শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-১৭

স্নানের শব্দ

অফিসের আবহাওয়ায় সূক্ষ্ম একটা পরিবর্তন টের পাচ্ছে শবনম। ঠিক দৃশ্যমান কিছু নেই কিন্তু অদৃশ্য একটা বিভাজনের বাতাস হু হু করে বইছে যেন। ওসমান গণি সিইও হতে যাচ্ছে এই বিশ্বাসে একদল আগেভাগেই তার সুনজরে পড়ার আশায়, তার দলে যোগ দেওয়ার জন্য কসরত শুরু করে দিয়েছে। আরেকদল যারা গণিকে অপছন্দ করে তারা শবনমের পাঁ ধরার পাঁয়তারা করছে, যদিও শবনম স্বভাবগত কারণেই তাদের খুব একটা পাত্তা টাত্তা দিচ্ছে না। কিন্তু ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে তুমি যদি ওসমান গণিকে সমর্থন না করো তবে তার মানে হচ্ছে তুমি শবনমের লোক। ফলে শবনম প্রকাশ্যে কাউকে আশকারা না দিলেও মনিরুজ্জামান তার দলবল নিয়ে শবনমের পক্ষে দলভারী করে চলেছে।

‘এইসব গ্রুপিং ট্রুপিং ছাড়ো তো মনিরুজ্জামান, আমি পরিশ্রম করা মানুষ, আমার দলবাজির দরকার নাই। অফিসে এইরকম বিভক্তি একদমই ভাল লাগছে না আমার। এসব থামাও..’

মনিরুজ্জামানকে কড়া গলায় ধমক দিয়ে বলেছে শবনম। কিন্তু তাতে কি আর মনিরুজ্জামান থামে? সে বত্রিশ দাঁত বের করে হাসিমুখে বলে,
‘ম্যাডাম আপনি না চাইলে কি হবে, সবাই জানে অফিসে এখন দুইটা ভাগ। বাটপার আর তোষামোদকারীরা সব গেছে ওসমান গণির দলে আর বাকিরা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও সব নীরবে আপনার দলে। আপনার চাওয়া না চাওয়ায় কিছু আটকাবে না ম্যাডাম। এটা হবেই।’

শবনমের অস্বস্তি লাগে, অফিসে এই ধরনের দলাদলির চর্চা সে আগে কখনো করেনি। করার দরকারও পড়েনি। প্রফেশনের শুরুর দিকে যখন জুনিয়র পোস্টে কাজ করেছে তখন কোনো কোনো বস যে তাকে দলে টানার চেষ্টা করেনি তা নয়, কিন্তু কখনোই কারো দাবার চালের গুটি হতে ইচ্ছে করেনি তার। ফলে কৌশলে সব পক্ষের সাথেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে টেবিলে নাক মুখ গুজে নিজের কাজটা মনোযোগ দিয়ে ভালোভাবে করার চেষ্টা করে গেছে সে। সব দলের সঙ্গেই এক ধরনের ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। রওশন আপা শবনমের এই ভারসাম্যবোধের খুব প্রশংসা করতেন। কিন্তু এখন তো সেই ভারের সমতা রক্ষা আর কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে বিনা যুদ্ধে মাঠ ছেড়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা শবনমের নেই।

এরই মধ্যে দুপুরবেলা লাঞ্চের পর শবনমের রুমে এসে একাউন্টসের আতিয়ার সাহেব জানিয়ে গেলেন ওসমান গণির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করার জন্য উপর থেকে নির্দেশ এসেছে। একটা উদ্দেশ্যপূর্ণ বাঁকা হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে মেদবহুল শরীরটা চেয়ারে এলিয়ে দিয়ে বললেন,
‘আপনের তো কপাল খুলি গেছে ম্যাডাম। এবার আর কেউ আফনেরে আটকায়া রাখতে হারতো ন’।’

যেন কিছুই জানে না এমন ভঙ্গী করে শবনম বলল, ‘কি যে বলেন না! ওসমান গণির জন্য তো আমার খারাপই লাগছে। সত্য মিথ্যা তো জানি না, কিন্তু বেচারা এমন একটা বাজে অবস্থায় পড়ল!’
‘অফিসের কেউ না কেউ আছে এর পেছনে, বুঝলেননি? নাইলে এত ভিতরের খবর বাইরে যাইতে পারে ন’।’
আতিয়ার সাহেব নিচু গলায় ফিসফিস করে।

‘তাই নাকি? কারা জড়িত জানা গেছে?’ শবনম ততোধিক ফিসফিস করে জানতে চায়।
‘না, এখন পর্যন্ত জানন যায় ‘ন। তবে ধরি ফালাইব। এইসব কথা চাপা থাকে না।’
‘কিন্তু ওসমান গণির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, টাকা পয়সা এদিক সেদিক করার, সেই কাজটা কি সত্যি? আসলেই সে দুর্নীতি করছে, নাকি করে নাই, পুরাটাই কি মিথ্যা অভিযোগ..’
‘না, সেইটা আঁই জানি ন। আল্লাহ মাবুদ জানে, কার মনে কি আছে, তবে বুঝলেননি, কথায় আছে না, যা রটে তার কিছুটা তো বটে.. তদন্ত করলেই পাওন যাইব হেতি দোষী কি নির্দোষ! কিন্তু হেতি সিইও হওনের যে খায়েশ করছিলেন, সেইটা আপাতত পুরণ হওনের কোনো পথ নাই ..আফনের পথ খুলি গেছে.. আর কুনো বাঁধা নাই।’
‘কি যে বলেন না, ভাই, সবই তো বোর্ড মেম্বারদের মর্জি, দেখেন আগে, ম্যানেজমেন্ট কি সিদ্ধান্ত নেয়.. পর্দার আড়ালে কত কিছু ঘটে, সব কিছু কি আমরা জানি?’

আতিয়ার সাহেব চলে যাওয়ার পর কম্পিউটর স্ক্রিনে চোখ রেখে গত মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাবটা দেখছিল শবনম, তখনই ঘরের দরজা ঠেলে ঝড়ের গতিতে ঢুকলো ওসমান গণি। বিধ্বস্ত, রাগী চেহারা, মাথায় চুলগুলো অবিন্যস্ত, চোখে ক্রোধ, উত্তেজনায় শরীর কাঁপছে তার। দাঁড়ানো অবস্থাতেই শবনমের টেবিলে দু হাত রেখে মাথাটা সামনে বাড়িয়ে চাপা গলায় হিস হিস করে উঠল সে,
‘নোংরা খেলাটা না খেললেও পারতেন ম্যাডাম..ছি, এত নিচে কীভাবে নামতে পারলেন?’
‘হোয়াট? কী বলতে চান আপনি?’
আকস্মিক এই আক্রমণে রেগে গিয়ে সাঁই করে চেয়ার ছেড়ে উঠে ওসমান গণির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায় শবনম।
‘এই চক্রান্তটা না করলেও পারতেন, ম্যাডাম। মানুষ পাওয়ারের জন্য এমন ইতরামি করতে পারে জানা ছিল না! অন্তত আপনার কাছে এটা আশা করি নাই..’
ওসমান গণির কণ্ঠে তীব্র শ্লেষ। এবার তর্জনী উঁচিয়ে গলা চড়িয়ে প্রায় চিৎকার করে উঠল শবনম।
‘মুখ সামলে কথা বলেন ওসমান গণি, যা তা অপবাদ দিলে আমি কিন্তু একদম সহ্য করব না। সাবধান করে দিচ্ছি আপনাকে।’

শবনমের রাগত কণ্ঠস্বর রুমের কাঁচের দরজা ভেদ করে সামনের করিডোর পর্যন্ত ছড়িয়ে গেল।
‘আমাকে কেন খামাকা আপনার কৃতকর্মের সঙ্গে জড়াতে চাইছেন? হ্যাঁ? যা বলার তদন্ত কমিটির সামনে গিয়ে বলেন! এখানে মাস্তানী করতে আসবেন না।’

শবনমের রণরঙ্গিণী মূর্তির সামনে এবার একটু থমকে গেল ওসমান গণি।
‘পদের লোভে আপনি হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছেন, কাকে কি বলছেন বুঝতে পারছেন না। পাগল হয়ে গেছেন!’
শবনম ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে।
‘না ম্যডাম, আমি ঠিক আছি। জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পায় নাই। পাগলও হই নাই। সবই আমি বুঝতে পারছি ম্যাডাম। পরিষ্কার বুঝতে পারছি। কাউকে ছাড়ব না আমি। সব কুচক্রীদের দেখে নিবো।’

হুমকি দেওয়ার ভঙ্গীতে কথাটি বলে দড়াম শব্দ করে দরজাটা ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যায় ওসমান গণি। শবনম ধপ করে নিজের চেয়ারে বসে একটু হাঁপাতে থাকে। প্রচণ্ড রাগে পা থেকে মাথা পর্যন্ত চিড়বিড় করছে তার। এক গ্লাস পানি খেয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে শবনম। নির্ঝর চৌধুরী একবার কথায় কথায় বলেছিলেন, প্রফেশনের ঘাত প্রতিঘাত সামলাতে হলে গায়ের চামড়া মোটা হতে হয়। রাগ ক্রোধ কদাচ থাকতে নয়। অথচ ওসমান গণির এই নোংরা কুৎসিত আক্রমণের শিকার হয়ে রাগ ক্রোধ ক্ষোভ কোনোটাই সামলাতে পারছে না শবনম। মনে হচ্ছে চিৎকার করে ওসমান গণিকে গালিগালাজ করতে পারলে বা আঘাত করতে পারলে তার ক্ষোভ হয়ত কিছুটা কমত। বুক ভরে বাতাস নিয়ে মুখ দিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ে শবনম। নিজের ছোট্ট রুমের ভেতর পায়চারি করে নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রাখার চেষ্টা করে।
শবনম কখনোই বদরাগী টাইপের মানুষ নয়। সারা জীবন কারো উপকার করতে না পারলেও ক্ষতি অন্তত করেনি, কিন্তু এবার কি প্রতিযোগিতায় নেমে সে নিজের শুদ্ধ হৃদয়কে অশুদ্ধ করে ফেলল? শীর্ষে ওঠার জন্য প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে সাদা গায়ে কালি লাগিয়ে ফেলল? এই যে, ওসমান গণির সঙ্গে সংঘাত তার প্রধান কারণ তো এটাই যে তারা দুজনই একই সঙ্গে সিইও পদ পাবার জন্য আকাঙ্ক্ষা করছে। ফলে তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই প্রতিযোগিতায় একজন জয়ী হবে এটাই নিয়ম। খেলা শুরু হয়ে গেছে, এখান থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। ধনুক থেকে তীর ছুটে গেছে, তাকে ফেরানো সম্ভব নয়।

ঘটনাচক্রে শবনম এই খেলায় ভালো অবস্থানে আছে। আর ওসমান গণি গাড্ডায় পড়ে গেছে। আবার উল্টোটাও হতে পারত, শবনমের কোনো ত্রুটি খুঁজে পেলে প্রতিপক্ষ নিশ্চয়ই তাকে ছেড়ে কথা কইতো না। সেই ত্রুটিটাই বড় করে ম্যানেজমেন্টের সামনে তুলে ধরে তার বিপক্ষে কাজে লাগাতো। শবনম জানে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য এখন শুধু স্থির অবিচল ভাবে স্টিয়ারিংটা ধরে রাখতে হবে। কিছুতেই অধৈর্য হওয়া চলবে না। সেই পুরনো বাক্যটা নিজেকে শোনায় সে, ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’
শবনম হারতে চায় না, যেভাবেই হোক সে এই লড়াইয়ে জিততে চায়।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৬

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৫

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৪

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৩

স্নানের শব্দ: পর্ব-১২

স্নানের শব্দ: পর্ব-১১

স্নানের শব্দ: পর্ব-১০

স্নানের শব্দ: পর্ব-৯

স্নানের শব্দ: পর্ব-৮

Header Ad
Header Ad

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে যাচ্ছে মিয়ানমার। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শিউ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নিবন্ধিত ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ৮০ হাজার জনকে ফেরত নেবে মিয়ানমার।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ছয় দফায় রোহিঙ্গাদের মূল তালিকা মিয়ানমারকে সরবরাহ করেছিল। এখনো ৭০ হাজার রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাইকরণ বাকি রয়েছে। মূল তালিকায় থাকা বাকি সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আরও মানবিক সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

Header Ad
Header Ad

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে আঞ্চলিক সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত এই জোট বর্তমানে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বৃহত্তর সংহতকরণের চেষ্টা করছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ ভাগে সভাপতিত্ব হস্তান্তর করা হয়। সাত সদস্যের আঞ্চলিক ব্লক—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের নেতারা ‘সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক এবং উন্মুক্ত বিমসটেক’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন। আয়োজক দেশ থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বিমসটেক সনদ অনুসারে, চেয়ারম্যানের পদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্ণানুক্রমিকভাবে আবর্তিত হয়। শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয় অংশগ্রহণকারী নেতাদের প্রতীকী গ্রুপ ছবি তোলার মাধ্যমে। এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, বিদায়ী বিমসটেক সভাপতি স্বাগত ভাষণ দেন। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য বিমসটেক নেতারা আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এছাড়া, সকালে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস থাই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দেন, যেখানে বিমসটেক কাঠামোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ