শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৩৭

নেই দেশের নাগরিক

“শুধু কী আর এই ত্রিপলে জমে থাকা পানি, ক্ষমতা থাকলে আস্ত ‘আশ্বিনের ঝড়’টাকেই গুলি করে মেরে ফেলতাম। সর্বনেশে ঝড় কোত্থেকে এসে চালচুলোহীন অসহায় মানুষগুলোকে জানের নাজেহাল করে দিয়ে গেল! কত মানুষ যে মাটিতে মিশে গেল তার ইয়ত্তা নেই!” মুখটা ক্ষোভে হিংসায় দীর্ণ হয়ে ওঠে সাদ্দামের। রাইফেলের নলটাকে আরও একবার খোঁচা দিয়ে বলল, “বুলেটের নলই তো এখন আমাদের একমাত্র সম্বল। ক্ষমতার উৎস। পেটে ভাত থাক না থাক, হাতে রাইফেল থাকলেই হলো। ওতেই সব খিদে মারা পড়বে। এই বন্দুকের নলের মাথা দিয়েই তো আসবে আমাদের নিজস্ব দেশ। স্বাধীন ভিটে।“
“সে পথের শেষ যে কোথায় কে জানে!“ উদাস হয়ে ওঠে আতিফ।
“পথ খাটো না দীর্ঘ, সেসবও তো ঠিক করে দেবে এই বন্দুকের নল।“ রাইফেলটার নলটা দেখিয়ে বলল সাদ্দাম। তারপর রাইফেলটাকে আগের গোপন জায়গায় রেখে দিয়ে সাদ্দাম বলল, “আতিফ, তোর ‘ইন্টারন্যাশনাল কানেকশন’এর কী খবর?”
“এখন কিছুটা থমকে গেছে।“
“কেন!” অবাক চোখে তাকায় সাদ্দাম।
“কেন বলতে ইউনিটে বাঁধা। আমাকে এখন ওসব বাদ দিয়ে অন্য কাজে বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।“
“এ জন্যে কে কলকাঠি নাড়ছেন? আর জে এফ’এর কেউ না অন্য কোনো ইউনিটের কেউ?”
“আইএসআই। আইএসআই মায়ানমার পার্লামেন্ট আক্রমণের জন্যে ‘স্মাইলিং ইব্রাহিম’ নামের এক নতুন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। আর এর দায়িত্বে রয়েছেন আইএসআই’এর জুনিয়ার ফিল্ড ব্রাঞ্চ অফিসার লেফটেন্যান্ট মজিদ ভাট। এই প্রজেক্টের দায়িত্ব আমার ঘাড়ে ন্যস্ত করেছেন। আমাকে এখন ‘স্মাইলিং ইব্রাহিম’ নিয়েই মাথা ঘামাতে হচ্ছে। আমাদের তো কিচ্ছু করার নেই। আমরা তো পাশার ঘুটি মাত্র। যেভাবে চালবেন, সেভাবে চলতে হবে।“ আতিফের কথায় আক্ষেপ ঝরে পড়ে।
“কিন্তু, তুই তো ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপের কাজটা ভালোই করছিলি। ওতে তো আমাদের পক্ষে ভালোই সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল। সু চি’র উপর তো ভালোই আন্তর্জাতিক চাপ আসতে শুরু করেছিল।“

‘ওঁর শান্তির নোবেল প্রাইজটা ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিটা কেবলই জোরালো হচ্ছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল থেকে চাপও আসতে শুরু করেছে। আমি মনপ্রাণ দিয়ে এই কাজটাই করতে চাইছিলাম, সু চি যে একজন ভেকধারিনী শান্তির নেত্রি, সে মুখোশটা খুলে দিতে চাইছিলাম। কিন্তু আমাকে ওকাজ থেকে বিরত করে রাখা হলো। আমাকে এখন আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কাজ করতে হচ্ছে।“
“অং সান সু চি যে কট্টর ইসলাম বিরোধী বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু আর সামরিক জান্তার অঙ্গুলিহেলনেই কাজ করছেন, সেটা কিছুটা হলেও আন্তর্জাতিক মহল আঁচ করতে পারছেন। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, সু চি অহিংস মতবাদে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও, শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পাওয়া সত্ত্বেও, রোহিঙ্গা গণহত্যা সম্বন্ধে কেন কোনো উচ্চবাচ্চ করছেন না? কেন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটাও টু শব্দ ব্যয় করছেন না? তাঁর চোখের সামনে এই নৃশংস গণহত্যা অহরহ ঘটা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি চুপ থাকছেন? অনেকেই বুঝে গেছেন, তাঁর মুখে বুদ্ধের ভড়ং আর মনে কার্তুজের চারণ।”
“উল্টে তিনি রোহিঙ্গাদের ঘাড়েই দোষ চাপাচ্ছেন! বলছেন, রোহিঙ্গারা নাকি জঙ্গি! রোহিঙ্গারা নাকি তাঁর দেশের পক্ষে বিপদ!”
“তিনি যে তলে তলে ‘রোহিঙ্গা খ্যাদাও অভিযান’এর মূল চক্রী, তা মনে হয় কেউ জানেন না। আরে রোহিঙ্গারা জঙ্গি হলেও তো তোমাদের দোষেই হয়েছে, নাকি? তুমি ঘরবাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে পুড়িয়ে দেশ থেকে মেরে ধরে তাড়িয়ে দেবে, ধরে ধরে কচু কাটা করে কাটবে, আর আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মরব? তুমি আমার বংশ, আমার জাত, আমার ধর্ম নিশ্চিহ্ন করে দেবে, আর আমি বীণা হাতে গান করব? চুলের মুঠি আমরাও ধরতে জানি। আমরাও জানি বন্দুকের নলকে কীভাবে কথা বলাতে হয়।“ গায়ের রগ টানটান হয়ে ওঠে সাদ্দামের।
“আমরা বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংঘে দাবি তোলার চেষ্টা করেছিলাম, রাখাইন আমাদের আদিপুরুষের ভিটে। আমাদের পূর্বপুরুষরা যুগযুগ ধরে এদেশে বাস করে আসছেন। আমরা ইতিহাসের দলিলও পেশ করেছিলাম। কিন্তু সু চি’র সরকার সেসব মেনে নেয়নি। আর এসবের পেছনে ইন্ধন জোগাচ্ছে চীন।“
“রাষ্ট্রসংঘ তো আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। তাঁরা তো জোর গলায় বলে দিয়েছেন, সমস্ত রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।“
“কিন্তু, জাঁদরেল মিয়ানমার সরকার কি সে দাবি এত সহজে মেনে নেবে? আদৌ মেনে নেবে না। এই তো সেদিন পাকিস্তান ঘুরে এলাম। পাকিস্তানও আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও আমাদের পক্ষে জোরাল সওয়াল করেছেন। এমনকি রাষ্ট্রসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতও বলেছেন, সু চি’র এবার ঘুম ভাঙা দরকার। কিন্তু মায়ানমার সেনা আর সু চি, সেদিকে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত না করে লাগাতার রোহিঙ্গা নিধন করেই যাচ্ছেন! তাঁদের এত সহজে জব্দ করা যাবে না।“
“সেজন্যেই তো হাতে বন্দুক তুলে নেওয়া। বাঁকা ঘাড়কে কীভাবে সোজা করতে হয়, সেটা একমাত্র বন্দুকের নলই জানে।“ সাদ্দামের কণ্ঠে বারুদ জ্বলে ওঠে। আতিফ সে বারুদে ঘি ঢালে, “বন্দুকের জবাব বন্দুকই দেবে। গোটা মিয়ানমারকে বার্মিজ সেনাদের কবর বানিয়েই ছাড়ব। সু চি ও টের পাবেন, হিংসা কাকে বলে। মৃত্যুযন্ত্রণা কী। ধ্বংসের ভয়াবহ রূপ কেমন। একবার আগুনে ভস্ম হওয়া ছাই, দ্বিতীয়বার আগুনে পুড়লে কী বীভৎস হতে পারে।“

বাইরের হিমঠান্ডা বাতাস ঝিরঝির করে ভেতরে ঢুকছে। বৃষ্টি প্রায় থামার মুখে। ছেড়ে যাওয়ার আগে ময়দা চালার মতো করে গুঁড়িগুঁড়ি করে ঝরছে। চরাচরের ক্যানভাসে দিয়ে যাচ্ছে শেষ তুলির টান। ত্রিপলের চাটায় ঘেরা ঘরের বাহিরটা যত ঠান্ডা ভেতরটা ততই গরম। আতিফ ও সাদ্দাম দুজনেই এখন তেতে ‘টং’ হয়ে গেছে। যেন ফুলকি ওঠার আগের তপ্ত বারুদ।
“ঝড়টা এবার থামল মনে হয়।“আতিফ জানালায় মুখ বাড়াল। সাদ্দাম বলল, “আমেরিকা কী বলছে? তুই তো রাষ্ট্রসংঘে ওদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেছিস?”
“ওদেরও একসুর। আমেরিকা চায়, মায়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরাক।“
“এত আন্তর্জাতিক চাপ সহ্য করেও সু চি’র সরকার মুখে কুলুপ এঁটে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছে!”
“শুধু কী কুলুপ, মুখে ঠুসি, চোখে ঠুলি আর কানে তুলো গুঁজে বসে আছে। এদের না আছে হৃদয় না আছে মন। এরা মানুষ খেকো দানব। পিশাচ অসুর। মুখে এদের নাম নেওয়াও পাপ।“ মনে মনে খিস্তি দিতে দিতে উন্মুক্ত দরজাটা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল আতিফ। আকাশ রঙ বদলাতে শুরু করেছে। মোষের মতো কালো মেঘটা কেটে নীল বুকে একটা একটা করে ফুটছে তারা। আতিফ আকাশে একটা একটা করে যেই তারা ফুটতে দেখছে, আর অমনি কষ্টের ফাঁক দিয়ে ঠিকরানো আনন্দ তার মনে উতলে উঠছে। ভাবছে, মতিভাইরাও নিশ্চয় এতক্ষণে নিজেদের সামলে উঠছে। আমাদের নৌকোটা আবারও বৈঠা ঠেলে ভাসতে শুরু করেছে। আতিফ, আবারও মেঘ কেটে কেটে যাওয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “একটাই আকাশ অথচ কত তার রঙ কত তার ঢং!”
“মানুষের মনও তো এই বদলে বদলে যাওয়া আকাশের মতোই।“ পেছনে এসে দাঁড়াল সাদ্দাম।
“হ্যাঁ, ঠিকই বলেছিস।“ মাথা নড়াল আতিফ।
“সত্যি মানুষের মন মাপা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। কখন যে কীভাবে বদলে যায়, তা মনে হয় শরীরও জানতে পারে না!”
“আমার মনে হয়, শুধু আকাশ নয়, মানুষের মনে একটা গিরগিটিও থাকে। মুহূর্তে বদলে নেয় রঙ। এই যেমন আমাদের নেত্রী সু চি, বহির্বিশ্বে একরূপ আর নিজের দেশে আরেক রূপ! ক্ষমতায় থাকলে এক চরিত্র আর ক্ষমতায় না থাকলে আরেক চরিত্র!”
“আসলে মানুষ বিরোধী আসনে থাকলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যতটা হম্বিতম্বি করে, নেকড়ের মতো হামলায়, গর্জায়, ক্ষমতায় এলে ঠিক ততটায় ‘বিড়াল’ হয়ে যায়! তখন ওই যে বললি না, মুখে ঠুসি, চোখে ঠুলি পরে আর কানে তুলো গুঁজে বসে থাকা আর কী।“ সাদ্দাম ভেজা গামছাটা পাক দিয়ে চিপতে চিপতে বলল। আতিফ জিজ্ঞেস করল, “এখন বেরোনো যাই না?”
“কোথায়!” সাদ্দামের চোখে বিস্ময়।
“নাফ নদীতে। মোহনার দিকে।“
“এখন! তোর মাথা সত্যি গেছে!”
“কেন? এখন কী সমস্যা? ঝড়-বৃষ্টি তো থেমে গেছে। আকাশে তারাও ফুটতে শুরু করেছে।“
“শুধু তারা ফুটলেই হবে? মানুষের চোখ ফুটতেও তো হবে। যাদেরকে হাত করে স্পিডবোট ম্যানেজ করব, তারা যে এখন ঘুমিয়ে কাদা। হাত আর পা নিয়ে তো আর যাওয়া যাবে না? নদীর ব্যাপার। পানির ব্যাপার। এ তো আর গাছের ফল না যে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাবে?“
“কিন্তু এখন গেলেই ভালো হতো রে। ঝড়-বৃষ্টিতে কী যে হলো, কিছুই তো বুঝতে পারছি নে।“ দুশ্চিন্তা দানা বাঁধছে আতিফের মনে। সে আশঙ্কা করছে, যে গতিতে ঝড়-বৃষ্টিটা হলো, তাতে আব্বাদের নৌকোটা কি আদৌ জলে ভেসে থাকতে পেরেছে? এই দুর্যোগে জান নিয়ে বেঁচে আছে? ঝড় যা বলছে, তাতে তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। স্রোতে উল্টে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আব্বার শেষ ইচ্ছেটা মনে হয় আর পূরণ হলো না! আকাশের কালো মেঘ যত কেটে যাচ্ছে, মনে আশংকার কালো মেঘ তত জমছে আতিফের। আর একদণ্ডও মন টিকছে না এখানে। মন শুধু ‘আব্বা-মা, ভাই-ভাবি’ গাহাচ্ছে।
“ওঁরা নিশ্চয় মেঘ দেখে পাড়ে নৌকো ভিড়াবেন। যদি নৌকো পার ঘেষা থাকে, তাহলে কিচ্ছু হবে না।“ বলল সাদ্দাম।

চলবে...

আগের পর্ব পড়ুন

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৩৬

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৩৫

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৩৪

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৩৩

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৩২

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৩১

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৩০

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৯

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৮

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৭

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৬

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৫

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৪

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৩

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২২

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২১

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২০

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-১৯

এসএন  

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী