শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ভারতের ক্রিকেট ও লতা এবং শচীন

কিংবদন্তী গায়িকা লতা মঙ্গেশকর জীবনের শেষ নি:শ্বাস নিলেন। ভারতীয় হিন্দি সিনেমাও তার জীবন প্রদীপের জন্য ব্যাকুল। কয়েক সপ্তাহ-শেষ দিনগুলোতে তিনি হাসপাতালে ছিলেন। সবার জানা এই তথ্যটি যে, ঝানু, বহুদশী ও প্রবীণ এই গায়িকা ৩০ হাজারের বেশি গান গাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ভারত জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আঞ্চলিক ও হিন্দি ভাষায়। তবে সবার দাবী মেটানো লতা মঙ্গেশকরের আগ্রহ কোন দিকে ছিল?

অল্পই জানা সম্ভব হয়েছে। এটি সবার জানা, কিংবদন্তীটি ক্রিকেটের পাঁড়ভক্ত ছিলেন। ভারতের জাতীয় দলটির সবচেয়ে বড় ভক্তদের একজন টানা ২৮ দিন জীবন যুদ্ধ করে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে রোববার ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ সালের সকাল ৮টা ১২ মিনিটে চলে গেলেন। লতার নিউমোনিয়ার উপসর্গ ছিল। অন্যান্য সংশ্লিষ্ট শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন চির তরুণী কন্ঠশিল্পী। চলে যাবার আগে পর্যন্ত বিভিন্ন উপলক্ষ্যে তিনি তার ক্রিকেট ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ট্রফি জয়ে টুইটারে লিখে অভিনন্দনও জানাতেন। লতা মঙ্গেশকর তার পক্ষে ভারতের ক্রিকেটের জন্য যতটুকু সম্ভব করেছেন।

ক্রিকেটের প্রতি তার এই ভালোবাসা কয়েক দশক আগে থেকে, যখন দেশটি ক্রিকেটে কোনো সুপারপাওয়ার হয়েও ওঠেনি। তিনি টিম ইন্ডিয়ার ১৯৮৩ সালের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের উদযাপনে একটি বড় ভূমিকা রেখেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস নামের দেশের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যমকে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমি লর্ডস ক্রিকেট মাঠে ফাইনাল খেলাটি দেখেছি। বিশ্বাসই করতে পারিনি যে দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ক্রিকেটের একমাত্র পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বিশ্বকাপটি জয় করেছি আমরা। একজন ভারতীয় হিসেবে স্বাভাবিকভাবে এই অজনে খুবই গবিত হয়েছি।’

কপিলের অসাধারণ পারফরমেন্স ও লড়াকু মানসিকতা দলটিকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছে সবার যৌথ অভিযানে। ১৯৮৩ সালের শেষ ম্যাচের জয়টি লাভের পর, লন্ডনে চলে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রত্যক্ষদশী হয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য দলের সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে তিনি চলে গিয়েছিলেন তাদের ড্রেসিং রুমে। সেখানে কী ঘটছে সেটিও বিলক্ষণ মনে আছে ক্রিকেট পাগল এই নারীর, ‘আমার মনে পড়ে, আমাদের দলটি সবাই আমার সঙ্গে আমার ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরের লেখা একটি গান গেয়েছেন। প্রখ্যাত ভারতীয় ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার ও দলনেতা কপিল দেব আমার পাশে দাঁড়িয়ে গেয়েছেন’-লিখেছে দৈনিকটি।

কপিল দেব ও তার দল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট পরাশক্তি দুইবারের পর, পর অপরাজেয় চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফাইনালে হারানোর পর বিসিসিআই (বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া) ক্রিকেটের সুবিধা বাড়াতে ও দলটিকে সম্মানিত করতে চাইলো। তবে দলকে সস্মানিত করার সামর্থ্যও তাদের নেই। নগদ টাকার অভাবে ভুগে ধুঁকে, ধুকে এগুচ্ছিলেন তারা। এই জয় তাদেরও মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় বোর্ডের প্রশাসক রাজ সিং দুঙ্গারপুর লতা মঙ্গেশকরের কাছে সাহায্যের প্রত্যাশায় হাজির হলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এনকেপি সালভে (নরেন্দ্র কুমার প্রাসাদ রাও-ভারতীয় কংগ্রেসের এমপি) তখন বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট। তিনি দুঙ্গারপুরের আত্মজীবনীতে প্রথম বলেছেন, ‘আমার কাছে রাজ সিং একটি মেধাবী পরিকল্পনা নিয়ে এলো, যেহেতু তখনকার দিনগুলোতে আমাদের হাতে যথেষ্ট টাকা ছিল না। সে লতা মুঙ্গেশকরকে দিল্লীতে একটি গানের অনুষ্ঠান করতে অনুরোধ জানাবে, যাতে ক্রিকেটের ভবিষ্যতের টাকাগুলো ওঠে।’

হিন্দুস্তান টাইমসকে এই প্রখ্যাত গায়িকা একটি সাক্ষাৎকারে পরে জানিয়েছেন, ‘আমি শুনে বলেছিলাম, অবশ্যই আমি কাজটি করবো। ১৭ আগষ্ট এজন্য মুম্বাই থেকে দিল্লি চলে গেলাম। একটি বিশেষ শো আমি তাদের জন্য করেছি। সুরেশ ওয়াদেকার (বলিউড ও মারাঠি সিনেমার প্লেব্যাক গায়ক) ও নিতীন মুকেশ (বলিউডের প্লেব্যাক গায়ক) শোটিকে সাহায্য করেছে। এখানে রাজিব গান্ধিও উপস্থিত ছিলেন।’ কনসার্টের জন্য, লতার কণ্ঠের সুধায় মিশতে একটি গানের গীত রচনা করেছিলেন তার ভাই পন্ডিত হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর। প্রথম কলি-‘ভারত বিশ্ব বিজেতা।’ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সব সদস্য স্টেজে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে গানটি গেয়েছেন। লতা মঙ্গেশকরের বিশেষ কনসার্টটি থেকে ২০ লাখ টাকা ক্রিকেটের উন্নয়নে বিসিসিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন মেলোডি কুইন। ১৯৮৩ সালে এই অথ রাজার ঘরেও ছিল না। একটি টাকাও কনসার্ট থেকে নেননি অবিম্মরণীয় সঙ্গীত প্রতিভা।

গানের বহুমুখী প্রতিভাটি অনেক ধরণের গানে পারঙ্গম-গায়িকাটি অনেক উপলক্ষে তারপরও ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। ক্রিকেটের প্রতি তার প্রবল ভালোবাসায় এমন অনেক ঘটনা আছে, যখন প্রবল ব্যস্ততায়ও তিনি ক্ষুধার্তের মতো অন্তত ম্যাচের স্কোরটি জানার জন্য চেষ্টা করেছেন। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম বিবিসি হিন্দিকে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের এই দলের সব খেলোয়াড়ই ভালো। তবে আমার প্রিয় শচীন।’ এই বলে তিনি ক্রিকেট নিয়ে তার জ্ঞানের জাহিরও করেছেন-‘সুনীল গাভাস্কার পারফেক্ট বা নিঁখুত হিসেবে শ্রদ্ধার পাত্র, সেই দলটিতে অতিরিক্ত শক্তি হলেন কপিল দেব। আমার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায়টি হলো বেছে নেবার-আমাদের দেশের সব ক্রিকেটটারই ভালো, তালিকার নীচের দিকেররাও ভালো। আমি সবাইকে ভালো বলবো। এই হিসেবে দ্রাবিড় (রাহুল দ্রাবিড়)কেও ভালো বলতে হয় (হাসি)। সম্ভবত আমার সবচেয়ে প্রিয় হলো শচীন। এই বিষয়ে সামান্যই প্রশ্নের অবকাশ আছে। সবাই তাকে ভালোবাসে। তাহলে আমি কেন পিছিয়ে থাকবো?’

মাস্টার ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের প্রতি তার অনুরাগ ও ভালোবাসার কথা অনেকবার জানিয়েছেন। লতাজির শচীনের সঙ্গে একটি শক্ত বন্ধন ছিল। ক্রিকেটের মাস্টার ব্লাস্টারও তাকে খেলাটির বাইরে পূজা করে গিয়েছেন শেষতক। ভারতীয় সঙ্গীতের এই মহাতারকা যখন শচীন ভালো ব্যাটিং করতেন ও খেলতেন; তার তীব্র উত্তেজনা ও খুশি লুকিয়ে রাখতে পারেননি। মাস্টার ক্রিকেটারের সঙ্গে তার সম্পকও ছিল খুব ভালো। একেবারে মা-সন্তানের মতো। একটি উদাহরণ-২০১৪ সালে ভারতের মুম্বাইতে কিংবদন্তী গায়িকার ৮৫তম জন্মদিনের আয়োজন করা হলো। ২৮ সেপ্টেম্বরের দিনটিতে ক্রিকেট ওস্তাদ শচীন টেন্ডুলকার অভিনন্দন জানিয়েছেন, সে আসরে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। গানের অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক প্রতিষ্ঠান হৃদয়েশ আটস সম্মুখানন্দ অডিটোরিয়ামে, মুম্বাই শহরের প্রাণকেন্দ্রের পাশের কিংস সার্কেল নামের একটি রেলওয়ে স্টেশনের ধারে লতাজির জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠানটি করেছে।

ক্রিকেটের অন্যতম তারকা বাদে প্রখ্যাত ভারতীয় গানের অন্যতম তারকা লতার ছোটবোন আশা ভোঁসলে সেই জন্মদিনের বিশেষ অতিথি ছিলেন। আরো ছিলেন বলিউড ও ভারতীয় গানের অনেকে। তাতে ‘মেরা ভাইজানস’ নামে তার বিখ্যাত গানটি নিজে গেয়ে শুনিয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। গানটি লিখেছেন তার ছোটভাই পন্ডিত হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর। অনুষ্ঠানটি লতার বিশেষ কিছু ছিল। কেননা, গানের পেশাজীবনের ৬০ বছর উদযাপন করেছেন সেদিন। পেশাজীবনে তার বোন-তাদের পরিবারের প্রধান আলো লতা মঙ্গেশকর মোট ৩৬টি ভাষায় ১ হাজারের বেশি সিনেমার গান রেকড করার গৌরবেন অধিকারী তখনই। তিনি সেদিন ক্লাসিক্যাল থেকে রোমান্টিক; গজল সবই গেয়েছেন। তার চিরকালের মিষ্টি গান-‘আজা রে পরদেশী’, ‘কাহি দীপ জ্বালে কাহি দিল’, ‘বেটি না বেটাই রাইনা’, ‘তেরে বিনা জিন্দেহি সে’, ‘তেরে বিনা জিয়া জায়ে না’, ‘নেইনো মে বাদরা’, ‘চলতে চলতে’ ও ‘ইয়ারা সিলি সিলি’র মতো গানগুলো মনের দরজা খুলে গেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর।

২০১৩ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বিস্ময়, তার মতোই যে একেবারে ছোট্ট বয়সে ক্রিকেট মাঠে প্রতিভা ছড়াতে শুরু করলেন; তিনি অবসর নেবার ঘোষণা দেবার পর বহু ধরণের গানের এই মহাতারকা তার দুঃখের কথা জানাতে ভোলেননি-‘আমি আপনাদের বলে বোঝাতে পারব না সে অবসর নেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানার পর কেমন লেগেছে। বলতে গেলে, আমার ভীষণ খারাপ লেগেছে, তীব্র কষ্ট পেয়েছি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমিও এই ব্যথা ভুলেছি। মনকে বলেছি, কেউই সারাজীবন বা চিরকাল কাজ করতে পারে না। এমনকি একজন মহাতারকা-তাও শচীন টেন্ডুলকারের মানের, সেও পারে না। আমি ভেবেছিলাম আরো কিছুদিন ভালোভাবে সে ক্রিকেট খেলে যেতে পারতো, তবে এটি একেবারেই তার সিদ্ধান্ত। যদি সে মনে করে এটিই সবচেয়ে ভালো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে চলে যাবে, তাহলে আগেরগুলোর মতো তার এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। তার সঙ্গে আমি এগিয়ে চলি। তবে হ্যাঁ আমার ভীষণ কষ্ট লাগে, যখন ভাবি আর কোনোদিন আমাদের চোখের সামনে ক্রিকেট খেলতে মাঠে নামবে না শচীন টেন্ডুলকার।’

ছবি : ১. ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সঙ্গে লতা মঙ্গেশকর।

২. মাস্টার ক্রিকেটার শচীনের সঙ্গে গানের পাখি।

(ইকনোমিক টাইমস ও অন্য ভারতীয় ওয়েবসাইটের ইংরেজি লেখা থেকে)

Header Ad
Header Ad

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার রঞ্জুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। তার বাড়ি গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার মহুরি পাড়ায় (বিহারি পট্টি)।

অপরদিকে, মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র পরিচালকও ছিলেন।

গ্রেপ্তারি বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে অবস্থান করা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিমকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের আগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সাঈদ হোসেন জসিম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলাম। সবার দোয়া চাই।’

Header Ad
Header Ad

সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি- এবার আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে, আমরা একটি মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে জন্ম নেয়।

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী এবং দেশকে মুক্তকারী ছাত্রনেতারা আমাকে আমাদের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের আগমনের পর থেকে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিমসটেক সচিবালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।

Header Ad
Header Ad

নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু

বক্তব্য রাখছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে উদ্দেশ্য শহীদরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই ভোটের অধিকারের প্রতিষ্ঠার যে দাবি, যেটি আমি মনে করি যৌক্তিক সময়েই এই সরকার প্রদক্ষেপ নিবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগ করবে এটিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাজেই এই সরকার ব্যর্থ হলে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস এ তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, নির্বাচনের দাবি কিন্ত বাংলাদেশের আপামোড় জন সাধারণের। মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সত্বেও তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাজেই সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এ দেশের মানুষ ও জনগণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা এক প্রশ্নে জবাবে আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে পাশ্ববর্তী দেশে থেকে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন রকম উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, সেভাবে এদের ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো।

এ সময় জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের