‘আমি মুক্ত, অন্যদের মতো সাধারণ মানুষের কাতারে’

দেশের ৫২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে রাষ্ট্রীয় বিদায় জানালো বঙ্গভবন। টানা দুইবার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেসে সোমবার (২৪ এপ্রিল) বঙ্গভবন ছেড়েছেন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মো. আবদুল হামিদ।
দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন শেষে সঠিকভাবে অবসরে যেতে পারায় তিনি দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অবসরের সময়টা তিন ভাগে ভাগ করে কাটাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নতুন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সোমবার সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবন ছাড়েন। এখন তার নতুন ঠিকানা নিকুঞ্জের নিজ বাড়ি ‘রাষ্ট্রপতি লজ’।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছেড়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন তিনি। সাধারণ জীবনযাপন করা আবদুল হামিদ সবসময় মেতে থেকেছেন দলের নেতা-কর্মী ও নিজ নির্বাচনি এলাকার হাওরের সাধারণ মানুষকে নিয়ে।
তাই দায়িত্ব ছাড়ার অনুভূতি জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি এখন মুক্ত, এখন সাধারণের কাতারে। অন্যদের মতো ফ্রি চলাচল করতে পারব-এটাই আমার বড় আনন্দ।
রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দায়িত্বের ভার নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। হাস্যরসে পরিপূর্ণ সে সব কথায় নিছক কৌতুক ছিল না। বরং মাটি-মানুষের কাছে সহজে যেতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ পেয়েছে বারবার। তাইতো অবসরের সময়টা তিনি নিজের মতো ভাগ করে নিয়েছেন। বলেছেন মাটি ও মানুষের কাছে ফিরবেন তিনি। তাদের জন্য বাকি জীবন কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অবসর সময়কে তিন ভাগে ভাগ করেছেন সদ্য বিদায়ী এই রাষ্ট্রপতি। এর মধ্যে ঢাকা, নিজ জেলা কিশোরগঞ্জ ও হাওরের কাদাজলে বেড়ে ওঠা মানুষকে সময় দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমার ইচ্ছা বেশিরভাগ সময় হাওর এলাকায় থাকার। এর মধ্যে ঢাকাতে তো থাকতেই হবে। এ ছাড়া, কিশোরগঞ্জ যেহেতু আমার রাজনীতির চারণভূমি, তাই সেখানেও সময় দেব। তবে আমি সময়টাকে মোটামুটি ৩ ভাগে ভাগ করতে চাই। সেগুলো হলো- ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও আমার হাওর এলাকা। এর মধ্যে বেশিরভাগ সময় আমার হাওর এলাকায় থাকার চেষ্টা করব।’
অবসরে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আর জড়ানোর ইচ্ছা আর নেই এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যক্ষ রাজনীতি করার কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ, এ দেশের মানুষ আমাকে এত বড় সম্মান দিয়ে দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছেন-এটাই বড় পাওয়া।
সংবাদকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, ‘আপনারা আমার কথা টুইস্ট না করে যেভাবে আমার মতো করে প্রকাশ করেছেন তাতে আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
কেএম/এমএমএ/
