বিশ্ব ইজতেমা: এক বদনা অজুর পানি ১০ টাকা!
ছবি: সংগৃহীত
তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা খুলে বসেছেন স্থানীয়রা। হকার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আতর, টুপি, জায়নামাজ, চাদর, কম্বল ও খাবারের দোকানসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে রাস্তার দুই পাশে পসরা সাজিয়ে বসেছেন। শুধু তাই নয়, অনেককেই আবার দেখা গেছে অজুর পানি, পুরোনো পত্রিকা ও পলিথিন বিক্রি করতে।
শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) এই মাঠেই দেশের বৃহত্তম জুম্মার নামাজে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে নামাজের আগে ময়দানের বাইরে অজুর পানি সংকট দেখা দেয়। এতে বোতলজাত পানি কিনে অজু করেন অনেকে। এছাড়াও কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের বিনামূল্যে পানি দেওয়া হয়। তবে ভ্রাম্যমাণ কিছু ব্যবসায়ী এক বদনা পানি ১০ টাকায় বিক্রি করেন মুসল্লিদের কাছে।
জুমার নামাজের আগে ইজতেমার আশপাশে এমন চিত্র দেখা গেছে। এছাড়াও জায়নামাজের জন্য পলিথিন, ফয়েল পেপার, কাগজ ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
কামারপাড়া সড়কে একটি কারখানার ফটকের সামনে ওই কারখানার নিরাপত্তাকর্মী ফেরদৌস বালতিতে করে পানি এনে অজুর জন্য মুসল্লিদের বিনামূল্যে সরবরাহ করছিলেন। তিনি বলেন, গত দুই বছর যাবত তিনি ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের অজুর পানি সরবরাহ করে আসছেন। এ জন্য তিনি কোনো টাকা নেন না। এবারও পানি সরবারহ করতে দুটি নতুন বালতি, পাঁচটি মগ কিনেছেন। পানি টেনে আনা পরিশ্রমের কাজ হলেও মুসল্লিদের জন্য এ কাজ করে তৃপ্তি ও আনন্দ পান তিনি।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্টেশন রোড এলাকায় মুসল্লিদের কাছে ১০ টাকা বদনা পানি বিক্রি করছিলেন মারফত আলী। তিনি বলেন, বছরের অন্যান্য সময় আমি রিকশা চালাই। ইজতেমায় টঙ্গী এলাকায় রিকশা চলাচল এক প্রকার বন্ধ থাকে। তাই অজুর পানি সরবরাহসহ মুসল্লিদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে উপার্জন করে থাকি।
মারফত আলী বলেন, এক মহিলার মাধ্যমে দূর থেকে কলস দিয়ে পানি এনে ড্রামে মজুত করে তা মুসল্লিদের কাছে প্রতি বদনা ১০ টাকায় বিক্রি করছি।
পাশেই খোলা পানি বোতলজাত করে মুসল্লিদের কাছে বিক্রি করছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি খোলা পানি দুই লিটার বোতল ভরে ২০ টাকা দরে ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের কাছে বিক্রি করেন।
দুপুর ১টা ৫১ মিনিটে জুমার জামাজ শেষ হয়। নামাজে ইমামতি করেন তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বি এবং কাকরাইল মারকাজ মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা জুবায়ের।