শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

গণমাধ্যমকর্মী চাকরি বিল সংসদে

বয়স ৫৯ হলেই অবসর!

গণমাধ্যম মালিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের সম্পর্ক ও তাদের মধ্যকার বিরোধ উত্থাপন ও নিষ্পত্তি, নিম্নতম বেতন হার নির্ধারণ, গণমাধ্যম কর্মীদের কল্যাণ ও চাকরি শর্ত ও কর্মপরিবেশসহ গণমাধ্যম কর্মীদের আইনি সুরক্ষা প্রদানে ‘গণমাধ্যম কর্মী চাকরি শর্তাবলি বিল-২০২২ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

উত্থাপিত বিলে গণমাধ্যমকর্মীদের সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪৮ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অতিরিক্ত কাজ করালে ওভার টাইম দিতে হবে। এছাড়া কোনো গণমাধ্যমকর্মীর বয়স ৫৯ বছর হলে বা ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ করার পর অবসর গ্রহণ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অবসর গ্রহণকারীকে গণমাধ্যম মালিক প্রত্যেক পূর্ণ বছরের জন্য ৩০ দিনের মূল বেতন প্রদান করতে হবে।

সোমবার (২৮ মার্চ) বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। পরে বিলটি অধিকতর যাচাই বাছাই করার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

উত্থাপিত বিলে যা আছে:

গণমাধ্যম কর্মীগণের শ্রেণিবিভাগ ও শিক্ষানবিশ: ধরণ ও প্রকৃতির ভিত্তিতে গণমাধ্যমে নিয়োগকৃত গণমাধ্যম কর্মী শ্রেণি হবে অস্থায়ী বা সাময়িক, শিক্ষানবিশ এবং স্থায়ী চাকরি।

নিয়োগপত্র ও পরিচয় প্রদান: কোনো গণমাধ্যম মালিক নিয়োগপত্র না দিয়ে কাউকে নিয়োগ দিতে পারবেন না। নিয়োগকৃত গণমাধ্যমকর্মীকে ছবিসহ পরিচয় পত্র দিতে হবে।

গণমাধ্যমকর্মীর বেতন কাল এবং বেতন পরিশোধের সময়: কোনো গণমাধ্যমকর্মীর বেতনকাল ১ মাসের অধিক হবে না এবং পরবর্তী মাসের প্রথম সাত দিনের মধ্যে বেতন পরিশোধ করতে হবে।

কতিপয় ক্ষেত্রে কর্মকাল গণনা: কোন গণমাধ্যমকর্মী কোন গণমাধ্যমে পূর্ববর্তী ১২ মাসের বাস্তবে অন্যান্য ২৪০ দিন কাজ করে থাকলে ১ বৎসর এবং অন্যূন ১২০ দিন কাজ করে থাকলে তিনি ৬ মাস উক্ত গণমাধ্যমে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছেন বলে গণ্য হইবে।

মৃত্যুজনিত সুবিধা: যদি কোনো গণমাধ্যমকর্মী কোন গণমাধ্যমে মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে কোন এক বছর চাকরি থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তাহলে গণমাধ্যম মালিক মৃত গণমাধ্যমকর্মীর কোনো মনোনীত ব্যক্তিকে বা মনোনীত ব্যক্তির অবর্তমানে তার উত্তরাধিকারীকে তার প্রত্যেক পূর্ণ বছরের বা উহার ৬ মাসের অধিক সময়ের চাকরির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ দিনের এবং গণমাধ্যমে কর্মরত অবস্থায় কর্মকালীন ‍দুর্ঘটনার কারণে পরবর্তিতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৪৫ দিনের বেতন প্রদান করতে হবে।

কর্মঘণ্টা: সকল গণমাধ্যমকর্মীকে কোনো গণমাধ্যমে সপ্তাহে অন্যূন ৪৮ ঘণ্টা করা করাতে পারবে। উপধারা-১ এ যাই থাকুক না কেন কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজে নিয়োজিত করা যাবে তবে ৪৮ ঘণ্টার অতিরিক্ত সময়ের জন্য কাজের জন্য তাকে বিধি মোতাবেক অধিকাল ওভারটাইম ভাতা প্রদান করতে হবে।

ছাঁটাই ও ছাঁটাইকৃত গণমাধ্যমকর্মীর পুনঃনিয়োগ: কোনো গণমাধ্যম প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী থাকলে উক্তরূপ অতিরিক্ত গণমাধ্যমকর্মীকে চাকরি হতে ছাঁটাই করা যাবে, তবে উক্ত বিষয়ে সরকারকে অবিলম্বে ও লিখিতভাবে অব্যহতি করতে পারবে। সেক্ষেত্রে কোনো গণমাধ্যমকর্মী কোনো গণমাধ্যম মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে কমপক্ষে ১ বছর চাকরি করে থাকেন তাহলে তাকে ছাঁটাই করার ক্ষেত্রে দুর্টি শর্ত মানতে হবে। (ক) ছাঁটাইয়ের কারণ উল্লেখ করে তাকে এক মাসের লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে অথবা ১ মাসের মূল বেতন প্রদান করতে হবে। (খ) ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেক বৎসর চাকরির জন্য ৩০ দিনের মূল বেতন প্রদান করতে হবে।

অব্যাহতি: নিবন্ধিত চিকিৎসক কর্তৃক প্রত্যয়িত সনদ দ্বারা শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা বা অব্যাহত ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে যে কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে চাকরি হতে অব্যাহতি প্রদান করা যাবে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো গণমাধ্যমকর্মী অন্যূন ১ বছরের অবিচ্ছিন্ন চাকরি সম্পন্ন করলে গণমাধ্যম মালিক তাকে তাহার প্রত্যেক পূর্ণ বছরের চাকরির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ দিনের মূল বেতন প্রদান করবে।

দণ্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে গৃহীতব্য ব্যবস্থাদী: কোনো গণমাধ্যমকর্মী যদি ফৌজদারি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বা ১ বছরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন বা অসদাচারণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে তাকে বিনা নোটিশে বা নোটিশের পরিবর্তে বেতনে চাকরি হতে বরখাস্ত করা যাবে। অসদাচরণে অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে তদন্তকালীন সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা যাবে, যদি না বিষয়টি গণমাধ্যম বা গণমাধ্যম আপিল আদালতে বিচারাধীন থাকে। সাময়িক বরখাস্তের মোট মেয়াদ ৬০ দিনের অধিক হবে না। সাময়িক বরখাস্তকালে মালিক ওই গণমাধ্যমকর্মীকে তার সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের অর্ধেক খোরাকি ভাতা হিসাবে এবং অন্যান্য ভাতা পূর্ণ হারে প্রদান করা করতে হবে।

বরখাস্ত, ইত্যাদি ব্যতীত অন্যভাবে মালিক কর্তৃক গণমাধ্যমকর্মীর চাকরির অবসান: কোনো গণমাধ্যম মালিক তার গণমাধ্যমে কর্মরত কর্মীকে চাকরি হতে অবসান ঘটালে ওই মালিককে স্থায়ী গণমাধ্যমকর্মীর ক্ষেত্রে ১২০ দিনের এবং অন্য গণমাধ্যমকর্মীর ক্ষেত্রে ৬০ দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করতে চাকরি হতে অবসান ঘটাতে পারবেন। সেক্ষেত্রে কোনো গণমাধ্যম মালিক যদি বিনা নোটিশে কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে চাকরির অবসান ঘটাতে চান সেই ক্ষেত্রে তিনি উপ ধারা (১) এর অধীন প্রদেয় নোটিশের পরিবর্তে নোটিশের মেয়াদের জন্য মূল বেতন প্রদান করে চাকরির অবসান ঘটাতে পারবেন। যে ক্ষেত্রে এই ধারার অধীন কোনো স্থায়ী গণমাধ্যমকর্মীর চাকরির অবসান করা হয় সেই ক্ষেত্রে গণমাধ্যম মালিক সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্মীকে প্রত্যেক সম্পূর্ণ বছরের চাকরির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৩০ দিনের মূল বেতনের বেতন প্রদান করবেন। ধারা-৪ এ বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ১০ বা ততোধিক গণমাধ্যমকর্মীকে এক সঙ্গে চাকরি থেকে অবসানের বিষয়টি সরকারকে অবহিত করতে হবে।

স্বেচ্ছায় ইস্তফা প্রদান: কোনো স্থায়ী গণমাধ্যমকর্মী ৩০ দিনের এবং অস্থায়ী গণমাধ্যমকর্মীকে ১৫ দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করে চাকরি হতে ইস্তফা প্রদান করতে পারবেন। যদি বিনা নোটিশে চাকরি হতে ইস্তফা দিতে চান তাহলে উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রদেয় নোটিশের পরিবর্তে নোটিশে উল্লেখিত মেয়াদের জন্য মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ গণমাধ্যম মালিককে প্রদান করবে।

প্রসূতিকালীন সুবিধা: কোনো নারী গণমাধ্যমকর্মী প্রসূতি ছুটির জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত সনদসহ আবেদন করলে গণমাধ্যম মালিক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ছুটি আরম্ভের তারিখ অথবা সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে আতুরঘরে প্রবেশের তারিখ হতে ৬ মাসের ছুটি পাবেন। সকল গণমাধ্যমে নারীবান্ধব কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে আইনে।

শিশু কর্মী নিয়োগে বিধিনিষেধ: কোনো গণমাধ্যমে ১৮ বছরের নিম্ন বয়সী কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করা যাবে না।

চাকরি হতে অবসর গ্রহণ: কোনো গণমাধ্যমে নিয়োজিত কোনো গণমাধ্যমকর্মীর বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে তিনি চাকরি হতে স্বাভাবিক অবসর গ্রহণ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে কোনো গণমাধ্যমকর্মী ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ করার পর যে কোনো সময় তাহার সম্ভাব্য অবসর গ্রহণের ৩০ দিন পূর্ব লিখিত নোটিশ প্রদান করে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করতে পারবেন। তবে কোনো স্থায়ী গণমাধ্যমকর্মী চাকরি হতে অবসর গ্রহণ করলে গণমাধ্যম মালিক অবসর গ্রহণকারী কর্মীকে প্রত্যেক পূর্ণ বছরের চাকরির জন্য অবসর সুবিধা হিসেবে ৩০ দিনের মূল বেতন প্রদান করবেন। এবং উক্ত অর্থ এই আইনের অধীনে গণমাধ্যমকর্মীকে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত হবে।

ছুটি, চিকিৎসা সুবিধা ও ভবিষ্যৎ তহবিল গঠন: গণমাধ্যমে কর্মরত যে কোনো ব্যক্তি সাপ্তাহিক ১ দিন ছুটি ভোগ করবেন। পূর্ণ বেতনে প্রতি পঞ্জিকাবর্ষে ১৫ দিন পর্যন্ত নৈমিত্তিক ছুটি, তবে এই ছুটি কোনো কারণে ভোগ না করতে পারলে তা জমা থাকবে না এবং পরবর্তী পঞ্জিকাবর্ষে ভোগযোগ্য হবে না। পূর্ণ বেতনে একজন কর্মী প্রতি ১১ দিন পর ১ দিন অর্জিত ছুটি অর্জন করবেন। তবে এই এই ছুটি ভোগ না করলে তাহা অর্জিত ছুটি হিসাবে জমা থাকবে এবং চাকরি সমাপনান্তে জমাকৃত অর্জিত ছুটির অনূর্ধ্ব ১০০ দিন নগদায়নের সুবিধা প্রাপ্য হবেন। প্রত্যেক গণমাধ্যমকর্মী নিবন্ধিত চিকিৎসকের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে তার চাকরির মেয়াদের অন্যূন ১৮ ভাগের এক ভাগ অংশ পূর্ণ বেতনে অসুস্থতাজনতি ছুটি প্রাপ্তির অধিকার হবেন। প্রত্যেক গণমাধ্যমকর্মী গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রতি পঞ্জিকাবর্ষে পূর্ণ বেতনে এককালীন বা একাধিকবার অনূর্ধ্ব ১০ দিন পর্যন্ত উৎসব ছুটি ভোগ করতে পারবেন। কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে উৎসবের দিনে গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কর্মে নিযুক্ত করা যাবে তবে এই ক্ষেত্রে প্রতি কার্যদিনের জন্য ২ দিনের মূল বেতন বা ২ দিনের বিকল্প ছুটি মঞ্জুর করতে হবে। প্রত্যেক গণমাধ্যমকর্মী ৩ বছর পরপর ১৫ দিনের শ্রান্তি বিনোদন ছুটিসহ ছুটিতে গমনের অব্যবহিত পূর্ববর্তি মাসের আহরিত মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ শ্রান্তি বিনোদন ভাতা হিসেবে প্রাপ্য হবেন।

এসএম/এএস

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা