শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

সত্যজিৎ রায়ের জন অরণ্যের ‘সোমনাথ’ চলে গেলেন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহরে আজ ২৯ আগস্ট, কিংবদন্তী বাঙালি অভিনেতা প্রদীপ মুখার্জি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি নায়ক চরিত্রে অভিনয় করে অমর হয়ে থাকবেন সত্যজিৎ রায়ের ‌‘জন অরণ্যে’ ছবিতে। জনপ্রিয় ও ভিন্ন ধারার সাহিত্যিক শংকরের জন অরণ্যেকে চলচ্চিত্রে রূপ দিয়েছিলেন ১৯৭৬ সালে বেরুনো এই ছবিতে সত্যজিৎ। তার কলকাতা ট্রিলজি বা তিনটি ছবির একটি পূর্ণ গল্পের সিরিজের এই হলো শেষ ছবি। আগের দুটি হলো ‘প্রতিদ্বদ্বী’, ১৯৭০ সালে বেরিয়েছে; ১৯৭১ সালের সিনেমা তার ‘সীমাবদ্ধ’। সিরিজের শেষ ছবিতে ক্লাসিক সত্যজিৎ তুলে এনেছেন ১৯৭০’র দশকের ভারতের মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীর তরুণদের নানা অথনৈতিক সংকট ও সংগ্রাম।
প্রদীপের ভালো নাম প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। জন্মেছেন দেশভাগের দুটি বছর আগে, তুমুল হিন্দু, মুসলাম ও অন্যান্য শ্রেণীর ওলটপালট জীবনে। ১৯৪৬ সালের ১১ আগস্ট। তিনি নাটকেও অভিনয় করেছেন, মঞ্চে গিয়েছেন। তবে তিনি মূল ধারার অন্য ছবিগুলোতে জন অরণ্যের মতো খ্যাতি লাভ করেননি। তবে মোটেও অখ্যাত থাকেননি। তার বিখ্যাত ছবিগুলোগুলো-বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘দূরত্ব’-১৯৮১ সালে বেরিয়েছে ও এই সময়ে ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘উৎসব’, মুক্তি পেয়েছে ২০০১ সালে।
যে মধ্যবিত্তের সংগ্রাম তিনি তার তরুণ কালে তুলে এনেছেন পুরো ভারতবর্ষের ছেলেমেয়েদের জীবনগল্প সিনেমার পর্দায়, তেমনই এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মেছেন প্রদীপ। অবশ্য ভারতের বাঙালি মধ্যবিত্তের বিকাশ কলকাতা শহরেই, ব্রিটিশদের হাত ধরে। তার বাবা ছিলেন শ্রী মোহন মুখোপাধ্যায় আর মা ভক্তি মুখোপাধ্যায়। তারা কুলীন ব্রাক্ষ্মণ পরিবার। তিনি বেড়ে উঠেছেন চোরবাগানে, শিমলায়। বহু পুরোনো হেয়ার স্কুল থেকে প্রদীপের মাধ্যমিক। ১৯৬৫ সালে পাশ করা এই ভালো ছাত্র এরপর কলকাতা সিটি কলেজে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সত্যজিতের ছবিতে কাজের মাত্র তিনটি বছর আগে ১৯৭৩ সালে পাশ। তিনি আইনে বিএ।
কলেজে পড়ার সময় থেকে আটপৌঢ়ে পরিবারের ছেলেটি গলায় গামছা ফেলে নাটকে চলে গেলেন। সেখানে তিনি অভিনয়ের বিদ্যালয়ে পড়েছেন। তার পড়ালেখা তপন থিয়েটারে। কলকাতা শহরেই। আইনে পাশ করে অবশ্য পরিবারের চাহিদা মেটাতে চলে গেলেন ওকালতির পেশায়। তবে অভিনয়ের পোকা তাকে কুঁড়ে, কুঁড়ে খেয়েছে। ছুটির দিনগুলোতে, অবসরে তিনি অভিনয়ে মেতে থাকতেন। মনের ও সংস্কৃতির ক্ষুধা মেটাতেন। কচিৎ পয়সা কড়ি আসতো।
এর মধ্যে জীবনের বাঁক বদলে গেল প্রদীপের সত্যজিতের দেখা পেয়ে। উপেন্দ্র কিশোরের নাতি ও সুকুমার রায়ের একমাত্র সন্তান সুবিখ্যাত, অনন্য মেধাবী সত্যজিৎ রায় ও প্রদীপ মুখার্জি মুখোমুখি হলেন ১৯৭৪ সালে। তার অভিনয় দেখে খুব খুশি বাঙালি বিশ্বখ্যাত সিনেমা মেকার। তখন নকশা তারা থিয়েটার দলে অভিনয় করছিলেন প্রদীপ। ফলে তিনি নায়ক পেয়ে গেলেন তার জন অরণ্যের জন্য। ছবিটি প্রদীপ মুখার্জিকে ১৯৭৬ সালের পূবের সেরা অভিনেতা বা ‘বেস্ট অ্যাক্টর ফর ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড ইস্ট’ এনে দিল। এছাড়াও তিনি অসাধারণ সম্মান লাভ করলেন ১৯৪৮ সাল থেকে চেক রিপাবলিকের দেওয়া ‘কারলভি ভারি শহরে ‘ক্রিস্টাল গ্লোব’ নামে খ্যাত সিনেমা পুরস্কারটি লাভ করে। ‘কারলভি ভারি ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’র প্রধান পুরস্কার। মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপের সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত, বিশ্বের অন্যতম পুরোনো চলচ্চিত্র পদক।
জন অরণ্য বেরুনোর পর জীবনটি পুরোপুরি বদলে গেল প্রদীপের। পরের বছর ১৯৭৭ সালে তিনি বিয়ে করলেন। তার একটি ছেলে ও মেয়ে আছে। আয়কর আইন বিশেষজ্ঞ প্রদীপ মুখার্জিকে ওকালতি ব্যবসাও চালিয়ে যেতে হয়েছে। কলকাতার পূবের অংশ লেক টাউনের পতিপুকুরে তার নামকরা চেম্বার ছিল।
তবে অভিনয় কম করেননি এই সুবিখ্যাত ও ভালো অভিনেতা। মোট ৪০টি ছবি তার। এর মধ্যে ১৯টি সুপারহিট। এই তিনি চলে গেলেন আজ ২৯ আগস্ট কলকাতার একটি হাসপাতালে। পরিবার জানিয়েছে, তিনি ছিলেন ৭৬। তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও তাদের পরিবার রেখে গিয়েছেন।
তারা বলেছেন, একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল তিন দিন আগে এই সিনেমা ও টিভি তারকাকে ফুসফুসে প্রদাহের জন্য। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলে যেতে হয়েছে একটি রাজ্য হাসপাতালে। তবে জীবনপ্রদীপ থাকেনি বরেণ্য এই কীর্তিমানের। সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি ঘটেছে এবং সকাল আটটা ১৫ মিনিটে প্রাণবায়ু নিভে দিয়েছে জন অরণ্যের নায়কের।
শক্তিমান, বিখ্যাত অভিনেতা প্রদীপ মুখার্জিকে হারিয়ে কাঁদছে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ভুবন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন বাংলায় একটি রাষ্ট্রীয় শোকবাণীতে, ‘হঠাৎ পেলাম প্রদীপদার মৃত্যুর খবর। তিনি তার অভিনয়ের সীমা এবং সকল প্রশংসার উর্ধ্বে উঠেছেন ওই তিনটি ছবিতে। প্রদীপ মুখার্জির মৃত্যু একটি গভীর শূণ্যতা তৈরি করল।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার শোক তার পরিবারের প্রতি তার গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ও ভক্তদের মিছিলে শামিল হয়েছেন।
প্রদীপ মুখার্জির বিখ্যাত ছবিগুলোর মধ্যে আছে-১৯৯২ সালের ‘হীরের আংটি’, বানিয়েছেন ঋতুপর্ণ। ২০০২ সালে তাকে নিয়ে বানিয়েছেন কীর্তিমান-বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত ‌‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’। তার এই প্রতিটি ছবিই ইংরেজি সাব-টাইটেলে বিশ্বের নানা দেশে উৎসব ও হলে প্রদর্শিত হয়েছে। জন অরণ্যে তার চরিত্রটি বিখ্যাত ‘সোমনাথ’।। প্রধান ও মূল চরিত্র।
শেষ অভিনয় করেছেন এই দুঁদে অভিনেতা গেল বছর দেব রায় পরিচালিত ‘তরুলতার ভূত’। ফলে সারাজীবনই তিনি অভিনয় করে গিয়েছেন ভালোবেসে। তার মৃত্যুর পর প্রেস ট্রাস্ট্র অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)কে সত্যজিতের ছেলে ও বরেণ্য চলচ্চিত্রকার সন্দীপ রায় বলেছেন, “বাংলা সিনেমার ভুবনে তিনি আমার বাবা সত্যজিৎ রায়ের মাধ্যমে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। প্রদীপদাকে একটি মঞ্চ নাটকে দেখে সত্যজিৎ রায় আটকে গিয়েছেন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, জন অরণ্যের নায়ক করবেন। অসাধারণ ও অনবদ্য অভিনয় করেছেন তিনি সিনেমাটিতে। কেবল তাই নয়, সত্যিকারের একজন শুভাকাংখী ছিলেন প্রদীপ মুখার্জি ‌‘রায় পরিবার’-এর। আমাদের অনেক আপদে, বিপদে তিনি ছায়া হয়েছেন। ফলে আমরা একজন পরিবারের সদস্যকে আজ হারালাম।”
সত্যজিৎ রায়ের ১৯৯০ সালের ছবি ‌‘শাখা-প্রশাখা’ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন প্রদীপ মুখার্জি। তার ছেলে সন্দীপ রায়ের তিনটি ছবির তিনি অন্যতম সেরা অভিনেতা। ২০১০ সালের ‘গোরস্থানে সাবধান’, ২০১২ সালের ‘যেখানে ভূতের ভয়’, ‌‘বাদশাহী আংটি’-২০১৪, ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।
জীবদ্দশায় একটি মাত্র ছবি প্রদীপ মুখার্জির হিন্দি সুজয় ঘোষের ‘কাহিনী ২: দুর্গা রাণী সিং'। ছবিটি ২০১৬ সালে হলে, হলে গিয়েছে।
সম্প্রতি প্রদীপের অন্যতম ছবি হলো-নির্মল চক্রবর্তীর দীর্ঘদিন দেরী করে বানানো শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই ‘দত্তা’ উপন্যাস অবলম্বে বানানো ছবিটি। এই ‘দত্তা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ছবিটির নায়ক বাংলাদেশের ‘ফেরদৗস’।
এই নামী পরিচালক বলেছেন, ‘প্রদীপদা বিশ্ব থেকে চলে গেলেন। তিনি একজন মাটির মানুষ ছিলেন। ভদ্রলোক ও সাংস্কৃতিবান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ভালো স্বাস্থ্যের মানুষ ছিলেন না। তবে সব সামলেছেন তার অভিনয়ের প্রতি তুমুল নিবেদন ও ভালোবাসা দিয়ে। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি তার অভিনয় দিয়ে মানুষকে খুশি করতে চাইতেন। সবসময় আমি তার অভিনয়ে সন্তুষ্ট কী-না জানতে চাইতেন।’

ছবি : জন অরণ্যে সোমনাথ ও গুরু সত্যজিতের সঙ্গে ছবিটির শুটিংয়ে।
ওএফএস।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা