মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫ | ১৮ বৈশাখ ১৪৩২
Dhaka Prokash

দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধের ৮৪ বছর

সাংহাইয়ের ধ্বংসাবশেষে জাপানি সৈন্যরা

মানব সভ্যতার ইতিহাস যুদ্ধ-বিগ্রহের ইতিহাস। ইতিহাসের কালপরিক্রমায় আধুনিক বিশ্বের অন্যতম দুই পরাশক্তি চীন ও জাপান দুই দুইবার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যা চীন-জাপান যুদ্ধ নামে পরিচিত। ঢাকাপ্রকাশের পাঠকদের জন্য দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধের আদ্যপান্ত তুলে ধরা হলো।

দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধের সূত্র লুকিয়ে আছে ১৮৯৪-৯৫ সনের প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধে। সে যুদ্ধে চীনের কুইং রাজবংশ জাপানের কাছে হেরে গিয়ে তাইওয়ান ছেড়ে দিতে এবং কোরিয়ার স্বাধীনতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। কুইং রাজবংশের পতনের পর চীনে অনেক সামন্ত রাজার উত্থান ঘটে এবং বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে জাপান সাম্রাজ্য আধুনিক ও শক্তিশালী হতে থাকে। ধীরে ধীরে চীনের বিভিন্ন এলাকায় জাপান তার প্রভাব বলয় সৃষ্টি করতে থাকে।

১৯২০-৩০ এর দশকে চিয়াং কাই-শেক এর কুয়ো মিনটাং সরকার চীনকে একীভূত করতে শুরু করে। সেসময় সরাসরি জাপানের সাথে যুদ্ধ করার সামর্থ্য ছিল না চীনের। তবে চিয়াং কাই-শেক একে একে সামন্ত রাজাদের পরাজিত করতে থাকেন। অন্যদিকে তিনি চীনা কমিউনিস্টদের সাথেও গৃহযুদ্ধ শুরু করেন। হাতছাড়া হয়ে যাবার ভয়ে ১৯৩২ সালে জাপান উত্তর চীনের মাঞ্চুরিয়া প্রদেশ দখল করে ফেলে ও সেখানে পুতুল রাষ্ট্র মাঞ্চুকিয়ো স্থাপন করে।

নিজেদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য চীনারা একটি সিরিজ রেলপথ নির্মাণ শুরু করে যা আংশিকভাবে জাপানি লাইনকে ঘিরে ফেলে এবং হুলুদাওতে গিয়ে শেষ হয়। হুলুদাওতে একটি বন্দর চীনারা নির্মান করছিল। এদিকে মাঞ্চুরিয়ার শাসক ঝাং জুওলিন ১৯২৮ সালে জাপানি অফিসারদের দ্বারা নিহত হলে তার ছেলে ঝাং জুয়েলিয়াং চীনকে বিদেশী নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করার জন্য কুওমিনতাং-এ (ন্যাশনালিস্ট পার্টি) যোগ দেন। মাঞ্চুরিয়াতে জাপানি বাহিনী আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের সকল পথ বন্ধ করে দেন।

এই অবস্থায় চীনারা শহরের কাছে দক্ষিণ মাঞ্চুরিয়া রেলপথের ট্র্যাকের কিছু অংশ উড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করে জাপান ১৯৩১ সালের ১৮-১৯ সেপ্টেম্বর মুকডেন (বর্তমান শেনিয়াং) দখল করে নেয়। চীনের জাতীয়তাবাদী শক্তির সামান্য প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়ে, জাপানিরা ১৯৩২ সালে মাঞ্চুরিয়াতে একটি পুতুল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। এর পর জাপান সমগ্র চীনের ওপর তাদের আধীপত্য বিস্তারে মনোযোগি হয়। ১৯৩৪ সালের টোকিও থেকে একটি ঘোষণাপত্রে বলা হয় চীনের কোনও শক্তি জাপানের সম্মতি ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারে না। এতে সমস্ত চীনকে কার্যকরভাবে জাপানের অধীনস্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

জাপানি সাম্রাজ্যের আঞ্চলিক সম্প্রসারণ

জাপানি সাম্রাজ্যের আঞ্চলিক সম্প্রসারণ

১৯৩৫ সালে জাপানিরা হেবেই এবং চাহার (বর্তমানে মঙ্গোলিয়ার একটি অংশ) থেকে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর জাপান বিরোধী সদস্যদের প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে। এর ফলে এই অঞ্চলগুলি আংশিকভাবে জাপানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং সুইয়ুয়ান, শানসি (শানঝি), এবং শান্তুং (শানডং) প্রভূতি অঞ্চল হুমকির সম্মুখীন হয়। চীনের জাতীয়তাবাদী নেতা চিয়াং কাই-শেক প্রকাশ্য এর বিরোধিতা করেননি। ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বরে চিয়াং কাই-শেক তার নিজের জেনারেলদের ক্ষমতাচূত্য হন এবং জাপানের বিরুদ্ধে যুক্তফ্রন্ট কমিউনিস্টদের সাথে মিত্র হতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এই অবস্থায় চীন-জাপানের মধ্যে শীঘ্রই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৩৭ সালের ৭ জুলাই পেইপিং (বেইজিং) থেকে সামাস্য দূরে অবস্থিত মার্কো পোলো ব্রিজে চীনা ও জাপানি সৈন্যদের মধ্যে একটি ছোটখাটো সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় চিন-জাপান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। জাপানিরা অনুভব করেছিল যে, যেহেতু চিয়াং এবং জাতীয়তাবাদী সরকার জাপানের কাছে নতি স্বীকার করবে না তাই তাদের অবশ্যই নির্মূল করতে হবে। তাছাড়া জাপানের বিরুদ্ধে চীনের ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী জোয়ার জাপানকে বিক্ষুদ্ধ করে তুলেছিল।

১৯৩৭ সালের জুলাই নাগাদ কার্যত সমস্ত চীনা আঞ্চলিক সামরিক ও রাজনৈতিক দল জাতীয়তাবাদী সরকার ও চিয়াং কাই-শেককে সমর্থন করার জন্য সমাবেশ করেছিল। কমিউনিস্টরা, যারা ১৯৩৫ সাল থেকে জাপানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল, তারা তাদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তাদের সেনাবাহিনীকে নামমাত্র সরকারের অধীনে রেখেছিল।

ছবি: জেনারেলিসিমো চিয়াং কাই-শেক, 1942 থেকে 1945 পর্যন্ত চীন থিয়েটারে মিত্রবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ

তবে জাপানের সামরিক শক্তি চীনের তুলনায় এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তার সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে দ্রুত সাফল্য অর্জন করেছিল। দুই বছরের মধ্যে জাপান চীনের বেশিরভাগ বন্দর, প্রধান শহর যেমন সুদূর পশ্চিমে হ্যানকো (হানকো) এবং রেলপথের বড় অংশ দখল করে নেয়। পেপিং এবং তিয়েনসিন (তিয়ানজিন) অঞ্চল ১৯৩৭ সালের জুলাই মাসে দখল করা হয়। প্রচণ্ড যুদ্ধের পর ১৯৩৭ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি চীনা সেনাবাহিনীকে সাংহাই এলাকা থেকে বিতাড়িত করে জাপান। চীনের জাতীয়তাবাদীদের রাজধানী নানকিং-এর (নানজিং) ১৯৩৭ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পতন ঘটে। সেই শহরে জাপানিরা যে হত্যাযজ্ঞ চালায় তা নানজিং গণহত্যা হিসাবে পরিচিত হয়। নানজিং শহরে প্রায় ৩০০,০০০ চীনা বেসামরিক নাগরিক এবং আত্মসমর্পণকারী সেনা নিহত হয়েছিল। তাছাড়া জাপানি কমান্ডার মাতসুই ইওয়ানের নির্দেশে হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ করা হয়।

রাজধানী পশ্চিমে হ্যানকোতে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৩৮ সালের অক্টোবরে জাপানীরা সেই শহরটিকে দখল করে নেয়। একই মাসে চীনারা ক্যান্টন (গুয়াংজু) হারায়। জাপানিরা পেপিং থেকে উত্তর ও পশ্চিম দিকে রেললাইন ধরে শানসি এবং অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়ায় নজর দেয়। তারা শান্টুং-এ আধিপত্য বিস্তার করে এবং ইয়াংজি উপত্যকার নীচের অংশে পেইপিং-হ্যাঙ্কো, তিয়েনসিন-পিউ-কাউ এবং লুং-হাই রেলপথ দখল করে। সমুদ্রে তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। আকাশ যুদ্ধে জাপানিরা সবসময় এগিয়ে ছিল। আগে থেকেই তারা চীনা বিমান বাহিনীকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিল এবং চীনা শহরগুলিতে ইচ্ছামতো বোমাবর্ষণ করেছিল। এই অবস্থায় চীনে ব্যপক প্রাণহানি ঘটেছিল।

এসবের পরেও চীনারা শেষ পর্যন্ত হারেনি। যুদ্ধ জাপানের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দীর্ঘায়িত হয়েছিল। চিয়াং কাই-শেক তার রাজধানী সেচওয়ানে (সিচুয়ান) থেকে ইয়াংজি গর্জেসের পশ্চিম প্রান্তে চুংকিং-য়ে (চংকিং) স্থানান্তরিত করেন। চীনের বেশিরভাগ নেতৃত্ব সেচওয়ান এবং ইউনানে (ইউনান) থেকে সুদূর পশ্চিমে চলে যান। দখলহীন চীন দীর্ঘ প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়। অধিকৃত চীনে জাপান যে সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল সেই সরকারে অনেক চীনাকে অন্তর্ভূক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এমনকি চীনের অধিকৃত অঞ্চলে জাপানের নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র শহর এবং রেললাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

এর বাইরে সাধারন মানুষ চীনের জাতীয়তাবাদী সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। তাছাড়া এসব অঞ্চলে জাপান চীনের গেরিলা যোদ্ধাদের দ্বারা ব্যপকভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছিল। কমিউনিস্টরা জাপানকে প্রতিরোধ করার জন্য গেরিলা পদ্ধতি ব্যবহার করে বিশেষভাবে সফল হয়েছিল। এই গেরিলা আক্রমন দ্রুত জাপান নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর রাজনৈতিক-সামরিক অবস্থানকে ভেঙে দেয়। কমিউনিস্ট সৈন্য এবং সংগঠকরা জাপানি নিয়ন্ত্রণের পেছনে বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকায় চলে যায়। তারা গ্রামীণ আত্মরক্ষা ইউনিট সংগঠিত করে। স্থানীয় সরকার গঠন করে এবং তাদের নিজস্ব সেনাবাহিনী, অষ্টম রুট আর্মি এবং নিম্ন ইয়াংজি উপত্যকায় নিউ ফোর্থ আর্মি প্রসারিত করে।

কিছু সময়ের জন্য জাপান ব্রিটিশদের বার্মা (মিয়ানমার) থেকে ইউনানের কুন-মিং পর্যন্ত রাস্তাটি বন্ধ করে রাখে। পরে বার্মা রোডটি আবার চালু হয় এবং যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রসদ সরবরাহকারী লাইন হয়ে উঠে। এই অবস্থার কিছুকাল পরে ৭ই ডিসেম্বর ১৯৪১ সালে জাপান আমেরিকার পাল হারবার আক্রমণ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। চীনও আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করে। সমন্বিত চীনা বাহিনী বার্মা এলাকায় যুদ্ধে অংশ নেয়। জাপানিরা তাদের সামরিক শক্তি ও অনুকূল ভৌগলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পূর্ব এশিয়ার উপকূলে নিজেদের প্রভাবশালী করে তোলে।

অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী চীন শক্তিশালী জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সন্মূখীন হয়। তাদের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি, অপুষ্টি, এবং সরকার কর্তৃক রেজিমেন্টেশনের প্রচেষ্টা সবই একটি খারাপ প্রভাব ফেলেছিল।

এই যুদ্ধাবস্থা চীন সরকারকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। প্রতিরোধের প্রথম বছরগুলিতে চীন যে শক্তিশালী জনসমর্থন লাভ করেছিল তা হ্রাস পেয়ে তলানীতে ঠেকে। সরকারকে মূল্যস্ফীতি, দুর্নীতি এবং অতিরিক্ত কর আরোপের জন্য দায়ী করা হয়। কমিউনিস্টরা জনবিরোধী হিসাবে পুনরায় আবির্ভূত হতে শুরু করলে তারা জনগনের ওপর দমন নীতি প্রয়োগ করে। এই অবস্থার মধ্যেও চীন চিয়াং কাই-শেকের নেতৃত্বে জাপানের সাথে আত্মসমর্পণ বা আলোচনায় বসতে অস্বীকার করে।

সাত বছরের যুদ্ধ এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে চীনের জাতীয়তাবাদী সরকার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এই অবস্থায় মাও সেতুং-এর নেতৃত্বে কমিউনিস্টদের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল। ১৯৪৫ সাল থেকে চীন আমেরিকার সাহায্যে অবরুদ্ধ এলাকা মুক্ত করতে শুরু করে। এরসাথে সোভিয়েত ইউনিয়নও যোগ দেয়। ১৫ই অগাস্ট ১৯৪৫, আণবিক বোমা বিস্ফোরণের সাথে সাথে জাপানের যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। ৯ই সেপ্টেম্বর জাপান আত্মসমর্পণ করে।

 

 অনুবাদক: শাহাদাত হোসেন

Source: The Editors of Encyclopaedia Britannica

/এএস

Header Ad
Header Ad

টঙ্গিবাড়ীতে ঈদের দিনে ১০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি, উপকৃত ৪২০ পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিক্রমপুর মানবসেবা ফাউন্ডেশন মাত্র ১০ টাকায় ৪২০টি পরিবারের মাঝে গরুর মাংস বিতরণ করেছে।

সোমবার (৩১ মার্চ) সকালে কামারখাড়া হাই স্কুল মাঠে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে অসহায় ও দুস্থ পরিবারগুলোকে ১০ টাকায় ১ কেজি গরুর মাংস দেওয়া হয়।

বিক্রমপুর মানবসেবা ফাউন্ডেশন শুধু ঈদের দিনেই নয়,প্রতিবছর রমজানে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ, মেধাবৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন এবং অসহায়দের জন্য নানা সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

১০ টাকায় গরুর মাংস কিনতে আসা খালেদা বেগম বলেন, "১০ টাকা আজকাল বাচ্চারাও নিতে চায় না, অথচ আমরা এখানে ১০ টাকায় ১ কেজি গরুর মাংস পাচ্ছি। যারা এই আয়োজন করেছেন, আল্লাহ তাদের ভালো রাখুক।"

একইভাবে বৃদ্ধ মো. ফজল বলেন, "বাজারে গরুর মাংসের যে দাম, ভাবছিলাম ঈদের দিন মাংস খেতে পারব না। কিন্তু বিক্রমপুর মানবসেবা ফাউন্ডেশনের জন্য ঈদের দিনেও মাংস খেতে পারছি, এ জন্য আমি খুব খুশি।"

বিক্রমপুর মানবসেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক (হিরা) বলেন, "এটি আমাদের চতুর্থবারের মতো আয়োজন। আমরা চাই, সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষও যেন ঈদের দিনে মনে করে তারা নিজের টাকায় গরুর মাংস কিনে খেতে পারছে। এই চিন্তা থেকেই আমাদের এই উদ্যোগ।"

এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ঈদের দিনেও তাপপ্রবাহ অব্যাহত, এক বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী, পাবনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ঢাকা, ফরিদপুর, পটুয়াখালী ও রাঙামাটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সোমবার (৩১ মার্চ) প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সিলেট বিভাগের দু-একটি স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আগামীকাল মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

এছাড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে গরমজনিত অসুস্থতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের পর্যাপ্ত পানি পান এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

যশোরের শার্শা সীমান্তে যুবকের লাশ উদ্ধার, আটক ১

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে জামাল হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবক সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার কাদপুর গ্রামের আইয়ুব হোসেনের ছেলে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

রোববার (৩০ মার্চ) রাতে উপজেলার গোগা ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের শফি ইটভাটা সংলগ্ন সেতাই-বালুন্ডা সড়কের পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে শার্শা থানার ওসি কে এম রবিউল ইসলাম নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

ওসি কেএম রবিউল ইসলাম জানান, "লাশের পাশে একটি অ্যাপাচি ৪ভি কালো রঙের মোটরসাইকেল এবং হত্যার কাজে ব্যবহৃত কিছু মেহগনি গাছের চলাকাঠ পাওয়া গেছে। নিহতের মুখ ও মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।"

প্রাথমিকভাবে নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, নিহত জামাল হোসেন মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিল বহন করে শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানার বিভিন্ন মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করতেন।

পুলিশের সন্দেহভাজন তালিকায় থাকা কাদপুর গ্রামের আলী হোসেন খাঁর ছেলে জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এদিকে, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

টঙ্গিবাড়ীতে ঈদের দিনে ১০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি, উপকৃত ৪২০ পরিবার
ঈদের দিনেও তাপপ্রবাহ অব্যাহত, এক বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা
যশোরের শার্শা সীমান্তে যুবকের লাশ উদ্ধার, আটক ১
চীনে বিশাল তেলক্ষেত্র আবিষ্কার, মজুদ ১০ কোটি টনের বেশি
রাজধানীতে সুলতানি আমলের আদলে ঈদ আনন্দ মিছিল
গাজীপুরে বাসচাপায় শিশুসহ দুই যাত্রী নিহত, আহত ৪
টাঙ্গাইলে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদুল জামাত অনুষ্ঠিত
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: পরমাণু চুক্তি না হলে ইরানে বোমা হামলা ও নিষেধাজ্ঞা
লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত
বাধা সত্ত্বেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টার
ঈদের সকালেও নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ
ঈদের দিন ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬৪ ফিলিস্তিনি
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস
টাঙ্গাইলে ঈদের মাঠে সংঘর্ষের শঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি
বছর ঘুরে এলো খুশির ঈদ, আজ দেশজুড়ে উদযাপন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ হাজারের বেশি ঈদ জামাত, প্রবাসীদের মাঝে উৎসবের আমেজ
মায়ের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের ছবি শেয়ার করে যা বললেন তারেক রহমান
ময়মনসিংহে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার নারী-শিশুসহ নিহত ৪
ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান
ঈদের আগের দিন গাজীপুরে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযান