্তুজ আলী মণ্ডল (৫২) ও সুজনের বোন জামাই রাকিব (২৫) সহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০/১৬ অজ্ঞাতদের নামে এই মামলা হয়।

সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হত্যার শিকার মুসলিম উদ্দিন উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের জহেরের ছেলে।

ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুন বলেন, ব্যবসায়ী মুসলিম হত্যার ঘটনায় তার ভাই মুসা হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হালিম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

গত শুক্রবার ৪ অক্টোবর বিকালে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা এলাকায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহুম রমজান আলীর বাড়িতে অনলাইনে জুয়ার টাকা ভাগবাটোয়ারা দ্বন্দ্ব মিমাংসার জন্য সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাতাব্বরদের অনলাইনে জুয়া খেলার বিষয়ে মুসলিম উদ্দিন ব্যাখা দিলে অভিযুক্তদের সাথে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হন আসামিরা এবং বৈঠকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়।

এরপর সন্ধ্যার দিকে রাকিব ও সুজনের ভাগ্নে উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে রাকিব ও সুজন তাদের সঙ্গীদের মোবাইল ফোন করে সালিশি বৈঠকে ডেকে আনে। পরে মুসলিম মাটিকাটা ব্রিজপাড়ে গেলে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বালু ব্যবসায়ী মুসলিম উদ্দিনকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে আহত করে। মুসলিমের স্বজনরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

এই ঘটনায় মুসলিমের বাবা ও চাচাসহ আরও ৫/৬ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মুসলিম উদ্দিন মারা যান। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত হালিম নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে অনলাইনে জুয়ার ডিলার নয়নসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আসামি পালিয়ে যান।

Header Ad

১৫ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৫ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার সোমবার (৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ করা হচ্ছে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে (বিষয় ম্যাপিং প্রক্রিয়া)। তপন কুমার সরকার জানিয়েছেন, যেসব বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে যেসব বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি, সেগুলোর ফলাফল প্রকাশ করা হবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে।

তিনি আরও জানান, বিষয় ম্যাপিংয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী, একজন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে একটি বিষয়ের জন্য যে নম্বর পেয়েছিল, সেই বিষয়টি যদি এইচএসসিতে থাকে, তবে এসএসসির প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। যদি এসএসসি ও এইচএসসিতে বিষয় ভিন্ন হয়, তাহলে বিষয় ম্যাপিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী নম্বর গণনা করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ৩০ জুন। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ। সাতটি পরীক্ষা নেওয়ার পর, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এর ফলে কয়েক দফা পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং ছয়টি বিষয়ের পরীক্ষা বাকি থেকে যায়। একই সঙ্গে ব্যবহারিক পরীক্ষাও নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি এতটাই উত্তাল হয়ে উঠেছিল যে, কোটা সংস্কার আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকার পতনের দিকে চলে যায়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে, ১১ আগস্ট থেকে নতুন সময়সূচিতে পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বিভিন্ন জেলার থানায় হামলার কারণে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, নতুন সময়সূচিও সম্ভব হয়নি।

এরপর, ১১ সেপ্টেম্বর থেকে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও, পরীক্ষার্থীদের একাংশ পুনরায় আন্দোলনে নামেন এবং পরীক্ষাগুলো বাতিলের দাবি করেন। তাদের দাবি ছিল, চলমান পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া মানসিকভাবে তাদের চাপের মধ্যে রেখেছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মুখে স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফলাফল প্রকাশের এ ঘোষণা পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যাদের জন্য এই অস্থির সময়ে অপেক্ষা ছিল মানসিক চ্যালেঞ্জের।

Header Ad

শিক্ষায় আগ্রহ কম, ভিসি পদে আগ্রহ বেশি: ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে পড়ানোর চেয়ে প্রশাসনিক পদে যাওয়ার আগ্রহ বেশি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি জানান, বেশিরভাগ শিক্ষক ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) হওয়ার দৌড়ে আছেন, কিন্তু ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করার প্রতি তাঁদের তেমন আগ্রহ নেই।

সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একনেক বৈঠক শেষে শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাহমুদ বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষক ভিসি হওয়ার জন্য তদবির করছেন। সবাই চায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষাদানের দায়িত্বে তাঁদের আগ্রহ কম।"

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, শিক্ষকদের এমন মনোভাব শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান অর্জনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে হলে শিক্ষকদের আগে নিজেদের পাঠদানে মনোযোগী হতে হবে।

Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ড: বাবা-ছেলেসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১
১৫ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ
শিক্ষায় আগ্রহ কম, ভিসি পদে আগ্রহ বেশি: ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ৫ দিনের রিমান্ডে
আবু সাঈদকে 'সন্ত্রাসী' আখ্যা দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উর্মিকে এবার সাময়িক বরখাস্ত
আবরারের স্মৃতি আঁকড়ে একাকী দিন কাটছে মায়ের
শিল্পকলায় নিয়োগ জালিয়াতি: লিয়াকত আলী লাকীসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পেলেন ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রাভকুন
চঞ্চলের জনপ্রিয়তায় ভাটা !
সশস্ত্র বাহিনী বিএসইসি কার্যালয়ের নিরাপত্তায় থাকবে
বিশ্বের প্রভাবশালী মুসলিমের তালিকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস
নির্বাচনের চেয়েও সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় : প্রধান উপদেষ্টা
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ‘হেক্সা মিশন’ পূরণ করলো ব্রাজিল
স্ত্রীসহ সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
সাংবাদিকদের সঙ্গে দাসসুলভ আচরণের সুযোগ নেই : উপদেষ্টা নাহিদ
দিল্লিতে পালিয়েছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম
গ্রাহককে মারধরের ঘটনায় স্টার কাবাবের ১১ জন গ্রেপ্তার
সামিট গ্রুপের আজিজ খানসহ তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ
প্রথম মাসের বেতন ত্রাণ তহবিলে দিলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
খুতবায় সাঈদী ও মামুনুল হককে নির্যাতনের কথা বলায় চাকরি হারালেন ইমাম