শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বকুলের মালা

ছেলেটির নাম বকুল। ঢাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়াশোনা করে। ছেলেটি যখন ইন্টারমিডিয়েট অধ্যায়নরত ছিলো তখন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নানান ধরনের স্বপ্ন দেখতো। ঠিক তার আগের মুহূর্তে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনার এক ভয়াবহ আকার দেখা দেয়। তখন অনলাইনে বাংলাদেশের সকল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। সেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, তাদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনলাইনে হয়। ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের শিক্ষক সবাইকে জিজ্ঞাসা করছিল তোমাদের বাড়ি কোথায়, কার জীবনে কি স্বপ্ন আছে এবং বড় হয়ে কে কি হতে চাও। সবাই এক এক করে পরিচয় দিচ্ছিল। একদম শেষ মুহূর্তে মালা নামের একটি মেয়ে তার পরিচয় দিয়েছিল। তার কথার সুরগুলো ছিল কোকিলের গান। তার নিঃশ্বাসে ছিল কালবৈশাখী ঝড়ের আওয়াজ। তার ঠোঁট ছিল সকালের শিমুল ফুলের সূর্যের আবরণ। নাম দুটো বেশ সুন্দর মানিয়েছিল বকুলের মালা।

মেয়েটার বাসা ঢাকাতেই ছিল। বকুলের মেয়েটাকে এতটাই ভাল লাগে, ওই যে কথায় বলে না ‘লাভ অ্যাট টেন সেকেন্ড’ ব্যাপারটা ছিল ঠিক তাই। বকুল মেয়েটাকে ফেসবুকে খোঁজার চেষ্টা করে ইনস্টাগ্রামে খোঁজার চেষ্টা করে অবশেষে সে পায়। বকুল নিয়মিত মেয়েটাকে ফেসবুকে ফলো করে, কিন্তু মালা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করছিল না।

বকুল শুয়ে শুয়ে মালার কথা ভাবে আর বলে ইস যদি আমার জীবনে মালাকে পেতাম। কয়েকদিন পর থেকে তাদের ক্লাস শুরু হয়। বকুল স্যারের লেকচার শুনা বাদ দিয়ে মালার জিমেইলের ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতো আর জনম জনমের স্বপ্ন দেখতো। হঠাৎ করে পরের দিন সন্ধ্যায় মালা বকুলের ফেসবুক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করে। বকুল সাথে সাথে ফেসবুকে ঢুকে দেখে মালা এক্টিভ নাই। একটু আগে চলে গেছে। মালা আবার অনেকটা কম কথা বলত বেশ চুপচাপ স্বভাবের ছিল। বকুল তো মন খারাপ করে বসে আছে। এত সাধনার পরে তাকে পেলাম, তবু কথা বলতে পালাম না। তবে একদিক থেকে খুশি ছিল মালা ওর ফেন্ড রিকোয়েস্টটা একসেপ্ট করেছে। বকুল ভেবেছিল আজ হোক কাল হোক কথা তো হবেই।

রাত দশটার পরে বকুল মালাকে তাই লিখে একটি এসএমএস করে। কিন্তু মালা রিপ্লাই না করেই ফেসবুক থেকেচলে যায়। এভাবেই  কিছুদিন যেতে যেতে শোনা গেল তাদের বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিবে। বকুল তো শুনে মহা খুশি। মালার সাথে তার দেখা হবে। মালার সাথে কথা বলুক আর না বলুক চোখের দেখাটাতো বকুল দেখতে পারবে। তারপর বাসা খোঁজা নিয়ে এর মধ্যে দিন পার হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন বেশ ভদ্রতার সাথে সুন্দর একটি ড্রেস পড়ে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেল। কিন্তু দেখে মালা নেই। বকুলের তো মনটা ভীষণ খারাপ। যাকে দেখার জন্য এত উৎফুল্ল হয়ে সে ঢাকা আসলো কিন্তু এখনো সে আসেনি। সে নিয়মিত ক্লাস করছিল, কিন্তু কোন কিছুতে মনোযোগ দিতে পারছিল না। এভাবেই প্রায় ১৫ দিন পার হয়ে গেল। হুট করে একদিন ক্লাসে মালা উপস্থিত। বকুলের যেন আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে লাগলো মালাকে দেখে। এই প্রথম বকুল মালাকে সরাসরি দেখল। মালা ক্লাসে এসে চুপচাপ ক্লাস করছিল। কারো সাথে তেমন কথা বলছিল না। বকুল অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করে কোনো বার সফল হতে পারছিল না। এভাবেই তিনটা ক্লাস শেষ হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যাল শেষে মালার পিছু নেয় বকুল। মালার বাসাটা চেনার জন্য। অনেক বড় একটি বাড়িতে মালা ঢুকলো। বকুল ভাবছিল মালারা হয়তোবা অনেক ধনী।। বকুল মাঝে মধ্যেই মালার বাসার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো মালাকে একনজর দেখার জন্য। হঠাৎ করে কেউ একজন মালার পিছু নিচ্ছে মালা বুঝতে পারে। পরের দিন দেখে সেই ছেলেটা বকুল, তার ক্লাসমেট। বেশ রাগান্বিত হওয়ার পরেও বকুলকে মালা কিছু বলে না। বকুল কখনো মালার সামনাসামনি এসে কথা বলার সাহস পায়নি। কিন্তু ব্যাপারটা মালার কাছে বেশ বিরক্তিকর ছিল। মালা বকুলের উপর রাগ করে অনেক কিছু বলতে চাইলেও বলতে পারছিল না। কারণ বকুল মালার ক্লাসমেট। মালা বুঝতে পেরেছিল বকুল ওকে অনেক ভালোবাসে।

হঠাৎ করে মালার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কেমন জানি উধাও হয়ে গেল। বকুল মালার বাসার সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মালার জন্য অপেক্ষা করে তবু মালার দেখা পায় না। তার মনটা বেশ খারাপ। কিন্তু মজার ব্যাপারটা হল মালা তখন চুপি চুপি ফলো করছিল। ততদিনে বকুলের প্রতি মালার ও একটা ভালো লাগা তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু মালা চায়না কারও সাথে তার জীবনকে জড়াতে। কিছু দিন পর মালার সাথে হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে দেখা। হুট করে বকুল মালাকে ঐদিন প্রপোজ করে। মালা বললো অসম্ভব, মাফ করবেন।

পরের দিন বিকালে বকুল মালাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওই বাড়িটি থেকে একজন ভদ্রলোক বেরিয়ে আসে এবং বলে এই ছেলে তোমার কদিন ধরে দেখছি তুমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকো। যাও এখান থেকে চলে যাও। আর কখনো যেন তোমাকে এদিকে না দেখি। ভদ্রলোক সঙ্গে সঙ্গে বাসায় যায়। এবং মালাকে বলে বাড়ির সামনে যে ছেলেটা দাঁড়িয়ে থাকে ছেলেটা কে? তুমি কি তাকে চেনো। মালা বলে, হ্যাঁ। তুমি তাকে নিষেধ করে দিবে সে যেনো কখনো বাড়ির সামনে না আসে। পরের দিন মালা বেশ রাগান্বিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। সে বকুলকে বলে প্লিজ দয়া করে আমার পিছু নিও না। এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমি আমার পুরো পরিবার হারিয়েছি। আমার চাচা-চাচি, মামা-মামি কেউ আমাকে ঠাঁই দেয়নি। অবশেষে আমার বাবার আমাকে আশ্রয় দেন। তার স্ত্রী অসুস্থ। তাদের একটা মেয়ে ছিল। আমার মত। সে হঠাৎ বন্ধুদের সাথে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে সাগরে ডুবে মারা যায়। তারপর থেকেই আমি তাদের বাড়িতে মেয়ের অভিনয় করে থাকছি। আমার যাবতীয় খরচ তারই বহন করছে। আর আন্টিও তার নিজের মেয়ে মনে করে ভালোবাসে এবং সে আমাকে পেয়ে মানসিকভাবে অনেকটা সুস্থ। আমি এক পরিবারকে হারিয়েছি। আর একটি পরিবার আমি হারাতে চাই না।

প্লিজ, দয়া করে আমার পড়াশোনাটা বন্ধ করো না। আমি আমার এই জীবনের সাথে কাউকে জড়াতে চাই না। তুমি যদি আমার বাসার সামনে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকো তাহলে হয়তো বা কদিন পরে আমাকে তারা বাড়ি থেকে বের করে দিবে। তারপর আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তাই তোমাকে হাতজোড় করে বলছি। আমর পিছু ছেড়ে দাও।

বকুল বলে ঠিক আছে আর কখেনো তোমাকে বিরক্ত করব না। কখনোই তোমার বাসার সামনে যাব না। তবে শুনে রাখ। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। এই বলে বকুল চলে গেল। মনে মনে মালারও বেশ কষ্ট হচ্ছিল। কারণ মালা জানতো বকুল তাকে অনেক ভালোবাসে। মালা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল আর বলছিলো, আমিও তোমাকে ভালোবাসি বকুল। কিন্তু ইচ্ছে করলেই আমি আমার জীবনে তোমার জড়াতে পারবো না। আমায় মাফ করে দিও বকুল।

আবার করোনার কারনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেল। সবাই সবার বাসায় চলে যাচ্ছিল। কিন্তু বকুলের একদম বাড়িতে যেতে ভালো লাগছিলো না। কিন্তু বাড়ির চাপে বকুল বাড়ি যেতে বাধ্য হয়। বাড়ি যাওয়ার বেশ কদিন পরে বকুলের বন্ধু রুপম বকুলকে বলে কিরে, তোর মালা তো অসুস্থ। ওর কি অবস্থা এখন। বকুল বলে আমার সাথে তো ওর কথা হয় না। আর মালার কি হয়েছে?

রুপম বলে, তেমন কিছু জানি না। শুনলাম অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এটা শুনে বকুল এর মাথা ঘুরে যায়। বকুল প্ল্যান করতে থাকে ঢাকা যাবে। কিন্তু তার কাছে টাকাও ছিলো না। ঘুম ও নাই বকুলের চোখে। পরের দিন সকালে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বকুল তার মায়ের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ঢাকায় আসে মালাকে দেখার জন্য। বকুল সরাসরি হাসপাতালে চলে যায়। বকুল গিয়ে দেখে সেই ভদ্রলোকটি সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। বকুল বলে স্যার মালার কি হয়েছে?

ভদ্রলোক বলে মালার দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অনেক চেষ্টা করলাম কিডনি জোগাড় করতে পারলাম না। দেখা যাক আজকে সন্ধ্যায় একজনের সাথে কথা হয়েছে। সে নাকি জোগাড় করে দিতে পারবে।

বকুল বলে স্যার তার প্রয়োজন নেই। আমি আমার একটি কিডনি মালাকে দিতে চাই। একটা সুযোগ দিন স্যার। প্লিজ। আমি আর মালা একসাথে বকুল মালা হয়ে থাকতে চাই। দয়া করেন স্যার। ভদ্রলোক শুনে অনেক আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লেন। ভদ্রলোক বললেন ঠিক আছে। বকুল বলে স্যার, কিন্তু আমি যে মালাকে কিডনি দিচ্ছি মালাকে আপনি কখনো বলবেন না। ভদ্রলোক বললেন, কিন্তু কেন? বকুল বলে মালা আমাকে ভালোবাসে না। ওর জীবনের সাথে কাউকে জড়াতেও চায় না। ভদ্রলোক খানিকটা ভেবে বললেন ঠিক আছে। তারপর বকুলকে বিভিন্ন টেষ্ট করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন বকুলের অপারেশন। কিন্তু তার মনে ভয় থেকে খুশি ছিলো বেশি। সাতদিন পরে বকুল সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে যায়। মালার সুস্থ হতে প্রায় তিন সপ্তাহের মত লেগে যায়। কদিন পরে মালাকে তার আংকে বলে, দেখ মালা বকুল ছেলেটা অনেক ভালো। তোমাকে অনেক ভালোবাসে। তুমি চাইলেই ওর ব্যাপারটা ভেবে দেখতে পার। তুমি আমাদের মেয়ের মতো। মেয়ের মতই থাকবে। মালা বলে কি ব্যাপার আংকেল । তুমি হঠাৎ ওর হয়ে কথা বলছো কেন?

তুমি যে কিডনি দিয়ে বেঁচে আছ, সেই কিডনি বকুল তোমাকে ডোনেট করেছে। সে আমাকে এটাও বলেছে আমি যেন কথাটা তোমাকে না বলি। এখন তুমি দেখো কি করবে।

মালা কথাগুলো শুনে নিস্তবদ্ধ হয়ে যায়। সে নিজকেই নিজে দোষী মনে করে। ইস, ছেলেটা আমার এত ভালোবাসে। সাথে সাথে মালা বকুলকে ফোন করে কোন কথা নাই, সরাসরি বকুলকে আই লাভ ইউ বলে। বকুল আমি তোমার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি। আমায় মাফ করে দাও। বকুল বলে, আরে কি যে বলো তুমি। আমি জানি তুমিও কতটা চাপে ছিলে। বকুল খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়। পরের সপ্তাহে বকুল মালার সাথে দেখা করতে ঢাকায় আসে। তারপর তাদের একজনের প্রতি আরেকজনের এক অন্ধ ভালোবাসা তৈরি হয়। এভাবে বকুল আর মালা ভালোবাসর মালা গাঁথার দিনগুলো শুরু হয়।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা