শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-২৪

নেই দেশের নাগরিক

সম্মতিটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একেবারে লাফিয়ে পড়ল আবুল। আসলে এত সূক্ষ্ম ফন্দি আবুলের মতো মোটা মাথার লোকের পক্ষে ভাবা সম্ভব নয়। ফন্দিটা ইয়াসিন মাস্টারের বউ নাসরিন বানুর মাথা থেকে আসা। তিনিই আবুলের কানে ফুঁসটা দিয়েছিলেন। নৌকোদুটো আলাদা হয়ে গেল। নৌকোর গা লাগালাগি খোল দুটোও সে কথা বলছে। হাঁড়ির কালির মতো কালো রঙের খোল দুটো যেখানে গা ঠেসে লেগেছিল, সে জায়গাটায় জলের ছাট না লেগে কিছুটা ফ্যাকাসে কালো হয়ে গেছে। ইট দিয়ে ঘাস চাপা দিয়ে রাখলে ঘাসগুলো যেমন ফ্যাকাসে হলুদ হয়ে যায়, এখানেও সে রঙের কিছুটা আভা আছে। দুই নৌকোর দুই খোলে মুখ ভাড় করে জুবুথুবু হয়ে পড়ে আছে গোটানো রশি। রশির গা চুঁইয়ে পড়ছে চোবড়ানো জল। যেন রশি কাঁদছে! হাউমাউ করে কাঁদছে! রশি তো বাঁধনে থাকলেই সে রশি, তা নাহলে তো সে নারকেলের ছোবড়া। বাঁধনে না থাকলে, তার না থাকে জাত, না থাকে ধর্ম। বাঁধন খোলা রশি যেন রুহু ছাড়া শরীর। নড়ে উঠল ভিন্ন হওয়া নৌকোটি। দুই নৌকোর মধ্যবর্তী ফাঁকটা একটু একটু করে সিঁথি হতে হতে ফাড়ি হয়ে উঠছে। আবুল গা ঘামিয়ে ঘুঁত ঘুঁত করে বৈঠা টানছে। তাদের নৌকোর ঠেলা জল নদী হাতড়ে হাতড়ে দূরে ঠেলে দিচ্ছে নুহুদের নৌকোটাকে। ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে আবুলদের নৌকো। মতি আচমকা হাঁক দিয়ে উঠল, “আপনারা কোন দিকে যাবেন?”

ভোরের ফিনফিনে হাওয়াই গড়া খেতে খেতে মিহি করে উড়ে এল, “দেখি, কোন দিকে আল্লাহ নিয়ে যায়।“ রহস্য মাখিয়ে কথাটা শূন্যে ভাসিয়ে দিলেন ইয়াসিন মাস্টার। নৌকোটা কিছুটা এগোতেই ছই থেকে বেরিয়ে বাইরের পাটাতনে কেবলই দাঁড়িয়েছেন। গলাকাটা সাদা রঙের সুতির গেঞ্জিটা গায়ে দাঁত কামড়ে লেগে আছে। পৌনে ছ-ফুট চেহারাটা নদীর বুকে আসমান ঠেকে এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যেন মনে হচ্ছে, একটা সাদা জিন খাড়া হয়ে ভেসে যাচ্ছে! মতির মুখটা আরও ফ্যাকাসে হয়ে গেল। ইয়াসিন মাস্টারের হেঁয়ালিমাখা কথাটা তার ল্যাপ্টো মাটির কোমল হৃদয়টাতে একটা পেটে সূঁচ হাঙল!

“ছাড়ো তো লোকের কথা। অত গা পড়ে মেশার কী আছে? পর পরই হয়।“ গা ঝাড়া দিয়ে উঠল নুহু। বৈঠাকে শক্তিভর পাক মেরে নৌকোটাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে সে। ইয়াসিন মাস্টারদের নৌকোটা পিছনে ঘুরে আবার উচিপুরং’এর দিকে যাচ্ছে। নুহু তাদের নৌকোটাকে সেদিকে না গিয়ে নাক সোজা টান মারল। মতি জিজ্ঞেস করল, “কোন দিকে যাচ্ছিস?”
“মরণের দিকে।“ হেস মারল নুহু। আরিফা চ্যাটাং করে উঠে বলল, “দেওরজি, তুমি হেঁয়ালি করতে পারও বটে! এখন কি হেঁয়ালি করার সময়? তোমার মুখে কি কিছুই আটকায় না!”
“ওর খুব রস জমেছে। থাম, চাল কটা ফুরোক, তখন সব রস বিষ হয়ে যাবে! তখন ওর এই চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলা বেরোবে।“ দাঁত খিটিমিটি করে মতি। দুঃখ আর রাগ, তেল আর বেগুনের মতো মিশে, ছ্যান ছ্যান করে উঠছে। প্রথমে সেভাবে খেয়াল করেনি মতি। একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। ইয়াসিন মাস্টারদের সাথে এই ঘণ্টা কয়েকের মিলমিশ তাকে বড় দায়েদি করে তুলেছিল। লোকগুলোকে তার বড্ড ভালো লেগে গেছিল। এত কাছের হয়ে গেছিল যে হুট করে বিচ্ছেদটা মতি মন থেকে মেনে নিতে পারছে না। তার মন বলছে, ওদের নৌকোটা নিশ্চয় ফিরে আসবে। ফিরে এসে আবুল নুহুকে একটা বিড়ি দিয়ে বলবে, নুহুভাই বিড়িটা ধরাও তো, একটা সুখটান দিই। ইয়াসিন মাস্টার বলবেন, জীবনের শেষ কটা ঘণ্টা আর একা থেকে কী করব, তার চেয়ে বরং কুটুম-দায়েদিদের সঙ্গে কাটানোই ভালো। আল্লাহ কষ্ট সহ্য করার সকুন দেবেন। ‘কুটুম’ ‘দায়েদি’ বলাই মতির মনটা খোলামকুচির মতো ড্যাং করে নেচে উঠবে। মনে মনে বলবে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, কুটুমই তো, আমরা তো কুটুমই। এক ঘাটে জড় হওয়া সব দেশ ছাড়া মানুষগুলোই একে অপরের কুটুম, দায়েদি, আত্মীয়পরিজন। ইয়াসিন মাস্টারদের নৌকোটা বিন্দুর মতো হয়ে এলে, আচমকা মতির টনক নড়ল, আবারও জিজ্ঞেস করল, “আরে তুই নৌকো কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস!”
“কেন? বঙ্গোপসাগরের দিকে। তুমি তো দেখতেই পাচ্ছ!” থুথনি নিচে নামিয়ে কণ্ঠে হাতুড় পিটিয়ে বলল নুহু।
“বঙ্গোপসাগরের দিকে! বঙ্গোপসাগরের দিকে কেন! সমুদ্রে কি ডুবে মরতে যাব নাকি!” চোখ বাটির মতো বড় হয়ে উঠছে মতির। মরতে আর কী বা বাকি আছে! না মরে বেঁচে আছি এই যা। শুধু কয়েকটা শ্বাস নেওয়াই কি বাঁচা? খড়গের মাথায় জানটা কোনোমতে ঝুলে আছে, একে কি আর বাঁচা বলে? বিড়বিড় করে নুহু। মতি তার দিকে চোখ ফেড়ে তাকালে নুহু গড়গড় করে বলল, “শাহপরীর দ্বীপ যাব। শাহপরীর দ্বীপের নাম শোনোনি?”
“হ্যাঁ, শুনেছি, সে তো অনেক দূর!“ ভ্রূ টান করল মতি। তারপর জুলপির কাঁচাপাকা চুলগুলো নাচিয়ে বলল, “তাইই চল। কী আর করা যাবে! কপালে যা আছে হোক।“
দূর! দূর বলে ঘাবড়ে গেলে হবে? শাহপরীর দ্বীপ তাও তো আমাদের জানাশোনা জায়গা। কিন্তু আমাদের ‘দেশ’? সে যে কোন ডাঙা, কোন দ্বীপ তার তো আমরা কিছুই জানি না। আদৌ এ জন্মে আর কোনো ‘দেশ’ পাব কি না সন্দেহ! কথাগুলো নুহুর বিড়বিড়ানি মন থেকে বেরিয়ে বৈঠার গা দিয়ে নদীতে নেমে জলকেলি খেলছে। মতির মনমরা শরীরটা থপথপ করে হেঁটে ছইয়ের দিকে এগিয়ে গেল। তার গা বেয়ে নেমে আসছে বিহেন বেলা। প্রথম ফোটা আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে নৌকোর খোলে। “বুঁ” করে বেজে উঠল মোবাইলটা। একই সঙ্গে ভিমরুলের ডানার মতো কাঁপছে আবার একটা ক্যাঁচরম্যাচর শব্দও ক্যাচম্যাচ করে উঠছে। বোঝাই যাচ্ছে মোবাইলটা ‘ভাইব্রেট উইথ রিং’ মোডে আছে। সকালের শান্ত নদীর ওপরে হলুদরঙা রোদ চুলের বিনুনির মতো নৌকোর পাটাতনের ওপরে ছড়িয়ে পড়ছে। হাঁটু-মাথা করে বসে থাকা ইয়াসিন মাস্টারের ভেতরটা ‘থক’ করে উঠল! কার ফোন! থড়বড় করে মোবাইলটা পকেট থেকে বের করলেন। স্ক্রিনটা ঢলঢলে চোখের সামনে ভাসতেই, ইয়াসিন মাস্টারের চক্ষু ছানাবড়া! তিনি একবার মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছেন, একবার দূরে মিলিয়ে যাওয়া মতিদের নৌকোর দিকে তাকাচ্ছেন! ‘আগত’ নম্বরটার প্রত্যেক ডিজিট বারবার চোখ দিয়ে মিলিয়ে নিচ্ছেন। ঠোঁটের পাতাজোড়া ফড়িং’এর ডানার মতো কাঁপছে। থুথনি আরও সরু হয়ে আছে। ঘাড়ের শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে যাচ্ছে একটা ঠান্ডা স্রোত। ‘এ তো সেই নম্বর!’ মনে মনে বলে উঠলেন ইয়াসিন মাস্টার। ছইয়ের ভেতর থেকে ঠিলিতে আটা চিপে বানানো সিমাইয়ের মতো সরু কণ্ঠটা বেরিয়ে এল, “কে ফোন করেছে গ?”
ছেলেটাকে তো গতকাল ফোন করেছিলাম। পুরো একটা রাত কাবার। আর এখন, এত ঘণ্টা পর ফোন ব্যাক করছে! তবে মনে হয়, ছেলেটার মোবাইলে ‘মিসডকল অ্যালারট’ করা আছে। ফোন ‘অন’ করে ‘মিসডকল’ দেখেই, সঙ্গে সঙ্গে কলব্যাক করেছে। কিন্তু এখন আর কল রিসিভ করে কী হবে, ওরা তো অনেক দূরে চলে গেছে। এখন তো আর ডেকে বলা যাবে না, ওগো, মতিভাই, নুহুভাই, তোমাদের ছোটভাই ফোন করছে। গলার আওয়াজ অতদূর পৌঁছবে না। এসব ভাবতে ভাবতে রিংটা কেটে গেল!
“কার ফোন ছিল মাস্টারভাই?” আবুলের মুখ থেকে কথাটা বের হতে না হতেই, আবারও ফোনটা ‘বুঁ’ করে গেয়ে উঠল। ইয়াসিন মাস্টার দুনুমুনু করতে লাগলেন, রিসিভ করব না করব না। বলতে বলতে থতমত করে সবুজ বোতামটায় আঙুলের চাপ পড়ে গেল তার। “হ্যালো, হ্যাঁ, হ্যাঁ, এই নম্বর থেকে মিসডকল গেছিল। না, আমাকে চিনতে পারবেন না। আসলে আপনার ভাই মতি আর নুহু’রা ফোনটা করেছিলেন। ওরা? ওরা কিছুক্ষণ আগেই আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এই মিনিট পনের হলো, ওরা অন্য দিকে চলে গেলেন। আমরা? আমরা এখন, নাফ নদীতে নৌকোর ওপর। মতিরা? ওরাও এই নদীর ওপরেই আছেন। ওরা এই নয়াপাড়ার উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে চলে গেলেন, আর আমরা উচিপুরং’এর দিকে যাচ্ছি। কে? ওহ, আপনার আব্বা, নাহ, এখনও মারা যাননি, তবে অবস্থা খুউব খারাপ, কখন কী হয়ে যায়, বলা মুশকিল, ধুকধুক করছেন। ওরা? হ্যাঁ, ওরা শাহপরীর দ্বীপের দিকেই যাচ্ছে মনে হয়। হ্যালো, হ্যালো, যাহঃ লাইনটা কেটে গেল!”
ছয়
‘ধুর! ফোনই লাগছে না!” বিরক্ত হয়ে উঠল আতিফ। বার কয়েক চেষ্টা করে নেটওয়ার্কের সমস্যার জন্যে আর ফোনটা লাগাতেই পারল না । “ফোনটা কে ধরেছিল? লোকটা কি তোদের চেনাজানা?” কালো রঙের শার্টের ওপর জলপাই রঙের খাকিটা চড়াতে চড়াতে জিজ্ঞেস করল নবী। আতিফ বারবার চেষ্টা করে একটি বারের জন্যেও ফোনটা না লাগাতে পেরে হতাশ হয়ে নেতানো দড়ির মতো বাদামি রঙের সোফার ওপর গা এলিয়ে দিয়েছে। সোফাটার গায়ে ইতস্তত সবুজ রঙের ঝাউপাতা। মাঝে মধ্যে হলুদ সূর্যমুখী ফুল আঁকানো। একটু দূরে কালো রঙের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলটা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। আসলে এতবার চেষ্টা করেই বা কী হবে, ইয়াসিন মাস্টারের মোবাইলটা যে চার্জ ফুরিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে।
“তোর আব্বারা কোথায় আছে বলছে?” খাকিটার ভেতরে দুই হাত গলিয়ে দিল নবী।
“নাফ নদীতে, নৌকোর ওপর।“
“লোকেশন?”
“নয়াপাড়া ছেড়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে যাচ্ছে।“
“তাহলে গন্তব্য হয় শাহপরীর দ্বীপ আর না হয় সেন্টমারটিন্স দ্বীপ।“
“তা ছাড়া তো ওদিকে আর অন্য কোনো দ্বীপ নেই। আচ্ছা, ওরা নয়াপাড়া ক্যাম্প ছেড়ে সমুদ্রের মাঝে শাহপরীর দ্বীপে যাবে কেন? ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না।”
“কেন, তুই খবর শুনিসনি?”
“কী খবর?”
“বাংলাদেশ সরকার আর নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দিচ্ছে না।“
“সে তো কুতুপালং আর থাংখালীতে ঢুকতে দিচ্ছে না।“
“এখন সব জায়গাতেই একই অবস্থা। ওরা নাকি আর শরণার্থীদের চাপ নিতে পারছে না। ওদের নাকি নাভিশ্বাস ওঠার দশা। খাদ্যের জোগান দেওয়া নাকি অসম্ভব হয়ে উঠছে।“
“কিন্তু, রাষ্ট্রসংঘ তো সাফ বলে দিয়েছে, কোনো শরণার্থীকেই ফেরানো যাবে না।“
“ওসব কথার কথা। কথার সঙ্গে কাজের বিস্তর ফারাক। রাষ্ট্রসংঘের কথা কান করলেই তো। রাষ্ট্রসংঘ তার বুলি বলে যাচ্ছে, আর এদিকে বিজিবি তার কাজ করে করে যাচ্ছে।“
“তাহলে কি সীমান্ত সব সিল করে দিয়েছে বাংলাদেশ!”
“হ্যাঁ।“ কোমরের বেল্টটা টাইট দিতে দিতে ঘাড় নড়াল নবী। আতিফ আঁতকে উঠল, “সর্বনাশ!” সোফা থেকে তড়বড় করে উঠে বলল, “তাহলে আব্বাদের কী হবে! ওরা তো কোনো ক্যাম্পেই উঠতে পারবে না! না খেতে পেয়ে নদীতে ডুবে মরবে!”
“মাথা ঠান্ডা কর, আতিফ।“ আতিফের পিঠে হাত রাখে নবী। বলে, “ঠান্ডা মাথায় ভেবে কোনো বুদ্ধি বের করতে হবে।“
“কী করা যায় বলতো?” অসহায়ের মতো বলে আতিফ। তার চোখ ছলছল করে আসছে।
“কাজটা তো খুব কঠিন। খুবই দুরহ।“
“যত কঠিনই হোক, পথ খুঁজে বের করতেই হবে।“
“প্রথমে খোঁজ নিতে হবে, নাফ নদীর তীরবর্তী বাংলাদেশের কোনো বর্ডার খোলা রয়েছে কিনা। তারপর……… ।“ নবীকে কথা শেষ করতে না দিয়েই, আতিফ বলল, “বর্ডার খোলা থাক বা না থাক চোরাবর্ডার দিয়ে কাজ হাসিল করতে হবে।“
“সে তো পরের কথা। দরকার হলে সেটাও করতে হবে। সব আগে নদীতে নেমে চাচাদের খুঁজে বের করতে হবে। সেটা চাট্টেখানি কাজ নয়? হাজার হাজার নৌকোর মধ্যে বেছে বেছে তোর আব্বাদের নৌকোটা খুঁজে বের করা মানে, খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার সামিল।“

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২৩

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২২

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২১

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-১৯

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী