রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩১
Dhaka Prokash
Header Ad

বিপিএলে ফের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

একটি ফাইনাল যে রকম হওয়ার প্রয়োজন ছিল ঠিক সে রকমটিই হয়েছে। শেষ বল পর্যন্ত গড়িয়েছে ম্যাচ। চরম নাটকীয়তা আর টানটান উত্তেজনা, শেষ ওভারে ক্ষণে ক্ষণে হয়েছে দৃশ্যপট পরিবর্তন। পরে শেষ হাসি হেসেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ফরচুন বরিশালকে মাত্র ১ রানে হারিয়ে জিতে নিয়েছে বঙ্গবন্ধু বিপিএল। এটি ছিল তাদের তৃতীয় শিরোপা। বিপরীতে বরিশালের কাছে অধরাই থেকে গেলো শিরোপা। এবার নিয়ে তিনবার ফাইনালে উঠে তারা কোনোবারই চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। কুমিল্লার ৯ উইকেটে করা ১৫১ রানের জবাব দিতে গিয়ে বরিশাল ৮ উইকেটে করে ১৫০ রান।

শেষ ওভারে বরিশালের প্রয়োজন ছিল ১০ রানের। অধিনায়ক ইমরুল কায়েস তার কোনো অপশন না থাকাতে তরুণ শহীদুল ইসলামের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন। দলনেতার সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন শহীদুল। ক্রিজে বরিশালের তৌহিদ হৃদয় ও আফগান মুজিব উর রহমান। প্রথম বলে কোনো রান আসেনি। পরের দুই বলে আসে এক করে। চতুর্থ বল আম্পায়ার ওয়াইড দেন। কুমিল্লা রিভিউ নেয়। অনেকক্ষণ বিভিন্ন অ্যাংগেল থেকে ক্যামেরার দৃশ্য দেখে তৃতীয় আম্পায়ার গাজী সোহেল ওয়াইড বলই ঘোষণা দেন। ৩ বলে প্রয়োজন ৭ রানের। পরের বলে তৌহিদ ২ রান নিলে ব্যবধান কমে আসে ২ বলে ৫ রানে। পঞ্চম বল ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে তৌহিদ ক্যাচ তুলে দেন স্কয়ার লেগে। কিন্তু তানভীর ইসলাম ক্যাচ ধরতে না পারলে রান আসে ২। ফলে শেষ বলে প্রয়োজন পড়ে ৩ রানের। ২ রান নিলে খেলা গড়াবে সুপার ওভারে, কিন্তু এক্সটা কাভারে খেলে তৌহিদ আর ২ রান নিতে পারেননি। লিটন তাকে রান আউট করে দিলে তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে মেতে উঠেন কুমিল্লার খেলোয়াড়রা।

কুমিল্লা জুয়া খেলেছিল সুনিল নারিনকে দিয়ে। বরিশাল তা খেলেছে সৈকত আলীকে দিয়ে। প্রথম তিন ম্যাচ ( ৩৯, ১৫, ০) খেলার পর আর তিনি খেলার সুযোগ পাননি। ফাইনালে সুযোগ পেয়ে করেন বাজিমাত। আগের তিন ম্যাচে ইনিংসের উদ্বোধন করেছিলেন। ফাইনালে তিনে ব্যাট করতে নেমে খেলেন ৩৪ বলে ১ ছক্কা ও ১১ চারে ৫৮ রানের ইনিংস। ফিফটি করেন ২৬ বলে। তিনি এমন ইনিংস খেলেছেন যখন দ্বিতীয় ওভারেই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান মুনিম শাহরিয়ার কোনো রান না করেই ফিরে যান। তার ব্যাটিংয়ের সময় আড়াল পড়ে গিয়েছিলেন গেইল। সৈকত যখন ৩৪ বল খেলে ৫৮ রান করে তানভীরে বলে ইমরুল কায়েসের হাতে ধরা পড়ে ফিরে আসেন, তখন গেইলের রান ছিল ১৮ বলে ১৩ রান। গেইল ৩১ বলে ৩৩ রান করে আউট হওয়ার পর বরিশাল ধীরে ধীরে জয়ের দিতে হাঁটতে থাকে। কিন্তু সাকিব (৭), নুরুল হাসান সোহান (১৪), ব্রাভো (১) দ্রুত বিদায় নিলে তারা চাপে পড়ে যায়। শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ২৫ রানেন। এ সময় দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে কুমিল্লা। ব্যাট হাতে ঝড় তোলা সুনিল নারিন ১৮ নম্বর ওভারের প্রথম বলেই ব্রাভোকে আউট করার পর মাত্র ২ রান দেন। পরের ওভারে মোস্তাফিজ নাজমুল হোসেন শান্তকে (১২) ফিরিয়ে দিয়ে রান দেন ৬। তারপর খেলা গড়ায় শেষ ওভারে। প্রয়োজন পড়ে ১০ রানের। যা করতে এসে চরম নাটকীয়তা তৈরি করে শেষ বল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন শহীদুল।

এর আগে কুমিল্লার ইনিংসকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি ব্যাটিং পাওয়ার প্লে, আরেকটি বাকি ইনিংস। কিংবা সুনিল নারিনের আউট হওয়ার আগে-পরে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে কুমিল্লার রান ছিল ২ উইকেটে ৭৩। সেখানে বাকি ১৪ ওভারে রান আসে ৭ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭৮।

বরিশাল ফাইনাল পর্যন্ত এসেছে বোলিং শক্তিতে বলীয়ান হয়ে। সেই বরিশালের বিপক্ষে সুনিল নারিনের তাণ্ডব ছিল অবিশ্বাস্য। তার ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে আগের ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে যেখানে শেষ করেছিলেন, আজ সেখান থেকেই শুরু করেছেন। যে বরিশালের বোলিংই আসল শক্তি, তাদের বিপক্ষে এ রকম আক্রমণ অব্যাহত থাকে কী করে। তাই কুমিল্লার তাণ্ডব ছিল সুনিল নারিন আউট না হওয়া পর্যন্ত। তিনি যখন ২৩ বলে ৫টি করে চার-ছয় মেরে টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিয়ে ৫৭ রানে আউট হয়ে যান, তারপর আর সেই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি দলের বাকি ব্যাটসম্যানদের। এই ম্যাচে সুনিল ফিফটি করেন ২১ বলে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে করেছিলেন ১৩ বলে। সুনিল নারিন আউট হওয়ার পর পটাপট পড়তে থাকে উইকেট। ১ উইকেটে ৬৯ রান থেকে দলের সংগ্রহ পরিণত হয় ৬ উইকেটে ৯৫। ৫.১ ওভারে ২৬ রানে নেই ৫ উইকেট। এ সময় কুমিল্লার অলআউট হওয়ার শঙ্কা জাগে। কিন্তু তা আর হতে দেননি মঈন আলী ও আবু হায়দার রনি। এই দুই জন ৮.৪ ওভারে ( ৫২ বল) ৫৪ রান যোগ করে দলের রানকে ফাইটিং পর্যায়ে নিয়ে যান। সুনিল নারিন আউট হওয়ার পর যেমন কুমিল্লার ইনিংসে ধস নেমেছিল, তেমনি ৩২ বলে ৩৮ রান করে মঈন আলী আউট হওয়ার পর শেষের ১১ বল কাজে লাগাতে পারেনি কুমিল্লা। এ সময় ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২ রান সংগ্রহ করে। আবু হায়দার করেন ২৭ বলে ১৯ রান।

বরিশাল কিভাবে ম্যাচে ফিরেছে তার একটা উদাহরণ হতে পারেন মুজিব উর রহমান। এই আসরে যিনি উইকেট পাওয়ার চেয়ে ব্যাটসম্যানদের ক্রিজে আটকে রাখার দিকেই বেশি সচেতন ছিলেন। সেই মুজিবর উর রহমানের প্রথম ওভারেই সুনিল নারিন ১৮ রান তুলে নেন। সেখানে মুজিব পরের তিন ওভারে রান দেন মাত্র ১২। উইকেট নেন দুইটি ডু প্লেসি ও আরিফুল হকের। শুধু মুজিব উর রহমান কেন? শফিকুলও ফিরেছেন মুজিবের মতো করেই। তিনিও ইনিংস প্রথম ওভার মুজিব করার পর করতে এসে ১৮ রান দিয়েছিলেন। বাকি তিন ওভারে রান দেন ১৩, উইকেট নেন ২টি। পরপর দুই বলে আবু হায়দার ও শহীদুল ইসলামকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছিলেন। অবশ্য এই দু’জন নিজেদের ফিরে পাওয়ার আগে দলকে আসল পথ দেখান দলনেতা সাকিব। দুই ওভারে ৩৬ রান আসার পর সাকিব তৃতীয় ওভার করতে এসে মাত্র ৪ রান দিয়ে লিটনকে ফিরিয়ে দেন (৪)। এতে করে বোলাররাও যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। ব্রাভো পরের ওভার দেন ৬ রান। যদিও সাকিবের পরের ওভারে সুনিল নারিন আবার ১৬ রান তুলে নেন। মেহেদি হাসান রানার বলে আউট হওয়ার আগে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। পরের বল ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধার পড়েন। তার ক্যাচ ধরে শান্তর সে কি নৃত্যানন্দ। তাদের বোলিং তোপে পড়ে ২৫ বলে কোনো চার-ছক্কা মারতে পারেননি কুমিল্লার ব্যাটসম্যানরা। বোলাররা নিজেদের ফিরে পাওয়াতে সাকিব পাঁচ বোলার দিয়েই কোটা শেষ করান।

এমপি/আরএ/

Header Ad

গোপনে দুইজনকে বিয়ে, কাউকেই অধিকার বঞ্চিত করেননি জান্নাতুল

ছবি: সংগৃহীত

একইসঙ্গে দুই স্বামীর সঙ্গেই সংসার করছেন জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী। স্ত্রীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করেননি দুই স্বামীর কাউকেই। গোপনে মন জয় করে চলছিলেন দুই স্বামীর। প্রায় দুই বছর দুই স্বামীর সংসার করার পর অবশেষে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে হলফনামার মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের আবু হানিফ শেখের ছেলে ইউটিউবার সাগর শেখ ও আলীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস।

বাবা, মা ও ভাই প্রবাসে থাকায় বাবার বাড়িতে একাই বসবাস করতেন জান্নাতুল। সেখানে যাতায়াত করতেন স্বামী সাগর শেখ। সংসার জীবন ভালোই চলছিল এ দম্পতির। হঠাৎ জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় শ্বশুরবাড়ি যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় সাগরের। এরই মধ্যে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে পরিবারের সিদ্ধান্তে অন্য এক যুবককে দ্বিতীয় বিয়ে করেন জান্নাতুল।

এদিকে স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে তুলে না নেয়ায় শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী। প্রথম স্বামী সাগরের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে তার সঙ্গেও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ঠিক রেখে চলছিলেন জান্নাতুল।

স্ত্রীর পরিবার তাকে মেনে না নেয়ায় তার বোনের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে একান্তে সময় কাটাতেন স্বামী-স্ত্রী। চলতি মাসের ২ নভেম্বর তারা একসঙ্গে নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী পালন করেছেন বলেও দাবি করেন সাগর।

তবে দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় স্বামীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে জানতে পারেন সাগর। আর এতেই বাঁধে বিপত্তি। তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন জান্নাতুল। এখন দ্বিতীয় স্বামী নিয়েই সংসার করতে আগ্রহী তিনি। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি আদালতে মামলা করেছেন সাগর।

সাগর শেখ বলেন, জান্নাতুল ও আমার বিয়ের বিষয়টি জান্নাতুলের মা ও বোন জানতো। বিয়ের পর আমাদের সংসার জীবন ভালোই কাটছিল। তবে হঠাৎ করে জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় তাদের বাড়িতে আমার যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের বিয়ের চার মাসের মাথায় আমি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির কাজে কয়েকদিনের জন্য রাজবাড়ীর বাইরে যাই।

কাজ থেকে এসে শুনি আমার স্ত্রী জান্নাতুল অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করেছে। আমি আমার স্ত্রীকে প্রশ্ন করলে সে বলে, ‘পরিবারের চাপে বিয়ে করেছি। ওই ছেলের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক হয়নি। আমি তোমার স্ত্রী আছি, তোমারই থাকবো। আমার আম্মু দেশে আসলে আমি তোমার কাছে চলে আসবো।’

সাগর বলেন, ‘আমি জান্নাতুলদের বাড়ি যাতায়াত করতে না পারার কারণে বিভিন্ন সময় আমরা রাজবাড়ী শহরে আমার বোনের বাসায় ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতাম। ওর কলেজে আনা-নেয়াসহ সবকিছু আমিই করতাম। এমনকি গত ২ নভেম্বরও আমরা আমার বোনের বাসায় আমাদের দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী পালন করেছি।

তবে বিবাহ বার্ষিকী পালনের দুদিন পরে আমি জানতে পারি জান্নাতুলের সঙ্গে ওই ছেলের (দ্বিতীয় স্বামীর) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চলছে। ওই ছেলে নিয়মিত জান্নাতুলের বাবার বাড়িতে এসে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি জান্নাতুলকে প্রশ্ন করলে সে আমাকে গালাগালি করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে সে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলেও জানায়।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি জান্নাতুলের মা প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছে। তিনিও এখন আমাকে মেয়ের জামাই হিসেবে অস্বীকার করছেন। অথচ তার মেয়ের সঙ্গে আমার প্রেম থেকে শুরু করে বিয়ে পর্যন্ত সবকিছুই তিনি জানতেন।

এখন বাধ্য হয়ে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে গত ১১ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছি। এছাড়া ১৭ নভেম্বর রাজবাড়ীর বিজ্ঞ ১নং আমলি আদালতে মামলা করেছি।’

সাগর আরও বলেন, ‘আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে আমার স্ত্রী অন্য আরেকজনকে বিয়ে করে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সে আমাকেও ম্যানেজ করে চলেছে, একইভাবে তার দ্বিতীয় স্বামীকেও ম্যানেজ করে চলেছে।

এটা আইন ও ধর্মীয় দুই দিক থেকেই অপরাধ। এছাড়া আমি এ পর্যন্ত আমার স্ত্রীর পেছনে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। তারপরও আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই। তাকে আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।’

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজী হননি জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী। তবে তার দাবি, জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তিনি জানতেন। সাগরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি তিনি জানতেন না।

জান্নতুলের দ্বিতীয় স্বামীর বাবা বলেন, ‘কোন এক সূত্রে আমার শ্বশুর জান্নাতুলদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তাকে পছন্দ করে। পরে আমি গিয়ে তার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বিয়ের দিন ধার্য হয়। বিয়ের আগের দিন সাগর নামে এক ছেলে আমার ছেলেকে ফোন করে বলে জান্নাতুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক আছে।

সে জান্নাতুলের সঙ্গে নিজের একটি ছবিও আমার ছেলেকে পাঠায়। এরপর আমি ওই এলাকায় আমার আত্মীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের কোন সম্পর্ক ছিল না। এছাড়া জান্নাতুলকেও আমি সরাসরি প্রশ্ন করলে সেও সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে।

পরে ঘরোয়া আয়োজনে জান্নাতুলের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে হয়। এখন সাগর নামে ছেলেটি জান্নাতুলকে তার স্ত্রী হিসেবে দাবি করছে। আমি যতদূর জেনেছি সাগরের স্ত্রী ও সন্তান আছে। এখন বিষয়টি আইনগতভাবেই সমাধান হবে।

আর জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বলতে তার বাবার বাড়িতে গেলে ভেতরে ঢোকার অনুমতি মেলেনি।’

বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে তার মা হাচিনা বেগম বলেন, ‘সাগরের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল৷ তবে বিয়ের দুই মাসের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আমার মেয়ে তো ছোট বুঝে নাই, যে কারণে সেসময় ওরা ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে ফেলেছে। এর ৪/৫ মাস পরে আমার মেয়ের আবার বিয়ে হয়েছে। সাগর আমার মেয়েকে চাপে ফেলে এতোদিন তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাধ্য করেছে।’

আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক জানান, ‘সাগর ও জান্নাতুলের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তার নোটিশের একটি কপি ইউনিয়ন পরিষদে আসার কথা। এরকম কোন কপি কখনো পাননি তারা।’

তিনি বলেন, ‘সাগর আমার ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেছে। আমিও খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সাগর জান্নাতুলের প্রথম স্বামী। সে সাগরকে তালাক না দিয়েই বিয়ের চার মাসের মাথায় অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করে। প্রায় দুই বছর সে চালাকি করে দুই স্বামীর সঙ্গেই সংসার করেছে। সাগরের কাছ থেকে জান্নাতুল অনেক টাকা-পয়সা খেয়েছে বলেও আমি জানতে পেরেছি।’

আবু বক্কার বলেন, ‘সাগরের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি জান্নাতুলের বাবাকে নোটিশের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকি। তবে নোটিশ পেয়ে তিনি তার ছোটভাই ও তাদের এলাকার ইউপি সদস্য আবুল কালামকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়িতে এসে বলেন, আমি যেন পরিষদে বসে বিষয়টি সমাধান করে দেই। তবে এর ১/২ দিন পরে তিনি জানান, এ বিষয়ে তারা বসতে চান না।

আইনগতভাবে তারা বিষয়টি সমাধান করতে চান। পরে আবার তারা বসতে সম্মত হলে জান্নাতুল ও তার বাবা এবং তাদের এলাকার ইউপি সদস্য আবুল কালামসহ পরিষদের অন্য সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদে বসেছিলাম। সাগরও সেখানে ছিল। তবে সেখানে জান্নাতুল বলে দিয়েছে সে কোনভাবেই সাগরের সঙ্গে ঘর সংসার করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজে নারীরা নির্যাতিত হয়। কিন্তু ছেলেরা যে কতোটুকু নির্যাতিত হয় তা এই সম্পর্কের জের দেখলে বোঝা যায়। আমাদের সমাজে ছেলেরা আরও বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। সেটা নীরবে নিভৃতে ছেলেরা সহ্য করে যাচ্ছে। আমি আশা করবো আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা বিষয়টি তুলে ধরবেন।

আপনাদের সংবাদের মাধ্যমে মানুষ যাতে সচেতন হতে পারে। আজকে আমার ইউনিয়নে এমন ঘটনা ঘটেছে। আর কোন ইউনিয়নে যেন এমন ঘটনা কোনদিন না ঘটে।’

Header Ad

শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

২৪ এর গনঅভূ্থানে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী, শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে যান বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন।

এ সময় মোবাইল ফোনে লাউডস্পিকারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেন, আব্দুল্লাহ দেশের জন্য মানুষের জন্য মানবতার কল্যাণের জন্য জীবনকে উৎস্বর্গ করে আল্লাহর দরবারে চলে গেছেন, আল্লাহ তাকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন। শহীদরা মরে না। তারা আল্লাহর জীম্মায় জীবন্ত থাকে। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন আব্দুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজ খবর নেন,কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এর আগে তিনি নাভারণ দারুল আমান ট্রাষ্টে ওলামা সম্মেলনে যোগদান করেন। পরে ২০১৬ সালে গুম হওয়া ইসলামি ছাত্র শিবিরে নেতা রেজোয়ানের বাড়িতে যান এবং খোঁজ খবর ও সমবেদনা জানান।

এসময় তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যু বরনকারী সকলে ন্যায় বিচার পাবেন বলে পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন। এবং গনঅভূ্থানে নিহত সকল পরিবারের সাথে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম আছে থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোরের জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম রসূল, সাবেক জেলা আমীর মাওলানা হাবীবুর রহমান, জেলা জামায়াতের নেতা মাওলানা আবু জাফর, মাওঃ শিহাব উদ্দিন শার্শা থানা আমীর রেজাউল ইসলাম, সেক্রেটারী মাওলানা ইউসুফ আলী ও ঝিকরগাছা থানা আমীর মাওলানা আসাদুল আলম প্রমূখ।

Header Ad

বিরামপুরে আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

দিনাজপুরের বিরামপুরে বিশনি পাহান (৫৫) নামের এক আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের ময়না মোড় এলাকার ধানক্ষেত থেকে ওই নারীর হাতবাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিশনি পাহান উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের বেণুপুর গ্রামের সাধন পাহানের মেয়ে।

নিহতের ভাই চরকা পাহান বলেন, আমার ছোট বোনের স্বামী বিশনি পাহানকে ছেড়ে চলে গেছেন। সে প্রতিরাতেই নেশা করতো। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমার বাড়িতে থাকতো আমার বোন। আমার বোন এলাকায় মানুষের জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। শুক্রবার বিকেলে এলাকার এক ব্যক্তির জমিতে ধান কাটার কাজ শেষ করে আর বাড়িতে ফেরেননি। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। শনিবার সকালে ধানক্ষেতে হাতবাঁধা অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক জানান, এলাকাবাসীর দেওয়া খবরে ঘটনাস্থল থেকে আদিবাসী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে তাকে কে বা কাহারা হত্যা করেছে। তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গোপনে দুইজনকে বিয়ে, কাউকেই অধিকার বঞ্চিত করেননি জান্নাতুল
শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন
বিরামপুরে আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার
বিএনপির কাঁধে অনেক দ্বায়িত্ব: তারেক রহমান
'জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হওয়া উচিত'- তোফায়েল আহমেদ
৩ মাসে জ্বালানি খাতে সাশ্রয় হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকা : জ্বালানি উপদেষ্টা
জুটি বাধলেন মিঠুন চক্রবর্তী-আফসানা মিমি
দেশ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই : তারেক রহমান
২৪ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আশঙ্কা
অক্টোবরে সড়কে প্রাণ গেছে ৪৭৫ জনের
গায়ানায় দলের সঙ্গে যোগ দিলেন সাকিব
আইপিএল নিলামের আগেই নিষিদ্ধ হলেন ভারতের ২ ক্রিকেটার
গাজীপুরে পিকনিকের বাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কবে বিয়ে করবেন জানালেন তামান্না ভাটিয়া
পঞ্চগড়ে ৫০০ টাকায় সন্তান বিক্রি, অতঃপর যা ঘটল...
অ্যান্টিগায় প্রথম দিন শেষে স্বস্তিতে টাইগাররা
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন পরীমণির প্রথম স্বামী
বিচারের আগে আ.লীগের মাঠে থাকার সুযোগ নেই: উপদেষ্টা নাহিদ
মাকে হত্যার পর থানায় হাজির ছেলে
৮ ক্রিকেটারসহ ৯ জনকে নিষিদ্ধ করলো বিসিবি